নিজস্ব প্রতিনিধি, তেলিয়ামুড়া: "সন্ত্রাস নয়, শান্তি চাই"—এই স্লোগানকে সামনে রেখে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতির আহ্বান জানালেন তেলিয়ামুড়ার জনজাতি অংশের মানুষ। আসন্ন নির্বাচনের আগে গণতন্ত্রের উৎসবকে কলুষমুক্ত রাখার দাবির মধ্যেই রাজনৈতিক সমীকরণে দেখা দিল নতুন মোড়।
তেলিয়ামুড়া মহকুমার উত্তর মহারানী এলাকায় এক নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে পাঁচটি পরিবারের মোট ২১ জন ভোটার তিপ্রা মথা ত্যাগ করে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগদান করেছেন।
হামলার প্রতিবাদে দলত্যাগ
গতকাল রাতে তেলিয়ামুড়ার মানিক বাজার এলাকায় এক অপ্রীতিকর ঘটনার সূত্রপাত হয়। অভিযোগ উঠেছে, তিপ্রা মথা আশ্রিত একদল দুষ্কৃতী আচমকাই হামলা চালায় এবং বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে। এই হামলায় কয়েকজন আহত হন বলেও জানা গেছে।
মূলত এই রাজনৈতিক সন্ত্রাসের প্রতিবাদেই ক্ষুব্ধ হয়ে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন উত্তর মহারানী এলাকার ওই পাঁচটি পরিবার। রবিবার উত্তর মহারানীস্থিত জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার বাসভবনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবাগতদের দলে স্বাগত জানানো হয়। দলত্যাগীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে মন্ত্রী তাঁদের অভিনন্দন জানান।
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা সংবাদমাধ্যমকে বলেন "নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং প্রতিটি দলেরই প্রচার করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কিন্তু ভয় দেখিয়ে বা সন্ত্রাস সৃষ্টি করে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। গতকাল রাতের ওই ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনার প্রতিবাদেই আজ ২১ জন ভোটার স্বেচ্ছায় শান্তিকামী দল হিসেবে বিজেপিতে শামিল হয়েছেন।
নির্বাচনী আবহে নয়া সমীকরণ
রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন স্বশাসিত জেলা পরিষদ (ADC) নির্বাচনকে ঘিরে যখন উত্তেজনা চরমে, তখন এই ধরনের দলবদল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যখন জনজাতি ঐক্য এবং অধিকারের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে তখন সাধারণ মানুষের চাওয়া—ভোট যেন সত্যিই উৎসবের আমেজে সম্পন্ন হয়, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নয়।
শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখাই এখন সাধারণ ভোটাদের মূল দাবি। তেলিয়ামুড়ার এই রাজনৈতিক রদবদল আসন্ন নির্বাচনে ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।