কোচবিহারে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সেই সঙ্গে শুভেন্দুর কনভয়ে থাকা পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। কোচবিহারের খাগড়াবাড়ি এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়।পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করতে মঙ্গলবার কোচবিহারে আসেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে আগে থেকেই কালো পতাকা নিয়ে খাগড়াবাড়িতে জমা হয়েছিলেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। শুভেন্দুর কনভয় ঢুকতেই লাঠি দিয়ে আঘাতের পাশাপাশি পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। শুভেন্দু যে গাড়িতে ছিলেন সেই গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায়। পাশাপাশি পুলিশের গাড়িও ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ। এরপর সেই কনভয় পৌঁছায় বিজেপির জেলা কার্যালয়ে। বর্তমানে সেখানেই রয়েছেন শুভেন্দু।
রাজনীতি
ভারতীয় জনতা পার্টির ৪৮ করমছড়া মণ্ডল কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক।
প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া :- শনিবার করমছড়া কমিউনিটি হলে অনুষ্ঠিত হল ভারতীয় জনতা পার্টির ৪৮ করমছড়া মণ্ডল কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য। এছাড়াও বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন ধলাই জেলা সভাপতি পতিরাম ত্রিপুরা, মণ্ডল সভাপতি সঞ্জিত দেববর্মা, এম.ডি.সি. সঞ্জয় দাস, বিমল কান্তি চাকমা সহ দলের জেলা ও মণ্ডল স্তরের নেতৃত্বরা। বৈঠকে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল স্থানীয় স্তরে দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দলের সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ। রাজ্য সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য দলের কার্যকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রতিটি কার্যকর্তাকে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের জনমুখী ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে দলের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়ানো সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, দলের প্রতিটি সদস্যকে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সংগঠনের ভিত যত শক্তিশালী হবে, দলের ভবিষ্যৎ তত উজ্জ্বল হবে। মণ্ডল সভাপতি সঞ্জিত দেববর্মা তাঁর বক্তব্যে করমছড়া মণ্ডলে দলের বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থা এবং কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, দলের প্রতিটি স্তরের কার্যকর্তা সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা বজায় থাকবে। এই বৈঠকে দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা এবং জনসংযোগমূলক কর্মকাণ্ডের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকের শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, দলের জনভিত্তি সম্প্রসারণ এবং সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই ধরনের বৈঠক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। দলের একাংশের মতে, এই বৈঠক করমছড়া মণ্ডলের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে, যা আগামিদিনে দলের কর্মপন্থা নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বৈভবশালী ভারত গড়ার সংকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে : সুশান্ত
প্রতিনিধি, বিশালগড় , ১৪ জুন।।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিগত ১১ বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের সেবা সুশাসন গরিব কল্যাণের কর্মসূচি গুলি প্রচারের উদ্দেশ্যে বিজেপির পক্ষকাল ব্যাপী কার্যক্রমের অঙ্গ হিসেবে বিশালগড়ে অনুষ্ঠিত হয় বিকশিত ভারত সংকল্প সভা। শনিবার বিকালে বিজেপির বিশালগড় মন্ডল কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক সুশান্ত দেব, বিশালগড় পৌরপরিষদের চেয়ারম্যান অঞ্জন পুরকায়স্থ, বিশালগড় পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন অতসী দাস, মন্ডল সভাপতি তপন দাস, মন্ডল প্রভারী অমল দেবনাথ, মন্ডল সহসভাপতি জিতেন্দ্র চন্দ্র সাহা প্রমুখ। ১১ বছরে নরেন্দ্র মোদি সরকারের জনকল্যাণকর প্রকল্প গুলো জনসমক্ষে তুলে ধরার জন্য একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় সমাবেশ স্থলের পাশে। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক সুশান্ত দেব বলেন ২০১৪ সালের আগে আমরা অনেক সরকার দেখেছি। যে দলটি প্রায় ষাট বছর দেশের শাসনভার পরিচালনা করেছে সেই দলের ইতিহাস আমরা সবাই জানি। কেন্দ্রের কংগ্রেস শাসিত সরকার এবং রাজ্যের সিপিএম শাসিত সরকার দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ছিল । যার কারণে জনগণ তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে বিকাশ মুখী সরকার প্রতিষ্ঠার পর দেশের আপামর জনসাধারণ বিশেষ করে গরীব অংশের মানুষ উপকৃত হয়েছে। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । ২০১৪ সালে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেও রাজ্যে ছিল সিপিএমের সরকার। সেই কারণে এই রাজ্যের গরিব মানুষ দলবাজির শিকার হয়েছে। সাধারণ মানুষ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প থেকে বঞ্চিত ছিল । ২০১৮ সালে রাজ্যে বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠার পর ডাবল ইঞ্জিনের সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের সকল প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করেছে। সাধারণ মানুষ পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় মাথা গোঁজার ঠাঁই। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, গ্যাসের সংযোগ দেয়া হচ্ছে। রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটেছে। সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে রেশন পাচ্ছে। কৃষি স্বাস্থ্য শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটছে। কৃষকদের আয় বেড়েছে। প্রায় চার লক্ষ মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাড়তি রোজগারের সুবিধা পেয়েছে। যুবকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার পাশাপাশি স্বচ্ছ নিয়োগ-নীতির মাধ্যমে সরকারি চাকরি প্রদান করা হচ্ছে। ২০১৮ সালে রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেও বিশালগড় ছিল সিপিএমের দখলে। সেই সময় সিপিএমের তথাকথিত বিধায়ক কে মানুষ বন্যা বলুন প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলুন এমন কি করোনা মহামারীর সময়েও খুঁজে পাননি। ২০২৩ সালে বিশালগড়ে পদ্মফুল ফুটেছে। এরপর থেকে মানুষের মৌলিক অধিকার এবং চাহিদা পূরণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। গত ২৫ বছরে বিশালগড়ে যা উন্নয়ন হয়নি দুই বছরে এর চেয়ে বেশি উন্নয়ন করে দেখিয়েছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার। এই দুই বছরে বিশালগড়ে ২০০ কোটি টাকার রাস্তার কাজ হয়েছে। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে অলিতে গলিতে নতুন রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে। সকল সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে যাচ্ছে ঘরে ঘরে। বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালের পরিষেবা উন্নয়নের জন্য সাত কোটি টাকায় নতুন ভবন নির্মাণ হচ্ছে। ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ হবে বিশালগড়ে। শিশু উদ্যান সুইমিং পুল ইত্যাদি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। বিধায়ক সুশান্ত দেব আরো বলেন নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপির সরকার ভারতবর্ষকে চতুর্থ অর্থনীতিতে পৌঁছে দিয়েছেন। অভিশপ্ত ৩৭০ ধারা জম্মু-কাশ্মীর থেকে বাতিল করেছেন। মর্যাদা পুরুষোত্তম ভগবান রামচন্দ্রের অপ রাম মন্দির নির্মাণ হয়েছে। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী মহারাষ্ট্র থেকে উত্তর-পূর্ব ভারত এক সুতোায় বেঁধে এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত গড়ার সংকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু উন্নয়ন বিরোধীরা এখনো ষড়যন্ত্র করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন যেখানেই বিভ্রান্তি করার চেষ্টা হবে সেখানে প্রতিবাদ প্রতিরোধ হবে এবং রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা হবে। এদিকে চড়িলাম মন্ডল কমিটির উদ্যোগে নরেন্দ্র মোদি সরকারের ১১ বছরের জনকল্যাণমুখী কর্মযজ্ঞ প্রচারের উদ্দেশ্যে বিকশিত ভারত সংকল্প সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিনিধি ধর্মনগর,, আজ ৬০ নং বিজেপি কাঞ্চনপুর মণ্ডলের উদ্যোগ কাঞ্চনপুর টাউন হলে বিজেপির রাজ্য সভাপতির উপস্থিতিতে এক সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সাংগঠনিক সভায় রাজ্য বিজেপির প্রদেশ সভাপতি শ্রী রাজীব ভট্টাচার্য সহ উপস্থিত ছিলেন বিজেপির উত্তর জেলার সভাপতি কাজল দাস, উত্তর জেলার সভাধিপতি অপর্ণা নাথ,কাঞ্চনপুর মন্ডল সভাপতি বীরেন্দ্র কর সহ কাঞ্চনপুর মন্ডলের অন্যান্য নেতৃত্বরা। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে সভায় সূভ সূচনা করেন উপস্থিত অতিথিবর্গরা। তারপর বক্তব্য রাখেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য মহোদয়এই সাংগঠনিক সভায় আগামী এডিসি নির্বাচনের উপর দলের কার্যকরতা বাড়ানোর জন্য সবাইকে অনুপ্রেরণা প্রদান করেন এবং কিভাবে আরো মানুষের উপকারে আসা যায় সেই ব্যাপারে আরো ব্যাপকভাবে কাজ করার জন্য সবাইকে অগ্রসর হওয়ার জন্য অনুরোধ রাখেন এরই সাথে তিনি এই সরকারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি তুলে ধরলেন সকলের সামনে ।তিনি বলেন রাজ্যের জনগণদের একটি সময় ঘরের জন্য নেতাদের বাড়িতে লাইন ধরতে হত । তবে এখন আর ঘরের জন্য নেতাদের বাড়িতে লাইন ধরতে হয় না কারন বর্তমানে রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিনের সরকার কাজ করছে এবং বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৪.৫০ লক্ষ পাকা বাড়ি এই ডাবল ইঞ্জিনের সরকার নির্মাণ করে দিয়েছে পাশাপাশি তিনি আরও বলেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশে ২০১৯ সাল থেকে এই ডবল ইঞ্জিনের সরকার রাজ্যের গরিব অংশের গনগণদের সম্পুর্ন বিনামূলে পরিবার পিছু ৫ কেজি করে চাল প্রদান করে আসছে।সবশেষে এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসাবে ছিল তিরঙ্গা যাত্রা। সেই মোতাবিক প্রায় ৭ থেকে ৮০০ মানুষ উপস্থিত হন, কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সেই রেলি প্রদর্শন হয়নি। তবে তারা আশাবাদী আগামী দিনগুলোতে তারা আরো বিভিন্ন কর্মসূচির চালিয়ে যাবেন।
প্রতিনিধি, বিশালগড়, ৭ মে।। যুব জোয়ার প্রত্যক্ষ করল বিশালগড়। টগবগে যুবসমাজ কাঁপালেন বিশালগড়ের রাজপথ। আকস্মিক রাজনৈতিক কার্যক্রমে এমন যুব জোয়ার অতীতে কখনো পরিলক্ষিত হয়নি বিশালগড়ে। এর থেকেই প্রমাণিত হয় যুব সমাজ রয়েছে বিজেপির সঙ্গে। বুধবার বিশালগড়ে পা রাখেন বিজেপির প্রদেশ প্রভারী রাজদীপ রায়। দক্ষিণ ত্রিপুরা থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম শেষে বুধবার পড়ন্ত বেলায় বিশালগড়ে যান প্রদেশ প্রভারি রাজদীপ রায় এবং প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক অমিত রক্ষিত। বিশালগড়ের জাঙ্গালিয়া থেকে সুবিশাল বাইক র্যালির মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয় দলের নেতৃবৃন্দদের। বিধায়ক সুশান্ত দেবের বাইকের পেছনের আসনে বসেন প্রভারি রাজদীপ রায়। অমিত রক্ষিত ছিলেন ওপর এক যুব কার্যকর্তার বাইকের পেছনের আসনে। উজ্জীবিত যুব সমাজকে সঙ্গে নিয়ে বিশালগড়ের রাজপথ দাপিয়েছে প্রভারি রাজদীপ রায়, সাধারণ সম্পাদক অমিত রক্ষিত এবং বিধায়ক সুশান্ত দেব। শেষে তারা একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ বিষয়ে বিধায়ক সুশান্তদেব জানান বিরোধীদের মিথ্যাচার অপপ্রচারের যুবক জবাব দিয়েছে বিশালগড়ের যুবসমাজ। যুবকরা রয়েছে সরকারের পাশেই। বিশালগড়ে বিরোধীরা নানা ষড়যন্ত্র করছে। বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বিশালগড়ের যুবসমাজ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। আজকের এই কার্যক্রমে তা আবার প্রমাণিত হয়েছে।
প্রতিনিধি ধর্মনগর ,,রাজ্যসভার সাংসদ পদে নিযুক্ত হয়ে প্রথমবার একদিনের জন্য উত্তর ত্রিপুরা সফরে এসেছেন ত্রিপুরা রাজ্য বিজেপির সভাপতি শ্রী রাজিব ভট্টাচার্জ। এখানে আসার মূল উদ্দেশ্য হল
এক দেশ এক নির্বাচন” শীর্ষক আলোচনা চক্রে যোগ দেয়ার জন্য আজ বুধবার উত্তর ত্রিপুরা জেলার একদিনের জন্য ধর্মনগরে সফরে এলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য । এদিন জেলা বিজেপির উদ্যোগে ধর্মনগর বিবেকানন্দ সার্ধশতবার্ষিকী ভবনে আয়োজিত হয়”এক দেশ এক নির্বাচন” শীর্ষক আলোচনা।এতে রাজ্য সভাপতি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন,রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ তথা ধর্মনগরের বিধায়ক বিশ্ববন্ধু সেন,বাগবাসা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক যাদব লাল নাথ,রাজ্যের ওবিসি মোর্চার সভা নেত্রী মলিনা দেবনাথ,জেলা সভাধিপতি অপর্ণা নাথ, বিজিপি দলের উত্তর জেলা সভাপতি কাজল দাস প্রমুখ। এই অনুষ্ঠানে প্রথমে প্রদীপ উজ্জ্বলন করা হয়, তারপর বাবা সাহেবআম্বেদ করপুষ্পাঞ্জলি দেওয়া হয় কে।তারপর অতি অতিথিদেরকে উত্তরীয় ও পুষ্প স্তবক দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। তারপর বক্তব্য রাখেন জেলা সভাপতি সভাপতি কাজল দাস,ত্রিপুরা বিধানসভার ও তথা ধর্মনগরের বিধায়ক শ্রী বিশ্ববন্ধু সেন, রাজ্যসভা সাংসদ তথা ত্রিপুরা রাজ্য বিজেপি সভাপতি রাজিব ভট্টাচার্জী, বাগবাসা বিধানসভার বিধায়ক যাদব লাল নাথ প্রোমূখ এদিন বক্তারা এক দেশ এক নির্বাচনের বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা রাখেন।এদিন উক্ত কর্মসূচিতে দলীয় কর্মী সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল বেশ লক্ষণীয়।
প্রতিনিধি, বিশালগড় , ।। ওয়াকফ আইন নিয়ে সংখ্যালঘুদের বিভ্রান্ত করছে কংগ্রেস এবং সিপিএম। এই আইনে কারোরই ক্ষতি হবে না। বৃহস্পতিবার বিশালগড়ে চৌপাল বৈঠকে বললেন সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে নানান কার্যক্রমের অঙ্গ হিসেবে বিশালগড়ে অনুষ্ঠিত হয় গ্রাম চলো অভিযান এবং চৌপাল বৈঠক। বৃহস্পতিবার বসন্তের পড়ন্ত বিকালে বিশালগড়ের প্রভুরামপুর পঞ্চায়েত মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এই বৈঠক। চৌপাল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব, বিধায়ক সুশান্ত দেব, পৌর পরিষদ চেয়ারম্যান অঞ্জন পুরকায়স্থ, পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন অতসী দাস, মন্ডল সভাপতি তপন দাস, মন্ডল প্রভারী অমল দেবনাথ প্রমুখ। বাঁশ খড় দিয়ে সবুজ ধান ক্ষেতের পাশে পুকুর পাড়ে বানানো হয় অস্থায়ী চৌপাল মঞ্চ। বসন্তের পড়ন্ত বেলায় হিমেল হাওয়ার স্পর্শ গায়ে মেখে নেতাদের বক্তব্য শুনেন উপস্থিত আবালবৃদ্ধবনিতা। ভাষণে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব বলেন বর্তমানে ওয়াকফ আইন এবং এক দেশ এক নির্বাচন নিয়ে চর্চা হচ্ছে। কংগ্রেস সিপিএম সহ বিরোধী দল গুলো মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। সিএএ নিয়েও বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। এবার ওয়াকফ নিয়ে বিভ্রান্ত করছে। তিনি বলেন বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই। ওয়াকফ আইনে কোন সংখ্যালঘুর ক্ষতি হবে না। বরং এতে সকল সংখ্যালঘুদের কল্যাণ হবে। এই আইনে সংখ্যালঘুদের ধার্মিক বিষয়ে কারোর হস্তক্ষেপ থাকবে না। হাতে গোনা কয়েকজন ওয়াকফ সম্পত্তির অপব্যবহার করে বাঁকা পথে রোজগার করতো। জমি দখল করে বিক্রি করতো। এবার এই জমি দেখবাল করবেন জেলা শাসক। এতে সংখ্যালঘুদের জমি সুরক্ষিত থাকবে। আঠারো নির্বাচনের আগে রাজ্যের সংখ্যালঘুদের বিভ্রান্ত করেছিল সিপিএম। ৩৫ বছরে এ রাজ্যের সংখ্যালঘুদের কোন উন্নয়ন করেনি। বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর রাজ্যের সংখ্যালঘুদের কোন ক্ষতি হয়নি। সরকার এসব সবকা বিকাশ নীতিতে সকলের কল্যাণে কাজ করছে। এক দেশ এক নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন স্বাধীনতার পর একই সঙ্গে বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচন হতো। কংগ্রেসের কারণে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর ফলে সময় এবং সরকারি অর্থ অপব্যয় হত। এক দেশ এক নির্বাচন চালু হলে খরচ এবং সময় দুটিই বাঁচবে। এতে রাষ্ট্রের কল্যাণ হবে। বিধায়ক সুশান্ত দেব বলেন বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠার পর সকল সরকারি সুবিধা অন্তিম ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। এই প্রভুরাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে গিয়েছে। গ্রামীণ রাস্তা সিসি রোড করা হয়েছে। জমিতে সেচের জল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। শস্য শ্যামলায় ভরে উঠেছে এই প্রভুরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত। সিপিএম একসময় এই অঞ্চলের সংখ্যালঘুদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এখানকার সংখ্যালঘুর বুঝতে পারছে কারা সংখ্যালঘুদের শত্রু। সিপিএমের আমলে এ এলাকার কোন উন্নয়ন হয়নি। বর্তমানে উন্নয়নের পাশাপাশি সকল অংশের মানুষের আর্থসামাজিক কল্যাণ ঘটছে। এদিন গ্রাম চলো অভিযানের অঙ্গ হিসেবে গ্রামের কয়েকটি কৃষি জমিতে পরিদর্শন করে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব এবং বিধায়ক সুশান্ত দেব। বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর জল সেচের বন্দোবস্ত করায় এই এলাকার চাষীরা অত্যন্ত খুশি। সবুজে ফসলে ভরে উঠেছে কৃষি জমি। অপরদিকে চড়িলাম মন্ডল আয়োজিত গ্রাম চলো অভিযানের অঙ্গ হিসেবে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখেন সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। তিনি বলেন সিপিএম এবং কংগ্রেস মিলেমিশে এ রাজ্য কৃষক শ্রমিক যুবক সকল অংশের মানুষের সর্বনাশ করেছে। ১০৩২৩ শিক্ষকের চাকরিচ্যুতি সিপিএমের পাপের ফসল। বেআইনিভাবে চাকরি দিয়েছে সিপিএম। আদালতে মামলা করেছে কংগ্রেসের নেতা। এতদিন তারা মিলে মিশে সরকার চালিয়েছে। গত নির্বাচনে তা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এদের আবার সুযোগ দিলে রাজ্যের সর্বনাশ করবে। কংগ্রেস এবং সিপিএম ওয়াকফ আইন নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলে তাদের রাজনৈতিকভাবে ধূলিসাৎ করা হবে। সভায় এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মন্ডল সভাপতি তাপস দাস।
প্রতিনিধি, উদয়পুর :- এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়ন হলে গ্রামের উন্নয়ন হয়ে ওঠে । এর ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হয় । একের পর এক রাস্তাঘাট যেভাবে করা হচ্ছে মাতারবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে। তাতে করে গোটা বিধানসভার রূপ ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে । কেন্দ্র ও রাজ্যে একই সরকার থাকার কারণে রাজ্যের উন্নয়ন দ্রুত হচ্ছে। যা প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী বলে থাকেন ডাবল ইঞ্জিনের সরকার । যা বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে সরকারের সুফল পেতে শুরু করেছে গোমতি জেলার মাতাবাড়ি কেন্দ্র । এই বিধানসভা কেন্দ্রের চন্দ্রপুর কাঁঠালতলী থেকে সিদ্দিকা টিলা পর্যন্ত ভগ্ন দশা সম্পন্ন রাস্তাটিকে সংস্কার করে পাকা রাস্তায় রূপান্তরিত করার জন্য দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল গ্রামবাসীদের। গ্রামের সাধারণ মানুষের দাবীকে মান্যতা দিয়ে প্রায় এক কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয় পাকা রাস্তা ( ব্ল্যাক টপ ) তৈরি করা হবে আগামী কিছুদিনের মধ্যে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংশ্লিষ্ট রাস্তাটি পূর্ত দপ্তরের আধিকারিক এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের জন প্রতিনিধিদেরকে সাথে নিয়ে সরজমিনে পরিদর্শন করেন মাতাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক অভিষেক দেবরায়। বিধায়ক আশ্বস্ত করেন খুব শীঘ্রই শুরু হবে নতুন পাকা সড়কের কাজ । বিধায়কের মুখ থেকে উন্নয়নের কাজের আশ্বস্ত হয়ে খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে গ্রামীন এলাকা জুড়ে।
“বিকশিত ভারতের বিকশিত বাজেট” সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাইমাভ্যালী মন্ডলে রেলী ও পথসভা
- প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া ২৪ মার্চ:- সোমবার গোটা রাজ্যের সাথে তাল মিলিয়ে রাইমাভ্যালী মন্ডলেও “বিকশিত ভারতের বিকশিত বাজেট” উপলক্ষে এক বিশাল রেলীর আয়োজন করা হয়। জনকল্যাণমুখী ও জনহৈতেষী বাজেট পেশের জন্য রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাতে এই রেলী অনুষ্ঠিত হয়। রেলীটি মন্ডল কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে গন্ডাছড়া বাজার এলাকার বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে মধ্যবাজারে এসে এক পথসভায় মিলিত হয়। এই বিশাল রেলী ও পথসভায় উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য সম্পাদক তথা এমডিসি ভূমিকানন্দ রিয়াং, ধলাই জেলা সভাপতি পতিরাম ত্রিপুরা, প্রদেশ মহিলা মোর্চার সভানেত্রী সতী চাকমা, কৃষাণ মোর্চা রাজ্য কমিটির সদস্য গোপাল সরকার, রাইমাভ্যালী মন্ডল সভাপতি ধন্য মানিক ত্রিপুরা, প্রাক্তন মন্ডল সভাপতি সমীর রঞ্জন ত্রিপুরাসহ মন্ডল ও বিভিন্ন মোর্চার নেতৃবৃন্দ। পথসভায় বক্তারা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা ও তার মন্ত্রিসভার জনমুখী বাজেট পেশের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, এই বাজেট সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কথা চিন্তা করে প্রণয়ন করা হয়েছে, যা রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৩ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করা হয়েছে, যা তাদের আর্থিক সুরক্ষা আরও নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি, কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করলে তার জন্য ৫০ হাজার টাকার বীমা প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যা নারীর ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তাছাড়া, বাজেটে কৃষি, শিক্ষা, শিল্প, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী এবং মহিলাদের উন্নয়নে একাধিক জনহিতকর প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্যের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে এই বাজেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বক্তারা মনে করেন। এদিনের রেলী ও পথসভাকে ঘিরে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। তাঁরা ব্যানার, পতাকা ও স্লোগানের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানান। সরকারের জনহিতকর বাজেট ঘোষণার জন্য মুখ্যমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নয়নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
“বিকশিত ভারতের বিকশিত বাজেট” উপলক্ষে আয়োজিত এই রেলী ও পথসভা জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উদ্দীপনার মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এটি প্রমাণ করে যে, রাজ্য সরকার কর্তৃক গৃহীত নীতি ও পরিকল্পনাগুলি জনসাধারণের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের আরও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা যায়, যা রাজ্যের অগ্রগতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
রাইমাভ্যালীতে তিপ্রা মথা ও কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন, বিজেপিতে যোগ দিলেন ৫০ জন ভোটার
প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া ২১ মার্চ:- রাইমাভ্যালীতে তিপ্রা মথা ও কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। শুক্রবার ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাইমাভ্যালী মন্ডল কমিটির উদ্যোগে এক যোগদান সভার আয়োজন করা হয়। সভায় তিপ্রা মথা গন্ডাছড়া মহকুমা কমিটির প্রাক্তন সভাপতি মাইধ্যম রাম রিয়াং এবং রাইমাভ্যালী ব্লক কংগ্রেস কমিটির সহসভাপতি খগেন্দ্র ত্রিপুরার নেতৃত্বে তিপ্রা মথা, কংগ্রেস এবং সিপিএম দল ত্যাগ করে ১৬ পরিবারের ৫০ জন ভোটার বিজেপিতে যোগদান করেন। নবাগতদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন রাইমাভ্যালী মন্ডল সভাপতি ধন্য মানিক ত্রিপুরা।
এই যোগদান সভায় বিজেপির বিভিন্ন শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিজেপি প্রদেশ কমিটির সম্পাদক তথা ৮ নং গঙ্গানগর-গন্ডাছড়া কেন্দ্রের এমডিসি ভূমিকানন্দ রিয়াং, ধলাই জেলা সভাপতি পতিরাম ত্রিপুরা, সহ-সভাপতি বিকাশ চাকমা, কৃষাণ মোর্চার রাজ্য কমিটির সদস্য গোপাল সরকারসহ মন্ডল ও বিভিন্ন মোর্চার নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপির ধলাই জেলা সভাপতি পতিরাম ত্রিপুরা বলেন, “শুক্রবার রাইমাভ্যালী মন্ডলে নারায়ণপুর বাজারে আরও বড় একটি যোগদান সভা আয়োজন করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তিপ্রা মথা ছাত্র সংগঠনের ডাকা রাজ্যব্যাপী ধর্মঘটের কারণে সেই সভাটি বাতিল করতে হয়েছে। তবে আগামী দিনে রাইমাভ্যালী মন্ডলে আরও বড় পরিসরে যোগদান কর্মসূচি চলবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার নেতৃত্বে সারা দেশ ও রাজ্যে উন্নয়নের যে জোয়ার বইছে, তাতে সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দলের নেতারাও আকৃষ্ট হচ্ছেন এবং বিজেপিতে যোগদান করছেন। উন্নয়ন ও সুশাসনের স্বার্থেই মানুষ বিজেপির ওপর আস্থা রাখছে।”
সদ্য বিজেপিতে যোগদানকারী মাইধ্যম রাম রিয়াং তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, “২০১৮ সাল থেকে তিনি তিপ্রা মথা গন্ডাছড়া মহকুমা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। বলা যায়, তার হাত ধরেই গন্ডাছড়ায় তিপ্রা মথার প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাইমাভ্যালী কেন্দ্রে দলের প্রার্থীকে জয়ী করার ক্ষেত্রে তার অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি।”
তবে, এত বছর ধরে দলের জন্য কাজ করার পরও বর্তমানে তিনি কোনো গুরুত্ব পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন। “আমাকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হচ্ছে না। তিপ্রা মথার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নেই, দল পরিচালনায় বিশৃঙ্খলা চলছে,”—বলেন তিনি। এসব কারণেই তিনি তিপ্রা মথা ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
অন্যদিকে, রাইমাভ্যালী ব্লক কংগ্রেসের সহসভাপতি খগেন্দ্র ত্রিপুরা, যিনি এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তিনি বলেন, “২০১৪ সালে আমি বিজেপির রাইমাভ্যালী মন্ডলের মন্ডল সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলাম। তবে ২০১৬ সালে কিছু ব্যক্তিগত কারণে দলীয় কার্যক্রম থেকে বিরত থাকি। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে কংগ্রেসে যোগদান করি এবং রাইমাভ্যালী ব্লক কংগ্রেসের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করি।”
কিন্তু কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নেই দাবি করে তিনি বলেন, “কংগ্রেস কখনোই আবার ক্ষমতায় আসতে পারবে না। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশ শান্তি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। উগ্রপন্থী কার্যকলাপ এখন প্রায় নেই বললেই চলে। তাই মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করছে।”
খগেন্দ্র ত্রিপুরা আরও বলেন, “আগামী দিনে তিপ্রা মথা, আইপিএফটি, সিপিএম ও কংগ্রেস দল ছেড়ে হাজার হাজার ভোটার বিজেপিতে যোগ দেবেন। কারণ মানুষ উন্নয়ন ও শান্তি চায়।”
এই যোগদান সভাকে ঘিরে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের বিপুল উচ্ছ্বাস দেখা যায়। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব মনে করছেন, রাইমাভ্যালীতে এভাবে একের পর এক বিরোধী দলের নেতা-কর্মী বিজেপিতে যোগ দিলে দলের সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে এবং আগামী নির্বাচনে বিজেপির অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।
রাইমাভ্যালীতে তিপ্রা মথা ও কংগ্রেসের বড়সড় ভাঙন বিজেপির রাজনৈতিক শক্তি আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের বিজেপিতে যোগদান এ অঞ্চলে দলের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে। বিজেপির নেতৃত্বরা আশাবাদী যে ভবিষ্যতে আরও বিশাল সংখ্যক কর্মী ও সাধারণ মানুষ বিজেপিতে যোগ দেবেন, যা দলকে আরও শক্তিশালী করবে।