বক্সনগর প্রতিনিধি ।।
শিক্ষা, কৃষি ও সামাজিক উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে বক্সনগর বিধানসভার বিধায়ক তফাজ্জল হোসেনের -এর উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা ও সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ ১১০ জন কৃতি ছাত্র-ছাত্রীকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ২০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকেও সম্মাননা জানানো হয়।এদিন সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ৫২ জন দিব্যাঙ্গ ব্যক্তিকে সামাজিক ভাতা প্রদান করেন বিধায়ক।
কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২১ জন কৃষকের হাতে মিনি পাওয়ার টিলার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের উত্তরীয় ও ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্সনগর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা যশোদা ছেত্রী বলেন, বিধায়কের এই উদ্যোগ ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি শিক্ষার্থীদের আরও বেশি পড়াশোনা করে দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বাল্যবিবাহ বন্ধ করার আবেদন জানিয়ে বলেন, “বাল্যবিবাহ একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি।” এছাড়াও ছাত্রদের নেশা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক তফাজ্জল হোসেন বলেন,শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং কৃষকদের আধুনিক কৃষি সরঞ্জাম প্রদান বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রয়োজন।
তিনি ভবিষ্যতেও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাওয়ার আশ্বাস দেন। ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “এখান থেকে কেউ ভবিষ্যতে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, কেউ মন্ত্রী, কেউ আইপিএস, ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবেন। জীবনে বড় হতে হলে বড় স্বপ্ন দেখতে হবে এবং একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকতে হবে।”তিনি আরও বলেন,দেশকে ভালোবাসলেই একজন প্রকৃত ভালো মানুষ হওয়া সম্ভব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বক্সনগর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন স্বপ্না নম,বক্সনগর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সঞ্জীব কুমার পাল এবং বক্সনগর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক।অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বক্সনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বুল্টি সরকার।
পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ ও স্থানীয় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি।
এলাকার উন্নয়নমূলক এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উপস্থিত বিশিষ্টজন ও সাধারণ মানুষ।