তেজপুর, আসাম :– বুধবার লংতরাই-এর উদ্যোগে “তেজপুর রিটেইলার্স মিট ২০২৫” এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।অনুষ্ঠানের সভাপত্বিত করেন লংতরাই-এর তেজপুর ডিস্ট্রিবিউটর শ্রী দেবাশীষ রোকশিট, প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন তেজপুর নর্থ ইস্ট ডিস্ট্রিবিউটর এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি শ্রী রাজু ভাটি। সম্মানিত অতিথি হিসাবে ছিলেন সোনিতপুর জার্নালিস্ট ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট শ্রী সঞ্জীব হাজারিকা এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন শ্রী বিনয় জৈন।কোম্পানির পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লংতরাই এর কর্ণধার রতন দেবনাথ, জেনারেল ম্যানেজার সুব্রত দেবনাথ, জোনাল ম্যানেজার শুভ রঞ্জন দাস, রিজিওনাল ম্যানেজার পলাশ সরকার এবং বাস্তব চ্যাংককটি সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।অনুষ্ঠানে প্রায় ১৩৫ জন রিটেইলার, ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটর অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি ওনাদের ভাসনে লংতরাই-এর এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সাধুবাদ জানান। সম্মানিত অতিথি উনি তার বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে সকল রিটেইলারস এবং ডিলারস দের লংতরাই মসলা বাজারজাত করার আহব্বান জানান এবং তার বিভিন্ন দিক গুলি তুলে ধরেন।
লংতরাই এর কর্ণধার শ্রী রতন দেবনাথ ওনার ভাষণে কোম্পানির ইতিবৃত্ত তুলে ধরতে গিয়ে এক দারুন মনোজ্ঞ আলোচনা করেন। লংতরাই এখন শুধু ত্রিপুরার জন্যই প্রসিদ্ধ নয় গোটা উত্তরপূর্ব ভারতের এক অনন্য নাম হতে চলছে। উনি আশা করছেন আর অল্প কিছুদিনের মধ্যে লংতরাই প্রতিটি পরিবারের গৃহিণীদের মন জয় করে নেবে। লংতরাই প্রোডাক্ট শুধুমাত্র মশলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই তার মধ্যে রয়েছে তেল, ঘি, চাউল ইত্যাদি সহ আরো প্রায় ১২০টি প্রোডাক্ট। উনি আরো বলেন লংতরাই বর্তমানে ত্রিপুরা থেকে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিহার, এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশেও লংতরাই-এর চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে।
রিটেইলারদের মধ্য থেকে অনেকে আলোচনা করতে গিয়ে লংতরাই গুণমান নিয়ে খুব প্রশংসা করেন এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যে নগাঁও স্থিত বাজার গুলিতে এক বিশাল প্রভাব ফেলবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন এবং আগামীদিন ওনারা লংতরাই ব্রান্ডের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
অনুষ্ঠানের স্বাগত ভাষণ রাখেন জেনারেল ম্যানেজার শ্রী সুব্রত দেবনাথ।
admin
- প্রতিনিধি মোহনপুর:- মোহনপুর কৃষি মহকুমা এলাকার কৃষকের চাষ জমি পরিদর্শন করলেন কৃষিমন্ত্রী রতন লাল নাথ। বুধবার কলাগাছিয়া গ্রামের উচ্চ শিক্ষিত চন্দ্র কুমার শীল দাসের মিশ্র ফলের বাগান পরিদর্শন করেছেন মন্ত্রী। উনার বাগানে মাল্টা, মুসাম্বির, ড্রাগন ফ্রুট, আম সহ বিভিন্ন ফলের গাছ রয়েছে। এইদিন কৃষক চন্দ্র কুমার শীল দাসের সাথে দীর্ঘ সময় কথা বলেছেন মন্ত্রী। ওনার আয় ব্যয় সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। এর পাশাপাশি এই ধরনের চাষবাস করে এলাকার অন্যান্য যুবকদের আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান করলেন মন্ত্রী।
অন্যদিকে সাতডুবিয়া গ্রামের কৃষক সঞ্জীব বিশ্বাস সবজির পাশাপাশি বর্ষাকালীন তরমুজের চাষ করেছেন। এই এলাকাতে বর্তমান মরশুমে এই ব্যতিক্রমী ফলের চাষ একমাত্র তিনিই করেছেন। এদিন উনার জমিও পরিদর্শন করেছেন কৃষিমন্ত্রী। বর্ষাকালে এই এলাকাতে একটি বিকল্প ফলের চাষ করে বাড়তি আয়ের মুখ দেখার সম্ভাবনা পথে এই কৃষক। এদিন কৃষকের সাথে এই চাষবাস সম্পর্কে আলোচনা করেছেন মন্ত্রী। এইদিন মন্ত্রী বলেন বর্তমানে কৃষকরা ব্যতিক্রমী এবং নতুন চাষবাসের সাথে যুক্ত হচ্ছে। কৃষি দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে এলাকার কৃষকদের। এই ধরনের ব্যতিক্রমী সবজি এবং ফল চাষে আরও বেশি করে কৃষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান করেছেন মন্ত্রী।
প্রতিনিধি, উদয়পুর :- আজ থেকে গত দুই মাস আগে গোমতী নদীতে স্নান করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছিলো বিল্লাল মিঞা নামে গোমতী জেলার উদয়পুর মহকুমার অন্তর্গত সমতল ভদ্র এলাকার বাসিন্দার। অত্যন্ত গরিব ঘরের ছিল বিল্লাল মিঞা। বিল্লালের মৃত্যুতে অসহায় হয়ে পড়ে গোটা পরিবারটি। ছোট কন্যা সন্তান ছিল বিল্লালের পরিবারে। এক কালো মেঘের অন্ধকার নেমে আসে তার স্ত্রী জাহানারা খাতুনের কপালে। পরবর্তী সময় , উদয়পুর মহকুমা শাসক ত্রিদিব সরকার এই গোটা বিষয়টি তদন্ত করতে শুরু করে। একের পর এক সরকারি তথ্য জমা পড়ে মহকুমা শাসকের কাছে । দীর্ঘ দিন পর মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় গোমতী জেলা সভাধিপতি দেবল দেবরায় ও উদয়পুর মহকুমা শাসক ত্রিদিব সরকারের উপস্থিতিতে মৃত বিল্লাল মিঞার স্ত্রী জাহানারা খাতুনের হাতে তুলে দেওয়া হয় চার লক্ষ টাকার সরকারি অনুমোদন। জানা যায় , আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জাহানারা খাতুনের ব্যাংক একাউন্টে এই টাকা দেওয়া হবে অনলাইনের মাধ্যমে। এদিন মহকুমা শাসকের এই ধরনের উদ্যোগ খুবই প্রশংসার যোগ্য বলে মনে করছে উদয়পুরের মহকুমা শাসকের অফিস থেকে শুরু করে গোটা উদয়পুর মহকুমাবাসী। যেভাবে এক অসহায় গরিব মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে একজন মহকুমা শাসক তা খুবই কম সংখ্যক মহকুমা শাসক এমন নজির সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছে মহকুমা বাসী ।
নগাঁও, আসাম :- রবিবার লংতরাই-এর উদ্যোগে “নগাঁও রিটেইলার্স মিট ২০২৫” এক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।অনুষ্ঠানের সভাপত্বিত করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গৌরাঙ্গ দেব, প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন নগাঁও এর বরিষ্ঠ সাংবাদিক শ্রীযুক্ত কনক হাজারিকা। বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন নর্থ ইস্ট ডিস্ট্রিবিউটর এসোসিয়েশনের মাননীয় সম্পাদক আসিফ জামান। কোম্পানির পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লংতরাই এর কর্ণধার রতন দেবনাথ, জেনারেল ম্যানেজার সুব্রত দেবনাথ, জোনাল ম্যানেজার শুভ রঞ্জন দাস, রিজিওনাল ম্যানেজার পলাশ সরকার সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।অনুষ্ঠানে প্রায় ১৫০ জন রিটেইলার, ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটর অংশগ্রহণ করেন।প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি যথাক্রমে শ্রীযুক্ত হাজারিকা ও আসিফ জামান দুইজনই তাঁদের বক্তব্যের মাধ্যমে উত্তর পূর্ব ভারতের ছোট্ট পাহাড়ি রাজ্য ত্রিপুরার অন্ন্যতম ব্র্যান্ড লংতরাই তার বিভিন্ন্য প্রোডাক্ট গুলি নিয়ে আজ নগাঁও এর রিটেইলার্স মিটের আয়োজন করেছে তার ভূয়সী প্রশংসা করেন।লংতরাই এর কর্ণধার শ্রী রতন দেবনাথ ওনার ভাষণে কোম্পানির ইতিবৃত্ত তুলে ধরতে গিয়ে এক দারুন মনোজ্ঞ আলোচনা করেন। লংতরাই এখন শুধু ত্রিপুরার জন্যই প্রসিদ্ধ নয় গোটা উত্তরপূর্ব ভারতের এক অনন্য নাম হতে চলছে। উনি আশা করছেন আর অল্প কিছুদিনের মধ্যে লংতরাই প্রতিটি পরিবারের গৃহিণীদের মন জয় করে নেবে। লংতরাই প্রোডাক্ট শুধুমাত্র মশলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই তার মধ্যে রয়েছে তেল, ঘি, চাউল ইত্যাদি সহ আরো প্রায় ১২০টি প্রোডাক্ট। উনি আরো বলেন লংতরাই বর্তমানে ত্রিপুরা থেকে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিহার, এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশেও লংতরাই-এর চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে।রিটেইলারদের মধ্য থেকে অনেকে আলোচনা করতে গিয়ে লংতরাই গুণমান নিয়ে খুব প্রশংসা করেন এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যে নগাঁও স্থিত বাজার গুলিতে এক বিশাল প্রভাব ফেলবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন এবং আগামীদিন ওনারা লংতরাই ব্রান্ডের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।জেনারেল ম্যানেজার শ্রী সুব্রত দেবনাথ তাঁর ভাষণে কোম্পানির তরফ থেকে রিটেইলার, ডিলারদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি গুণমানের দিক থেকে লংতরাই যে সেরা, তা উল্লেখ করতে গিয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে টাইমস অফ ইন্ডিয়া কর্তৃক উত্তর-পূর্ব ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ বিশুদ্ধ গুঁড়া মশলার প্রস্তুতকারকের সম্মানের কথাও তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানের স্বাগত ভাষণ রাখেন আসামের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার, বাস্তব চ্যাংকাকটি। ও সব শেষে জোনাল সেলস ম্যানেজার শুভ রঞ্জন দাস ওনার ধন্যবাদ সূচক ভাষণের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
তেলিয়ামুড়া পৌর পরিষদ এলাকার উন্নয়নে কাজকর্ম খতিয়ে দেখলেন বিধায়ক, চেয়ারম্যান।
- প্রতিনিধি। তেলিয়ামুড়া। ২৫ বছরের টানা বামফ্রন্ট সরকারের আমলে বিধায়ক, বিধায়িকা, চেয়ারম্যান সহ নেতারা শহরের নানা সমস্যা সমাধানের কোনও চেষ্টা করেনি। সেই জায়াগায় মাত্র সাত বছরের বিজেপি সরকারের বিধায়িকা, চেয়ারম্যান এর আমলে শহরের নাগরিক পরিসেবা সহ নানা সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হয়েছে। এবং আগামীদিনেও এই ধরনের কাজ ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলতে থাকবে। শনিবার তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদের বিভিন্ন ওয়ার্ড এলাকায় নির্মিয়মান রাস্তা, ড্রেইন সহ নানা উন্নয়ন মূলক কাজ পরিদর্শনে বেরিয়ে একথা বলেন ত্রিপুরা বিধানসভার মূখ্য সচেতক তথা বিধায়িকা কল্যানী সাহা রায়। তিনি বিরোধী দলের নেতৃত্বদের কটাক্ষ করে বলেন, যাদের কাছে কোন রাজনৈতিক ইসু নেই। আগামী পুর পরিষদের নির্বাচনে কে সামনে রেখে নিজেদর অস্তিত্বের জানান দিতে ডেপুটেশন প্রদান করছে। অথচ দেখাযায় ডেপুটেশন দিচ্ছেন তাদের অনেকে পুর পরিষদের বিভিন্ন টেক্স বকেয়া রাখে। কিন্তু এসবে কাজ হবেনা মানুষ উন্নয়ন কারা করে তাদের ভাল করে চেনে। এদিনের এই পরিদর্শনে বিধায়িকা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদের চেয়ারম্যান রুপক সরকার, কাউন্সিলর বিমল রক্ষিত, দপ্তরের আধিকারিক সহ অন্যান্যরা ।
- ধর্মনগর প্রতিনিধি,, সমস্ত রাজ্যের পাশাপাশি উত্তর ত্রিপুরা জেলার কদমতলা ব্লক এলাকায় চুরি,ডাকাতির ঘটনা কিছুতেই যেন হ্রাস পাচ্ছে না। প্রতিরাতেই কোন না কোন গৃহস্থের বাড়িতে হানা দিচ্ছে চোর কিংবা ডাকাত দল। এতে করে বিভিন্ন এলাকার জনগণ এখন নিজেরাই রাত্রিকালীন প্রহরার ব্যবস্থা করলেও অধিকাংশ স্থানে এখনও ভয়ঙ্কর চুরি ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত করছে চোর কিংবা ডাকাত দল। একই ভাবে গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উত্তর জেলার চুরাইবাড়ি থানাধীন পূর্ব ফুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪নং ওয়ার্ডের রেল গুদাম সংলগ্ন মিনতি দেবীর বাড়িতে হানা দেয় পাঁচ ছয়জনের এক ডাকাত দল। ডাকাত দলের সদস্যরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে ও হাতে ধারালো দা নিয়ে বাড়ির টিনের বাউন্ডারি ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রথমে বাড়ির সদর দরজায় লাথি মেরে পাশের ঘরের তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে। যদিও ঘরে কোন লোকজন ছিল না। পরে ঘরে থাকা নগদ ত্রিশ হাজার টাকা, দুটি সোনার কানের দুল, পায়ের নপুর, স্বর্ণের চেইন সহ রুপার অলংকার ও দামি ব্ল্যাঙ্কেট, কাপড় ও বিছানা পত্র নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাত দলটি। তখন পাশের ঘরে থাকা মিনতি দেবী ও উনার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাইরে ডাকাত দলের তান্ডব লীলা আঁচ করতে পেরে প্রাণের ভয়ে চিৎকার চেঁচামেচি করেননি বলে জানান। তিনি আরো জানান, ঘরে মেয়ের বিয়ের জন্য দামি জিনিসপত্র রাখা ছিল সেগুলোও নিয়ে যায় ডাকাত দলটি। তখন উনারা পেছনের দরজা খুলে চিৎকার-চেঁচামচি করতেই পালিয়ে যায় ডাকাত দলের সদস্যরা। রাতেই তিনি চুরাইবাড়ি থানায় ফোন করলে রাত্রিকালীন পেট্রোলিং এ থাকা পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে অবশ্য সকালে লিখিত আকারে জানানো হয় থানায়। সব মিলে আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান মিনতি দেবী। তবে এই ডাকাত দলের উৎপাতে নাজেহাল উত্তর জেলার চুরাইবাড়ী ও কদমতলা থানা এলাকার জনগন।
প্রতিনিধি। তেলিয়ামুড়া। ১৭ই জুন। তেলিয়ামুড়া মহকুমা ক্রিকেট এসোসিয়েশন আয়োজিত সিনিয়র ডিভিশন ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হলো নেতাজি স্মৃতি সংঘ। আজ তেলিয়ামুড়া দশমী ঘাট স্থিত ভগৎ সিং মিনি স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচে সপ্তসিন্ধু দশ দিগন্ত কে ৯৭ রানে হারিয়ে পরপর দু’বছর চ্যাম্পিয়নের শিরোপা ছিনিয়ে নিল নেতাজির স্মৃতি সংঘ। রাজ্যের স্বনামধন্য একাধিক ক্রিকেটারে সমৃদ্ধ নেতাজি স্মৃতি সংঘ প্রথমে খেলতে নেমে ১৫ ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১৯২ রান তুলে। অধিনায়ক শুভম ঘোষ ৫২, দুর্লভ রায় ৩২ এবং মিন্টু দেবনাথ এর ৩০ রান ছিল উল্লেখযোগ্য. সপ্তসিন্ধু দশ দিগন্তের বিশু দেববর্মা তিনটি উইকেট লাভ করে। পাল্টা খেলতে নেমে সপ্তসিন্ধু দশ দিগন্ত তেরো অবাক তিন বলে সবকয়টি উইকেট হারিয়ে ৯৫ রান তুলে। নেতাজি স্মৃতি সংঘের শুভম ঘোষ দুইটি উইকেট এবং দলের এক নম্বর বোলার পৃতিসগোপ দুইটি উইকেট তুলে নেয়। নেতাজি স্মৃতি সংঘ এবার পরপর দু’বছর তেলিয়ামুড়া মহকুমা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত সিনিয়র ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চেম্পিয়ান হলো। খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন নেতাজি স্মৃতি সংঘের হাতে পুরস্কার তুলে দেন রাজ্য বিধানসভার মুখ্য সচেতক তথা তেলিয়ামুড়ার বিধায়িকা কল্যাণী সাহা রানার্স পুরস্কার তুলে দেন তেলিয়ামুড়া পৌর পরিষদের চেয়ারম্যান রূপক সরকার। অন্যান্য ক্যাটাগরিতে পুরস্কার তুলে দেন মহাকুমা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের সভাপতি বিমল রক্ষিত,সম্পাদক নন্দন রায়, তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রেস ক্লাব সম্পাদক পার্থ সারথী রায় প্রমূখ। এখানে প্রসঙ্গত উল্লেখ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আজকের ফাইনাল ম্যাচটি ৫০ ওভারের পরিবর্তে ১৫ ওভারে করা হয়. এবছর তেলিয়ামুড়া মহকুমা ক্রিকেট এসোসিয়েশন আয়োজিত টুর্নামেন্টে ১৮ টি দল অংশ নেয়.
- প্রতিনিধি ধর্মনগর,,
- উত্তর ত্রিপুরায় বেআইনি বার্মিজ সিগাবরেট চোরাচালান রুখতে তৎপর ত্রিপুরা পুলিশ। ধর্মনগর থানার অধীনস্থ আনন্দবাজার এসপিও ক্যাম্পের নাকা চেকিং পয়েন্টে পুলিশের এক সফল অভিযানে ফের আটক হলো বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি সিগারেট। গতকাল গভীর রাতে এই ঘটনাটি ঘটে যখন একটি বিলাসবহুল গাড়ি (নম্বর: TR05G0597) সন্দেহভাজনভাবে চেকপোস্ট অতিক্রম করার চেষ্টা করে।
- তৎক্ষণাৎ কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা গাড়িটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালান। সেই সময় গাড়ির ভেতর থেকে সাতটি কার্টুনে গুছিয়ে রাখা অবস্থায় মোট ৭০,০০০ বার্মিজ সিগারেট উদ্ধার হয়। পুলিশের অনুমান অনুযায়ী, এই বিপুল পরিমাণ সিগারেটের বাজারমূল্য আনুমানিক প্রায় কয়েক লক্ষ্য টাকা টাকা।
ধর্মনগর থানার রাতের ডিউটিতে থাকা পুলিশ অফিসার সোলেমান রিয়াং তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের আটক করেন। ধৃত তিন যুবক হলেন দামছড়া এলাকার সৌরভ সিনহা, পানিসাগরের জামটিলা এলাকার প্রকাশ দেবনাথ ও বিশ্বজিৎ দেবনাথ। তাদের বিরুদ্ধে চোরাচালান সংক্রান্ত আইনের অধীনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে ধর্মনগর থানার পুলিশ। - পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি কার্টুনে ১০,০০০টি করে বার্মিজ সিগারেট ছিল। সিগারেটগুলির কোনও বৈধ কাগজপত্র কিংবা কর সংক্রান্ত তথ্য ওই যুবকেরা দেখাতে পারেনি।
- এই ঘটনাটি উত্তর ত্রিপুরা জেলায় বার্মিজ সিগারেট চোরাচালান রোধে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের অংশ। উল্লেখযোগ্য যে, গত মার্চ মাসে রাজনগর এলাকায় একটি গাড়ি দুর্ঘটনার পর ৪০ কার্টুন বার্মিজ সিগারেট উদ্ধার হয়েছিল। তবে সেই ঘটনায় তৎক্ষণাৎ কেউ গ্রেফতার না হলেও পরে তদন্তের ভিত্তিতে দুই সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়, যাদের বিরুদ্ধেও চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে।
- ধর্মনগর থানার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এ ধরনের বেআইনি ব্যবসা সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়। তবে পুলিশ এখন আরও সক্রিয়ভাবে নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছে। সোলেমান রিয়াং জানান, “চোরাচালান চক্র যতই সক্রিয় হোক, আমরা পিছু হটছি না। এ ধরনের বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলতেই থাকবে।”
প্রতিনিধি, বিশালগড়, ১৫ জুন।। দুই কুখ্যাত ছিনতাইবাজকে গ্রেফতার করেছে বিশালগড় থানার পুলিশ। গত ২রা জুন গকুলনগর রাস্তারমাথা এলাকায় হাফেজ মিয়া ও তার ছেলে সাগর মিয়াকে ছুরিকাঘাত করে তাদের কাছ থেকে ১১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ছিনতাই করা হয়েছে বলে বিশালগড় থানায় অভিযোগ জমা পড়ে। বিশালগড় থানার পুলিশ মামলা হাতে নিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেন। পুলিশ তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভুঁইয়ামাথা এলাকা থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত গাড়ি স্কুটি সহ কুখ্যাত ছিনতাইবাজ ভিকি মজুমদার এবং সাগর দাসকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ঘটনার মূল মাস্টারমাইন্ড ভিকি মজুমদারের বাড়ি পান্ডবপুর এলাকায়। বেশ কয়েকদিন ধরে পলাতক ছিল সে। অবশেষ পুলিশের জালে ধরা পড়ে। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে সেদিন ১১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ছিনতাই করা হয়নি। ছিনতাই হয়েছে আড়াই লক্ষ টাকা। তা স্বীকার করেছেন অভিযোগকারীরা। রবিবার এ বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন সিপাহীজলা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিব সূত্রধর। সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দুলাল দত্ত এবং বিশালগড় থানার ওসি সঞ্জিত সেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিব সূত্রধর জানান অভিযোগটি ছিল প্রাণনাশের চেষ্টা এবং ছিনতাইয়ের। পুলিশ তদন্ত প্রক্রিয়া গুটিয়ে এনেছে। এক্ষেত্রে টেকনোলজির ব্যবহার করেছে পুলিশ। গত কয়েকদিন ধরে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা হচ্ছিল। কিন্তু তারা জায়গা বদল করে আত্মগোপন করেছিল। কিন্তু অবশেষে তারা ধরা পড়ে। অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে নগদ টাকা মোবাইল ফোন এবং ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত স্কুটি এবং গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। দুই অভিযুক্ত কে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনার সঙ্গে যদি কেউ যুক্ত থাকে তাদেরকেও গ্রেপ্তার করা হবে বলে তিনি জানান। ওসি সনজিত সেন জানান ধৃত দুই অভিযুক্তকে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। আদালত অভিযুক্তদের জেল হাজতে পাঠিয়েছে। পুলিশ রিমান্ডের আবেদনের শুনানি হবে আগামী ২৩ শে জুন।
প্রতিনিধি কৈলাসহর:-বিশ্ব রক্তদাতা দিবস ২০২৫ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হল কৈলাসহর ঊনকোটি কলাক্ষেত্রে।কৈলাসহর ব্লাড ডোনার্স এসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জুড়ে ছিল সম্মাননা প্রদান, সেমিনার,রক্তদান শিবির এবং নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচি।অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বিশ্বখ্যাত রক্তের গ্রুপ আবিষ্কারক কার্ল ল্যান্ডস্টেইনারের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং একটি চারা গাছে জল সিঞ্চনের মধ্য দিয়ে।এরপর আমেদাবাদে সদ্য ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ২৪১ জন যাত্রীর প্রতি এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।অনুষ্ঠানের সূচনা সঙ্গীত পরিবেশন করেন নির্ঘোষ নিক্বণ এর শিল্পীবৃন্দ।স্বাগত ভাষণ দেন ব্লাড ডোনার্স এসোসিয়েশনের সম্পাদক শুভাশিস চৌধুরী।অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এসোসিয়েশনের সভাপতি অনুপম পাল।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৈলাসহর পুর পরিষদের চেয়ারপারসন চপলা দেবরায়,ঊনকোটি জেলার জেলাশাসক ডঃ তমাল মজুমদার,মহকুমা শাসক প্রদীপ সরকার,জেলা শিক্ষা আধিকারিক প্রশান্ত কিলিকদার,মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি কার্যালয়ের আধিকারিক সুকান্ত মলসই, ডঃ শঙ্খশুভ্র দেবনাথ,ভাইস চেয়ারপার্সন নিতিশ দে, বিশিষ্ট সমাজসেবী প্রীতম ঘোষ সহ জেলার একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।রক্তদানের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন ডঃ শঙ্খশুভ্র দেবনাথ। পাশাপাশি,ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় এক তথ্যবহুল সেমিনার, যেখানে “চাইল্ড ম্যারেজ” ও “টিনেজ প্রেগন্যান্সি” বিষয়ে আলোচনা করেন ডঃ অয়ন রায়।এছাড়াও ছাত্রদের মধ্যে একটি কুইজ প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়।এই দিনে ধারাবাহিকভাবে রক্তদান করে সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় পাঁচজন মহিলা রক্তদাতাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।সম্মান প্রাপ্তরা হলেন শাশ্বতী চক্রবর্তী,পৌষালী ভট্টাচার্য, মহামায়া দাস,সংঘমিত্রা দে এবং সুপর্ণা চক্রবর্তী। এছাড়াও জেলার তেরোটি ক্লাবকে রক্তদানের ক্ষেত্রে তাদের সক্রিয় ভূমিকার জন্য সংবর্ধনা জানানো হয়।রক্তদান শিবিরে মোট ২২ জন রক্তদাতা স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন,যা অনুষ্ঠানটির মূল সার্থকতাকে প্রমাণ করে।অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বাচিক শিল্পী সুকান্ত চক্রবর্তী।পুরো অনুষ্ঠানের সফল বাস্তবায়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করে ঊনকোটি জেলার বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর।সার্বিকভাবে, কৈলাসহর ব্লাড ডোনার্স এসোসিয়েশনের এই বর্ণাঢ্য আয়োজন রক্তদানের প্রতি জনসচেতনতা গড়ে তোলার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল এমনটাই মত শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের।এর পূর্বেও কৈলাসহর ব্লাড ডোনার্স এসোসিয়েশনের রক্তদানের প্রয়াস সফলতার শীর্ষে রয়েছে।