নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা | ১৯ অক্টোবর :
অপরিসর রাস্তা , আর তার মধ্যে থিমের ঝলকানিতে ভিড়ের ঢেউ । চোর বাগানের ভিড় আগেও একাধিকবার বলগাহীন হয়েছে। বন্ধ করতে হয়েছে প্রতিমা দর্শন।
সামাল দিয়ে দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছিল তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের সময়কালে। কিন্তু এবার বাংলায় পরিবর্তন হওয়ার পর বিজেপির শাসনকালে তেমনটা হল না।
পদদলিত হয়ে ১৯ টি প্রাণ চলে গেল। কলকাতা পুলিশের আধিকারিকদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে চোর বাগানের ভিড় সামাল দিয়েছেন।
তারা মনে করছেন উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি গাফিলতি রয়েছে পুলিশের তরফেও। ২০১৮ সালের পর ২০২২ ক্রমশ ভিড় বাড়তে থাকা দেখে প্রমোদ গুনেছিলেন
চোর বাগানে তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। সেন্ট্রাল এভিনিউতে লাইনে দাঁড়ানো অবস্থাতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় এক বৃদ্ধের।
জয়ন্ত অভিযোগ করেছেন , রাজ্যে পালা বদলের পর তাকে বাধ্য করা হয়েছে সাধারণ সম্পাদকের পর থেকে পদত্যাগ করতে।
বাংলার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন এই কথা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চোর বাগানে প্রথম থেকেই কিছু দৃশ্য ধরা পড়েছে স্থানীয় মানুষের মধ্যে।
জানা যায় , প্রথমে একবার খুঁটি পূজা হওয়ার পর সেই খুঁটিপূজার খুঁটি উপড়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ের দ্বিতীয় বার আবারো খুঁটি পূজা করা হয়েছিল।
এরপর পরিবর্তনে এসেছে মায়ের মূর্তি নিয়ে। আধ কাঁচা মূর্তি তৈরি করা হলো । যা ছবিতে স্পষ্ট ধরা পড়েছে। অন্যদিকে বর্তমান উদ্যোক্তারা সমস্ত সর্তকতা উপেক্ষা করার জন্যই
এই অঘটন বলে জানা যায়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই বছর ছিল তার প্রথম দুর্গাপূজা।
আর প্রথম বছরেই মানুষের মৃত্যুর মিছিল দিয়ে শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে যা কলঙ্কের অধ্যায় রচিত হলো চোর বাগানে।
কলকাতা পুলিশের অন্দরে প্রশ্ন উঠছে , চোর বাগানের মত ছোট জায়গায় লোহার গ্রিলে ঘেরা উড়ালপথ, যা যেকোনো সময় মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হতে পারে,
সে থিম বা মণ্ডপ কলকাতা পুলিশ এবং দমকলের ছাড়পত্র পেল কী করে । রাজ্যে পালাবদলের পর চোরবাগান ক্লাবের অন্দরেও অনেক পরিবর্তন হয়েছে।
পুজোর চেয়ারম্যানপদে বসেছেন জোড়াসাঁকোর বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা। মুখ্য পরামর্শদাতা উত্তর কলকাতার বিজেপি নেতা তমোঘ্ন ঘোষ।
প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে নাম রয়েছে দেবদীপ অধিকারীর। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায় তাঁর এক্স পোস্টে দেবদীপকে
মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো বলে দাবি করেছেন। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো নাবালক।’’
সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শাসনকালে কলঙ্কিত চোর বাগান দুর্গাপূজা।