প্রতিনিধি, বিশালগড়, ১০ জানুয়ারি।। বিশালগড়ে অনুষ্ঠিত হয় হরিনাম মহোৎসব। শনিবার বিকাল পাঁচটায় বিশালগড় শ্রী শ্রী জগন্নাথ জিও মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয় শোভাযাত্রা। এতে অংশ নেন কয়েক হাজার ভক্ত। স্থানীয় বিধায়ক সুশান্ত দেবের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। কয়েক হাজার সনাতনী নরনারী দু-হাত তুলে ইসকন ভক্তদের সঙ্গে হরিনামের তালে নেচে গেয়ে শোভাযাত্রা প্রাণবন্ত করে তুলেন। রাজপথ সনাতনী ভক্তদের দখলে চলে যায়। কার্যত তিল ধারনের জায়গা ছিল না। শেষে বিশালগড় নিউ টাউন হলে আয়োজিত হরেকৃষ্ণ মহানাম উৎসবে অংশ নিয়েছে অগণিত ভক্ত। সেখানে ইসকন ভক্তদের হরিনাম কীর্তন চলে দীর্ঘক্ষন। উপস্থিত সকল সনাতনী ভক্তদের মুখে মুখে ধ্বনিত হয় হরেকৃষ্ণ মহানাম। কৃষ্ণ নাম আর প্রভু ভক্তদের নাচের ছন্দে টাউন হল কার্যত ব্রজধামে পরিনত হয়। সবশেষে প্রসাদ গ্রহণ করেন উপস্থিত ভক্তরা। স্মরণাতীত কালে বিশালগড়ে এমন সাড়া জাগানো হরেকৃষ্ণ মহানাম শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে কারোর জানা নেই। হরিনামেই মিলে শান্তি এবং মুক্তি। এই হরিনামে নয়া ইতিহাস গড়লো বিশালগড়।
বিনোদন
রাত পোহালেই ২৫শে ডিসেম্বর তথা বড়দিন। খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই দিনটি অন্যতম বিশেষ পার্বন। পুরানে কথিত রয়েছে এই দিনেই খ্রীষ্ট ধর্মের প্রবর্তক তথা যীশু খ্রীষ্ঠ জন্মগ্রহন করেছিলেন। তাই যীশুর জন্মদিন উপলক্ষে সর্বত্রই প্রতিবছর আনন্দে মাতেন খ্রীষ্ঠধর্মাবলম্বীরা। ত্রিপুরাতেও চলছে বড়দিন পালনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট দারচৈ এডিসি ভিলেজেও বড়দিনকে কেন্দ্রকরে প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে। শহরের বাজারে চলছে বড়দিনের কেনাবেচা। বুধবার বড়দিন তথা যীশু খ্রীষ্টের জন্মদিন। এই উপলক্ষে রকমারিভাবে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে গোটা দারচৈ গ্রামকে। বড়দিনের ষ্টার এবং খ্রিষ্টমাস ট্রি সহ বাহারী আলোকসজ্জায় দারচৈ গ্রামের রাস্তাঘাট নিজেরাই সাজিয়ে তুলছেন গ্রামের বাসিন্দারা। ব্যাক্তিগতভাবে যার যার বাড়ীর সামনে আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তুলেছেন তারা। এলাকার বাসিন্দা থাঙলিয়ানা দার্লং জানিয়েছেন, বড়দিন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাত বারোটা থেকে শুরু হবে তাদের অনুষ্ঠান যা চলবে আগামী তিন থেকে চারদিন পর্যন্ত। বড়দিন উপলক্ষে গির্জায় গির্জায় চলবে প্রার্থনা থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। যীশুর জন্মদিনকে ঘিরে রকমারি খাওয়া দাওয়া থেকে নতুন পোশাক পরে ঘুরাঘুরি সহ চলবে তাদের আনন্দ উৎসব। একটি বছর পর প্রভূ যিশুর জন্মদিন উদযাপন ঘিরে এলাকার খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা বেজায় খুশি বলে জানালেন এলাকার ঐ বাসিন্দা।
শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্স নিয়ে এসেছে ‘শুভ বিবাহ উৎসব’। আগামী ১৬ থেকে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত এই উৎসবের আয়োজন হতে চলেছে।
‘শুভ বিবাহ উৎসব’- ভারতীয় ঐতিহের এই উদযাপন ২০০৯ সালে আগরতলায় শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্স সাফল্যের সঙ্গে সূচনা করে। পরে কলকাতার কয়েকটি প্রধান আবাসন ও বিশিষ্ট সামাজিক ক্লাবও এই কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছে।
এরপর যত সময় গড়িয়েছে ততই এই উৎসবের মান ও জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে।
এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হল, ভারতীয় ঐতিহ্যের উদযাপন করা ও বিয়ের মরসুম উপলক্ষে গ্রাহকদের জন্য বিয়ের গয়নার নতুন সম্ভার নিয়ে আসা I
এবারের আয়োজন আরো বিশেষ হতে চলেছে। এই বছর সোনা এবং হিরের বিয়ের গয়নার এক সম্পূর্ণ নতুন সংগ্রহ নিয়ে আসা হয়েছে। যা শুধুমাত্র বিয়ের মরসুমের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন এবং কারুকাজ করা হয়েছে।
এই উৎসব উদযাপন করার জন্য গ্রাহকদের জন্য লাকি ড্র, উপহার আর বিশেষ আকর্ষণীয় অফারও রাখা হয়েছে …
রয়েছে সোনার গয়না প্রতি গ্রাম মজুরিতে ৩৭৫ টাকা ছাড়।
হিরের গয়না তৈরির মজুরিতে ৭৫% ছাড়।
প্রতি কেনাকাটায় নিশ্চিত উপহার ।
এছাড়া থাকছে ডেইলি লাকি ড্র-এ গৃহস্থলীর সামগ্রী ।
আর সব কিছুই আয়োজন করা হয়েছে বিয়ের মরসুমের জন্য।
শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্স এই উপলক্ষে এক স্পেশাল প্রিভিউয়ের আয়োজন করেছিল। যেখানে সোনা ও হিরের গয়নার এবছরের ‘শুভ বিবাহ সম্ভার’ সকলের সামনে তুলে ধরা হয়। এছাড়া যেসব অফার, ছাড় আর লাকি ড্র রাখা হয়েছে সে সম্পর্কে সবাইকে জানানো হয়।
শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সের ডিরেক্টর অর্পিতা সাহা বলেন, “আসলে ভারতীয় বিবাহ অনুষ্ঠান হল একটি পরম্পরা ও আবেগ। এর সঙ্গে জুড়ে থাকে এক অদ্ভুত রোমান্টিসিজম। তাই আমরাও শুভ বিবাহ উৎসবের সময় সবসময়ই ‘ব্রাইডাল জুয়েলারি উইথ সেন্টিমেন্টস অ্যাটাচড’-এর কথা বলি, কারণ সকলের কাছেই বিয়ের এক আলাদা অনুভূতি রয়েছে। যা হৃদয়ের অন্তরে খুব সযত্নে সাজানো থাকে। আর এজন্যই আমাদের এই প্রয়াস খুবই বিশেষ।”
সংস্থার আরেক ডিরেক্টর রূপক সাহা বলেন,”বিয়ের মরসুমে আমাদের ‘শুভ বিবাহ উৎসব‘ হলো ভারতীয় ঐতিহ্যের এক বর্ণময় উদযাপন। ২০০৯ সালে আগরতলা শাখায় একটি ইন-স্টোর উপস্থাপনা দিয়ে এটি শুরু হয়েছিল। কলকাতার কয়েকটি প্রধান আবাসন এবং বিশিষ্ট সামাজিক ক্লাবের সঙ্গে পরে যুক্ত হয়। এই উৎসব এখন একটি বার্ষিক উদযাপন হয়ে উঠেছে।” তিনি বলেন, “এই বছরের সংস্করণটি আরো বিশেষ। এবারের আয়োজনের মধ্যে রয়েছে সোনা ও হিরের গয়না তৈরির মজুরিতে বিশেষ ছাড় সহ অফার, প্রতিটি ক্রয়ের সাথে নিশ্চিত উপহার, আর সাথে ডেইলি লাকি ড্র।”
‘ শুভ বিবাহ উৎসব’ অফারটি শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্স- এর ত্রিপুরার আগরতলা, ধর্মনগর ও উদয়পুর শোরুম ছাড়াও কলকাতার সব ( গড়িয়াহাট, বেহালা ও বারাসাত) শোরুমেও ১৬ থেকে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত চলবে।
সকলের জন্যে শুভ কামনা জানিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয় ।
প্রতিনিধি, উদয়পুর :- আস্তা সামাজিক সংস্থার উদ্যোগে রবিবার দুপুর বারোটা নাগাদ উদয়পুর ভাঙ্গার পাড় এলাকায় এক রক্তদান শিবির অনুষ্ঠিত হয় । মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে তার শুভ উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়। এছাড়া ছিলেন , গোমতি জিলা সভাধিপতি দেবল দেবরায়, পৌর চেয়ারম্যান শীতল চন্দ্র মজুমদার সহ সংস্থার সভাপতি সম্পাদক এবং অন্যান্য সদস্য ও সদস্যারা । রক্তদান শিবিরে ভাষণ রাখতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন , রক্তদান হচ্ছে মহৎ দান । প্রতিদিন বিভিন্ন হাসপাতাল গুলিতে জরুরি পরিষেবায় রক্তের খুবই প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে কিন্তু যেভাবে দুর্ঘটনা বাড়ছে বিভিন্ন হাসপাতালে এই রক্তের চাহিদা মেটাতে সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে । এছাড়া মানুষের শরীরে রক্ত একমাত্র মানবদেহে উৎপন্ন হয়। কখনো কোন কলকারখানা অথবা কোন বিভিন্ন কোম্পানিতে এই রক্ত তৈরী করা সম্ভব নয় । তাই যুব সমাজের প্রতি তিনি আহ্বান রাখেন সকলেই যেন রক্তদানে এগিয়ে আসে। আস্থা সামাজিক সংস্থার উদ্যোগে এদিনের এই রক্তদান শিবিরে মোট ২২ জন রক্তদাতা রক্তদানে অংশগ্রহণ করে। প্রত্যেক রক্ত দাতাদের হাতে স্বামী বিবেকানন্দের ছবি তুলে দেন অর্থমন্ত্রী ।
মেগা লাকি ড্র ও বাম্পার লাকি ড্রতে বিজয়ী ক্রেতা বন্ধুদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হল আগরতলা প্রেস ক্লাবে
আগরতলা প্রতিনিধি :- ত্রিপুরা রাজ্যের অন্যতম স্বর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠান স্বর্ণ কমল জুয়েলার্স ( আগরতলা ও উদয়পুর ) এর দুর্গাপূজা ও ধানতেরাসের ডেইলি লাকি ড্র ও মেগা লাকি ড্র ও বাম্পার লাকি ড্রতে বিজয়ী ক্রেতা বন্ধুদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হল আগরতলা প্রেস ক্লাবে ৭ই ডিসেম্বর । বিজয়ী ক্রেতা বন্ধুদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আলোকিত করে মোট তিনজন দশ গ্রাম করে মেগা লাকি ড্রতে সোনার নেকলেস ( দুর্গাপূজা ও ধনতেরাস উৎসব মিলিয়ে) । বাম্পার লাকি ড্র তে হীরের নেকলেস জিতেন ধনতেরাস উৎসব বিজয়ী । দূর্গা পূজাতে প্রতিদিন লাকি ড্রতে HOME APPLANCES ২২ জন আগরতলা , ১১ জন উদয়পুরের বিজয়ী হন । ধনতেরাসে প্রতিদিনের লাকি ড্র তে আগরতলা ২৪ জন গোল্ড কয়েন ও উদয়পুরে ১২ জন বিজয়ী হন । সব মিলিয়ে ৭৩ জন বিজয়ী উপস্থিত ছিলেন এই অনুষ্ঠানে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বর্ণকমল জুয়েলার্সের কর্ণধার গোপাল চন্দ্র নাগ ও সংস্থার ডাইরেক্টর জয় নাগ ও দীবাকর নাগ সংস্থার মুখপাত্র সুরজিৎ চক্রবর্তী । স্বাগত ভাষণের সংস্থার ২৪ বছরের যাত্রার নানা দিক তুলে ধরেন ও আগামী দিনে এই পথ চলাতে সকল ত্রিপুরাবাসীর ভরসা ও বিশ্বাসের উপর জোর দেন । সকল ত্রিপুরাবাসীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন উৎসব উপলক্ষে উপস্থিতির জন্য ।
প্রতিনিধি, উদয়পুর :- ৪২ তম বাসরিক পুজা উপলক্ষে এক বস্ত্রদান শিবির
অনুষ্ঠিত হয় ভুবনেশ্বরী মন্দির কমিটির উদ্যোগে । শুক্রবার বিকেলে বাৎসরিক পুজা উপলক্ষে একটি বস্ত্র দান কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয় ।এই উপলক্ষে এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় মন্দির কমিটির উদ্যোগে । উদয়পুর শান্তিপল্লী এলাকায় মন্দির কমিটির উদ্যোগে জানানো হয় সংবাদিক সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আগামী ৭ তারিখ ভুবনেশ্বরী মায়ের সপ্তামী পূজা অনুষ্ঠিত হবে । ৯ ডিসেম্বর নবমী পূজার দিন মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে । সকল ভক্ত প্রাণ মানুষকে ৯ ডিসেম্বর দুপুরে মহাপ্রসাদ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয় । মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয় এলাকাবাসীদের সহযোগিতায় এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে প্রতিবছর। এইবছর পূজায় আমন্ত্রিত রয়েছেন অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, বিধায়ক অভিষেক দেবরায় সহ আরো অনেকে । এখন থেকে এই পূজাকে কেন্দ্র করে সাজো সাজো রব গোটা মন্দির চত্বর জুড়ে ।
প্রতিনিধি, উদয়পুর :- দেবী সতীর ৫১ শক্তি পীঠ প্রতিটি তীর্থস্থান গুলিকে অবিকল প্রতিরূপ গোমতি জেলার মাতারবাড়ি বিধানসভার অন্তর্গত বনদোয়ারে ২১ স্থানের সবগুলো তীর্থক্ষেত্র গুলিকে প্রতিরূপ স্থাপন করা হবে । যার ফলে পর্যটকরা একই স্থানে এসে সতী মায়ের একান্ন শক্তি পিঠের প্রত্যেকটি তীর্থস্থানের দর্শন করার সৌভাগ্য হবে । বুধবার বনদোয়ারে ৫১ শক্তি পিঠের অবিকল প্রতিরূপ স্থাপনের প্রস্তাবিত জায়গাটি রাজ্যের পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী গোমতী জিলা সভাধিপতি দেবল দেবরায় ও মাথাবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন শিল্পী দাস , জেলার সহ -সভাধিপতি সুজন কুমার সেন এবং দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে সরজমিনে পরিদর্শন করেন বিধায়ক অভিষেক দেবরায় । এদিন মন্ত্রী ঘুরে দেখেন গোটা এলাকাটি । বিধায়ক অভিষেক দেবরায় জানান , তিনি আশাবাদী এই পর্যটন কেন্দ্রটি তৈরি হওয়ার ফলে গোটা রাজ্যসহ গোমতী জেলায় পর্যটনের এক নতুন ফলক যুক্ত হবে এবং এই বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচুর কর্মসংস্থান গড়ে উঠবে বলে তিনি জানিয়েছেন ।
এবছরের ব্যাপক
উৎসাহ উদ্দীপনা ও বিশেষ করে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে মহকুমার, কাঞ্চনপুর, দশদা, আনন্দ বাজার,,লালজুড়ি, জয়শ্রী ও রবীন্দ্র নগর, এলাকায় শ্যামা পুজো শান্তি পূর্ণ ভাবে শেষ হয়েছে। মহকুমার উল্লেখ যোগ্য ভাবে এবছর বড় বাজেটের পুজো করেছে রবীন্দ্রনগর সার্বজনীন কালীপূজা কমিটি, কাঞ্চনপুর মিলন সংঘ,নেতাজি ক্রীড়া সংঘ ও দশদার প্রগতি সংঘ। এছাড়াও আরক্ষা দপ্তরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি ঘরেও পূজোর আয়োজন করা হয়েছে। পুজোর মধ্যে লক্ষ্য নিয় হচ্ছে এবছরের কাঞ্চনপুর মহকুমায় দেখা গেছে কোথাও পূজা মান্ডপ উদ্বোধনে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের এড়িয়ে প্রবীণ ও নবীনের মেল বন্ধনে এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যাক্তিত্ব বা সংস্থার প্রবীণ সদস্যদের দিয়ে পূজো মন্ডপ উদ্বোধন করা হয়েছে। বিশেষ করে কাঞ্চনপুর মহকুমার সব থেকে পুরানো ক্লাব মিলন সংঘ ও দশদা বাজারের প্রগতি সংঘের পূজো কে কেন্দ্র করে এধরনের উদ্যোগ আগামী দিনে মহকুমার নতুন তাৎপর্য বহন করবে বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য
কাঞ্চনপুর মিলন সংঘের এবারের কালীপূজার উদ্বোধন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার ক্লাবের প্রবীণ নবীন সদস্যদের মিলন মেলার রূপ নিয়েছিল পুজো চত্বর। ৯০ বৎসরের প্রবীণ সদস্য থেকে ২৩/২৪ বৎসরের সদস্য সদস্যাদের মিলন মেলা যা গোটা রাজ্যে একটা নজির ও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে । ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কাঞ্চনপুর মিলন সংঘের এবারের ৭১তম পুজোর উদ্বোধন করেন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক প্রায় ৯০ ছুঁই ছুঁই বছরের ভারতচন্দ্র বড়ুয়া। ছিলেন বিশেষ অতিথি বাবুল বিকাশ বড়ুয়া, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও মিলন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সুধাংশু রঞ্জন সেন, অজিত কুমার সাহা ক্লাবের বর্তমান সভাপতি তাপসেন্দু নাথ, সম্পাদক মনোজ বড়ুয়া, বিশ্বজিৎ সাহা, বিজিৎ শর্মা, সহ নবীন ও প্রবীণ প্রজন্মের সদস্যরা।একই ভাবে কাঞ্চনপুর মহকুমার দশদা প্রগতি সংঘের পূজো মন্ডপ উদ্বোধন করেন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এলাকার প্রবীণ নাগরিক এশিয়ার সর্ববৃহৎ বেসরকারি সংস্থা স্বস্থি সমবায় সমিতির দুবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মনিন্দ্র চন্দ্র নাথ, বিশিষ্ট সমাজ সেবক নিহারেন্দু বিকাশ বড়ুয়া , সংঘের প্রাক্তন সদস্য অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রাজেন্দ্র চন্দ্র নাথ,পরিমল পাল,ও সংঘের বর্তমান সভাপতি নিশেন্দু চন্দ্র নাথ প্রমুখ । প্রগতি সংঘের এবছরে পঁয়ত্রিশ তম কালি পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। নানা অনুষ্ঠান নাটক,নাচ, গান ও ওপেন কুইজের মাধ্যমে পূজোর অনুষ্ঠান সম্পুর্ন হয়েছে। নেতাজি ক্রীড়া সংঘের পুজোর উদ্বোধন করেন মহকুমা পুলিশ অফিসার সৌরভ ঠাকুর ও নেতাজি ক্রীড়া সংঘের সভাপতি রনজিৎ কুমার নাথ ও অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নেতাজি ক্রীড়া সংঘ কাঞ্চনপুর মহকুমায় ব্যাপকভাবে বেড়ে চলা মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করার শপথ নিয়েছে। মহকুমা পুলিশ অফিসার এবং নেতাজি ক্রীড়া সংঘের সভাপতি রনজিৎ কুমার নাথ গোটা কাঞ্চনপুর জুড়ে যে ভাবে মাদকে ছেয়ে যাচ্ছে তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রনজিৎ কুমার নাথ বলেন কেবল পূজো ভিত্তিক ক্লাব করলে হবে না। অধিকাংশ সময়ে দেখা যায় পূজোকে কেন্দ্র করে শত শত ক্লাব গজিয়ে ওঠে। পূজোর সময় বিনোদন উপভোগ করে সারা বছর কোন সামাজিক কাজে এদের দেখা মেলে না। সমাজকে সঠিকভাবে এগিয়ে যেতে সামাজিক সংস্থার দায়িত্ব অনেক। কাঞ্চনপুর মহকুমায় মাদক ও ড্রাগসের বাড়বাড়ন্তে উদ্বেগ প্রকাশ করে শ্রী নাথ বলেন মাদকের বানিজ্য করে কেউ কেউ দালান বাড়ি প্রভূত সম্পদ শালী হচ্ছে। অন্যদিকে কাঞ্চনপুরের যুব সমাজ ধংস হচ্ছে। শ্রী নাথ এই বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেন। মহকুমা পুলিশ অফিসার শ্রী ঠাকুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়াও কাঞ্চনপুর মহকুমার
রবীন্দ্র নগর সার্বজনীন কালীপূজা কমিটির এবারের ১৫তম পুজো ছিল নজরকাড়া পুজো। পুজোর উদ্বোধন করেন পুরোহিত শান্তনু চক্রবর্তী। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে রবীন্দ্রনগরে শ্যামা পুজো সম্পন্ন হয়েছে। এবারের শ্যামা পুজো উপলক্ষে কাঞ্চনপুর আরক্ষা প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার ফলে কোন প্রকার অপ্রিতিকর ঘটনা ছাড়াই নির্বিঘ্নে অনুষ্টান সম্পূর্ন হয়েছে । এবছরের উত্তর জেলার কাঞ্চনপুর মহকুমায় শ্যামা পুজোর দিন গুলিতে সকল জাতি ধর্ম নির্বিশেষে অংশ গ্ৰহনে অনুষ্টানের আলাদা তাৎপর্য বহন করেছে মহকুমা বাসীর অভিমত। জানা গেছে কাঞ্চনপুর মহকুমায় ক্লাব এবং বিভিন্ন বাড়ি ঘরের পুজা মিলে মোট ৩৬টি পুজো হয়েছে ।
প্রতিনিধি, বিশালগড় , ৩ নভেম্বর।। আনন্দ মার্গ প্রচারক সংঘ বিশালগড় উপভুক্তির দিদিদের উদ্যোগে ভাতৃদ্বিতীয়া উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার বিশালগড় আনন্দ মার্গ স্কুলের জাগৃতি গৃহে নানা মাঙ্গলিক কার্যক্রমের মধ্যে দিয়ে ভাতৃদ্বিতীয়া অনুষ্ঠিত হয়। প্রভাত সঙ্গীত, অখন্ড কীর্তন, মিলিত সাধনা, গুরু পূজা এবং আলোচনা চক্র শেষে শুরু হয় ভাতৃদ্বিতীয়া। প্রচারক সংঘের দিদিরা বিশ্ব ভাতৃত্বের আহবানে ভ্রাতা মে চিরায়ুর্ভবতু মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে উপস্থিত সকল ভাইদের কপালে চন্দনের ফোঁটা পরিয়ে দেন। স্কুলের শিক্ষক, এলাকার সজ্জন ব্যাক্তিবর্গ সহ বিশালগড়ের সাংবাদিকরা আনন্দ মার্গ প্রচারক সংঘের দিদিদের হাতে ভাইফোঁটা নেন। স্কুলের চেয়ারম্যান ননীগোপাল দেবনাথ, প্রিন্সিপাল প্রাণগোপাল আচার্য সহ প্রচারক সংঘের দাদারা এই উৎসবে অংশ নেন। ভাতৃদ্বিতীয়া উৎসবের আহবায়ক মিষ্ঠু দেবনাথ, অনামিকা পাল সহ উপভুক্তির সুষ্মিতা দেবনাথ এবং সকল দিদিরা উপস্থিত ভাইদের কপালে ফোঁটা দিয়ে মঙ্গল কামনা করেন। শেষে মিলিত ভোজনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া ২৯ অক্টোবর:- ত্রিপুরা নাথ যোগী ফোরাম ধলাই জেলা কমিটির উদ্যোগে সোমবার এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এদিন কমলপুর মহকুমার পূর্ব ডলুছড়া অঙ্গনওয়ারী সেন্টারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মূলত রুদ্রজ ব্রাহ্মণ পুরোহিতের ধলাই জেলা সম্মেলনের প্রস্তুতি বিষয়ক আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা নাথ যোগী ফোরাম ধলাই জেলা কমিটির সভাপতি কুমুদ নাথ ভৌমিক, কোষাধ্যক্ষ নিখিল দেবনাথ, ফোরামের স্টেট অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য বিমল দেবনাথ, সদস্য অশোক দেবনাথ প্রমুখ। সেখানে রুদ্রজ ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হয় আগামী ১৭ নভেম্বর পূর্ব ডলুছড়া পঞ্চায়েত অফিস প্রাঙ্গনে একদিনের রুদ্রজ ব্রাহ্মণ পুরোহিতের ধলাই জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সম্মেলনকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের একটি প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় ফোরামের জেলা সভাপতি কুমুদ নাথ ভৌমিক এবং আহ্বায়ক করা হয়েছে রাকেশ দেবনাথ’কে। এদিন ত্রিপুরা নাথ যোগী ফোরাম ধলাই জেলা কমিটির পক্ষ থেকে জেলার সমস্ত নাথ সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে আহ্বান রাখা হয়েছে সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সম্মেলনকে সর্বাত্মকভাবে সফল করার।