নিজস্ব প্রতিনিধি , উদয়পুর :-
শিশুদের মধ্যে পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি, সৃজনশীল চিন্তাভাবনার বিকাশ এবং লেখার প্রতি আগ্রহ তৈরি করার লক্ষ্যে গোমতী জেলা শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো জেলা ভিত্তিক ‘রিডিং অ্যান্ড রাইটিং উৎসব-২০২৬’।
শুক্রবার উদয়পুরের রাজর্ষি কলাক্ষেত্রে দিনব্যাপী এই শিক্ষামূলক ও সৃজনশীল উৎসবের আয়োজন করা হয়।
প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার আনন্দ, কল্পনাশক্তির বিকাশ, ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং লেখার প্রতিভাকে উৎসাহিত করাই ছিল এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য।
আনন্দময় পরিবেশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাহিত্যচর্চার প্রতি আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি নিজেদের সৃজনশীল প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়া হয় এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।
এই রিডিং অ্যান্ড রাইটিং উৎসবে গোমতী জেলার বিভিন্ন ব্লকের তৃতীয় শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী এবং ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুটি বিভাগে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ৭২ জন ছাত্র-ছাত্রী এই উৎসবে অংশগ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় চারাগাছে জল দিয়ে। অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন গোমতী জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা রিংকু লাথের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উদয়পুর পৌর পরিষদের পৌরপিতা শীতল চন্দ্র মজুমদার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গোমতী জেলা শিক্ষা দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর গৌরাঙ্গ শুক্ল দাস, নেতাজী সুভাষ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপকবৃন্দসহ শিক্ষা দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিকরা।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গোমতী জেলা শিক্ষা দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর গৌরাঙ্গ শুক্ল দাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গোমতী জেলা শিক্ষা কার্যালয়ে আধিকারিক সুবীর মজুমদার।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গোমতী জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা রিংকু লাথের বলেন, শিশুদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং তাদের ভাষাগত দক্ষতা ও সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশে এই ধরনের উৎসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও বই পড়ার অভ্যাস শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বৃদ্ধি ও কল্পনাশক্তিকে আরও সমৃদ্ধ করে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই উৎসব একটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। আগামী দিনেও শিশুদের প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতি, সাহিত্য ও সৃজনশীলতার বিকাশে গোমতী জেলা শিক্ষা দপ্তরের এই উদ্যোগকে শিক্ষাক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পাঠের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উদ্যোক্তারা।