- প্রতিনিধি মোহনপুর:- বামুটিয়ার তেবাড়িয়াতে নবনির্মিত বীজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলো বুধবার। কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী রতন লাল নাথের হাত ধরে উদ্বোধন হয়েছে এই বীজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের। পাশাপাশি এলাকার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রাংশ। বামুটিয়া এলাকাতে বিশেষ করে ধানের বীজ প্রক্রিয়াকরণের জন্য স্থাপন করা হয়েছে একটি ইউনিট। তেবাড়িয়া এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে এই প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র। ফিতা কেটে এবং ফলক উন্মোচন করে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়েছে বুধবার। এছাড়াও এদিন এলাকার কৃষকদের মিনি ট্রাক্টর, পাওয়ার ওইডার, ব্রুশকাটার, স্প্রে মেশিন এবং অন্যান্য কৃষি যন্ত্রাংশ বিতরণ করা হয়েছে। কৃষকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সামগ্রিক গুলো তুলে দিয়েছেন রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী রতন লাল নাথ।
এদিন মন্ত্রী বলেন বর্তমানে কোন কৃষক তার সন্তানকে কৃষক বানাতে চায় না। এটা তার দোষ নয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ভারতের কৃষকদের কোন সরকার সঠিক মূল্যায়ন করেনি। বর্তমান দেশের প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দেশের কৃষক দের। এটি বিশাল পাওনা বলে মন্তব্য করেছেন মন্ত্রী। পাশাপাশি কৃষকদের আহ্বান করেছেন পরম্পরাগত কৃষির পাশাপাশি আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার সাথে নিজেদের যুক্ত করার জন্য। যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি করে নিজেদের কাজ কি আরো সহজ করার জন্য আহবান করলেন তিনি।
এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, বামুটিয়া পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান দীপক সিংহ, প্রাক্তন বিধায়ক কৃষ্ণ ধনদাস, কৃষি দপ্তরের অধিকর্তা ফনি ভূষণ জমাতিয়া সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও আধিকারিকরা।
admin
প্রতিনিধি ধর্মনগর,,অনুপ্রবেশ যেন কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। প্রায় আটক মাস পূর্বে অবৈধ ভাবে
বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করে বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করে অবশেষে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে এক বাংলাদেশী নাগরিক।ধৃত ব্যাক্তির নাম শেখ মোহাম্মদ রুখন মিয়া, বয়স ৪০,পিতা মৃত শেখ মোহাম্মদ সমির মিয়া,বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানার গৌরিশঙ্কর পোষাইনগর গ্ৰামে।
বিবরনে প্রকাশ,গত বছরের আগস্ট মাসে বাংলাদেশের আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের অস্থির পরিস্থিতির কারণে দলেই সক্রিয় কর্মী তথা উক্ত বাংলাদেশী নাগরিক উত্তর ত্রিপুরা জেলার কোনো এক সীমান্ত ডিঙ্গিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। তখন থেকে দীর্ঘ প্রায় আট মাস অসমের পাথারকান্দি এলাকায় বসবাস করছিলো বলে জানায় সে। এরপর ধর্মনগরের কোনো এক ব্যাক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে সে ধর্মনগর শহরে আসে কাজের সন্ধানে। কিন্তু তাতেও সে ব্যার্থ হয়ে পুনরায় পাথারকান্দি ফিরে যাবার সময় ধর্মনগর আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনাল থেকে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর জোয়ানরা তাকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাকড়াও করে। মঙ্গলবার ধৃত বাংলাদেশীকে কদমতলা থানায় সমঝে দেয় রানীবাড়িস্থিত ই-কোম্পানির ৯৭নং ব্যাটেলিয়নের জোয়ানরা।
পুলিশ ধৃত বাংলাদেশীর বিরুদ্ধে ২৩/২৫ নম্বরে ও ১৪৩(২)বিএনএস ২০২৩ এবং ১৯৬৭ সালের পাসপোর্ট আইনের ৩/১২(১) ধারায় একটি মামলা রুজু করেছে। আগামীকাল তাকে জেলা আদালতের সোপর্দ করা হবে বলে জানা যায়।
এদিকে,ধৃত বাংলাদেশী নাগরিক জানায় পঁয়ত্রিশ হাজার টাকার বিনিময়ে উত্তর জেলার কোন এক সীমান্ত দিয়ে সে ভারতে প্রবেশ করেছে। তবে সে সঠিক সীমান্তের নাম বলতে পারেনি কখনো বলছে রাগনা সীমান্ত আবার কখনও বা ব্রজেন্দ্রনগর সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পুলিশও সন্দেহজনক ভাবে একান্ডে জড়িত দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে মানব পাচারের সন্দেহে। অপরদিকে আরো জানাগেছে ধৃত এই ব্যক্তিকে জোয়ানরা বিভিন্ন থানার হাতে সমঝে দিতে গেলেও থানা কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশী ব্যক্তিকে সমঝে নি। অনেক নাটক মঞ্চস্থ করার পর মঙ্গলবার কদমতলা পুলিশের হাতে সমঝে দেওয়া হয় ধৃতকে।
প্রতিনিধি ধর্মনগর : এবার ধর্মনগরের এক যুবকের নামে ফেইক একাউন্ট বানিয়ে ফেসবুকে মেয়েদের সাথে অকথ্য আচরণ করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লো এক প্রতারক l এই প্রতারক যুবকের নাম প্রসেনজিৎ নম পিতা শৈলেন্দ্র নম বাড়ি বাগবাস থানাধীন গঙ্গানগরে l ঘটনার বিবরণে জানা যায় বিগত ৩ বছর যাবৎ প্রসেনজিৎ নম ধর্মনগরের এক যুবক অনীশ পালের নামে জাল ফেসবুক একাউন্ট তৈরী করে ফেসবুকে মেয়েদের সাথে ফস্টিনস্টি অকথ্য আচরণ নীল ছবি পাঠানো ইত্যাদি বিভিন্ন আচরণ সংগঠিত করে চলছে অবিরতিই l পরবর্তীতে অনীশ এই ঘটনার হদিশ পেয়ে ধর্মনগর থানায় ওই ফেইক একাউন্টের আসল লোকটি কে সেই বিষয়ে তদন্ত করার জন্য আবেদন রাখেন l তার আবেদনে সারা দিয়ে প্রশাসনের তরফে ওই ফেইক একাউন্টটি হ্যাক করে নেওয়া হয় l পরোববর্তীতে লোকেশন ট্র্যাগিংয়ের মাধ্যমে ওই জাল ফেসবুক একাউন্টের আসল মালিকের নাম এবং ঠিকানা বের করে নেয় পুলিশ l গতকাল রাতে পুলিশ ধৃত প্রসেনজিৎ নমকে কল করে থানায় ডাকে l পরবর্তীতে ধৃত প্রসেনজিৎ পুলিশের ডাকে সারা দিয়ে তার বাবা শৈলেন্দ্র নমকে সাথে নিয়ে থানায় হাজির হয় এবং ঘটনাটির সত্যতা শিকার করে l পরবর্তীতে তার বাবা শৈলেন্দ্র নমো ধর্মনগর থানায় একটি লিখিত আবেদন জানান l তার বাবার বক্তব্য অনুসারে ওই আবেদন পত্রে লিখা ছিল যে ভবিষ্যতে যদি তার ছেলে প্রসেনজিৎ নমো আর কারোর সাথে এমত অকথ্য আচরণ বা অসামাজিক কাজ সংগঠিত করে তাহলে প্রশাসন যাতে তার ছেলের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন l আর সেই সময় তিনি প্রশানকে তার তরফ থেকে ব্যক্তিগত ভাবে যা সাহায্য প্রয়োজন হয় তা তিনি করবেন বলে প্রশাসনের কাছে তিনি আবেদন রাখেন l ছেলের এই কুরুচিকর কাণ্ডে বাবার ক্ষমাপ্রার্থী বিষয়টি সহানুভূতির নজরে নিয়ে বাবার আবেদন পত্র গ্রহণ করে বাবার দায়িত্বে প্রশাসনিক নিয়ম অনুসারে প্রসেনজিৎ কে ছেড়ে দেয় পুলিশ l
গ্রামীন কৃষকদের উৎসাহিত করতে মহকুমা ভিত্তিক পশু পাখি মেলা আয়োজন জোলাই বাড়ি।
- শান্তির বাজার প্রতিনিধি: আজ এক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের
জাতীয় লাইভস্টক মিশন প্রকল্পে পাশাপাশি রাজ্য সরকারের প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের পরিকল্পনায় এক দিবসীয় মহকুমা ভিত্তিক গবাদি পশু-পাখি মেলা-২০২৫ এর আয়োজন করা হয় শান্তিরবাজার মহকুমায় জোলাই বাড়ি ব্লকের অন্তর্গত জোলাই বাড়ি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ।প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্যে দিয়ে আজকের এই এক দিবসীয় মহকুমা ভিত্তিক গবাদি পশু-পাখি মেলার শুভ সূচনা করেন টিআরপি, পিটিজি এবং সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, উদ্বোধকের পাশাপাশি উপস্থিত ছিল দক্ষিণ জেলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত, শান্তিরবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং, বকাফা পঞ্চায়েত সমিতি সমিতির চেয়ারম্যান কৃষ্ণাবতী রিয়াং,জোলাই বাড়ি পঞ্চায়েত সমিতি সমিতির চেয়ারম্যান তাপস দত্ত, শান্তিরবাজার পুরো পরিষদের পুরো মাতা স্বপ্না বৈদ্য, ভাইস চেয়ারম্যান সত্য ব্রত সাহা, বিশিষ্ট সমাজসেবী সুজিত দত্ত, ভাইস চেয়ারম্যান কেশব চৌধুরী, দপ্তর আধিকারিক সহ অন্যান্যরা। এই মেলা যারা বিভিন্ন গবাদি পশু পাখি নিয়ে মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন তাদের উৎসাহিত করতে সকলকে দপ্তরের তরফ থেকে বিভিন্ন পুরস্কার প্রদান করা হয়। মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া আলোচনা করতে গিয়ে এই মেলার গুরুত্ব এবং তাৎপর্য তুলে ধরেন মেলায় উপস্থিত সকলের মধ্যে।শ্রী মন্ত্রী আরো বলেন সরকারের লক্ষ্য কৃষকদের আই দ্বিগুণ করা সেটিকে বাস্তবায়ন করতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান করেন পাশাপাশি আরো বলেন এ ধরনের মেলাকে কেন্দ্র করে আগামী দিন অনেকটা উৎসাহিত হবেন গ্রামীণ গবাদি পশু পাখি পালকরা। এই মেলাতে কেন্দ্র করে স্ব-সহায়ক দলের দলের মহিলারা বিভিন্ন স্টল খুলেন তাদের নিজের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে। জাতীয় লাইভস্টক মিশন প্রকল্পে এক দিবসীয় মহকুমা ভিত্তিক গবাদি পশু-পাখি মেলাকে কেন্দ্র করে উপস্থিত সকলের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করাগেল।
প্রতিনিধি। তেলিয়ামুড়া।। প্রায় প্রতিনিয়ত রাজ্যের বিভিন্ন রেল স্টেশন গুলো ব্যবহার করে গাঁজাসহ অবৈধ নেশা সামগ্রী পাচারের ঘটনাগুলো সামনে আসছে। একই রকম ভাবে আজ গোপন খবরের ভিত্তিতে তেলিয়ামুড়া রেলস্টেশন চত্বরে অভিযান সংঘটিত করে অভিনব কায়দায় গাজা পাঁচার কান্ডের সাথে জড়িত এক জনজাতি যুবককে গ্রেফতার করা হয় এবং প্রায় ৫০ কেজি শুকনা গাজা বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ পুলিশ যখন তেলিয়ামুড়া রেলস্টেশনে দেওঘর এক্সপ্রেস আসার আগেই এমবুস করে বসে থাকে ঠিক তখনই কেতার দেববর্মা (যার বাড়ি তেলিয়ামুড়া থানার অন্তর্গত দাশুচন্দ্র পাড়া) সহ আরো বেশ কয়েকজন যুবক রেলস্টেশন সংলগ্ন ধানক্ষেত দিয়ে দুইটা ব্যাগ নিয়ে আসছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একটা ব্যাগ ফেলে, আরেকটা ব্যাগ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল তবে পুলিশ ক্ষীপ্রতার সাথেই ক্যাথারকে আটক করতে সক্ষম হয়। যদিও একটা সময় কেথার পুলিশকে আক্রমণ করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এরপর যথারীতি পুলিশ জঙ্গলে ফেলে রাখা ব্যাগ এবং ক্যাথার এর সাথে থাকা আরেকটা ব্যাগ তল্লাশি করে ২৫ টা প্যাকেটে থাকা মোট ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এদিকে ধৃত যুবক দাবী করেছে কাঠালিয়া এলাকার জনৈক রাহুল দেববর্মা গাজা গুলো পাচারের জন্য তার কাছে গাড়ি করে দিয়ে গেছে এবং সংশ্লিষ্ট রেলে বিহারের জনৈক পাচারকারী রয়েছে যার কিনা টর্চ লাইট দিয়ে সিগন্যালের মাধ্যমে এই গাজা গুলো নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
স্বাভাবিকভাবেই এইভাবে ফিল্মি কায়দায় গাঁজা পাচারের ঘটনা সামনে আসার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং এইভাবে গাজা পাচার গুলোর পেছনে যে বড়সড়ো নেটওয়ার্ক কাজ করছে তা কিন্তু হলফ করে বলা যায়।
প্রতিনিধি, উদয়পুর :-এক সময় পানীয় জলের জন্য হাহাকার ছিল রাজ্যের প্রতিটি গ্রামাঞ্চলে। তৎকালীন ২৫ বছরের বাম শাসনে এই রাজ্যের মানুষ পানীয় জলের জন্য কখনো নেতাদের দুয়ারে আবার কখনো দপ্তরের দরজায় কড়া নাড়তে হয়েছে । কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার থেকে দেওয়া তৎকালীন অর্থ কোথায় এবং কিভাবে খরচ করা হয়েছে তা কোন হিসাব পাওয়া যায়নি সেই সময়। ২০১৮ সালে ত্রিপুরায় পালা বদলের পর রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছিল প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে বিশুদ্ধ পানীয় জল। তারপর থেকে শুরু হয় রাজ্য সরকারের উদ্যোগে পানীয় জল দপ্তর থেকে প্রতিটি গ্রামের বাড়িতে অটল জলধারা প্রকল্পের মধ্য দিয়ে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ। পানীয় জল দপ্তরের উদ্যোগে এবার বিশালগড় মহকুমাধীন পূর্ব লক্ষ্মীবিল গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নং ওয়ার্ডের গ্রামবাসীদের বাড়িতে চলছে পানীয় জলের নল বসানোর কাজ। ইতিমধ্যেই প্রায় ৪৫০ টি গ্রামীণ বাড়িতে বসানো হচ্ছে পানীয় জলের নল। রাজ্যের এক উন্নয়ন যেভাবে দ্রুত গতিতে চলছে বিশালগড় জুড়ে তা কখনো বামের শাসনে এই বিশালগড় দেখতে পাইনি বিগত দিনে। এলাকার রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য পরিষেবা , স্কুল ,কলেজ ইত্যাদি দ্রুতভাবে কাজ চলছে পূর্ব লক্ষ্মী বিল এলাকাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য । তৎকালীন বাম নেতা ভানুলাল সাহা খাস তালুকে যেভাবে পদ্মের বিস্তার হয়েছে তা একমাত্র সম্ভব হয়েছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের উন্নয়নকে সামনে রেখে। বিরোধী ভোটাররা দুহাত ভরে ভারতীয় জনতা পার্টিকে যেভাবে ভোট দিয়ে জিতিয়েছে। আর অন্যদিকে বর্তমানে তার সুফল পাচ্ছে পূর্ব লক্ষী বিল এলাকার ৫ নং ওয়ার্ডের গ্রামবাসীরা। এমনই এক চিত্র উঠে আসলো এই গ্রামীন এলাকা থেকে। আগামী দিনে আরও উন্নয়ন হবে গোটা গ্রাম জুড়ে এমনটাই আশা প্রকাশ করেন পূর্ব লক্ষ্মী বিল গ্রাম পঞ্চায়েতের গ্রামীন এলাকার সাধারণ মানুষ।
- চুরাইবাড়ি প্রতিনিধি ,২৪ মার্চ।।দেশ স্বাধীনের সাতাত্তর বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত বিদ্যুতের ছোঁয়া পায়নি উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগর মহকুমার কদমতলা ব্লকাধীন সরসপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তিন নম্বর ওয়ার্ডের তিনটি পরিবার। তার মাঝে একটি পরিবার বাড়ি ফেলে অন্যত্র চলে গেছে।বর্তমান বিজেপি জোট সরকারের নেতা মন্ত্রীরা বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে মুখ ভর্তি ভাষণ রাখেন।কিন্তু বাস্তবে গ্রামাঞ্চলে এখনো সাধারণ মানুষ বিদ্যুতের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত তার নমুনা সরসপুর গ্রামের তিন নম্বর ওয়ার্ড।স্থানীয় ওয়ার্ডের শ্যামল কুমার পাল(মৃত পুলিন বিহারী পাল) জানান,তিনি পঁয়তাল্লিশ বছর যাবত ওই গ্রামে বসবাস করে আসছেন কিন্তু আজ পর্যন্ত তার ভাগ্যে জুটেনি বিদ্যুতের ছোঁয়া।বিদ্যুৎ পেতে স্থানীয় মেম্বার,প্রধান,পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান, ভিডিও সকলের দরজায় দরজায় কড়া নাড়ালেও দিমু,দিচ্ছি,ভোট যাক,ভোট গণনা যাক এভাবে বলে পার হয়ে গিয়েছে দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছর।তিনি জানান,প্রায় কুড়ি বছর তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক ও বিজেপির দলের একজন পৃষ্টা ভূমিকের দায়িত্বে থাকলেও তার ভাগ্যে জুটেনি বিদ্যুৎ পরিষেবা।একটি সরকারি ঘর পেলেও বিদ্যুতের কারণে কাঠমিস্ত্রিরা কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করছে,তাতে থমকে রয়েছে ঘরের কাজ। তিনি জানান,রাত হলে একমাত্র ভরসা ল্যাম্প।এক কথায় মাসের পনেরো দিন আমাবস্যা ও পনেরো দিন জ্যোৎস্না থাকলেও তাদের ভাগ্যে গোটা মাসই অমাবস্যার সমান। তাই বিদ্যুৎ পেতে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে করজুড়ে আবেদন জানিয়েছেন। এদিকে তার স্ত্রী বিনা রানী পাল জানান, একেতো পরিবারে আর্থিক অভাব অনটন তার উপর যুগ যুগ ধরে নেই বিদ্যুৎ পরিষেবা। তাছাড়া তারা বিজেপি দলের সক্রিয় কর্মী থাকার পরেও তাদের ভাগ্যে ঝুটেনি বিদ্যুৎ পরিষেবা।দশ থেকে পনেরো বছর পূর্বে বিদ্যুতের খুঁটি পুতে গেলেও সেই খুঁটিতে বিদ্যুতের সংযোগ আজ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তাছাড়া তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়েকে বিদ্যুতের কারণে ভালোভাবে পড়াশোনা করাতে পারেননি।মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলেও দুই ছেলে কর্মসূত্রে ব্যাঙ্গালোর থাকে।কিন্তু বিদ্যুতের অভাবে মোবাইল ব্যবহার করতে না পারায় ছেলেদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন না।তাছাড়া ছেলেরা বাড়িতে আশা তো দূরের কথা টাকা-পয়সাও পাঠায় না। অপরদিকে সুজাতা দাস শর্মা নামের ওপর এক মহিলা জানান তাদের বিদ্যুৎ যন্ত্রণার কাহিনী।তিনি জানান,বিয়ে হয়ে শ্বশুর বাড়ি আসার পর থেকে বিদ্যুতের আলো চোখে পড়েনি।তার ঘরে এক ছাত্র মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রথম শ্রেণী থেকে বর্তমানে মহাবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে।তিনিও গ্রাম পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে ব্লকের চেয়ারম্যান ও ভিডিও’র দরজায় ঘুরে প্রতিশ্রুতি ছাড়া তার ভাগ্যে জুটেনি বিদ্যুতের ছোঁয়া। তিনি আরো জানান,তপন পাল নামের অপর এক প্রতিবেশী বিদ্যুতের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে বাড়ি ফেলে অন্যত্র চলে গেছেন।তাই তিনিও বিদ্যুতের জন্য কাতর আর্জি জানিয়েছেন।এখন দেখার বিষয় বিদ্যুৎহীন ওই তিনটি পরিবারকে বিদ্যুৎ পরিষেবা পৌঁছে দিতে কতটুকু তৎপরতা দেখায় গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্লক।
“বিকশিত ভারতের বিকশিত বাজেট” সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাইমাভ্যালী মন্ডলে রেলী ও পথসভা
- প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া ২৪ মার্চ:- সোমবার গোটা রাজ্যের সাথে তাল মিলিয়ে রাইমাভ্যালী মন্ডলেও “বিকশিত ভারতের বিকশিত বাজেট” উপলক্ষে এক বিশাল রেলীর আয়োজন করা হয়। জনকল্যাণমুখী ও জনহৈতেষী বাজেট পেশের জন্য রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাতে এই রেলী অনুষ্ঠিত হয়। রেলীটি মন্ডল কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে গন্ডাছড়া বাজার এলাকার বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে মধ্যবাজারে এসে এক পথসভায় মিলিত হয়। এই বিশাল রেলী ও পথসভায় উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য সম্পাদক তথা এমডিসি ভূমিকানন্দ রিয়াং, ধলাই জেলা সভাপতি পতিরাম ত্রিপুরা, প্রদেশ মহিলা মোর্চার সভানেত্রী সতী চাকমা, কৃষাণ মোর্চা রাজ্য কমিটির সদস্য গোপাল সরকার, রাইমাভ্যালী মন্ডল সভাপতি ধন্য মানিক ত্রিপুরা, প্রাক্তন মন্ডল সভাপতি সমীর রঞ্জন ত্রিপুরাসহ মন্ডল ও বিভিন্ন মোর্চার নেতৃবৃন্দ। পথসভায় বক্তারা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা ও তার মন্ত্রিসভার জনমুখী বাজেট পেশের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, এই বাজেট সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কথা চিন্তা করে প্রণয়ন করা হয়েছে, যা রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৩ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করা হয়েছে, যা তাদের আর্থিক সুরক্ষা আরও নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি, কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করলে তার জন্য ৫০ হাজার টাকার বীমা প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যা নারীর ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তাছাড়া, বাজেটে কৃষি, শিক্ষা, শিল্প, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী এবং মহিলাদের উন্নয়নে একাধিক জনহিতকর প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্যের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে এই বাজেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বক্তারা মনে করেন। এদিনের রেলী ও পথসভাকে ঘিরে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। তাঁরা ব্যানার, পতাকা ও স্লোগানের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানান। সরকারের জনহিতকর বাজেট ঘোষণার জন্য মুখ্যমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নয়নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
“বিকশিত ভারতের বিকশিত বাজেট” উপলক্ষে আয়োজিত এই রেলী ও পথসভা জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উদ্দীপনার মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এটি প্রমাণ করে যে, রাজ্য সরকার কর্তৃক গৃহীত নীতি ও পরিকল্পনাগুলি জনসাধারণের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের আরও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা যায়, যা রাজ্যের অগ্রগতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
প্রতিনিধি। ২২শে মার্চ।গুলি কান্ডের ঘটনায় টানটান উত্তেজনা তেলিয়ামুড়ায়! উদ্ধার দুই রাউন্ড কার্তুজ। ঘটনা তেলিয়ামুড়া থানাধীন কুইসার টিলা এলাকায় শনিবার সন্ধ্যা রাতে।
ঘটনার বিবরণে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ জানায়, তেলিয়ামুড়া থানাধীন সাউথ পুলিনপুর এলাকার বাসিন্দা অভিজিৎ দাস নামের এক যুবক শনিবার সন্ধ্যা রাতে পিস্তল হাতে শশুর বাড়িতে পৌঁছে স্ত্রী সহ শ্বশুর বাড়ির লোকজনদের উদ্দেশ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। গুলির বিকট শব্দ পেয়ে তৎক্ষণাৎ ছুটে আসে এলাকার লোকজন। এলাকাবাসীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত ওই যুবক অভিজিৎ দাস। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অভিজিৎ ড্রাগসের নেশায় আসক্ত, সে দীর্ঘদিন ধরেই তার স্ত্রীকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। অবশেষে বিগত কিছুদিন পূর্বে স্বামীর অত্যাচারের মাত্রা সীমাহীনতায় পৌঁছে গেলে বাধ্য হয়ে স্ত্রী অভিজিতের বাড়ি ছেড়ে তেলিয়ামুড়া থানাধীন কুইসার টিলা স্থিত নিজ পিতার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। অভিজিৎ চাইছিল তার স্ত্রীকে পুনরায় বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে, স্থানীয়দের প্রাথমিক অনুমান হয়তো এই উদ্দেশ্যেই অভিজিৎ দাস শনিবার সন্ধ্যা রাতে পিস্তল হাতে কুইসার টিলা স্থিত শশুর বাড়িতে উপস্থিত হয় এবং এই গুলি কাণ্ড সংঘটিত করে। পরবর্তীতে এই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে আসে অভিজিতের কাছে থাকা পিস্তলটি অত্যাধুনিক, তৎসঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
অন্যদিকে এই গুলি কাণ্ডের ঘটনার খবর চাউর হতেই গোটা তেলিয়ামুড়া জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য এবং থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।।
প্রতিনিধি, উদয়পুর :- ওয়েব মিডিয়া টিভি ১০০ বাংলার পক্ষ থেকে শনিবার বিকেল চারটায় উদয়পুর টাউন জামে মসজিদে ইফতার পাটি অনুষ্ঠিত হয় । এদিনের ইফতার পাটিতে উপস্থিত ছিলেন গোমতী জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়, পৌর চেয়ারম্যান শীতল চন্দ্র মজুমদার , বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার , বিশিষ্ট সমাজসেবী সানি সাহা , মসজিদ কমিটির সম্পাদক জাকির হোসেন , ওয়ার্ড কাউন্সিলার রেজাউল হোসেন ও টিভি হান্ড্রেড বাংলার কর্ণধার বিপ্লব দে , বিশিষ্ট সাংবাদিক দিলীপ দত্ত সহ প্রমুখ । এদিন প্রথমে চ্যানেলের কর্ণধার সকল অতিথিকে লাল গোলাপের মাধ্যমে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করেন । এদিন স্বাগত ভাষণ রাখেন টিভি হান্ড্রেড বাংলার কর্ণধার বিপ্লব দে স্বাগত ভাষণ রাখতে গিয়ে বলেন , দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের একটি অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় চ্যানেল থেকে । যা আজকে ইফতার পার্টিতে সকলকে একসাথে করে এক ভ্রাতৃত্বের বার্তা দেয়া হয়েছে । যেভাবে এদিন হিন্দু এবং মুসলিম দুটি সম্প্রদায়ের মানুষ একসাথে বসে দেশ ও রাজ্যের জন্য যেভাবে সুখ শান্তি কামনা করা হয়েছে তা খুবই সুন্দর পরিবেশের রূপ ধারণ করেছে । এদিন বিধায়ক থেকে শুরু করে জিলা সভাধিপতি এবং চেয়ারম্যান ভাষণ রাখতে গিয়ে বলেন , নিউজ চ্যানেল টিভি হান্ড্রেড বাংলা যেভাবে আজকে এই ইফতার পাটির আয়োজন করেছে তা খুবই প্রশংসার যোগ্য। গোটা রাজ্যের মধ্যে এই প্রথম নিউজ চ্যানেল থেকে এই ধরনের ইফতার পাটি করা হয়েছে উদয়পুরের বুকে । যেভাবে এদিন এই নিউজ চ্যানেল থেকে ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়েছে যার মধ্যে দুইটি সম্প্রদায়ের মানুষ আজ একসাথে বসে ইফতার গ্রহণ করেছে যা খুবই সুন্দর এক বার্তা সমাজের মধ্যে গিয়েছে বলে ভাষনে উল্লেখ করেন অতিথিরা। এই দিনের ইফতার পার্টি কে কেন্দ্র করে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে যা সকলের মধ্যে এক খুশির বার্তা নিয়ে এসেছে বলে মনে করছে মসজিদে আসা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সকলে।