- প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া ২৪ মার্চ:- সোমবার গোটা রাজ্যের সাথে তাল মিলিয়ে রাইমাভ্যালী মন্ডলেও “বিকশিত ভারতের বিকশিত বাজেট” উপলক্ষে এক বিশাল রেলীর আয়োজন করা হয়। জনকল্যাণমুখী ও জনহৈতেষী বাজেট পেশের জন্য রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাতে এই রেলী অনুষ্ঠিত হয়। রেলীটি মন্ডল কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে গন্ডাছড়া বাজার এলাকার বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে মধ্যবাজারে এসে এক পথসভায় মিলিত হয়। এই বিশাল রেলী ও পথসভায় উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য সম্পাদক তথা এমডিসি ভূমিকানন্দ রিয়াং, ধলাই জেলা সভাপতি পতিরাম ত্রিপুরা, প্রদেশ মহিলা মোর্চার সভানেত্রী সতী চাকমা, কৃষাণ মোর্চা রাজ্য কমিটির সদস্য গোপাল সরকার, রাইমাভ্যালী মন্ডল সভাপতি ধন্য মানিক ত্রিপুরা, প্রাক্তন মন্ডল সভাপতি সমীর রঞ্জন ত্রিপুরাসহ মন্ডল ও বিভিন্ন মোর্চার নেতৃবৃন্দ। পথসভায় বক্তারা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা ও তার মন্ত্রিসভার জনমুখী বাজেট পেশের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, এই বাজেট সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কথা চিন্তা করে প্রণয়ন করা হয়েছে, যা রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৩ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করা হয়েছে, যা তাদের আর্থিক সুরক্ষা আরও নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি, কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করলে তার জন্য ৫০ হাজার টাকার বীমা প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যা নারীর ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তাছাড়া, বাজেটে কৃষি, শিক্ষা, শিল্প, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী এবং মহিলাদের উন্নয়নে একাধিক জনহিতকর প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্যের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে এই বাজেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বক্তারা মনে করেন। এদিনের রেলী ও পথসভাকে ঘিরে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। তাঁরা ব্যানার, পতাকা ও স্লোগানের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানান। সরকারের জনহিতকর বাজেট ঘোষণার জন্য মুখ্যমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নয়নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
“বিকশিত ভারতের বিকশিত বাজেট” উপলক্ষে আয়োজিত এই রেলী ও পথসভা জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উদ্দীপনার মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এটি প্রমাণ করে যে, রাজ্য সরকার কর্তৃক গৃহীত নীতি ও পরিকল্পনাগুলি জনসাধারণের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের আরও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা যায়, যা রাজ্যের অগ্রগতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
রাজনীতি
রাইমাভ্যালীতে তিপ্রা মথা ও কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন, বিজেপিতে যোগ দিলেন ৫০ জন ভোটার
প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া ২১ মার্চ:- রাইমাভ্যালীতে তিপ্রা মথা ও কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। শুক্রবার ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাইমাভ্যালী মন্ডল কমিটির উদ্যোগে এক যোগদান সভার আয়োজন করা হয়। সভায় তিপ্রা মথা গন্ডাছড়া মহকুমা কমিটির প্রাক্তন সভাপতি মাইধ্যম রাম রিয়াং এবং রাইমাভ্যালী ব্লক কংগ্রেস কমিটির সহসভাপতি খগেন্দ্র ত্রিপুরার নেতৃত্বে তিপ্রা মথা, কংগ্রেস এবং সিপিএম দল ত্যাগ করে ১৬ পরিবারের ৫০ জন ভোটার বিজেপিতে যোগদান করেন। নবাগতদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন রাইমাভ্যালী মন্ডল সভাপতি ধন্য মানিক ত্রিপুরা।
এই যোগদান সভায় বিজেপির বিভিন্ন শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিজেপি প্রদেশ কমিটির সম্পাদক তথা ৮ নং গঙ্গানগর-গন্ডাছড়া কেন্দ্রের এমডিসি ভূমিকানন্দ রিয়াং, ধলাই জেলা সভাপতি পতিরাম ত্রিপুরা, সহ-সভাপতি বিকাশ চাকমা, কৃষাণ মোর্চার রাজ্য কমিটির সদস্য গোপাল সরকারসহ মন্ডল ও বিভিন্ন মোর্চার নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপির ধলাই জেলা সভাপতি পতিরাম ত্রিপুরা বলেন, “শুক্রবার রাইমাভ্যালী মন্ডলে নারায়ণপুর বাজারে আরও বড় একটি যোগদান সভা আয়োজন করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তিপ্রা মথা ছাত্র সংগঠনের ডাকা রাজ্যব্যাপী ধর্মঘটের কারণে সেই সভাটি বাতিল করতে হয়েছে। তবে আগামী দিনে রাইমাভ্যালী মন্ডলে আরও বড় পরিসরে যোগদান কর্মসূচি চলবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার নেতৃত্বে সারা দেশ ও রাজ্যে উন্নয়নের যে জোয়ার বইছে, তাতে সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দলের নেতারাও আকৃষ্ট হচ্ছেন এবং বিজেপিতে যোগদান করছেন। উন্নয়ন ও সুশাসনের স্বার্থেই মানুষ বিজেপির ওপর আস্থা রাখছে।”
সদ্য বিজেপিতে যোগদানকারী মাইধ্যম রাম রিয়াং তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, “২০১৮ সাল থেকে তিনি তিপ্রা মথা গন্ডাছড়া মহকুমা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। বলা যায়, তার হাত ধরেই গন্ডাছড়ায় তিপ্রা মথার প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাইমাভ্যালী কেন্দ্রে দলের প্রার্থীকে জয়ী করার ক্ষেত্রে তার অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি।”
তবে, এত বছর ধরে দলের জন্য কাজ করার পরও বর্তমানে তিনি কোনো গুরুত্ব পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন। “আমাকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হচ্ছে না। তিপ্রা মথার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নেই, দল পরিচালনায় বিশৃঙ্খলা চলছে,”—বলেন তিনি। এসব কারণেই তিনি তিপ্রা মথা ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
অন্যদিকে, রাইমাভ্যালী ব্লক কংগ্রেসের সহসভাপতি খগেন্দ্র ত্রিপুরা, যিনি এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তিনি বলেন, “২০১৪ সালে আমি বিজেপির রাইমাভ্যালী মন্ডলের মন্ডল সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলাম। তবে ২০১৬ সালে কিছু ব্যক্তিগত কারণে দলীয় কার্যক্রম থেকে বিরত থাকি। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে কংগ্রেসে যোগদান করি এবং রাইমাভ্যালী ব্লক কংগ্রেসের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করি।”
কিন্তু কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নেই দাবি করে তিনি বলেন, “কংগ্রেস কখনোই আবার ক্ষমতায় আসতে পারবে না। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশ শান্তি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। উগ্রপন্থী কার্যকলাপ এখন প্রায় নেই বললেই চলে। তাই মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করছে।”
খগেন্দ্র ত্রিপুরা আরও বলেন, “আগামী দিনে তিপ্রা মথা, আইপিএফটি, সিপিএম ও কংগ্রেস দল ছেড়ে হাজার হাজার ভোটার বিজেপিতে যোগ দেবেন। কারণ মানুষ উন্নয়ন ও শান্তি চায়।”
এই যোগদান সভাকে ঘিরে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের বিপুল উচ্ছ্বাস দেখা যায়। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব মনে করছেন, রাইমাভ্যালীতে এভাবে একের পর এক বিরোধী দলের নেতা-কর্মী বিজেপিতে যোগ দিলে দলের সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে এবং আগামী নির্বাচনে বিজেপির অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।
রাইমাভ্যালীতে তিপ্রা মথা ও কংগ্রেসের বড়সড় ভাঙন বিজেপির রাজনৈতিক শক্তি আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের বিজেপিতে যোগদান এ অঞ্চলে দলের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে। বিজেপির নেতৃত্বরা আশাবাদী যে ভবিষ্যতে আরও বিশাল সংখ্যক কর্মী ও সাধারণ মানুষ বিজেপিতে যোগ দেবেন, যা দলকে আরও শক্তিশালী করবে।
প্রতিনিধি কৈলাসহর:-পাবিয়াছড়া বিধানসভার অন্তর্গত প্রতিটি বুথকে স্ব-শক্তিকরনের লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ চলেছেন বিধায়ক ভগবান দাস। কর্মীদের সংগঠনমুখী করতে প্রতিনিয়ত সাংগঠনিক পর্ব জারী রয়েছে।ভারতীয় জনতা পার্টির পাবিয়াছড়া মন্ডলের অন্তর্গত মাছমারা সেক্টরের কার্যকর্তাদের নিয়ে আজ এক দিবসীয় কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় মাছমারা টাউনহলে।এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পাবিয়াছড়া বিধানসভার বিধায়ক তথা প্রদেশ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক ভগবান চন্দ্র দাস, জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি তথা মন্ডল সভাপতি সন্তোষ ধর, সমাজসেবী রবীন্দ্র সিনহা, ও কার্তিক দাস এবং এম.ডি.সি স্বপ্না দাস সহ অন্যান্যরা।
প্রতিনিধি মোহনপুর :- বলাই গোস্বামীকে অন্তিম বিদায় দিলো বামুটিয়া বাসি। শুক্রবার দুপুরে বামুটিয়া ব্লক প্রাঙ্গনে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে অন্তিম শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে শ্রী গোস্বামীকে। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী রতন লাল নাথ, পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান দীপক সিংহ, বামুটিয়ার বিধায়ক নয়ন সরকার, প্রাক্তন বিধায়ক কৃষ্ণ ধন দাস সহ অন্যান্যরা। দীর্ঘদিন বামুটিয়ার মাটি থেকেই রাজনীতির সাথে ওতপ্রুত ভাবে জড়িত ছিলেন বলাই গোস্বামী।
ছাত্র রাজনীতি দিয়ে রাজনীতির হাতে খড়ি হয়েছিল বলাই গোস্বামী। দীর্ঘ কয়েক দশক কংগ্রেস ঘরানার রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি। সর্বশেষ বেশ কয়েক বছর বিজেপি রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়েছেন। বিশেষ করে নির্বাচনের প্রশাসনিক কাজে অত্যন্ত দক্ষ হিসেবে সুনাম ছিল উনার। সর্বশেষ ত্রিস্তরীয় গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই প্রথম নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। দায়িত্ব পালন করছিলেন জেলা সভাধিপতির। এরই মধ্যে উনার মৃত্যুর খবর শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা রাজ্যজুড়ে। শুক্রবার দুপুরে এমবিবি বিমানবন্দর থেকে উনার মরদেহ আনা হয়েছে বামুটিয়া ব্লক প্রাঙ্গনে। বাম বিধায়ক নয়ন সরকার উনাকে অন্তিম শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। পাশাপাশি দাবি করেছেন উনার মৃত্যুতে বামুটিয়ার ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে বামুটিয়া পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান দীপক সিংহ, পশ্চিম ত্রিপুরার জেলাশাসক ডঃ বিশাল কুমার, বামুটিয়ার বিডিও অমিতাভ ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা এদিন অন্তিম শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। বামুটিয়া এলাকার কয়েক হাজার মানুষ এদিন এলাকার অত্যন্ত প্রাচীন নেতাকে অন্তিম বিদায় জানাতে হাজির হয়েছিলেন। এদিকে মন্ত্রী রতন লাল নাথ বলেন নির্বাচনী কাজ পরিচালনার জন্য গোটা রাজ্যের মধ্যে জনা দশেক দক্ষ ব্যক্তিত্বের মধ্যে একজন বলাই গোস্বামী। উনার মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই দলের একটি বিশাল ক্ষতি হয়েছে। তিনি যেভাবে জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করেছিলেন সেগুলিও অসম্পূর্ণ রয়ে গেল বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। অন্যদিকে জেলাশাসক ডঃ বিশাল কুমার বলেন শ্রী গোস্বামী একজন ভালো মানুষ এবং দক্ষ প্রশাসক ছিলেন। তিনি যে সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নিয়েছিলেন সেগুলো বর্তমানে সম্পূর্ণ করা প্রত্যেকের দায়িত্ব। সে কাজগুলো পূরণ করার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা শাসক।
রাষ্ট্রপতিকে কুরুচিকর মন্তব্য, রাহুল গান্ধী কে ক্ষমা চাওয়া উচিত দেশবাসীর কাছে : অর্থমন্ত্রী
প্রতিনিধি, উদয়পুর :- বিকশিত ভারতের ,বিকশিত বাজেট পেশ করার জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার দুপুর তিনটায় গোমতী জেলা বিজেপি এক ধন্যবাদ সূচক রেলি ও সভা করে উদয়পুর মেলার মাঠে । এদিন সভা শুরু হওয়ার আগে গোমতী জেলা বিজেপির দলীয় অফিসের সামনে থেকে এক মিছিল বের হয়। অপরদিকে জামতলার টাউনহলের সামনে থেকে আরও একটি মিছিল সমাবেশস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয় । দুইটি মিছিলের দুই প্রান্তে ছিলেন একদিকে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অন্যদিকে মাতারবাড়ি কেন্দ্রে বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, জিতেন্দ্র মজুমদার সহ প্রমূখ। পরে রবীন্দ্র, নজরুল ও সুকান্তের মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় দলীয় সভা। সে সভায় ছিলেন জেলা বিজেপি সভানেত্রী সবিতা নাগ , জিলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায় ও পৌর চেয়ারম্যান এবং রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা সহ প্রমূখ । দলীয় সভায় স্বাগত ভাষণ রাখেন জেলা সভানেত্রী সবিতা নাগ । পরে রাজ্য সম্পাদক বিপিন দেববর্মা ভাষণ রাখতে গিয়ে তীব্র আক্রমণ করেন রাজ্যের বিরোধী দল বামেদেরকে । পরে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় ভাষণ রাখতে গিয়ে বলেন, ২০২৫ সালে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন যে বাজেট পেশ করেছে তা জনকল্যাণমুখী বাজেট । এদিন অর্থমন্ত্রী বলেন , দেশের রাষ্ট্রপতি কে নিয়ে যে ভাষায় কথা বলেছেন রাহুল গান্ধী। তাকে অবিলম্বে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং দেশবাসীর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে নেওয়া খুবই জরুরি। তার কারণ না হলে আগামী দিনে দেশের মানুষ তাদেরকে আরো উচিত শিক্ষা দেবে বলে তিনি তার ভাষনে আখ্যায়িত করেন । পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী বলেন , রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী যেভাবে কেন্দ্রীয় বাজেটকে নিয়ে সমালোচনা করে চলেছে তা কখনোই কাম্য নয়। বিগত ২৫ বছরের এই রাজ্যের শাসন মানুষ দেখেছে যা প্রতিনিয়ত মানুষকে লাঞ্ছিত এবং বঞ্চিত করে রেখেছিল বামেরা। বর্তমান সরকার রাজ্যের উন্নয়নে প্রতিটি বিধানসভা এবং গোমতী জেলা জুড়ে কাজ করে চলেছে যা কখনো বাম গ্রেসদের সহ্য হচ্ছে না । এদিন অর্থমন্ত্রীর একের পর এক আক্রমণের নিশানায় ছিল সবথেকে বেশি কংগ্রেসের দিকে। অন্যদিকে বাম কংগ্রেসকে একই সমান্তরাল ভাবে তিনি আক্রমণ করতেও ছাড়েননি, রবীন্দ্র ,নজরুল ও সুকান্তের মঞ্চ থেকে । এই দিন সভাকে কেন্দ্র করে বড় মাত্রায় দলীয় কর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
প্রতিনিধি মোহনপুর:- কেন্দ্রয় অর্থমন্ত্রীর আনা বাজেট গোটা উত্তর পূর্বাঞ্চলের জন্য দারুন সুযোগ আনতে চলেছে। গত অর্থ বর্ষ থেকে উত্তর পূর্বাঞ্চলের জন্য প্রায় ৪৭ শতাংশ অর্থ বৃদ্ধি করা হয়েছে এই বাজেটে। অথচ বিরোধীরা শুধুমাত্র বাজার ধরে রাখার জন্য লোক দেখানো সমালোচনা করছে ত্রিপুরা রাজ্যে। রবিবার সদর গ্রামীণ জেলা কমিটির উদ্যোগে বাজেটকে কেন্দ্র করে এক ধন্যবাদ সভায় এই মন্তব্য করলেন মন্ত্রিস সুশান্ত চৌধুরী।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন গোটা দেশের বাজেট পেশ করেছেন সংসদে। এই বাজেটকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরা রাজ্যের পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন গতি আসছে। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিজেপি সদর গ্রামীন জেলা কমিটির উদ্যোগে এক প্রকাশ্য সভা করা হয়েছে রবিবার। এদিনের সভাতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন কেন্দ্রীয় সরকার গোটা উত্তর পূর্বাঞ্চলকে অষ্ট লক্ষী আখ্যায়িত করে তার জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে। আগামী দিনে এই বাজেটের ফলে গোটা উত্তর পূর্বাঞ্চলের পাশাপাশি ত্রিপুরা রাজ্যে কৃষি ক্ষেত্র, স্বাস্থ্য ক্ষেত্র, বাণিজ্য ক্ষেত্র সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দারুন উন্নয়নমূলক কাজ হবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন। মন্ত্রী আরো বলেন গত অর্থবছরের যে বাজেট ছিল তার চাইতেও প্রায় ৩.৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বাজেট এই বছর হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রী বিরোধীদের কটাক্ষ করে বলেন যখন রাজ্যের কংগ্রেস এবং সিপিআইএম জনগণকে ধরে রাখতে পারছে না তখনই এই বাজেট নিয়ে মিথ্যা এবং কুৎসা প্রচারে তারা সরব হয়েছে। এক্ষেত্রে বিজেপি দলের কর্মী এবং নেতৃত্বদের সজাগ দৃষ্টি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন মন্ত্রী। এদিনের সভাতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর গ্রামীণ জেলা কমিটির সভাপতি গৌরাঙ্গ ভৌমিক, প্রাক্তন সভাপতি অসিত রায়, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পরিষদের সভাধিপতি বলাই গোস্বামী, প্রাক্তন বিধায়ক কৃষ্ণ ধনদাস, বামুটিয়া মন্ডল সভাপতি শিবেন্দ্র দাস সহ অন্যান্যরা।
হীরাপুরে ২৪ লক্ষ টাকা ব্যায় পাকা রাস্তা তৈরি হচ্ছে । ভূমি পূজন করলেন বিধায়ক
- প্রতিনিধি, উদয়পুর :- মাতাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন রাস্তাঘাট ভগ্নাশয় পরিণত । ১৯৮৮ সালে জোট সরকার থেকে শুরু করে ২৫ বছরের বাম শাসন মাতাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে শাসন করে গিয়েছে । তৎকালীন বাম কতটুকু উন্নয়ন করেছে ২০১৮ সালে মানুষ ভোট বাক্সে তাদের রায় দিয়ে বামেদের পরাজিত করে জোটের বিধায়ক নির্বাচিত করে মাতাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে । পাঁচ বছরের তৎকালীন বিধায়ক বিপ্লব কুমার ঘোষ কাজ করার যতটুকু সুযোগ পেয়েছে ততটুকু পর্যন্ত উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। ২০২৩ সালে পুনরায় দ্বিতীয়বারের জন্য বিধানসভা নির্বাচনে বাম- কংগ্রেস জোটের প্রার্থীকে ভোটের রাজনীতিতে হারিয়ে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয় আইপিএফটি -বিজেপি জোটের প্রার্থী অভিষেক দেবরায় । রাজনৈতিক ভাবে যখন বিভিন্ন গ্রামীন এলাকা গুলিতে প্রচার অভিযান শুরু হয়েছিল তখন বিভিন্ন জায়গায় গণদেবতাদের কথা দিয়েছিলেন জয়ী হবার পর এলাকার বিভিন্ন সমস্যা গুলি সমাধান করা হবে । সেই মতো এবার শুরু হয়েছে মাতাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে অসমাপ্ত কাজগুলিকে সমাপ্ত করার জন্য জোর কদমে কাজ । মাতাবাড়ি হীরাপুর সাব সেন্টার থেকে হীরাপুর বড় দিঘির পাড় পর্যন্ত ভগ্ন দশা সম্পন্ন রাস্তাটিকে সংস্কার করে পাকা রাস্তায় রূপান্তরিত করার জন্য দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল গ্রামবাসীদের। এই দাবীকে মান্যতা দিয়ে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা ব্যয় পাকা রাস্তা ( ব্ল্যাক টপ ) তৈরি করা হবে । সংশ্লিষ্ট রাস্তাটির কাজ শুরু হওয়ার পূর্বে বিধায়ক অভিষেক দেবরায় শুক্রবার দুপুরে ভূমি পূজন অনুষ্ঠানে সামিল হয়েছেন গ্রামের প্রধান ,উপপ্রধান থেকে শুরু করে গ্রামীন এলাকার জনপ্রতিনিধি ও ব্লকের আধিকারিকদের সাথে নিয়ে । গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণ হতে দেখে খুশি গ্রামবাসীরা ।
প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া ১৭ জানুয়ারি:- সংবিধান গৌরব অভিযান উপলক্ষে শুক্রবার বিজেপি ধলাই জেলা কমিটির উদ্যোগে পদযাত্রা ও সভা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন বিজেপি জেলা কার্যালয় থেকে একটি বিশাল মিছিল আমবাসা শহর এলাকার বিভিন্ন পথ পরিক্রমা শেষে আমবাসা মধ্য বাজারে অনুষ্ঠিত হয় গৌরব দিবসের জেলা ভিত্তিক সভা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি ত্রিপুরা প্রদেশ কমিটির সাধারণ সম্পাদক তথা বিধায়ক ভগবান দাস, ধলাই জেলা সভাপতি পতিরাম ত্রিপুরা, বিধায়ক মনোজ কান্তি দেব, জেলার সহ-সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকগন, জেলার ছয়টি মন্ডলের মন্ডল সভাপতিগন, মন্ডলের অফিস বেয়ারার, মন্ডল মোর্চা সভাপতিগন, এবং শক্তি কেন্দ্রের কনভেনার’গন। সভায় গৌরব দিবসের তাৎপর্য নিয়ে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেন প্রদেশ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ভগবান চন্দ্র দাস। তিনি সংবিধান প্রণেতা ভীমরাও আম্বেদকর সম্পর্কে আলোচনা সহ দেশকে শ্রদ্ধার্ঘ্য প্রদান এবং দেশপ্রণেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নানা বিষয় নিয়েও বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেন। এদিনের সংবিধান গৌরব অভিযানকে ঘিরে দলীয় কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।
শান্তিরবাজার প্রতিনিধি :তিপ্রা ল্যান্ডের দাবিকে আরো জোরদার করতে আইপিএফটি জোলাই বাড়ি ডিভিশনাল কমিটির উদ্যোগে কোয়াই ফাং বাজারে প্রচার মিছিল এবং যোগদান সভা সংগঠিত করেন । এই প্রচার মিছিল কোয়াই ফাং আইপিএফটি কার্যালয় সামনে থেকে শুরু হয়ে বাজারের বিভিন্ন জনপদ পরিক্রমণ করে অবশেষে কোয়াই ফাং বাজারে এক যোগদান সভায় মিলিত হয়। এই যোগদান সভায় বীরেন্দ্রনগর এডিসি ভিলেজ থেকে সি .পি.এম, কংগ্রেস এবং তিপ্রা মথা্ দল ত্যাগ করে জোলাই বাড়ি আইপিএফটি ডিভিশনাল কমিটিতে ৪৯ পরিবারের ১৩৮ ভোটার যোগ দেন।আইপিএফটির আজকের এই প্রচার মিছিল এবং যোগদান সভার উপস্থিত ছিলেন আইপিএফটি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রাজেন্দ্র রিয়াং, আইপিএফটি সেন্ট্রাল কমিটির এ.জি.এস জিতিরাম ত্রিপুরা, আইপিএফটি সেন্ট্রাল কমিটির মেম্বার হরিনাথ ত্রিপুর, আইপিএফটি জোলাই বাড়ি ডিভিশনাল কমিটির সভাপতি রাধা মোহন ত্রিপুরা , আইপিএফটি জোলাই বাড়ি ডিভিশন কমিটির সেক্রেটারি শম্ভু রাম ত্রিপুরা সহ অন্যান্যরা । বক্তারা আলোচনা করতে গিয়ে বলেন চক্রান্ত করে বিভ্রান্ত করে আর আইপিএফটিকে রোখা যাবেনা। বিভ্রান্ত হয়ে যারা আইপিপি ছেড়ে চলে গেছেন তারা আজ ফিরছেন আবার নিজের দলে। আস্থা রয়েছে সকলের আইপিএফটি দলের উপরে। বক্তারা আরো বলেন আলোচনা করতে গিয়ে মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া জনজাতিদের আরো বেশি মান উন্নয়নে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিনিধি শান্তিরবাজার :শ্রমিকদের স্বার্থে প্রতিনিয়ত কাজকরেযাচ্ছে ভারতীয় জনতা মজদুর সংঘ। এরইমধ্যে দক্ষিন জেলায় নবনিযুক্ত বিজেপির মন্ডল সভাপতিদের সংবর্ধনা প্রদানে কলসীরমুখ এলাকায় ভারতীয় জনতা মজদুর সংঘের উদ্দ্যোগে অনুষ্ঠীত করাহয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। আজকের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিতছিলেন ৩৮ জোলাইবাড়ী বিজেপির মন্ডল সভাপতি সুজিত দত্ত, ৩৬ শান্তির বাজার বিজেপির মন্ডল সভাপতি দেবাশিষ ভৌমিক,রাবার বোর্ড অফ ডিরেক্টর এবং মেম্বার সুনীল নমঃ, বিকাশ সেন, ভারতীয় জনতা মজদুর সংঘ প্রদেশ সভাপতি বাপন দত্ত, ত্রিপুরা রাবার মজদুর সংঘ প্রদেশ সভাপতি মুকুল নন্দী,রাজ্য প্রদেশ জনজাতি মোর্চার আই টি ইনচার্জ রবীন্দ্র রিয়াং সহ অন্যান্যরা। আজকের অনুষ্ঠানে বক্তব্যরাখতেগিয়ে বক্তারা রাবার শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধীকরার জন্য রাজ্যসরকারকে ধন্যবাদ জানান। তারপাশি আগামীদিনে নবনিযুক্ত মন্ডলসভাপতিদের সঙ্গেথেকে শ্রমিকদের স্বার্থে প্রতিনিয়ত কাজকরেযেতেপারবেন বলে আশাব্যক্তকরেন। বক্তব্যের মাধ্যমে বক্তারা জানান রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে ও লোকজনের স্বার্থে রাজ্যসরকারের পাশে থাকবেবলে জানান। অনুষ্ঠানে বক্তাদের বক্তব্যশেষে আমন্ত্রীত অতিথি ও নবনিযুক্ত মন্ডল সভাপতিদের সংবর্ধনা প্রদানকরাহয়। আজকের আয়োজিত কর্মসূচী সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমের সামনে জানালেন ভারতীয় জনতা মজদুর সংঘের প্রদেশ সভাপতি বাপন দত্ত।