নিজস্ব প্রতিনিধি , সোনামুড়া :
দেখতে কালো, বয়স আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ বছর। নিজের নাম-পরিচয় জানানোর মতো ভাষা নেই তার মুখে। দীর্ঘ বছর ধরে সোনামুড়া মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াতেন এই বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিটি।
কেউ দয়া করে কিছু দিলে জুটত খাবার, আর না হলে অভুক্ত অবস্থাতেই কেটে যেত দিনের পর দিন। অভাব-অনটনের চরম সীমায় পৌঁছালেও, এই দীর্ঘ সময়ে চুরির মতো কোনো অসৎ স্বভাব কখনো দেখা যায়নি তার মধ্যে।
সোনামুড়া মোটরস্ট্যান্ড এলাকার চেনা মুখ হলেও, তার খোজ নেওয়ার মতো কেউ ছিল না।
প্রায় আট বছর আগে আচমকাই এই অসহায়, পরিচয়হীন মানুষটির জীবনের মোড় ঘুরে যায়।
সোনামুড়া মোটরস্ট্যান্ডের প্রবেশদ্বারে যার দোকান রয়েছে—সেই আড়ালিয়ার বাসিন্দা ঈমান হোসেন সম্পূর্ণ নিজের কাঁধে তুলে নেন এই অপরিচিত লোকটির সমস্ত দায়িত্ব।
বর্তমানে নিজের অভিভাবক মতো এই বাকপ্রতিবন্ধী মানুষটির যত্ন নিচ্ছেন ঈমান হোসেন। প্রতিদিন নিয়ম করে স্নান করানো থেকে শুরু করে সময়মতো খাবার দেওয়া—সবটাই পরম মমতায় সামলাচ্ছেন তিনি।
সোনামুড়ার ব্যস্ততম মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় ঈমান হোসেনের এই মানবিক উদ্যোগ এখন সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
তবে ঈমান হোসেনের মানবিকতা এখানেই শেষ নয়। তিনি চান না এই ব্যক্তিটি চিরকাল এভাবে পরিচয়হীন হয়ে কাটাক। বর্তমানে তিনি এই অপরিচিত ব্যক্তির আসল পরিচয় এবং পরিবারের সন্ধান চালাচ্ছেন।
ঈমান হোসেনের আকুল আবেদন, যদি কোনো সহৃদয় ব্যক্তি এই মানুষটিকে চিনতে পারেন বা তার আত্মীয়-স্বজনদের সন্ধান পান, তবে যেন দ্রুত যোগাযোগ করেন।
যাতে এই অসহায় মানুষটি আবার তার নিজের পরিবার এবং আপনজনদের কোলে ফিরে যেতে পারেন।
স্বার্থপরতার এই যুগে ঈমান হোসেনের এই মানবিক নজির সমাজকে এক নতুন বার্তা দেয়।
আশা করা যাচ্ছে, খুব দ্রুতই এই পরিচয়হীন ব্যক্তিটির পরিবারের সন্ধান মিলবে এবং তিনি ফিরে পাবেন তার আপন ঠিকানা।