প্রতিনিধি কৈলাসহর:-১৯৪৪ সালের ২৫শে অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া কৈলাসহর থানা এবছর ৮০ তম বর্ষ উদযাপন করছে ।স্থাপিত কালী মন্দিরেই হবে শ্যামা পূজা।৮০ তম বর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে ২৭শে অক্টোবর বসে আঁকো প্রতিযোগিতা ও ২৮শে অক্টোবর রক্তদান শিবির এবং স্বাস্থ্য শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে।বসে আঁকো প্রতিযোগিতায় প্রায় একশত ছাত্র ছাত্রী এবং রক্তদান শিবিরে ৩৭ জন রক্তদাতা রক্ত দান করেছেন।পূজোর দিন মহা প্রসাদ বিতরণ ছাড়াও রয়েছে স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে সঙ্গীতানুষ্ঠান।
মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জয়ন্ত কর্মকার এক সাক্ষাৎকারে বলেন প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।যেখানে পুলিশ,টিএসআর,স্থানীয় জনসাধারণ কৈলাসহর প্রেস ক্লাব ও কৈলাসহর ব্লাড ডোনার্স এসোসিয়েশন রক্তদানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।আলোর এই উৎসবে সকলের মঙ্গল কামনা করেন তিনি।৩০শে অক্টোবর থানা প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হবে জুনিয়র এবং সিনিয়র গ্রুপের মধ্যে দাবা প্রতিযোগিতা।৩১শে অক্টোবর কালী পূজার রাতে শ্যামাসঙ্গীত এবং বাউল গানের অনুষ্ঠান থাকবে।১লা নভেম্বর যোগা,নাটক, নৃত্যানুষ্ঠান,পুরস্কার বিতরণী সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে থানা প্রাঙ্গনে।এছাড়াও কৈলাসহর পুরাতন কালিবাড়ি,নতুন কালিবাড়ি,পানিচৌকি বাজারের দুর্গা মন্ডপ, কালীশাসন ভবতারিণী মন্দির,ছিন্নমস্তা কালী বাড়ি সহ বিভিন্ন ছোট ছোট ক্লাব ও পূজা কমিটি গুলো কালী পূজার আয়োজন করেছে। সব মিলিয়ে কৈলাসহরে শ্যামা বন্দনার আয়োজন সবাইকেই কাছে টানবে। আজকের এই রক্তদান শিবির এবং স্বাস্থ্য শিবিরের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভি ডার্লং,মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জয়ন্ত কর্মকার, ওসি সুকান্ত সেন চৌধুরী এবং এসিডিয়ার উৎপলেন্দু দেবনাথ সহ অন্যান্যরা।
বিনোদন
প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া ২৬ অক্টোবর :- প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও আমবাসা পৌরসভার উদ্যোগে আয়োজিত হয় শারদ সন্মান ২০২৪ । এই উপলক্ষে শুক্রবার আমবাসা কালীবাড়ি সংলগ্নে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা, ধলাই জেলা শাসক, আমবাসা মহকুমা শাসক সঞ্জিত দেব্বর্মা, আমবাসা পৌর সভার চেয়ারপারসন গোপাল সূত্রধর, আমবাসা ব্লকের বিএসি চেয়ারম্যান হেমানি দেববার্মা। সেখানে আলোচনা করতে গিয়ে রেবতী ত্রিপুরা পুজোয় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এলাকার সবকটি ক্লাব ও পূজা উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন বরাবরই আমবাসা দুর্গাপূজায় শান্তি ও সম্প্রীতি এবং বিজয়া দশমীর যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। এবছরও তার ব্যতিক্রম নয়। এই ঐতিহ্য আগামীদিনেও বজায় থাকুক, আশা ব্যক্ত করেন তিনি। পৌরসভার চেয়ারপারসন গোপাল সূত্রধর পুর পরিষদের অন্তর্ভুক্ত ২৮টি ক্লাবকেই ধন্যবাদ জানান। তিনি আমবাসার সব পূজা উদ্যোক্তাদের এলাকায় শান্তি, সম্প্রতি বজায় রাখতে সহযোগিতা করার জন্য ধন্যবাদ জানান।
এবারের আমবাসা শারদ সম্মানে ৫’টি বিভাগে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়াও ধলাই জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে ৩’টি বিভাগে জেলার তিনটি সংস্থা’কে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। নেশা মুক্ত অভিযান সচেতনতার জন্য আমবাসা পল্লীমঙ্গল ক্লাবকে বিশেষ পুরস্কার ও শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয় ক্লাবের কর্মকর্তাদের হাতে।
সামাজিক কার্যক্রম সচেতনতার জন্য পুরস্কৃত করা হয় আমবাসা নবতরুন সংঘ কে। এছাড়াও স্বচ্ছ ভারত মিশন এর জন্য পুরস্কৃত করা হয় গন্ডাছড়া থানা’কে।
প্রতিনিধি, তেলিয়ামুড়া। ২২শে অক্টোবর।তেলিয়ামুড়া তুইচিন্দ্রাই বাজার উৎসব কমিটি ৮৮ প্রহর (১১ দিন ) ব্যাপী হরিনাম সংকীর্তনের প্রাক মুহর্তে আজ ২২শে অক্টোবর ২০২৪ইং মঙ্গলবার বেলা ১২টায় এক ভাব গম্ভীর পরিবেশে “ধর্মসভা” অনুষ্ঠিত হয়। এই ধর্মসভার
উদ্ভোধন করেন শ্রীমৎ রামানন্দ গোস্বামী, শ্রীশ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য আশ্রম, তেলিয়ামুড়া।বেদ বিদ্যালয়ের ছাত্রদের কর্তৃক বেদ পাঠের মাধ্যমে এবং অতিথিবর্গ কর্তৃক মঙ্গলদ্বীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্যদিয়ে শুভারম্ভ করাহয়।
ধর্মসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কল্যাণী রায়, মাননীয়া মুখ্য সচেতক, ত্রিপুরা বিধানসভা, ত্রিপুরা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শ্রীমৎ সত্যানন্দ ব্রহ্মচারী, ভোলাগিরি আশ্রম, কুঞ্জবন, আগরতলা। শ্রীমৎ শ্যাম সুন্দর দাস কাঠিয়াবাবা, বড়জলা কাঠিয়াবাবা আশ্রম, আগরতলা।
শ্রীমৎ সনাতনদাস গোস্বামী, মহা-নির্দেশক, ত্রিপুরা রাজ্য গৌড়ীয় বৈষ্ণব মহামন্ডলী। শ্রীমৎ শ্যাম সুন্দর ব্রহ্মচারী, (ভক্তি শাস্ত্রী কীৰ্ত্তন শিল্পী) জগন্নাথবাড়ী, আগরতলা।
শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ পুরী, তপোবন আশ্রম, আগরতলা। শ্রীমৎ শশীকান্ত পান্ডে, সংগঠন মন্ত্রী, বিশ্বহিন্দু পরিষদ, ত্রিপুরা প্রান্ত।
সভাপতি: শ্রী মন্টু ভৌমিক, সভাপতি, উৎসব কমিটি। আজকের ধর্ম সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য বিধানসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণী সাহা রায় বলেন, আজ বিভিন্ন জায়গাতেই সনাতনী ধর্মের উপর নানান ভাবে আঘাত আসছে। এই সংকট মুহূর্তে সমস্ত সনাতনীদের আরো বেশি করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। সনাতনীদের আরো বেশি করে ঐক্যবদ্ধ করতে এ ধরনের ধর্ম সভার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আরো বেশি করে ধর্মসভা আয়োজন করার জন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ধর্মগুরুদের প্রতি আবেদন রাখেন শ্রীমতি কল্যানি সাহা রায়। আজকের ধর্ম সভায় বহুদূর দুরান্ত থেকেও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
- প্রতিনিধি। তেলিয়ামুড়া : – বর্তমান ডিজিটাল যুগে বাহারি ইলেকট্রনিক্স লাইটের বাজারে মাটির তৈরি প্রদীপের আলো খানিকটা ফিকে পড়ে গেছে। বর্তমান সময়কালে আগের মতো সারা বছর আর তেমন চাহিদা নেই মাটির তৈরি প্রদীপের, তবুও মৃৎশিল্পী’রা বুকে একরাশ আশা নিয়ে আজও তৈরি করে চলছে মাটির প্রদীপ।
বছরের একটাই দিন আলোর উৎসব দীপাবলি।মৃৎশিল্পীরা ব্যাবসা ভালো হবে এই আশা নিয়ে নাওয়া-খাওয়া ভুলে মাটির প্রদীপ তৈরিতে ব্যাস্ত। কিন্তু মন্দার বাজারে তাদের ব্যাবসা কতটুকু ভালো হবে সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। তেলিয়ামুড়ার পৌর পরিষদ এলাকার দুই নম্বর ওয়ার্ডের পালপাড়া। পালপাড়া তে রয়েছে ৩২ টি পরিবার। প্রতিটি পরিবারই মাটির সামগ্রি তৈরি করেই জীবন জীবিকা চালায়। সারা বছরই এই পরিবার গুলি শুকনো মাছের হাড়ি পাতিল, দইয়ের পাতিল সহ মেলার জন্য মাটির খেলনা বানায়। আর কয়েকটি রাত পোহালেই আলোর উৎসব দীপাবলি।
আলোর উৎসব দীপাবলি কে সামনে রেখে করিলং পাল পাড়াতে মৃৎশিল্পীরা এখন ব্যস্ত দীপাবলির জন্য মাটির প্রদীপ তৈরিতে। মৃৎশিল্পী স্বপন রুদ্র পালের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় পরিবারের অন্যান্যরাও
আপন মনে মাটির প্রদীপ তৈরিতে ব্যাস্ত।
কথা প্রসঙ্গে মৃৎশিল্পী স্বপন রুদ্রপাল জানিয়েছেন,,বর্তমানে চাইনিজ রং বাহারি লাইট, চাকচিক্য পূর্ণতার বাজারে আগের তুলনায় অনেকাংশই কমে গেছে মাটির তৈরি প্রদীপের চাহিদা। তাছাড়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বাজারে বৃদ্ধি পেয়েছে প্রদীপ তৈরির মূল উপকরণ মাটি সহ প্রদীপ তৈরির আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্রের দাম। স্বপন রুদ্রপাল আরো জানান, প্রতিবছরই এই সময়টাতে মাটির প্রদীপ তেলিয়ামুড়া বাজার ছাড়াও রাজ্যের অন্যান্য জায়গা তে ও সরবরাহ করেন। এবছরও অন্যান্য বছর তুলনায় একটু বেশি হবে বলেই আশা ব্যক্ত করেন।
তবে বর্তমান ডটকম যুগে বাহারি লাইট’কে সামনে থেকে টক্কর দিতে প্রস্তুত মাটির তৈরি প্রদীপ। মৃৎশিল্পীদের আশা মাটির প্রদীপের মসৃণ আলো আলোকিত করুক জগত সংসার, ঘুছে যাক সমস্ত দুঃখ কষ্টের গ্লানি।
প্রতিনিধি, উদয়পুর :- গোমতী জেলার সদর উদয়পুরের উপকণ্ঠে মাতাবাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে শুরু হবে আগামী ৩১ শে অক্টোবর থেকে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী দেওয়ালি উৎসব ও মেলা । মেলা চলবে ২ রা নভেম্বর পর্যন্ত । তিন দিন ব্যাপী এই উৎসবকে সার্বিক রূপ দিতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে প্রশাসনিক তৎপরতা । মন্দিরের গায়ে নতুন করে রং লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে । গোটা মন্দির চত্বর রং করা হবে । জানা যায় , মন্দিরের গায়ে নতুন রং লাগানোর দায়িত্বে রয়েছে পিডব্লিউডি দপ্তর । স্থানীয় বিধায়ক তথা মাতাবাড়ি মন্দির ট্রাস্টের সদস্য অভিষেক দেবরায় প্রতিদিন মন্দিরের আশপাশ এলাকা সহ বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করছেন কিভাবে মেলাকে সৌন্দর্য রূপ দেওয়া যায়। জানা যায় , এই বছর মন্দির চত্বরে আধুনিকভাবে নানা আলোকমালায় সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । তাছাড়া মাতাবাড়ি লোকনাথ আশ্রম থেকে সুদৃশ্য আলোকমালার গেইট দিয়ে শুরু হবে মন্দিরে রাস্তা মূল ফটকে থাকবে নানা আলোকসজ্জা । এদিকে গোটা মন্দির এলাকায় প্রসাদ প্রকল্পে কাজ চলা কাজের খোঁজখবর নিচ্ছেন জেলাশাসক তড়িৎ কান্তি চাকমা । এবছর মেলা প্রাঙ্গণে বিশেষ করে কল্যাণ দিঘীর চার পাড়ে ও কল্যাণ দিঘিতে নতুন আলোক সজ্জায় সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে । দেওয়ালি মেলায় এই বছর পূণ্যার্থীদের সংখ্যা অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছে মেলা কমিটি । দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ জনগণের অংশগ্রহণে মাতা বাড়িতে অনুষ্ঠিত দেওয়ালী মেলা বর্তমানে কেবলমাত্র একটি মেলায় নয় , ত্রিপুরার বহু বিচিত্র সংস্কৃতির সঙ্গমের একটি প্রকৃত চিত্র । ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দিরের অপর আরেকটি আকর্ষণীয় বিষয় হলো ভগবান বিষ্ণুর বিগ্রহ। এখানে ভগবান বিষ্ণুর বিগ্রহটি শালগ্রাম শিলা বা কষ্টিপাথর রূপে পুজিত হয় । শক্তি দেবীর সাথে কালী মন্দিরে কিংবা কোন শক্তি পিঠে ভগবান বিষ্ণুর বিগ্রহ এইভাবে পূজিত হওয়ার নিদর্শন কেবলমাত্র বিরলই নয় , এই উপমহাদেশের মধ্যে এক অনন্য বৈশিষ্ট্য । শক্তি ও বৈষ্ণব সংস্কৃতির এরূপ অনন্য সন্নিবেশ ও সঙ্গম এই মন্দিরকে কেবলমাত্র বিখ্যাত করেনি এই মন্দিরের তাৎপর্যকেও ব্যাপকভাবে মহিমান্বিত করেছে। বর্তমানে একান্ন শক্তি পীঠের অন্যতম ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির ভারতবর্ষের প্রাচীনতম মন্দিরগুলির মধ্যে এক অন্যতম স্থান দখল করেছে । এবছরের দেওয়ালী মেলা কে কেন্দ্র করে সেজে উঠছে মাতাবাড়ি ।
প্রতিনিধি শান্তিরবাজার :জনজাতিদের প্রতি অমানবিক একাধিক ঘটনার, এবং প্রতিবাদে আগামী ২৭ অক্টোবর প্রতিবাদ মিছিলে নামছেন কাউন্সিল অফ তিপ্রাসা হদা। এই প্রতিবাদ মিছিল কে কেন্দ্র করে আজ শান্তিরবাজার মহকুমা অন্তর্গত সালথাং মনু দখল সিং রিয়াং পাড়ায় সংগ্রংমা মন্দির প্রাঙ্গণে বিভিন্ন জনজাতি সম্প্রদায়ের দক্ষিণ জেলা কাউন্সিল অফ তিপ্রাসা হদার নেতৃত্বদের নিয়ে প্রতিবাদ মিছিলের প্রস্তুতি সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সাংগঠনিক সভায় জনজাতিদের একাধিক জনকল্যাণমুখী দাবির ভিত্তিতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। জনজাতিদের একাধিক সমস্যা নিরসনের দাবিতে আগামী ২৭ শে অক্টোবর প্রতিবাদ মিছিল সংঘটিত হবে বীরচন্দ্রনগর বাজারে। আজকের এই কাউন্সিল অফ তিপ্রাসা হদার সাংগঠনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিল আফ তিপ্রাসা হদার রাজ্য কমিটির সহ-সভাপতি খনারাম রিয়াং, এছাড়া উপস্থিত ছিলেন তিপ্রাসা হদার সংগঠনের দক্ষিণ জেলা কনভেনার সুনীল মুড়াসিং, রিয়াং সম্প্রদায়ের সমাজপতি খবারাম রিয়াং, ক্ষত্রিয় সমাজের সাধারণ সম্পাদক বিদু দেববর্মা, মক সম্প্রদায়ের সমাজপতি রোংলা মগ সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি , উদয়পুর :- অক্টোবর মাসের শেষের দিকেই উদয়পুর মাতা বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে দেওয়ালি মেলা । এই মেলা কে কেন্দ্র করে দেশ ও বিদেশের লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী মাতাবাড়িতে অংশ নেয় । দেওয়ালী মেলাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই প্রশাসন গোটা মাতারবাড়ি পর্যবেক্ষণ করেছে বৃহস্পতিবার দুপুরে। ঘুরে দেখেছে গোটা মন্দির চত্বর এলাকা সহ মেলা প্রাঙ্গণ । এদিন গোমতী জিলা সভাধিপতি দেবল দেবরায়, সহ-সভাধিপতি সুজন কুমার সেন ও বিধায়ক অভিষেক দেবরায় সহ প্রমূখ । মাতাবাড়ি দেওয়ালি মেলায় মেলা প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক স্টল ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রদর্শনী কোথায় দেখানো হবে সেসব বিষয়গুলি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয় প্রশাসনের আধিকারিকদের সাথে। সেই সাথে মায়ের মন্দির কিভাবে নতুনভাবে সাজানো যায় তা নিয়েও এদিন আলোচনা করেন বিধায়ক। ইতিমধ্যেই মন্দিরের কাজকর্ম নতুনভাবে শুরু হয়েছে। অন্যদিকে মাতাবাড়ি প্রসাদ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। মেলায় প্রশাসনিক নিরাপত্তা এবং পুলিশ কর্মীরা কোথায় তাদের রাত্রিযাপন করবে সেইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এদিন। সব মিলিয়ে মাতারবাড়িতে এক আলোর উৎসবের প্রস্তুতি যেন উৎসবের দিনে কোন ধরনের ঘাটতি না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই জোর কদমে চলছে মেলার প্রস্তুতি ।
- প্রতিনিধি, উদয়পুর :- রাজ্যে বর্তমানে চলছে উৎসবের মরসুম । দুর্গাপূজার পরে এবার অনুষ্ঠিত হলো দেবী লক্ষ্মীর পুজো । গোমতী জেলার উদয়পুরে প্রতিটি ঘরে ঘরে পূজিত হয় দেবী লক্ষ্মী । এই বছর উদয়পুরে ব্যতিক্রমী লক্ষ্মীবাজার দেখতে পাওয়া যায় । বন্যার কারণে বিভিন্ন গ্রামীন এলাকাগুলি প্লাবিত হয়েছে এর ফলে ক্ষতির শিকার হয়েছে মৃৎশিল্পীরা । তারফলে প্রতিমা তৈরিতে অনেকটাই সমস্যায় পড়তে হয় মৃৎশিল্পীদের । এর ফলে উদয়পুর বাজারে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং ২০০০ টাকা পর্যন্ত লক্ষ্মীর প্রতিমা বিক্রি করা হয় । অন্যদিকে ফলের দাম ছিল উর্ধ্বগতি । শসার কেজি ছিল ১০০ টাকা দরে । লক্ষ্মীর নাড়ু তৈরি করতে গিয়ে গুড়ের দাম দিতে হয়েছে ১৪০ টাকা দরে । তারপরেও প্রতিটি ঘরে দেবী লক্ষ্মী পূজিত হয় । অন্যদিকে উদয়পুরে বাজির বাজারে ব্যাপক দাম দেখতে পাওয়া যায় বিভিন্ন বাজির । সবমিলিয়ে ধনদেবী লক্ষ্মী পূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিটি সনাতনী হিন্দু ঘরে ঘরে দেবী লক্ষ্মীর পূজা জাঁকজমক পূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এক আনন্দ কোন উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে গোটা উদয়পুর।
- প্রতিনিধি, বিশালগড়, ১৪ অক্টোবর।। বিশালগড়ে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হল দুর্গোৎসব। সোমবার সাড়া জাগানো কার্নিভালের মাধ্যমে বিদায় জানানো হয় অসুর বিনাশিনী দেবী দুর্গাকে। এবারে দ্বিতীয়বারের মতো কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হয়। সুশান্ত দেব বিশালগড়ের বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর গত বছর প্রথমবার বিশালগড়ে কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হয়। এবারেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বিশালগড় মহকুমা প্রশাসন, পৌর পরিষদ এবং বিশালগড় পঞ্চায়েত সমিতির সহযোগিতায় এই কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার বিশালগড় ব্রিজ চৌমুহনীতে আয়োজিত কার্নিভালের অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক সুশান্ত দেব, বিধায়ক অন্তরা দেব সরকার, বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেন, সিপাহীজলা জেলা সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত, বিশালগড় পৌর পরিষদের চেয়ারম্যান অঞ্জন পুরকায়স্থ, বিশালগড় পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন অতসী দাস, জেলাশাসক সিদ্ধার্ত শিব জয়সওয়াল, মহকুমা শাসক রাকেশ চক্রবর্তী, জেলা পরিষদের সদস্য গৌরাঙ্গ ভৌমিক, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তপন দাস প্রমূখ। মহকুমা তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর এবং স্থানীয় শিল্পীরা দলগত সংগীত এবং নৃত্য পরিবেশন করেন। এরপর একে একে ক্লাবগুলি সারিবদ্ধভাবে প্রতিমা নিয়ে কার্নিভালে অংশ নেন। ক্লাব গুলির পক্ষ থেকেও অনুষ্ঠান মঞ্চ প্রাঙ্গনে নৃত্য পরিবেশন করেন। সুসজ্জিত কার্নিভালে মোট ১৩ টি ক্লাব অংশ নিয়েছেন। এরপর সরকারি ব্যবস্থাপনায় রঘুনাথপুর বিজয় নদে প্রতিমা বিসর্জন করা হয়। বিধায়ক সুশান্ত দেব ভাষণে বলেন সকলের সহযোগিতায় বিশালগড়ে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সাম্প্রতিক বন্যায় চরম ক্ষতি হয়েছে বিশালগড়ের। এরপরেও এলাকার সনাতনী সমাজ দুর্গোৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছে। কার্নিভালে বিভিন্ন ক্লাবগুলি অংশগ্রহণ এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে। আমরা সবাই মিলে দেবী দুর্গার আশীর্বাদ বিশালগড় কে শ্রেষ্ঠ বিশালগড় হিসেবে গড়ে তুলবো। কার্নিভালকে কেন্দ্র করে সোমবার বিকাল থেকেই সাজো সাজো রব বিশালগড়ে। সন্ধ্যা রাতে কার্যত জন ঢল নামে। কার্নিভাল উপভোগ করতে কয়েক হাজার নর নারী উপস্থিত ছিলেন।
সপ্তমীর সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই উদয়পুরে বিভিন্ন পুজো মন্ডপে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায় সন্ধ্যা থেকে
উদয়পুর প্রতিনিধি : ষষ্ঠীতে উদয়পুরে ভারী বৃষ্টিপাত থাকার কারণে মন ভেঙেছিল দর্শনার্থীদের । কিন্তু ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠে পরিস্থিতি। সপ্তমীর সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই উদয়পুরে বিভিন্ন পুজো মন্ডপে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায় সন্ধ্যা থেকে । নতুন পোশাক পরিধান করে দর্শনার্থীরা মন্ডপে মন্ডপে ভিড় জমান ঠাকুর দেখার জন্য। গোটা শহর জুড়ে আলোক মালায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে নানা বাহারি রঙে রঙিন হয়েছে শহর উদয়পুর। যত রাত বাড়তে থাকে তত ভিড় বাড়তে থাকে পুজো মণ্ডপ গুলিতে । নানা থিম তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন ক্লাব গুলিতে । মহকুমা ছাড়িয়ে জেলা থেকে বিভিন্ন এলাকার দর্শনার্থীরা ভীড় জমান বিভিন্ন পূজো মন্ডপে এবং সাথে বহু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে্য দেখা যায় এদিন । ফুটপাতে ব্যবসা করা ছোট বড় দোকানিরা তাদের খাবারের দোকান যেভাবে সাজিয়ে বসেছে তাতে করে ব্যাপক ভীড় লক্ষ্য করা যায় বিভিন্ন দোকানগুলিতে । রাতের শহর উদয়পুরে যাতে কোন ধরনের সমস্যা না ঘটে তার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল জোরদার । পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন প্রান্তে নাকা চেকপোস্ট থেকে শুরু করে ট্রাফিক গেইট বসানো হয়েছিল। যাতে শহরের কোথাও ভিড় না জমতে পারে যানবাহন গুলির । প্রতিনিয়ত প্রশাসন থেকে দেওয়া হচ্ছিল টহলদারি । সবমিলিয়ে সপ্তমীর রাত কেটেছে উদয়পুরে ব্যাপক জমজমাট ।