নিজস্ব প্রতিনিধি , সাব্রুম :
এডিসি নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর ত্রিপুরার বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হিংসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, নবনির্বাচিত তিপ্রামথা দলের একাংশ পরিকল্পিতভাবে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপর ধারাবাহিক আক্রমণ সংগঠিত করছে।
এই অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপির দাবি, একাধিক স্থানে তাদের দলীয় কর্মীদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং হুমকির ঘটনা ঘটছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বহু কর্মী-সমর্থক নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে সাব্রুম মহকুমার ২৮ শিলাছড়ি-মনুবনকুল এডিসি কেন্দ্রে বিজেপির জয়ের পর থেকেই আক্রমণের মাত্রা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন বাজার ও জনবহুল এলাকায় অস্থিরতা তৈরি করে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত করার চেষ্টা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক বিজেপি পার্টি অফিসে অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের ঘটনাও সামনে এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য। তিনি আক্রান্ত পার্টি অফিসগুলি ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় নেতৃত্ব ও ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, দল এখনও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে, তবে যারা এই ধরনের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।
সামগ্রিক পরিস্থিতি যে উদ্বেগজনক, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। প্রশাসনের তরফে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ত্রিপুরার বর্তমান পরিস্থিতি আবারও প্রমাণ করছে, নির্বাচনী গণতন্ত্রের পরেও রাজনৈতিক সহনশীলতার অভাব কীভাবে জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।
এখন দেখার, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব কত দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে।