প্রতিনিধি, উদয়পুর :- মাতাবাড়ি বিধানসভার অন্তর্গত লাভ স্টোরি তৈহোর সং এলাকার নিবাসী নারদ সাধন জমাতিয়ার একমাত্র উপার্জনের পথ ছিল পোল্ট্রির ফ্রার্ম । কিন্তু গত দুইদিন আগে হঠাৎ করে অগ্নিসংযোগ ঘটে । এর ফলে ফ্রার্মটি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। গ্রামবাসীরা শত চেষ্টার পরেও রক্ষা করতে পারেনি ফ্রার্মটিকে। অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে বিধায়ক অভিষেক দেবরায় মঙ্গলবার দুপুরে নারদ সাধন জমাতিয়ার বাসভবনে ছুটে যান । কথা বলেন পরিবারের সদস্যদের সাথে। পরবর্তী সময়ে বিধায়ক আর্থিক সহযোগিতা এবং সমবেদনা জ্ঞাপন করেন পাশাপাশি সরকারিভাবে বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদান করার জন্য প্রশাসনের সাথে কথা বলবেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে । শীতের এই শুকনো মরশুমে যেভাবে অগ্নিসংযোগ সংঘটিত হয়েছে তাতে করে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে নারদ সাধন জমাতিয়ার । এমনটাই বললেন পরিদর্শন শেষে বিধায়ক অভিষেক দেবরায়। এদিন বিধায়কে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি।
দেশ
- প্রতিনিধি, তেলিয়ামুড়া। অন্যান্য বছরের ন্যায় এবছরও মকড় সংক্রান্তির দিনে দুই দুন ব্যাপী পৌষ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্ভোদন হয় সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ চাকমাঘাটস্থিত ব্যারেজ প্রাংগনে। মেলার উদ্ভোদন করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব, উপস্থিত ছিলেন খোয়াই জেলার জেলা সভাধিপতি অপর্না সিংহরায়, সহ সভাধিপতি সত্যেন্দ্র দাস, তেলিয়ামুড়া পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান দীপা দেব , মুংগিয়াকামি এবং তেলিয়ামুড়া ব্লকের বি এ সি চেয়ারম্যান সুনিল দেববর্মা , খোয়াই জেলার জেলা শাসক চান্দনি চন্দ্রন, তেলিয়ামুড়া মহকুমা শাসক পরিমল মজুমদার সহ অন্যান্যরা। মেলার উদ্বোধন করে সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, সনাতন পরম্পরা সামাজিক ব্যবস্থাকে ধরে রাখবে। সনাতন ধর্মের অন্যতম উৎসব হলো মকর সংক্রান্তি উৎসব। মকর সংক্রান্তি উৎসব সারা ভারতবর্ষে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে পালন করা হয়। ভারত বর্ষ বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের রূপ দেখা যায়। আসামে বিহু, দক্ষিণ ভারতে পোঙ্গল, হরিয়ানা দিল্লি রাজস্থানে লরি হিসেবে এই দিনটিকে পালন করা হয়। এখানে প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,১৯৯৮ সাল থেকে তৎকালীন এম.ডি.সি হরিমোহন দেববর্মার হাত ধরে চাকমা ঘাটের খোয়াই নদীর ব্যারেজ প্রাঙ্গণে মকড় সংক্রান্তির দিনে প্রথম পৌষ মেলা শ্রুরু হয়েছিল। জাতি উপজাতির মৈত্রী’কে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয় এই মেলা। সেই সময়ে সারা রাজ্যেই সন্ত্রাসবাদীদের আতঙ্কে আতঙ্কিত ছিল সারা রাজ্য। তখন সারা রাজ্যের মধ্যে পৌষমেলা মূলত ডুম্বুরে ঘটা করে অনুষ্ঠিত হতো। সেই সময়ে পরিস্থিতি এবং সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখেই ডুম্বুরে অতিরিক্ত সমাগম রোধ করতেই চাকমা ঘাট বেরেজ প্রাঙ্গনে পৌষমেলার শুরু হয়েছিল। । সেই থেকেই প্রতি বছর বেশ সাড়া জাগিয়ে চলে দুই দিন ব্যপী এই পৌষ মেলা। সারারাত ব্যাপী জনঢল থাকে এই মেলায় প্রতিবছরই। তত্ত্ব সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে সারা রাত্র ব্যাপি চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের পক্ষ থেকে মেলায় স্টল খোলা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পূর্ণর্থীরা মধ্য রাত্র থেকে পূর্বপুরুষদের স্মরণে পূজা অর্চনা করে থাকে। অস্থি বিসর্জনের কাজ অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে এখানে করা হয়ে থাকে। সন্ধ্যা রাত থেকেই প্রচুর পূর্ণর্থী এখানে সমাগম ঘটেছে।
- প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া ১২ জানুয়ারি:- নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ১২ জানুয়ারি জাতীয় যুব দিবস উদযাপন করল গন্ডাছড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের এন এস এস ইউনিট। রবিবার বিদ্যালয় চত্বর ও তার আশপাশে ‘স্বচ্ছতা হি সেবা’ কর্মসূচি পালন করে এন এস এস স্বেচ্ছাসেবীরা। এদিন বিদ্যালয় ছুটির দিন হলেও তাদের উৎসাহের কমতি ছিলনা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক শুভজিৎ রায়।একই দিনে দিল্লির ভারত মন্ডপমে অনুষ্ঠিত জাতীয় যুব উৎসবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন স্বেচ্ছাসেবীরা।শনিবার একই অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে দিল্লি থেকে সরাসরি সম্প্রচার বিদ্যালয়ের স্মার্ট ল্যাবে প্রত্যক্ষ করেন এন এস এস স্বেচ্ছাসেবীরা।কেন্দ্রীয় যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রী মনসুখ মান্ডবীয় এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য শুনেন সবাই। উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভাইস প্রিন্সিপাল খজেন্দ্র ত্রিপুরা,শিক্ষক সংসদের সম্পাদক লবাজয় রিয়াং ও শিক্ষক শুভজিং রায়।আগামীদিনেও স্বেচ্ছাসেবীদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ এবং সমাজে গঠনমূলক পরিবর্তন আনতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা হবে বলে জানান বিদ্যালয়ের এন এস এস প্রোগ্রাম অফিসার ভাস্কর ঘোষ। উল্লেখ্য গত বছর অসাধারণ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ রাজ্যের শ্রেষ্ঠ এন এস এস ইউনিট হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছিল গন্ডাছড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়।
নিজের চেতনা বৃদ্ধি করার জন্য স্বামীজীর পুস্তক পড়া খুবই প্রয়োজন : বললেন অর্থমন্ত্রী
প্রতিনিধি, উদয়পুর :- সারা দেশের সঙ্গে রাজ্যেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয় স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী। রবিবার উদয়পুর রাজর্ষি কলাক্ষেত্রে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে উদয়পুর পৌর পরিষদের সহযোগিতায় জাতীয় যুব দিবস এবং স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শুভ সূচনা করেন অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, আগরতলা বিবেকনগর রামকৃষ্ণ মঠের স্বামী দিব্যানন্দজী মহারাজ, উদয়পুর পৌর পরিষদের চেয়ারম্যান শীতল চন্দ্র মজুমদার, গোমতী জিলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায় সহ আরো অনেকে।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় বলেন , স্বামী বিবেকানন্দ পাশ্চাত্য সংস্কৃতি ও ধ্যানধারণা পরিহার করে স্বদেশীয় ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হবার জন্য দেশবাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। স্বামীজী বলেছেন, দেশের জনগণের উন্নয়ন না হলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন হবে না। তাই সর্বাতে চাই দেশের সেবা। যুব সম্প্রদায়কে দেশের সেবায় অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে কাজ করতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে স্বামী বিবেকানন্দের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে দেশ তথা সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আজ যারা যুবক অর্থাৎ ছাত্র-ছাত্রী তাদেরকে বিশেষভাবে স্বামী বিবেকানন্দের মতাদর্শে দীক্ষিত হয়ে কাজ করার উপদেশ দেন।
এছাড়াও আগরতলা বিবেক নগর রামকৃষ্ণ মঠের স্বামী দিব্যানন্দজী মহারাজ বলেন স্বামী বিবেকানন্দের জীবনী নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা রাখেন এবং তা থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষামূলক জিনিসগুলি তুলে ধরেন। কেন তদানীন্তন ব্রাহ্মণ সমাজে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের মত গুরুদেব এমন একজনকে প্রধান শীষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন যে ব্রাহ্মণ্য নয়। স্বামী বিবেকানন্দ কিভাবে সারা পৃথিবীতে হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করে ভারতবর্ষের মুখ জ্বলজ্বল করে ফুটিয়ে তুলেছিলেন তা স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো বক্তৃতা কয়েকটি ছোট ছোট অংশ ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরেন। এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের উপস্থিত ছিল বেশ লক্ষণীয় ।
নেশা সাম্রাজ্যকে ভাঙতে হলে সরকারের পাশে দাঁড়াতে হবে জনগণকে । বললেন হাইকোর্টের বিচারপতি
- প্রতিনিধি, উদয়পুর :- শনিবার উদয়পুর রাজর্ষি কলাক্ষেত্রে প্রথম বারের মতো খাদ্য, নাগরিক সরবরাহ ও ভোক্তা বিষয়ক এবং পরিবহন দপ্তরের উদ্যোগে ভোক্তা সুরক্ষা, সড়ক নিরাপত্তা এবং মাদকের অপব্যবহারের হুমকির বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির উপর “জাগ্ৰতি- ২০২৫: আন্তঃকলেজ কুইজ প্রতিযোগিতা” নির্বাচন রাউন্ডের উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে শুভ সূচনা করেন অর্থ, আইটি মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, খাদ্যমন্ত্রী ও পরিবহন দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী,উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, ত্রিপুরা হাইকোর্ট বিচারক বিচারপতি অরিন্দম লোধ, বিধায়ক অভিষেক দেবরায় , বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার বিধায়ক রঞ্জিত দাস, এফসিএস এবং সিএ এবং শিক্ষা সচিব রাভেল হেমেন্দ্র কুমার, গোমতী জেলার জেলাশাসক তড়িৎ কান্তি চাকমা, উদয়পুর পৌর পরিষদের পৌরপিতা শীতলচন্দ্র মজুমদার, গোমতী জিলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায় সহ আরো অন্যান্য দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ। অনুষ্ঠানের লক্ষ্য হল গোমতি, সিপাহিজলা এবং দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ভোক্তা সুরক্ষা, রাস্তার নিরাপত্তা এবং মাদকের অপব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। ত্রিপুরা হাইকোর্ট বিচারপতি অরিন্দম লোধ ভাষণ বলেন , ত্রিপুরায় গাঁজার ব্যবহার অনেকটাই কম হয়। কিন্তু ড্রাগস ,ইয়াবা ট্যাবলেট সহ অন্যান্য বিভিন্ন নেশা প্রতিনিয়ত ত্রিপুরাতে প্রবেশ করছে। যা খুবই বিপদজনক । এদিনের অনুষ্ঠানে মন্ত্রীগণ ভাষণ রাখতে গিয়ে বলেন , নেশা শুধুমাত্র ব্যক্তিকে নয়, পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। এর ফলে মানব সম্পদ ধ্বংসের পথে ধাবিত হচ্ছে । তাই প্রতিটি পরিবারের মা-বোন, ক্লাব সংগঠনদের নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান সমস্ত অতিথিরা । এদিনের অনুষ্ঠানে ১৮ জন ছাত্রছাত্রীকে দেওয়া হয় হ্যামলেট । একই সাথে কুইজ প্রতিযোগিতায় ছয়টি কলেজ থেকে অংশ নেওয়া প্রতিযোগী ও প্রতিযোগিনীদের দেওয়া হয় আকর্ষণীয় উপহার । গোটা অনুষ্ঠানে তিন জেলার কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি ছিল সারা জাগানো।
প্রতিনিধি, বিশালগড় , ১০ জানুয়ারি।। ঐতিহ্যবাহী বিশালগড় দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় । শনিবার বিশালগড় নতুন টাউন হলে সাড়া জাগানো অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সাংসদ তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক সুশান্ত দেব। এছাড়া ছিলেন বিশালগড় পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন অতসী দাস, বিশালগড় ব্লক শিক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান তপন দাস, স্কুলের এসএমসি চেয়ারম্যান নিতাই চৌধুরী, সম্পাদক ভাস্কর চক্রবর্তী, জেলা শিক্ষা আধিকারিক মলয় ভৌমিক, রাউৎখলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ঝুমারানী সাহা প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিচার্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি বিশ্বজিৎ দেববর্মা। স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক তথা অনুষ্ঠানের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার দাস প্রতিবেদন পেশ করতে গিয়ে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ক্রীড়া সংস্কৃতি প্রভৃতি বিষয়ে রাজ্য জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যের তথ্য তুলে ধরেন। বিধায়ক তথা এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সুশান্ত দেব ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন মায়ের চেয়ে আপন কেউ নেই। আর বাবা যতই গরীব হোক তিনি সন্তানের স্বপ্ন পূরণে আপ্রাণ চেষ্টা করে। তাই জীবনে যত বড়ই হও না কেন মা-বাবার স্থান যেন বৃদ্ধাশ্রমে না হয়ে হৃদয়ে থাকে। এছাড়া শিক্ষক শিক্ষিকাদের শ্রদ্ধা সম্মান জানাতে হবে । সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে স্বপ্ন জাগিয়ে তোলার জন্য অভিভাবক এবং শিক্ষক শিক্ষিকাদের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন ভারতবর্ষ ছিল একমাত্র শিক্ষার পিঠস্থান। সারা পৃথিবী থেকে শিক্ষার্থীরা এসে নালন্দা তক্ষশীলায় পড়াশোনা করতেন । নালন্দা কে পুনরাই প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেনি কেউ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতবর্ষের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের বাহক নালন্দা কে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করেছেন। দুর্ভাগ্যের বিষয় ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ সরকার চলে যাওয়ার পরেও ব্রিটিশের দ্বারা চালু করা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আঁকড়ে ধরে রাখা হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেই উপনিবেশিক ভাবধারা থেকে বেরিয়ে নয়া শিক্ষা নীতি চালু করেছেন। অনুষ্ঠানে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা একক এবং দলগত সংগীত নৃত্য পরিবেশন করেন। সংগীত, নৃত্য, আকস্মিক ভাষণ, আবৃতি ইত্যাদি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা গুলি আগেই স্কুলে সম্পন্ন হয়েছিল। এদিন প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় স্থানাধিকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথি এবং স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা। তাছাড়া স্কুলের প্রতিটি শ্রেণীতে বিভিন্ন বিষয়ে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপক ছাত্র-ছাত্রীদের পুরস্কৃত করা হয়। গত বছরের মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপক ছাত্র-ছাত্রীদের পুরস্কৃত করা হয়। তাদের স্মারক এবং নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। সবশেষে বর্ষসেরা দুজন ছাত্রছাত্রীদের পুরস্কৃত করা হয়। বর্ষসেরা ছাত্র নির্বাচিত হয়েছেন দ্বাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের দেবজিৎ দেবনাথ। বর্ষসেরা ছাত্রী নির্বাচিত হয়েছেন দ্বাদশ শ্রেণীর বাণিজ্য বিভাগের ছাত্রী মৌসুমী পাল। স্কুলের এনসিসি এবং এনএসএস ইউনিটের ছাত্রছাত্রীদের সহায়তায় সকল শিক্ষক শিক্ষিকাদের নিরলস প্রচেষ্টায় অত্যন্ত শৃঙ্খলা পরায়ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এ বছরের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
প্রতিনিধি,গন্ডাছড়া ১১ জানুয়ারি:- নারিকেল কুঞ্জে আবারো যাত্রী নিয়ে উল্টে যায় নৌকা। ঘটনা শনিবার বিকাল চারটায় ডুম্বুর জলাশয়ের নারিকেল কুঞ্জ এলাকায়। ঘটনার বিবরণে জানা যায় এদিন ১৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি মেশিনের নৌকা নারিকেল কুঞ্জ পর্যটন কেন্দ্রে আসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। নৌকাটি নারিকেল কুঞ্জের কাছাকাছি আসতেই উল্টে যায়। দূর থেকে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করতে পেরে আশপাশ এলাকার লোকজনেরা দ্রুত ছুটে এসে সবাইকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। যদিও দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন অল্পবিস্তর আহত হয়। উল্লেখ্য গত মাস থেকে এ পর্যন্ত তিন তিনটি যাত্রী বোঝাই নৌকা দুর্ঘটনার শিকার হয়। নারিকেল কুঞ্জে পরপর নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেক পর্যটক এই ভয়ে নৌকায় উঠতে চাইছে না। পর্যটকদের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে নৌকার মাঝিদের আরো বেশি করে সতর্কতা অবলম্বনের।
প্রতিনিধি, আগরতলা, ১১ জানুয়ারি৷৷ দিল্লীতে অনুষ্ঠিত বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়ালগ ও রাষ্ট্রীয় যুব উৎসবে লোকনৃত্য বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করলো ত্রিপুরার লোকনৃত্য দল৷ গতকাল থেকে রাজধানী দিল্লিতে শুরু হয়েছিল বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়ালগ-২০২৫৷ আগামীকাল জাতীয় যুব দিবসের মধ্যে দিয়ে তিনদিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি হবে৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগামীকাল দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত হতে চলা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন যেখানে সারা ভারত থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ৩ হাজার যুবাকে বাছাই করা হয়েছে৷ তাদের নিয়েই চলছে এই অনুষ্ঠানটি৷ সেখানে চলছে বিভিন্ রাজ্যের নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে উপস্থাপনা এবং প্রতিযোগিতা৷ এই প্রতিযোগিতায় ত্রিপুরার প্রতিযোগীরা ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য করে দেশের মধ্যে তৃতীয় স্থান দখল করেছে৷
রাষ্ট্রীয় মঞ্চে ত্রিপুরাকে গৌরবান্বিত করায় লোকনৃত্য দলকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাজ্যের ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ এবং সমাজ শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায়। এদিন তিনি সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেছেন, ত্রিপুরার সমৃদ্ধ সংস্কৃতির এই উজ্জ্বল প্রতিনিধিত্ব আমাদের সবাইকে গর্বিত করেছে।
গোমতী জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সমিতি উদ্যোগে ব্যাপক প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা বিষয়ক এবং জেলা ভিত্তিক আশা কনভেনশনের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়
প্রতিনিধি, উদয়পুর :-বুধবার উদয়পুর রাজর্ষি কলাক্ষেত্রে গোমতী জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সমিতি উদ্যোগে ব্যাপক প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা বিষয়ক এবং জেলা ভিত্তিক আশা কনভেনশনের কর্মশালা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে ছোট্ট চারা গাছে জল দিয়ে শুভ সূচনা করেন অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, এই ছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রামপদ জমাতিয়া, বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, বিধায়ক রঞ্জিত দাস, গোমতী জেলার জেলাশাসক তড়িৎ কান্তি চাকমা,উদয়পুর পৌর পরিষদের পৌরপিতা শীতলচন্দ্র মজুমদার, গোমতী জেলার চিফ ম্যাডিকেল অফিসার ডঃ কমল রিয়াং সহ আরো অন্যান্য স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকগন। এই অনুষ্ঠানে আশা ও আশা ফ্যাসিলিটেটর সেরা পারফর্মিং এবং যারা বন্যা সমাধানের সময় অনায়াসে কাজ করেন ১৩ জনকে সংবর্ধনা প্রদান করেন । অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় বলেন, আশা কর্মীদের উৎসর্গের প্রশংসা করেন। “আশা কর্মীরা যেভাবে প্রতিটি গ্রামে মানুষকে সেবা দিচ্ছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। যে তারা আগামী দিনে রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলিকে জনগণের কাছে নিয়ে আসতে থাকবে।
তিনি আরোও বলেন , রাজ্য আশা কর্মীরা প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আশা কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। আশা কর্মীরা তাদের পরিষেবার উন্নতির জন্য সরকারের কাছে অনেক দাবি করে, এবং তাদের চাহিদাগুলি স্বীকার করতে এবং সমাধান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাবে। রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের চলমান সহায়তার লক্ষ্য এই প্রথম সারির স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যে তাদের আরও ক্ষমতায়ন করা। গোটা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে আশা কর্মীদের উপস্থিতি ছিল সারা জাগানো ।
- প্রতিনিধি, বিশালগড় , ৭ জানুয়ারি ।। ২০২৫ সালের মধ্যে যক্ষামুক্ত ভারত গড়ার ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১০০ দিনের মধ্যে যক্ষা মুক্ত ভারত গড়ার সংকল্প নেয়া হয়েছে । গত মাসে মুখ্যমন্ত্রী ডা: মানিক সাহা রাজ্যেকে ১০০ দিনের মধ্যে যক্ষা মুক্ত করার ক্যাম্পেইন শুরু করেছিলেন । এরপর থেকে স্বাস্থ্যকর্মীরা মাঠ পর্যায়ে যক্ষামুক্ত ভারত গড়ার সংকল্প পূরণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সেই কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা চলছে জেলা ভিত্তিক। মঙ্গলবার সিপাহীজলা জেলাশাসকের কনফারেন্স হলে জেলার পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক ড: সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল, জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার দেবাশীষ দাস সহ দুই মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক, সকল পি এস সি ইনচার্জ, জেলার সবগুলি ব্লকের বিডিও এবং লাইন দপ্তরের আধিকারিকরা। সরকার বিনামূল্যে যক্ষার পরিক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা প্রদান করছে। এছাড়া পিএম নিক্ষয় যোজনায় মাসে ১০০০ টাকা প্রদান করা হচ্ছে। যক্ষার লক্ষণ যাদের শরীরে রয়েছে তাদের দ্রুত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। আগামী ১৩ জানুয়ারির মধ্যে জেলার সবগুলি স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশ দেন জেলাশাসক। রাজ্যে রক্ষায় মৃত্যুর হার ৬.১২ শতাংশ। সিপাহীজলা জেলায় মৃত্যুর হার সাত শতাংশ। গোমতী জেলায় সর্বাধিক দশ শতাংশ মৃত্যুর হার রয়েছে। সঠিক সময়ে রক্ষা সনাক্তকরণ করে চিকিৎসা সম্পন্ন করতে পারলে যক্ষার মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে সকল স্বাস্থ্য কর্মীদের গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিনামূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাদ্য এর জন্য রোগীদের ১ হাজার টাকা করে প্রদান করছে সরকার। এছাড়া যক্ষায় আক্রান্ত রোগীদের নিক্ষয় মিত্র হিসেবে নিযুক্ত হয়ে বহু গুণীজন প্রতিমাসে রোগীদের পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করছেন। এদিন জেলাশাসক ডাক্তার সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল এবং জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার দেবাশীষ দাস দুইজন যক্ষা আক্রান্ত রোগীর জন্য নিক্ষয় মিত্র হিসাবে পুষ্টিকর খাদ্য তুলে দেন। এছাড়া সমাজের বিভিন্ন অংশের নাগরিকদের কাছে নিক্ষয় মিত্র হিসেবে রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানান জেলাশাসক ডাক্তার সিদ্ধার্থ শীব জয়সওয়াল।