নিজস্ব প্রতিনিধি , কাঁঠালিয়া :
ধনপুর বিধানসভা এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কাঁঠালিয়া সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসক,
কর্মী ও পরিকাঠামগত সমস্যার মধ্যে দিয়ে পরিষেবা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, স্বাস্থ্য দপ্তরের অব্যবস্থায় ও প্রয়োজনীয় শূন্য পদ পূরণে উদাসীনতার কারণে হাসপাতালে কার্যত জোড়াতালি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমানে ৩০ শয্যা বিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রোগীর চাপ প্রায়শই ৪৫ থেকে ৫০ জনেরও বেশি থাকছে।
যে কারণে হাসপাতালে বারান্দায় ব্যবস্থা নিতে হয় রোগী দেখার জন্য স্বাস্থ্য কর্মীদের। অথচ চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র চার জন।
সম্প্রতি এক চিকিৎসকের বদলির নির্দেশ জারি হলে স্থানীয় বাসিন্দা ও কাঁঠালিয়া আম্বেদকর সামাজিক সংস্থার তীব্র প্রতিবাদের মুখে স্বাস্থ্য দপ্তর সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।
এলাকাবাসীর মতে, এম ও আই সি ডক্টর অভিজিৎ দে এবং ডঃ সৌয়েন ঘোষের পরিষেবার উপরই অনেকাংশে হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা নির্ভর করছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যক্তিগত ও দায়িত্ববোধের উপর নির্ভর করে সাময়িক স্বাস্থ্যপরিসেবার চালানো সম্ভব হলেও দীর্ঘ মেয়াদে তার সম্ভব নয়।
হাসপাতালে অধীন বিভিন্ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রেও জনবল প্রকট। যেখানে ন্যূনতম পাঁচজন চিকিৎসক থাকার কথা, সেখানে রয়েছেন মাত্র দুইজন।
একইভাবে এলডিসি, গ্রুপ ডি কর্মী ও স্টাফ নার্সের সংখ্যাও প্রয়োজনে তুলনায় অনেক কম।
অনেক ক্ষেত্রে একজন এম পি ডব্লিউ কে একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতে গিয়ে সাব সেন্টার সামাল দিতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদ পূরণের পরিবর্তে এলাকার চিকিৎসক ও স্থানীয় কর্মীদের অন্যত্র বদলি করে দেওয়া হচ্ছে,
ফলে স্বাস্থ্যপরিসেবার উপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। সরকারের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবির সঙ্গে বাস্তব সৃষ্টির বিস্তর ফারাক রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন এলাকার মানুষ।
পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পাশাপাশি কাঁঠালিয়া সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের বক্তব্য, অতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও সংকটের মুখে পড়বে।