বক্সনগর প্রতিনিধি :-
ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা উপলক্ষে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট।আগামী ২৮ মে পবিত্র কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সারা ত্রিপুরা রাজ্যের পাশাপাশি বক্সনগরেও বসেছে বিশাল পশুর হাট।
রবিবার সকাল থেকেই বক্সনগর দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে শুরু হয় গরু ও ছাগলের ব্যাপক ক্রয়-বিক্রয়।রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত এবং সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা পশু নিয়ে হাজির হন এই হাটে।
ঈদের আনন্দে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা বাজার চত্বর।ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের মধ্যেও ছিল কোরবানির পশু বাড়িতে আনার অপেক্ষা ও উচ্ছ্বাস।
সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষ পশু ক্রয় করেন।এদিন বক্সনগরের পশুর হাটে হাজার হাজার গরু ও ছাগল বিক্রি হয়েছে বলে জানা যায়।বিশেষ করে ৫০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকার গরুর চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি।
পাশাপাশি কয়েকটি বড় আকারের গরুর দাম দুই লক্ষ টাকার কাছাকাছিও উঠেছে বলে জানান এক বিক্রেতা।প্রচণ্ড গরম ও কাঠফাটা রোদ উপেক্ষা করেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
হাট পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে বাঁশ ও খুঁটি দিয়ে সারিবদ্ধভাবে পশু রাখার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি পানীয় জল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল প্রশংসনীয়।
মাঠের দক্ষিণ প্রান্তে বসে হাট পরিচালনা কমিটি সার্বিক ব্যবস্থাপনা তদারকি করেন।এই পশুর হাটকে কেন্দ্র করে জাতি-উপজাতি ও সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে এক সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে ওঠে।
হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকলে মিলেমিশে অংশ নেন এই ঐতিহ্যবাহী বাজারে। পরিচালনা কমিটির অধিকাংশ সদস্য হিন্দু সম্প্রদায়ের হলেও মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব সফল করতে তাদের আন্তরিক সহযোগিতা ছিল উল্লেখযোগ্য।
বক্সনগরের বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, “ঈদুল আযহা উপলক্ষে সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে সুখ, সমৃদ্ধি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সংহতি আরও সুদৃঢ় হোক।বক্সনগরের ঐতিহাসিক গরুর হাটে সবাইকে ঈদ মোবারক এবং রাজ্যবাসীকেও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান বিধায়ক।
তিনি আরও বলেন, “বক্সনগরে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির ঐতিহ্য বহু পুরনো।পূজা-পার্বণে যেমন মুসলিমরা সহযোগিতা করেন,তেমনই ঈদ ও কোরবানির সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও সক্রিয় ভাবে পাশে থাকেন।
এটাই বক্সনগরের সংস্কৃতি ও ভালোবাসার বন্ধন।কোরবানির হাটকে ঘিরে পুরো এলাকা যেন পরিণত হয়েছিল এক মিলনমেলায়।
দোকানপাট,যানবাহন ও মানুষের ভিড়ে কোথাও তিল ধারণের জায়গা ছিল না।
আনন্দ,সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়েই এবারের কোরবানির হাট শেষ পর্যন্ত এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।
এদিনের এই ঈদের বাজারে ২ লক্ষ টাকা বিক্রি হয় কয়েকটি গরু।