নিজস্ব প্রতিনিধি , খোয়াই :
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে এই প্রথম ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই মহকুমা শাসকের বিশেষ উদ্যোগে চালু হলো এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ।
প্রাথমিক পর্যায়ে মহকুমার দুটি কেন্দ্রকে এই আধুনিক মডেল রূপে রূপান্তর করা হয়েছে। মহকুমা শাসক নির্মল কুমার ঝাঁ-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপের এই প্রজেক্টে মোট দুটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রকে বেছে নেওয়া হয়েছে প্রথম কেন্দ্র: খোয়াই বনকর এলাকার আনন্দনীল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র।
দ্বিতীয়টি সিঙ্গিছড়াস্থিত শৈশব অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। প্রান্তিক স্তরের শিশুদের আধুনিক ও বিশ্বমানের শিক্ষা প্রদান করতে এই দুটি মডেল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র গড়ে তুলতে মোট ১০ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ সরকারি অর্থানুকূল্যে ও প্রশাসনের প্রত্যক্ষ নজরদারিতে এই উন্নত পরিকাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে খোয়াই মহকুমা শাসক নির্মল কুমার ঝাঁ স্বয়ং এই দুটি মডেল কেন্দ্রে আকস্মিক পরিদর্শনে যান।
তিনি কেন্দ্রগুলির নতুন পাঠ্যক্রম, পরিকাঠামো এবং এআই মডিউলের কার্যকারিতা খতিয়ে দেখেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই বিশেষ এআই মডেলের বিভিন্ন আধুনিক উপকরণ ও তার উপযোগিতা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন।
তিনি জানিয়েছেন ডিজিটাল বিভাজন দূর করতে এবং শিশুদের খেলার ছলে শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে এই কেন্দ্রে যে সমস্ত এআই প্রযুক্তি ও আধুনিক উপকরণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে,এখানে ডিজিটাল স্ক্রিন বসানো হয়েছে।
শিশুরা এর ওপর ডিজিটাল পদ্ধতিতে আঁকাআঁকি করতে পারে এবং তাদের কাজগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এআই সার্ভারে সংরক্ষিত হয়।
পাশাপাশী শিশুদের জন্য ভিআর প্রযুক্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিশুরা থ্রি-ডি (3D) পরিবেশে মহাকাশ, গভীর জঙ্গল বা মহাসাগরের নিচে কৃত্রিমভাবে ঘুরে আসার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারবে।
প্রতিটি শিশুর শেখার গতি এবং বুদ্ধিমত্তা রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করার জন্য ব্যাক-এন্ডে এআই ড্যাশবোর্ড কাজ করে। শিশুটি কত দ্রুত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে বা কোন বিষয়ে তার আগ্রহ দেখাবে, তা এই সফটওয়্যার বিশ্লেষণ করে দেবে।
শিশুদের জন্য কাস্টমাইজড শিক্ষামূলক গেম ও ট্যাবলেট দেওয়া হয়েছে। এআই অ্যালগরিদম শিশুর বুদ্ধিমত্তা অনুযায়ী গেমের কঠিনতার স্তর নিজে থেকেই পরিবর্তন করে দেবে। শুধুমাত্র প্রযুক্তি আনাই নয়, অঙ্গনওয়াড়ি দিদিমণি ও কর্মীদের এই অ্যাডভান্সড এআই সিস্টেম এবং জেনারেটিভ এআই টুলস পরিচালনার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
শিশুদের পঠনপাঠনের পাশাপাশি তাদের প্রতিদিনের পুষ্টির মান এবং শারীরিক বৃদ্ধি ডিজিটালি মনিটর করার আধুনিক ব্যবস্থা থাকছে এই মডেলে।
উন্নত মানের শহরের নামী ও ব্যয়বহুল স্কুলের শিশুরা যে ধরণের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পায়, তা এখন ত্রিপুরার খোয়াইয়ের সাধারণ পরিবারের শিশুরাও বিনামূল্যে উপভোগ করতে পারবে।
প্রযুক্তিভিত্তিক ও রোমাঞ্চকর ক্লাসরুম হওয়ার কারণে শিশুদের মধ্যে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে আসার আগ্রহ এবং উপস্থিতির হার এক ধাক্কায় বহু গুণ বৃদ্ধি পাবে।
একদম প্রাথমিক স্তর (৩ থেকে ৬ বছর) থেকেই শিশুদের কোডিং, অ্যানিমেশন এবং প্রযুক্তির প্রাথমিক পাঠের সাথে পরিচিত করানো হবে, যা তাদের আগামী দিনের জন্য প্রস্তুত করবে।