প্রতিনিধি, বিশালগড় , ১৪ জুন।।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিগত ১১ বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের সেবা সুশাসন গরিব কল্যাণের কর্মসূচি গুলি প্রচারের উদ্দেশ্যে বিজেপির পক্ষকাল ব্যাপী কার্যক্রমের অঙ্গ হিসেবে বিশালগড়ে অনুষ্ঠিত হয় বিকশিত ভারত সংকল্প সভা। শনিবার বিকালে বিজেপির বিশালগড় মন্ডল কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক সুশান্ত দেব, বিশালগড় পৌরপরিষদের চেয়ারম্যান অঞ্জন পুরকায়স্থ, বিশালগড় পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন অতসী দাস, মন্ডল সভাপতি তপন দাস, মন্ডল প্রভারী অমল দেবনাথ, মন্ডল সহসভাপতি জিতেন্দ্র চন্দ্র সাহা প্রমুখ। ১১ বছরে নরেন্দ্র মোদি সরকারের জনকল্যাণকর প্রকল্প গুলো জনসমক্ষে তুলে ধরার জন্য একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় সমাবেশ স্থলের পাশে। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক সুশান্ত দেব বলেন ২০১৪ সালের আগে আমরা অনেক সরকার দেখেছি। যে দলটি প্রায় ষাট বছর দেশের শাসনভার পরিচালনা করেছে সেই দলের ইতিহাস আমরা সবাই জানি। কেন্দ্রের কংগ্রেস শাসিত সরকার এবং রাজ্যের সিপিএম শাসিত সরকার দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ছিল । যার কারণে জনগণ তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে বিকাশ মুখী সরকার প্রতিষ্ঠার পর দেশের আপামর জনসাধারণ বিশেষ করে গরীব অংশের মানুষ উপকৃত হয়েছে। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । ২০১৪ সালে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেও রাজ্যে ছিল সিপিএমের সরকার। সেই কারণে এই রাজ্যের গরিব মানুষ দলবাজির শিকার হয়েছে। সাধারণ মানুষ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প থেকে বঞ্চিত ছিল । ২০১৮ সালে রাজ্যে বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠার পর ডাবল ইঞ্জিনের সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের সকল প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করেছে। সাধারণ মানুষ পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় মাথা গোঁজার ঠাঁই। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, গ্যাসের সংযোগ দেয়া হচ্ছে। রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটেছে। সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে রেশন পাচ্ছে। কৃষি স্বাস্থ্য শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটছে। কৃষকদের আয় বেড়েছে। প্রায় চার লক্ষ মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাড়তি রোজগারের সুবিধা পেয়েছে। যুবকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার পাশাপাশি স্বচ্ছ নিয়োগ-নীতির মাধ্যমে সরকারি চাকরি প্রদান করা হচ্ছে। ২০১৮ সালে রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেও বিশালগড় ছিল সিপিএমের দখলে। সেই সময় সিপিএমের তথাকথিত বিধায়ক কে মানুষ বন্যা বলুন প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলুন এমন কি করোনা মহামারীর সময়েও খুঁজে পাননি। ২০২৩ সালে বিশালগড়ে পদ্মফুল ফুটেছে। এরপর থেকে মানুষের মৌলিক অধিকার এবং চাহিদা পূরণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। গত ২৫ বছরে বিশালগড়ে যা উন্নয়ন হয়নি দুই বছরে এর চেয়ে বেশি উন্নয়ন করে দেখিয়েছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার। এই দুই বছরে বিশালগড়ে ২০০ কোটি টাকার রাস্তার কাজ হয়েছে। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে অলিতে গলিতে নতুন রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে। সকল সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে যাচ্ছে ঘরে ঘরে। বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালের পরিষেবা উন্নয়নের জন্য সাত কোটি টাকায় নতুন ভবন নির্মাণ হচ্ছে। ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ হবে বিশালগড়ে। শিশু উদ্যান সুইমিং পুল ইত্যাদি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। বিধায়ক সুশান্ত দেব আরো বলেন নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপির সরকার ভারতবর্ষকে চতুর্থ অর্থনীতিতে পৌঁছে দিয়েছেন। অভিশপ্ত ৩৭০ ধারা জম্মু-কাশ্মীর থেকে বাতিল করেছেন। মর্যাদা পুরুষোত্তম ভগবান রামচন্দ্রের অপ রাম মন্দির নির্মাণ হয়েছে। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী মহারাষ্ট্র থেকে উত্তর-পূর্ব ভারত এক সুতোায় বেঁধে এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত গড়ার সংকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু উন্নয়ন বিরোধীরা এখনো ষড়যন্ত্র করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন যেখানেই বিভ্রান্তি করার চেষ্টা হবে সেখানে প্রতিবাদ প্রতিরোধ হবে এবং রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা হবে। এদিকে চড়িলাম মন্ডল কমিটির উদ্যোগে নরেন্দ্র মোদি সরকারের ১১ বছরের জনকল্যাণমুখী কর্মযজ্ঞ প্রচারের উদ্দেশ্যে বিকশিত ভারত সংকল্প সভা অনুষ্ঠিত হয়।
admin
প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া 13 জুন:- গন্ডাছড়ার বাসিন্দা মায়ারানি দেবনাথের ৬৯ তম জন্মদিনটি এবারে এক ভিন্ন রকম উজ্জ্বলতা পেল তাঁর পুত্র, পেশায় সাংবাদিক, রামু দেবনাথের মাধ্যমে। মায়ের জন্মদিন উপলক্ষে তিনি যে মানবিক ও সমাজসেবামূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা সকলের মন ছুঁয়ে গেছে।
তাঁর মায়ের জন্মদিন’টিকে অর্থবহ করে তুলতে অমরপুরের পূর্ব মৈলাক গ্রামের এক নিরীহ পরিবারের অসুস্থ শিশুর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। কাজল দাসের ৮ বছর বয়সী কন্যা প্রিয়াঙ্কা দাস দীর্ঘদিন ধরে থ্যালাসেমিয়া নামক কঠিন রোগে আক্রান্ত। পরিবারটি আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল হওয়ায় প্রিয়াঙ্কার চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই অবস্থায় সাংবাদিক বাবু তাঁর মায়ের জন্মদিন উপলক্ষে প্রিয়াঙ্কার হাতে তুলে দেন জামা, স্কুল ব্যাগ, ছাতা, জুতো, আমলদুধ, টিফিন বক্স, পেন্সিল বক্স, জলের বোতল, বিস্কিট, ব্যাস, কলকেট, সাবান, তেল, পাউডার, মুখের স্কীম, সেম্পু, পুতুল, ড্রয়িং খাতা, রং পেন্সিল এবং পাঁচ জাতের ফল। শিশু প্রিয়াঙ্কার চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক ছিল স্পষ্ট। সাংবাদিক বাবুর এহেন উদ্যোগে খুশি কাজল দাসের গোটা পরিবার। পাশাপাশি কাজল দাস সাংবাদিকের মায়ের দীর্ঘ আয়ু কামনা করেন।
সাংবাদিক বাবু বলেন, “প্রতিবার মায়ের জন্মদিনে কেক কাটা, খাবার খাওয়া তো হতোই। কিন্তু এবার মনে হলো এমন কিছু করি যাতে একজন মানুষের মুখে হাসি ফোটে। মা সবসময় আমাদের শেখাতেন দুঃখীদের পাশে দাঁড়াতে। তাঁর শিক্ষাই আজ আমাকে এই উদ্যোগ নিতে অনুপ্রাণিত করেছে।”
এই অভিনব ও মানবিক উদ্যোগে খুশি এলাকার সাধারণ মানুষ। কেউ কেউ বলেন, “এ ধরণের উদ্যোগ সমাজে একটা দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে। একজন সাংবাদিক শুধু খবর পরিবেশনেই নয়, সমাজ গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন— সাংবাদিক বাবু সেটাই করে দেখালেন।”
একজন সন্তানের পক্ষ থেকে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবার এমন মানবিক দৃষ্টান্ত নিঃসন্দেহে সমাজের কাছে এক অনুকরণীয় উদাহরণ। সাংবাদিক বাবুর মতো আরো অনেকেই যদি বিশেষ দিনগুলোতে অসহায়দের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সমাজ হবে আরও মানবিক ও সুন্দর।
প্রতিনিধি কৈলাসহর:-কৃষি এবং কৃষক কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে গত ২৯শে মে থেকে শুরু হয়েছিল বিকশিত কৃষি সংকল্প অভিযান।যা শেষ হবে ১২ই জুন।তার-ই অঙ্গ হিসেবে আজ ঊনকোটি জেলা ভিত্তিক বিকশিত কৃষি সংকল্প অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে কুমারঘাট এর গীতাঞ্জলি অডিটোরিয়ামে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী রতনলাল নাথ,বিধায়ক ভগবান চন্দ্র দাস,সভাধিপতি অমলেন্দু দাস,সহকারি সভাধিপতি সন্তোষ ধর, কুমারঘাট পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন সুমতি দাস,কৃষি দপ্তরের মুখ্য বাস্তুকার স্বপন দাস,উদ্যান দপ্তরের অধিকর্তা দীপক কুমার দাস,কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের সিনিয়র সাইন্টিস্ট বিশ্বজিৎ বল এবং আই সি এ আর এর সিনিয়র সেন্টিস্ট প্রাণনাথ বর্মন,মৎস্য দপ্তরের ডেপুটি ডাইরেক্টর তারেন্দ্র দেববর্মা ও প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের ডেপুটি ডাইরেক্টর তপন রায়। এছাড়াও মঞ্চে বিশেষ অতিথির আসন গ্রহণ করেন প্রগ্ৰেসিভ কাল্টিভেটর হীরালাল চৌধুরী।সমৃদ্ধি, সচ্ছলতা এবং আত্ম নির্ভরতার অঙ্গীকারে অঙ্গীকারবদ্ধ ত্রিপুরা সরকারের কৃষি এবং কৃষক কল্যাণে অভিনব এই উদ্যোগ গোটা রাজ্য ব্যাপী বাস্তবায়িত হয়েছে।বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী রতন লাল নাথ বলেন কৃষকদের কল্যাণে এবং কৃষি দপ্তরকে আরো জনমুখী ও কৃষক মুখী করতে প্রতিদিন এ রাজ্যের ৭২ টি মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।২০১৮ সালের পূর্বে আই সি এ আর এবং কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র রাজ্যের আটটি জেলায় থাকলেও তার সম্পর্কে কৃষকদের স্পষ্ট কোন ধারণা ছিল না। সরকার পরিবর্তনের পর কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের কাজের প্রতি উৎসাহ বাড়ানো হয়েছে এবং তাদের সৃজনশক্তি বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে কৃষকের আয় কিভাবে দ্বিগুণ করা যায় এবং তার রূপায়ণ ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে আলোকিত হয়।তিনি বলেন বিজ্ঞানীদের কাজ হচ্ছে মাঠে গিয়ে কৃষকের জমিতে মাটির গুণমান পরীক্ষা করা এবং সহজ পদ্ধতিতে অল্প পরিশ্রমে এবং কম খরচে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে কিভাবে চাষ করা যায় সে সম্পর্কে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয় কৃষি বিজ্ঞানীদের।আজ তাদের কল্যাণে সারা ত্রিপুরা রাজ্যে কৃষি বিপ্লব শুরু হয়েছে। তাদের গবেষণায় গতি এসেছে।একটি পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি বলেন সারা রাজ্যে মোট ৬৫ লক্ষ কানি রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ লক্ষ কানিতে ফসল চাষ হয় এবং তার মধ্যে ১৫ লক্ষ কাণী জমিতে ধান চাষ হয় গোটা রাজ্যে। মাটি ছাড়াও কৃষিকাজ কিভাবে করা যায় তার ওপর রাজ্যের রিসার্চ সেন্টার নাগি ছড়ায় কৃষকদের গবেষণা শুরু হয়েছে।এছাড়াও সরকার পেঁয়াজ চাষের জন্য ২ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকার আর্থিক অনুদান ভর্তুকি হিসেবে দেখছেন।আজকের এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কৃষকদের ভুয়ষি প্রশংসা করেন মন্ত্রী শ্রীনাথ।অনুষ্ঠানের শেষে ঊনকোটি জেলার আট জন বিশেষ কৃষকদের সম্মাননা জ্ঞাপন করেন অতিথিরা।
পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই ত্রিপুরায় অনুপ্রবেশ, মিয়ানমারের পাঁচ নাগরিক আটক আমবাসায়
প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া 10 জুন:-ধলাই জেলার আমবাসা থানাধীন লালছড়ি এলাকায় মিয়ানমারের পাঁচজন নাগরিককে পাসপোর্ট এবং ভিসা ছাড়াই অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দারা গত এক সপ্তাহ ধরে একটি বাড়িতে অচেনা ব্যক্তিদের চলাফেরা দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি আমবাসা থানায় জানানো হয়। আমবাসা থানার ইন্সপেক্টর উত্তম কুমার দাস নিজে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন।
পুলিশ প্রথমে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানায়, বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে তারা ত্রিপুরায় এসেছে এবং তাদের মধ্যে একজন পুলিশকে একটি আধারকার্ড দেখায়। তবে তদন্তে দেখা যায় আধারকার্ডটি ভুয়া। পরে পুলিশ পাঁচজনকে থানায় নিয়ে এসে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। ধৃতদের দাবি, তাদের মধ্যে তিনজনের পাসপোর্ট রয়েছে, কিন্তু কারোর কাছেই ভিসা নেই। পুলিশ ফের ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের পাসপোর্ট নিয়ে আসে।
ধৃতদের মধ্যে তিনজনের নাম রজার খৈনি (৩৩), অনুগ নাইঙ্গ তং (৪০), এবং পে তাই জেন (৯)। বাকিদের নাম তং উইঙ্গ (৬০) ও সুন্দর উইঙ্গ (২৩), যাদের পাসপোর্টও নেই। তারা জানিয়েছে, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে মিজোরাম সীমান্ত পেরিয়ে ত্রিপুরায় প্রবেশ করেছে এবং তাদের সহযোগী বর্তমানে হায়দ্রাবাদে অবস্থান করছেন। ধৃতদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে।
জানা গেছে, তারা ইংরেজি ও মাতৃভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষা বোঝে না, ফলে জিজ্ঞাসাবাদে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের ধারাবাহিক জিজ্ঞাসাবাদে একের পর এক নতুন তথ্য উঠে আসায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। গোয়েন্দা বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারাও তাদের পৃথকভাবে জেরা চালাচ্ছেন।
এ ঘটনায় আমবাসা থানায় ভারতীয় দণ্ডবিধির অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নম্বর: ১৫/২০২৫), পাসপোর্ট অ্যাক্টের ৩ নম্বর ধারায়। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে ইন্সপেক্টর জেম্স মলসুমের হাতে। আগামীকাল ধৃতদের ধলাই জেলা ও দায়রা আদালতে তোলা হবে।
সম্প্রতি ত্রিপুরা রাজ্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনুপ্রবেশকারীরা ভারতীয় নাগরিকত্ব ও নথিপত্র সংগ্রহের চেষ্টায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছে, যার প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনও পরিষ্কার নয়। আমবাসা ছাড়াও ধলাই জেলার কমলপুর, গন্ডাছড়া ও রইস্যাবাড়ি ভারত – বাংলা সীমান্ত এলাকা দিয়ে এই প্রবণতা বাড়ছে বলে সূত্রের খবর।
বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে, সীমান্তে নজরদারি আরও কড়া করা এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও প্রশাসনকে আরও সতর্কভাবে কাজ করতে হবে যাতে এই ধরনের বেআইনি অনুপ্রবেশ রোধ করা যায়।
তুফানিয়া লুঙ্গা চা বাগানে ৯৩ জন শ্রমিকদের হাতে জমির পাট্টা তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
- প্রতিনিধি মোহনপুর:- রাজ্যের চা শ্রমিকদের কল্যাণে সরকার বিশেষ নজর দিয়েছে। ২০১৮ সালে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, জমির পাট্টা প্রদানের উদ্যোগের পাশাপাশি সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। রবিবার বামুটিয়ার তুফানিয়া লুঙ্গা স্কুল মাঠে মেগা প্রশাসনিক শিবিরে উদ্বোধকের ভাষনে বললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা
মোহনপুর মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে বামুটিয়ার তুফানিয়া লুঙ্গা চা বাগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে মেগা প্রশাসনিক শিবির। এই প্রশাসনিক শিবিরে স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবি, স্বাস্থ্য শিবির, বৃক্ষরোপণ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় নির্মিত ঘরের গৃহপ্রবেশ সহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে। এদিনের অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা বলেন রাজ্যের ২০২২ সাল থেকে প্রতি ঘরে সুশাসন কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। গোটা রাজ্যের বিভিন্ন ব্লক, নগর পঞ্চায়েত, ভিলেজ কমিটি এলাকাগুলোতে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৪৬০০ টি শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে গোটা রাজ্যে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন রাজ্যে শুধুমাত্র বড় বড় বিল্ডিং তৈরি করাই উন্নয়ন নয়। সমস্ত অংশের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিশ্বাসী সরকার। সে দৃষ্টিভঙ্গিতেই কাজ চলছে। আমরা চাই শহর এবং গ্রাম এক গতিতে এবং এক দিশাতে উন্নয়ন হোক। ডক্টর মানিক সাহা আরো বলেন গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে পার ক্যাপিটা ইনকামের নিরিখে ত্রিপুরা রাজ্য বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। পাশাপাশি স্টেট জিএসটির নিরীক্ষ ত্রিপুরা রাজ্য উত্তর পূর্বাঞ্চলের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান দখল করে রয়েছে। এদিনের এই প্রশাসনিক শিবিরে চা বাগান এলাকার ৯৩ জন শ্রমিককে জমির পাট্টা প্রদান করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডক্টর মানিক সাহা নিজ হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রমিকদের হাতে জমির পাট্টা তুলে দিয়েছেন। এই কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, এডিএম মেঘা জৈইন, মোহনপুর মহকুমা শাসক সুভাষ দত্ত, বামুটিয়ার প্রাক্তন বিধায়ক কৃষ্ণ ধন দাস, বামুটিয়া পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান দীপক সিংহ সহ অন্যান্যরা।
প্রতিনিধি কৈলাসহর:-নাবালিকা বধূকে গোপন খবরের ভিত্তিতে কৈলাসহর চন্ডিপুর ৫ নং ওয়ার্ড এলাকা থেকে তুলে আনলো চাইল্ড হেল্পলাইন এবং জেলা শিশু সুরক্ষা ইউনিটের কর্মীরা।শনিবার চাইল্ড হেল্প লাইনের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে যে, শ্রীরামপুর এলাকার এক নাবালিকার সাথে চন্ডিপুর ৫ নং ওয়ার্ডের এক যুবকের সাথে বিবাহ হয়েছে।এরপর চাইল্ড হেল্পলাইন এবং জেলা শিশু সুরক্ষা ইউনিট এবং কৈলাসহর মহিলা থানার পুলিশ মিলে ওই যুবকের বাড়িতে গিয়ে হানা দেয় এবং ঘটনার সত্যতা খুঁজে পায়। ওরা পরবর্তী সময় ওই নাবালিকা যুবক সহ উভয় পক্ষের অভিভাবকদের নিয়ে আসে কৈলাসহর জেলা শিশু কল্যাণ সমিতির অফিস গৃহে। উনারা দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করেন উভয় পক্ষকে এবং ওরা জানায় ওই যুবকের সাথে ওই নাবালিকার প্রণয় সম্পর্ক রয়েছে।চলতি মাসের দুই তারিখ ওই নাবালিকা ওই যুবকের বাড়িতে চলে যায়। পরবর্তী সময় ওই নাবালিকার পরিবারের লোকেরা ওই যুবকের বিরুদ্ধে কৈলাসহর মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করতে চাইলে যুবকের পরিবারের লোকেরা অভিযোগ দায়ের করতে বাধা দেয় এবং তা মীমাংসা করার জন্য চাপ দেয়।এরপর উভয়পক্ষ বসে মীমাংসা করে এবং ডুলগাঁও এলাকার একটি মন্দিরে গতকাল ওই নাবালিকা ও যুবকের বিবাহ করানো হয়। আজ ওই নাবালিকাকে কুমারঘাট সখি ওয়ান স্টপ কেন্দ্রে পাঠানো হবে এবং সোমবার ওই নাবালিকাকে উত্তর জেলার ধর্মনগর হোমে প্রেরণ করা হবে।পাশাপাশি ওই যুবকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজকের এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন চাইল্ড হেল্প লাইন সুপারভাইজার বিনয় দেব, এলসিপিও সাগরদ্বীপ মালাকার,প্রোডাকশন অফিসার দেবব্রত দেবনাথ সহ কৈলাসহর মহিলা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।
ব্যাঙ্গালোরে কাজ করতে গিয়ে মালিকের হাতে আটক রাজ্যের শ্রমিকরা, পুলিশের অভিযোগ দায়ের
- প্রতিনিধি মোহনপুর:- দালাল চক্রের মাধ্যমে ব্যাঙ্গালোরে কাজ করতে গিয়ে মালিকের হাতে আটকা পড়লো রাজ্যের শ্রমিকরা। শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনতে মুখ্যমন্ত্রী নিকট আবেদন করলো আটকা পরা শ্রমিকরা। অভিযোগ দালালচক্রের প্রতারণার কারণে আটকে রাখা হয়েছে শ্রমিকদের। ঘটনা বামুটিয়ার গোছা মুড়া গ্রামে। অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে পুলিশে। সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বামুটিয়ার মন্ডল সভাপতি শিবেন্দ্র দাস।
প্রায় দুমাস পূর্বে বামুটিয়ার গোছামুড়া গ্রাম, মোহনপুরের গোপালনগর সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কয়েকজন শ্রমিককে দালালচক্র ব্যাঙ্গালোরে নিয়ে গেছে কাজ করার জন্য। শ্রমিকদের কাজে নিয়ে যাওয়ার পূর্বে প্রতি মাসে ১৭ হাজার টাকা মাইনে দেওয়া হবে বলে বলা হয়েছিল। পাশাপাশি থাকা-খাওয়া সম্পূর্ণ মালিক বহন করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছিল দালালচক্র। কিন্তু দেখা গেছে শ্রমিকদের মাইনে দেওয়া হচ্ছে ১০ থেকে ১২০০০ টাকা। খাবার এবং থাকা নিজের দায়িত্বেই বহন করতে হচ্ছে শ্রমিকদের। অভিযোগ কমলপুরের ধীরেন তান্তি এবং গুছামুরার রাজু সিং শ্রমিকদের বহিঃ রাজ্যে নিয়ে গেছে। শ্রমিকরা দীর্ঘদিন যাবৎ বাড়িতে আসতে চাইলেও মানিকপক্ষ তাদেরকে বলপূর্বক আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। ধীরেন এবং রাজু মালিক পক্ষের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা নিয়ে এসেছে। সেই টাকা ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের ছাড়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে মালিকপক্ষ। এদিকে শ্রমিকরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিকট দাবি জানিয়েছেন তাদেরকে নিরাপদে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার জন্য। অন্যদিকে শ্রমিক পরিবারের তরফে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পরিবারের দাবি পুলিশ এবং সরকার শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। বাবুটিয়ার মন্ডল সভাপতি শিবেন্দ্র দাস শুক্রবার এলাকায় গিয়ে শ্রমিক পরিবারের সাথে কথা বলেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রশাসনের পাশাপাশি দলীয়ভাবেও উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ত্রিপুরা রাজ্যে মার্শাল আর্ট ও বক্সিংয়ে উত্তর ত্রিপুরার জেলা সাতটি স্বর্ণপদক অর্জন করে সাফল্য পেল।
প্রতিনিধি ধর্মনগর : ত্রিপুরা রাজ্যের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে। গত ৩১ মে ২০২৫, খোয়াই জেলায় অনুষ্ঠিত তৃতীয় ত্রিপুরা রাজ্য এম.এম.এ (MMA) চ্যাম্পিয়নশিপ-এ, উত্তর ত্রিপুরা জেলার প্রেমতলা মার্শাল আর্ট একাডেমি থেকে অংশগ্রহণকারী ১২ জন খেলোয়াড় অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।আনোয়ারুল হক চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে, এই একাডেমির খেলোয়াড়রা মোট ৭টি স্বর্ণপদক, ৪টি রৌপ্যপদক এবং ১টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে। এই অসামান্য সাফল্যের ফলে অন্যান্য জেলা দলকে পেছনে ফেলে উত্তর ত্রিপুরা জেলা চ্যাম্পিয়ন দল হিসাবে ঘোষণা পায় এবং চ্যাম্পিয়ন ট্রফি অর্জন করে। অন্যদিকে, এর ঠিক কয়েকদিন আগেই, ২৫ মে ২০২৫, উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর জুডো হল-এ অনুষ্ঠিত হয় প্রথম উত্তর ত্রিপুরা জেলা বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ। সেখানে অংশগ্রহণকারী ১৩ জন প্রতিযোগীর মধ্যে থেকে ১০টি স্বর্ণপদক ও ৩টি রৌপ্যপদক অর্জন করে উত্তর ত্রিপুরা জেলা। এই দুই চ্যাম্পিয়নশিপেই উত্তর ত্রিপুরা জেলার খেলোয়াড়দের দৃঢ় মনোবল, কঠোর পরিশ্রম ও কোচদের নিবেদিত প্রশিক্ষণের প্রতিফলন দেখা গেছে। জেলার ক্রীড়াঙ্গনে এই সাফল্য নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
প্রতিনিধি, বিশালগড়, ৩ জুন।। বিশালগড় মহিলা থানার ওসি শিউলি দাসের ব্যাক্তিগত গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটি ঘটে সোমবার সন্ধ্যে পৌনে ছয়টায়। ওসি কে থানায় নামিয়ে দিয়ে চালক একাই গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিল। তখন বিশালগড় উত্তর বাজারে কয়েকজন দুষ্কৃতি চালককে মারধোর করে গাড়িটি নিয়ে চম্পট দেয়। কুখ্যাত সমাজদ্রোহী জুয়েল মিয়া ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা এ কান্ড সংগঠিত করেছে। মূহুর্তের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত ময়দানে নেমে পড়ে পুলিশ। অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার রাজীব সূত্রধর, এসডিপিও দুলাল দত্ত, বিশালগড় থানার ওসি সঞ্জিত সেন দ্রুত অভিযান শুরু করে। থানায় ছুটে যান আইজি আইনশৃঙ্খলা মঞ্চাক ইপ্পার। আইজি আইনশৃঙ্খলা জানিয়েছেন কোন অপরাধী রেহাই পাবে না। তিনি আরো জানান রাজ্যে অপরাধের মাত্রা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। এখনো যারা সমাজবিরোধী কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে চলেছে প্রশাসন । রাত একটায় থানায় ছুটে যান বিধায়ক সুশান্ত দেব। চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে গাড়ি উদ্ধার এবং দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেফতারের সময়সীমা বেঁধে দেন বিধায়ক সুশান্ত দেব। যথারীতি পুলিশের অভিযান তীব্র হয়। নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়ে ময়দানে ঝাঁপিয়েছে পুলিশ। অবশেষে মঙ্গলবার বিকেলে গাড়িটি উদ্ধার হয়। বক্সনগরের ভেলুয়ারচরে গাড়িটা লুকিয়ে রেখেছিল দুষ্কৃতীরা। সেখান থেকে গাড়িটি উদ্ধার করতে পারলেও দুষ্কৃতকারীদের এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন সিপাহীজলা জেলা পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা। তিনি জানান অতি শীঘ্রই দুষ্কৃতকারীদের মূল পান্ডা জুয়েল হোসেনকে গ্রেফতার করা হবে। তাকে গ্রেফতার করার পর তা সহযোগী দুষ্কৃতকারীদের নামধাম জানা যাবে। ঘটনা সঙ্গে যারাই যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান জেলা পুলিশ সুপার। জেলা পুলিশ সুপার জানান ছিনতাই হওয়া গাড়ি পুলিশের নয়। এটি থানার ওসির ব্যক্তিগত গাড়ি। গত কয়েকদিন আগে এই গাড়িটি তিনি ক্রয় করেছিলেন। গাড়িটির মালিক সুরজিৎ রায় পানিসাগরের বাসিন্দা । পরবর্তীকালে তিনি গাড়িটি বিশালগড়ের জুয়েল হোসেন এর কাছে বিক্রি করে দেন। কিন্তু জুয়েল হোসেন সময় মতো কিস্তি পরিশোধ না করায় ফাইন্যান্স কোম্পানি গাড়িটি তুলে নেয়। এভাবে দুই তিন হাত বদল হয়ে শেষে গাড়িটি ক্রয় করেন মহিলা থানার ওসির পরিবার। এদিকে দুষ্কৃতকারী জুয়েল হোসেনকে গ্রেফতারের দাবি উঠেছে। জুয়েল বিরোধী দলের ছত্রছায়ায় লালিত। সে নানান অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। শান্তির শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে বিশালগড়ের বদনাম করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে জুয়েল হোসেন এর মত দুষ্কৃতকারীরা। এদিকে গতকাল কমলাসাগর বিধানসভার ভূঁইয়ার মাথা এলাকায় ১১ লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে । ধারালো অস্ত্রের মুখে পিতা পুত্রকে রক্তাক্ত করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এই ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানান জেলা পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা।
সাংবাদিকতার পাশে মানবতা, অসুস্থ রবি সিং-এর পাশে দাঁড়ালেন আরেক সাংবাদিকের মা
- প্রতিনিধি,গন্ডাছড়া ৩ জুন:-
জীবনের চার দশকেরও বেশি সময় সাংবাদিকতা করে বহু মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন গন্ডাছড়া মহকুমা এলাকার সিনিয়র সাংবাদিক রবি সিং। কিন্তু আজ তিনি নিজেই এক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘ এক বছর ধরে কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত এই সিনিয়র সাংবাদিক বর্তমানে শারীরিক এবং আর্থিক—দুই দিক থেকেই বিপর্যস্ত। চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে ইতিমধ্যে তার সঞ্চিত দুই থেকে তিন লক্ষ টাকা শেষ হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল এবং বহিরাজ্যে চিকিৎসা করাতে গিয়ে তিনি কার্যত নিঃস্ব।
এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি রবি সিং সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে রাজ্যবাসীর কাছে উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানান। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁর আবেদনে সাড়া মেলেনি। কেউ এগিয়ে আসেননি তাঁর দুঃসময়ে।
তবে এই নীরবতা ভেঙে এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন গন্ডাছড়া মহকুমা এলাকার আরেক সাংবাদিক রামু দেবনাথের মা, মায়ারানী দেবনাথ। মঙ্গলবার সকালে ৭৫ বছরের এই সমাজসেবিকা, ছেলে রামু দেবনাথকে সঙ্গে নিয়ে ডুম্বুরনগর ব্লক সংলগ্ন রবি সিং-এর বাড়িতে উপস্থিত হন।
তিনি অসুস্থ সাংবাদিকের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য হাতে তুলে দেন ৫০০০ টাকা। এই অনাকাঙ্ক্ষিত গভীর মানবিক মুহূর্তে রবি সিং আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কান্না চেপে রাখতে না পেরে বলেন, “জীবনে বহু মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি, অনেকের দুঃখ-কষ্ট তুলে ধরেছি সংবাদপত্রের মাধ্যমে। কিন্তু আজ যখন নিজে অসহায়, তখন কাউকে পাশে পাচ্ছি না। এমন সময় এই মা যেভাবে আমার পাশে দাঁড়ালেন, তা কখনও ভুলবো না।”
উল্লেখ্য, মায়ারানী দেবনাথ শুধু একজন মা নন, বরং একজন নিঃস্বার্থ সমাজসেবিকা। তিনি একজন পেনশনার হলেও তার পেনশনের টাকাতেই বছরের পর বছর ধরে নানা অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন। কারও শিক্ষার খরচ, কারও চিকিৎসার ব্যয়—সব ক্ষেত্রেই তিনি চুপিসারে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কখনও প্রচারের আলোতে আসেননি, নীরবে নিজের দায়িত্ব পালন করে গেছেন।
মায়ারানী দেবনাথ আগেও বহুবার অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন। কিন্তু তিনি নিজেকে কখনই ‘সমাজসেবী’ বলে দাবি করেন না। তাঁর মতে, “যা করছি, সেটা দায়িত্ব। সমাজের জন্য কিছু করা আমাদের সবার কর্তব্য।”
এই ঘটনার পর গোটা এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন তিনি। একজন সাংবাদিকের মা হয়ে আরেক সাংবাদিকের জন্য যে সহানুভূতি ও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলেন, তা শুধু মানবিকতার নিদর্শন নয়, সমাজের জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল—মানবতা এখনও বেঁচে আছে, শুধু দরকার সঠিক সময়ে সঠিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। রবি সিং-এর সুস্থতা কামনায় এখন অনেকেই এগিয়ে আসছেন, যা এই ছোট অথচ শক্তিশালী ঘটনার ইতিবাচক প্রভাব বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই মুহূর্তে একটাই প্রার্থনা—রবি সিং যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও কলম হাতে ফিরতে পারেন সেই পথচলায়, যা দিয়ে তিনি সমাজকে সারা জীবন আলোকিত করে এসেছেন।