চুরাইবাড়ি প্রতিনিধি, ১০ জুন :
দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া মানদেয়, ফিডিং বিল এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এবার ক্ষোভে ফেটে পড়লেন উত্তর ত্রিপুরার কদমতলা সিডিপিও অফিসের আওতাধীন অঙ্গনওয়াড়ী কর্মী ও সহায়িকারা।
বুধবার দুপুরে কদমতলায় সিডিপিও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন প্রায় ৩২৩টি অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্রের ৬৪৬ জন কর্মী ও সহায়িকা। তাদের বিক্ষোভে দীর্ঘ সময় কার্যত অচল হয়ে পড়ে অফিস চত্বর।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, টানা কয়েক মাস ধরে তারা নিয়মিত বেতন ও মানদেয় পাচ্ছেন না।
কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রাপ্য অংশের অর্থও সময়মতো প্রদান করা হচ্ছে না। বারবার দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও কেবল আশ্বাস ছাড়া বাস্তব কোনও সমাধান মেলেনি।
ফলে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন কর্মী ও সহায়িকারা।
আন্দোলনকারীদের দাবি, গত ছয় মাস ধরে শিশুদের পুষ্টিকর খাবারের জন্য নির্ধারিত ফিডিং বিলও বকেয়া রয়েছে।
অথচ শিশুদের পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করেই কেন্দ্র পরিচালনা করতে হচ্ছে।
বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে সরকারি পাওনা না পাওয়ায় তাদের জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মী জানান, “দুই মাস ধরে কোনও মানদেয় পাইনি। শিশুদের খাবার, কেন্দ্রের বিভিন্ন খরচ সবই নিজেদের অর্থ থেকে বহন করতে হচ্ছে।
বারবার সমস্যার কথা জানিয়েও কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই আন্দোলনের পথে নামতে হয়েছে।”
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা সিডিপিও দপ্তরের উদ্দেশ্যে ১৬ দফা দাবিপত্র পেশ করেন। তবে সিডিপিও বিশ্বজিৎ দাস অফিসে উপস্থিত না থাকায়, তার অনুপস্থিতিতে সুপারভাইজার ত্রিদিপ দের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।
দাবিপত্রের উল্লেখযোগ্য দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—মার্চ ও মে মাসের বকেয়া মানদেয় অবিলম্বে প্রদান।প্রতি মাসের ৩ তারিখের মধ্যে নিয়মিত বেতন প্রদানের ব্যবস্থা।
জানুয়ারি থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত সমস্ত ফিডিং বিল পরিশোধ। শিশুদের পুষ্টি আহারের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি। মোবাইল রিচার্জ ভাতা ১৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৬০ টাকা করা।
বকেয়া টিএ, মেডিসিন বিল, কনটিনজেন্সি বিল ও প্রশিক্ষণ ভাতা দ্রুত মেটানো।প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্রে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করা।
বিকল ওজন মাপার যন্ত্র মেরামত বা নতুন যন্ত্র সরবরাহ।জরাজীর্ণ কেন্দ্রগুলির দ্রুত সংস্কার ও উন্নয়ন।
বিক্ষোভ চলাকালীন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পরে সিডিপিও বিশ্বজিৎ দাস ভিডিও কলের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি জানান, সরকারি কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে এদিন অফিসে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে আগামী দু’দিনের মধ্যে বকেয়া বেতন ও মানদেয় প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
পাশাপাশি অন্যান্য দাবিগুলিও পর্যায়ক্রমে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
যদিও প্রশাসনের এই আশ্বাসে সাময়িকভাবে আন্দোলন
প্রত্যাহার করা হয়েছে, তবুও আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে আগামী ২০ জুনের মধ্যে সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন।
প্রয়োজনে সিডিপিও অফিসে তালাবন্ধ কর্মসূচিসহ আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অঙ্গনওয়াড়ী কর্মী ও সহায়িকারা।
দীর্ঘদিন ধরে শিশু ও মাতৃকল্যাণমূলক পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত এই কর্মীদের বকেয়া পাওনা ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা এখন কী হয়, সেদিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলসহ সাধারণ মানুষের।