চুরাইবাড়ি প্রতিনিধি, ৫ জুন:
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে উত্তর ত্রিপুরার কদমতলা ব্লকের অন্তর্গত ১৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় একযোগে বিশেষ গ্রাম সভার আয়োজন করা হয়।
পরিবেশ সংরক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক উন্নয়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।এ উপলক্ষে মূল অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় কদমতলা চন্দ্রকলা টাউন হলে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তর ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা নাথ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কদমতলা সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক উৎপল দাস, কদমতলা পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান মিহির রঞ্জন নাথ, গ্রাম প্রধান ভাবনা মালাকার নাথসহ বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বিশ্ব পরিবেশ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে পরিবেশ রক্ষায় সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বনভূমি ধ্বংস, দূষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যবহারের ফলে পরিবেশ আজ নানা সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক বর্জন, জল সংরক্ষণ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষ গ্রাম সভাগুলিতে পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং গ্রামীণ জনগণকে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কদমতলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ২০০ জন মহিলার হাতে স্যানিটারি কিট বিতরণ।
নারী স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। উপস্থিত অতিথিরা মহিলাদের হাতে স্যানিটারি কিট তুলে দেন এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে কদমতলা ব্লকের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হয়। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক আধিকারিক, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার বার্তা দেওয়া হয়।
পরিবেশ সংরক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমের সমন্বয়ে কদমতলা ব্লকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন একটি তাৎপর্যপূর্ণ রূপ লাভ করে।
প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্থানীয় বাসিন্দারা সাধুবাদ জানিয়েছেন।