প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া :- সুরমা বিধানসভার অন্তর্গত মরাছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে বৃহস্পতিবার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুরমা বিধানসভার বিধায়িকা স্বপ্না দাস পাল, মরাছড়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান স্মৃতি দেব, উপপ্রধান, সমাজসেবী সুভাষ আহিরসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সভায় মূলত এলাকার সার্বিক উন্নয়ন এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও মৌলিক সুবিধা সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দিয়ে কীভাবে গ্রামীণ উন্নয়নকে আরও গতিশীল করা যায় সে বিষয়ে মতামত প্রদান করেন উপস্থিত বক্তারা। অংশগ্রহণকারীরা জানান, সরকারি প্রকল্পগুলির সঠিক বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। তাই জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত সদস্য ও সমাজকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে উন্নয়নের ধারাকে ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানানো হয়। সকলের আন্তরিক উপস্থিতি ও গঠনমূলক মতামত এই বৈঠককে আরও ফলপ্রসূ করে তোলে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।
admin
প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া :- ত্রিপুরায় বিদ্যুতের সহজলভ্যতা বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে রাজ্য সরকার। গত সাত বছরে সৌরশক্তি থেকে ২৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। আগামী দুই বছরে সৌরশক্তি থেকে আরও ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বুধবার ধলাই জেলার মনু বাজার সংলগ্ন জাতীয় সড়কের ধারে নির্মিত ১৩২ কেভি পাওয়ার সাবস্টেশনের উদ্বোধনে এসে বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথ বলেন—বিদ্যুৎ পরিষেবা সবার জন্য, তাই ফ্রি নয়, চুরি কেন? বিদ্যুৎ ব্যবহারে সততা দেখাতে হবে, গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। দুপুরে ফলক উন্মোচন ও ফিতা কেটে সাবস্টেশনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মন্ত্রী। এদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিধায়ক শম্ভু লাল চাকমা, সমাজসেবী সঞ্জিত দেববর্মা এবং বিদ্যুৎ দপ্তরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা। জানা গেছে, ভারত সরকার ও বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় প্রায় ৪৪ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই সাবস্টেশন গড়ে তোলা হয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবেন প্রায় ২১ হাজার ৫৫৪ জন গ্রাহক।
মন্ত্রী এদিন স্পষ্ট বার্তা দেন, বিদ্যুতের উন্নয়ন ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে সরকার অবিরাম চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সাবস্টেশন চালু হওয়ায় ধলাই জেলার বিদ্যুৎ সমস্যার যথেষ্ট সমাধান হবে।
প্রতিনিধি, বিশালগড়, ২ সেপ্টেম্বর।। বিশালগড়ের কৃতি সন্তান ডঃ অরুণোদয় সাহা। ভারত সরকার কর্তৃক অনন্য নাগরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন । তার এই অনন্য কৃতিত্বকে সম্মান জানানো হয় বিশালগড়ে। বিশালগড়ের সামাজিক সংগঠন ত্রয়ীর উদ্যোগে মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পদ্মশ্রী ডঃ অরুণোদয় সাহাকে “বিশালগড় রত্ন” সম্মানে ভূষিত করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক সুশান্ত দেব, বিশালগড় পুর পরিষদের চেয়ারম্যান অঞ্জন পুরকায়স্থ, বিশালগড় পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন অতসী দাস, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তপন দাস সহ ত্রয়ীর পক্ষে প্রসেনজিৎ রায়, গৌতম ঘোষ এবং প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী। বক্তারা বিশালগড়ের সামাজিক জীবনে ডঃ অরুণোদয় সাহার অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন । নিজের বক্তব্যে ডঃ অরুণোদয় সাহা বলেন তিনি তার শিক্ষা এবং কর্মজীবনে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে গেছেন, অনেক কিছু শিখেছেন, কিন্তু তার সবকিছুতেই বিশালগড়ের মাটির টান তিনি অনুভব করেছেন। বিশালগড়ের সাথে তাঁর নাড়ির সম্পর্ক তাঁকে বার বার উদ্বেলিত করেছে। এদিনের এই অনুষ্ঠানে বিশালগড় রত্ন সম্মানে পেয়ে তিনি আপ্লুত বলেই আবেগ প্রকাশ করেছেন। এদিনের অনুষ্ঠানে ত্রয়ীর আয়োজনে গত ২৫ শে আগষ্ট অনুষ্ঠিত পদ্মপুরাণ পুঁথি পাঠ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
নর্থইস্ট জোন ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ -২ ৫এর জন্য প্রস্তুত এনআরসিসির ইনডোর হল।
প্রতিনিধি। তেলিয়ামুড়া । ১লা সেপ্টেম্বর।নর্থ-ইস্ট জোন ইনটার স্টেট ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৫ এর জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে নেতাজি চৌমুহনিস্থিত এনআরসিসি তে। আগামী চৌঠা সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে এই প্রতিযোগিতা। উত্তর পূর্বাঞ্চল থেকে ত্রিপুরাসহ আটটি রাজ্য এই টুর্নামেন্টে ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়বা অংশ নেবে। টুর্নামেন্টে ভারতের অনেক আন্তর্জাতিক স্তরের খেলোয়াড়দের খেলা দেখতে পারবে রাজ্যের মানুষ। রাজ্য ব্যাডমিন্টন এসোসিয়েশনের ওয়ার্কিং সভাপতি তথা রাজ্যের অন্যতম ক্রীড়া সংগঠক রতন সাহার পরামর্শ এবং তত্ত্বাবধানে , রাজ্য ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে চলছে এই ব্যাডমিন্টনের আসরের জন্য প্রস্তুতি। ইতিমধ্যেই আসরের জন্য প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত। প্রস্তুত এনআরসিসির ইনডোরে ব্যাডমিন্টনের কোর্ট। সাজিয়ে তোলা হয়েছে এন আরসিসি এলাকাকে। রাজ্য ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক রূপক সাহা এবং কোশাধ্যক্ষ প্রশান্ত দাস জানান, নর্থ ইস্ট জোন ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ- ২৫ চৌঠা সেপ্টেম্বর বেলা ১১ টায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা ত্রিপুরা ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রফেসর ডাক্তার মানিক সাহা টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করবেন। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে অল ইন্ডিয়া ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সভাপতি তথা আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা কেও। টুর্নামেন্টে উত্তর পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্য থেকে আড়াই শতাধিক খেলোয়াড় অংশ নেবে। ইতিমধ্যেই রাজধানী আগরতলার বিভিন্ন নামিদামি হোটেলে খেলোয়ারদের থাকার জন্য রুম বুকিং হয়ে গেছে।
এদিকে, নর্থইস্ট জোন ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ- ২৫ এ খেলার জন্য রাজ্যের ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন ১৬ জন খেলোয়ার কে মনোনীত করেছে। আন্ডার ১৯ এবং সিনিয়র বিভাগে খেলা গুলি হবে।রাজ্যের ব্যাডমিন্টন নক্ষত্র আরকে মনোজিৎ সিং, রূপশ্রী নাথরা গত ১৫ দিন ধরেই এনআরসিসি তে ব্যাডমিন্টন ইনডোর হলে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর সাতটি রাজ্যের খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তারা আগরতলায় পৌঁছে যাবে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের খেলা প্রেমীদের মধ্যে টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকদিন পর রাজ্যে এত বড় একটি খেলার আসর বসতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়ারদের খেলা দেখার জন্য অধীর আগ্রহ রয়েছে খেলা প্রেমীরা।
ধর্মনগর প্রতিনিধি : আজ অবৈধ বার্মিজ সিগারেট পাচারের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে ফের সাফল্য পেল গোয়েন্দা বিভাগ এবং ধর্মনগর থানার পুলিশ । গোপন সূত্রে প্রাপ্ত খবরের ভিত্তিতে শনিবার দুপুরে ধর্মনগর থেকে কৈলাসহর যাওয়ার পথে অফিসটিলা এলাকায় বিশেষ চেকিং চালানো হয়। এসময় সন্দেহজনকভাবে চলাচল করা একটি অল্ট্রো গাড়ি (নম্বর TR05-F-0208) আটক করা হয়।তল্লাশি চালিয়ে গাড়ি থেকে মোট ২৭ কার্টুন বার্মিজ সিগারেট উদ্ধার করে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে দুই যুবককে আটক করা হয়। আটকরা হলেন— গৌতম ত্রিপুরা (২৭) ও মৃন্ময় দাস (২৪), উভয়ের বাড়ি দামছড়া এলাকায়।পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং এদের পেছনে বড় কোনো চোরাকারবারি চক্র সক্রিয় আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে বার বার ধর্মনগর থানার হাতে অবৈধ বার্মিজ সিগারেট উদ্ধরের ঘটনায় ফের আঙুল উঠছে দাম ছাড়া এবং পানিসাগর থানার বিরুদ্ধে। কেনোনা সিগারেট গুলি মিজোরাম হয়ে দাম ছাড়া থানা হয়ে বংসুল নাকা পয়েন্ট এবং পানিসাগর থানা এলাকার জলেবাসা নাকা পেরিয়ে ধর্মনগরে এসে কিভাবে ধরা পড়ছে। এই প্রশ্ন জনমনে ?
প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া :-
শ্রীশ্রী গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে মঙ্গলবার ভারতীয় জনতা পার্টি আমবাসা মন্ডলের উদ্যোগে ধলাই জেলা কার্যালয় প্রাঙ্গণে সিদ্ধিদাতা গণেশ পূজার আয়োজন করা হয়। শুভ উদ্বোধন করেন বিজেপি ত্রিপুরা প্রদেশ সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা, বিজেপি ধলাই জেলা সভাপতি পতিরাম ত্রিপুরা, আমবাসা মন্ডল সভাপতি অজয় অধিকারী সহ আরও অনেকে। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে গণেশ পূজার তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির দিকটি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, এই প্রথমবারের মতো বিজেপি আমবাসা মন্ডলের উদ্যোগে গণেশ পূজার আয়োজন করা হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট আমবাসা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রোগীদের মধ্যে ফল বিতরণের মধ্য দিয়ে এই ছয় দিনব্যাপী গণেশ পূজা মহোৎসবের সূচনা হয়। চলবে আগামী ২৮ আগস্ট পর্যন্ত।
গণেশ পূজাকে কেন্দ্র করে আমবাসা জুড়ে ইতিমধ্যেই এক বিশেষ উৎসবের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাট উৎসাহ ও অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পূজার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মসূচি এবং সামাজিক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ফলে উৎসবটি একদিকে ধর্মীয় ভক্তিকে উজ্জীবিত করছে, অন্যদিকে সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মানুষের কাছে নতুন বার্তাও পৌঁছে দিচ্ছে।
এই উদ্যোগের ফলে আমবাসা ও ধলাই জেলা সদর এলাকায় এক ভিন্ন ধরনের আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী বছরগুলোতেও এই পূজা আরও বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে।
স্বর্ণকমল জুয়েলার্স সফলভাবে আয়োজন করল দ্য গোল্ডেন রান – সিটি ম্যারাথন ২০২৫
আগরতলা, ত্রিপুরা – ২৪শে আগস্ট, ২০২৫ স্বর্ণকমল জুয়েলার্স, কিসনা ডায়মন্ড ও গোল্ড জুয়েলারির সহযোগিতায় সফলভাবে আয়োজন করল দ্য গোল্ডেন রান – সিটি ম্যারাথন ২০২৫-এর দ্বিতীয় সংস্করণ। মাত্র দুই বছরের মধ্যেই এ ইভেন্টটি সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ফিটনেস ও সামাজিক সমাবেশের একটি হয়ে উঠেছে। এতে ত্রিপুরা, আসাম এবং এমনকি পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশ থেকেও উৎসাহী অংশগ্রহণ দেখা গেছে। ম্যারাথনটি উদ্বোধন করেন মাননীয় ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক মন্ত্রী, শ্রী টিঙ্কু রায়, যেখান থেকে দৌড় শুরু হয় উমাকান্ত একাডেমি স্কুল ময়দান থেকে এবং সমাপ্ত হয় এলবার্ট এক্কা ওয়ার মেমোরিয়াল পার্ক, আগরতলায়। প্রতিযোগিতাটি তিনটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল – পুরুষ, মহিলা ও সিনিয়র ক্যাটাগরি, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা অসাধারণ উদ্যম, ক্রীড়াত্মক মানসিকতা এবং দৃঢ় সংকল্প প্রদর্শন করেন।
আইজিডিসি ক্রেফলাট প্রকল্পের উদ্যোগে আমবাসায় মৎস্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সূচনা
প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া :- ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট ধলাই জেলায় এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের সূচনা হয়। সিইও ও পিডি শ্রী এস. প্রভুর নেতৃত্বে এদিন আইজিডিসি ক্রেফলাট প্রকল্পের আওতাধীন গ্রামবাসীদের জন্য মৎস্য কার্যক্রম সংক্রান্ত একদিনব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আমবাসার পিআরটিআই-তে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ধলাইয়ের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর (ডিপিডি) মিসেস সঙ্গীতা আভা কাটাল, আইএফএস। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. রীমা সাহা (পিএমএ), শ্রী তীর্থঙ্কর মজুমদার (সিনিয়র টেকনিক্যাল অফিসার), শ্রীমতী মীরা পাল (মৎস্য আধিকারিক), শ্রী নবজ্যোতি সরকার (টেকনিক্যাল অফিসার), মি. কে. দারলং (আরও, সেলেমা) এবং মি. অমিত ত্রিপুরা (আরও, দুর্গা চৌমুহনী)। পাশাপাশি বনদপ্তর এবং আইজিডিসি ক্রেফলাট প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রশিক্ষণ সেশনটি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়। বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষকরা অংশগ্রহণকারীদের সামনে প্রকল্পের আওতায় নির্মিত চেক ড্যামে মৎস্যচাষের বিভিন্ন কারিগরি দিক তুলে ধরেন। তারা কীভাবে সঠিকভাবে মাছ চাষ করা যায়, উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায় এবং টেকসই পদ্ধতিতে এই কার্যক্রম চালানো সম্ভব সে বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করেন। প্রশিক্ষকরা অংশগ্রহণকারীদের মৎস্য কার্যক্রমের সূক্ষ্ম দিকগুলি সহজভাবে ব্যাখ্যা করে দেন এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করেন। এই একদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রকল্প গ্রামবাসীদের জন্য একটি বিশেষ সুযোগ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতে আরও দক্ষভাবে মৎস্যচাষে সম্পৃক্ত হতে পারবেন। একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত হবে এবং জীবিকার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
নিঃসন্দেহে, এ কর্মসূচি ধলাই জেলার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবিকা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং টেকসই মৎস্যচর্চা গড়ে তোলার একটি বাস্তব উদাহরণ হয়ে থাকবে।
শান্তিরবাজারে সেকেন্ডারি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ইন-সার্ভিস শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
শান্তিরবাজার, দক্ষিণ ত্রিপুরা: TRESP-TPD 2025-26-এর অন্তর্গত জেলা স্তরের ইন-সার্ভিস টিচার প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট (TPD) প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছিল সোমবার, শান্তিরবাজার বিআরসি হলে। দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার শিক্ষা আধিকারিক (DEO)-এর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই কর্মসূচি জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) 2020-এর লক্ষ্য অনুযায়ী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও শিক্ষার মান উন্নয়নে সহায়ক হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছিলেন শ্রী সুদিপ দাস (BRC coordinator) উদ্বোধনী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমতি স্বপনা মজুমদার, মাননীয়া চেয়ারপার্সন, শান্তিরবাজার পৌর পরিষদ।সম্মানীয় প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রী দিলীপ কুমার দেববর্মা, জেলা শিক্ষা আধিকারিক (দক্ষিণ ত্রিপুরা) সহ প্রমুখ ।
কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল— মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আধুনিক শিক্ষণ কৌশল ও উদ্ভাবনী শ্রেণিকক্ষ কার্যপদ্ধতিতে দক্ষ করে তোলা। শিক্ষাদানের ধারা জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা।দক্ষিণ ত্রিপুরাজুড়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সমতা নিশ্চিত করা।কর্মসূচির বিন্যাস মোট ৩২টি ব্যাচে ১,৩৩৪ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। প্রশিক্ষণ দুই ধাপে আয়োজিত হয়েছিল—১৮–২৩ আগস্ট : ১৬ ব্যাচ ২৫–২৯ আগস্ট : ১৬ ব্যাচ এই প্রশিক্ষণ জেলার ৮টি ব্লক রিসোর্স সেন্টারে (BRC) অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেছিলেন ২৪ জন মাস্টার ট্রেইনার, যাঁরা এসসিইআরটি ত্রিপুরা ও ট্রান্সফর্ম ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত হয়েছিলেন। প্রশিক্ষণের মান পর্যবেক্ষণ করছেন শ্রী ইকবাল হোসেন (ইমপ্লিমেন্টেশন কো-অর্ডিনেটর, ট্রান্সফর্ম ট্রাস্ট), দক্ষিণ ত্রিপুরা ডিইও ও পেডাগজি কো-অর্ডিনেটরের সহযোগিতায়। এনইপি ২০২০-এর লক্ষ্যে অগ্রযাত্রা এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দক্ষিণ ত্রিপুরায় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, সমস্যা সমাধান এবং সমগ্রতাবাদী শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছিল।
প্রতিনিধি, আগরতলা :- গত ১২ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে মাতার বাড়ি ধন্য মানিক্যমুক্ত মঞ্চে ধান ক্রয় কর্মসূচি। প্রথম দিকে গত কয়েকদিন সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও শনিবার থেকে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে ব্যাপারিদের ধান বিক্রির ধুম। যে জায়গায় রাজ্য সরকার চাইছে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করার জন্য। আর সেদিকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে ১০ জন যদি থাকে প্রকৃত কৃষক আর বাকি ৯০ জন থাকছে ধানের ব্যাপারী । তারা প্রতিটা সময় ধান বিক্রি করে চলেছে খাদ্য দপ্তরের কিছু কর্মচারীকে হাতে নিয়ে। এরমধ্যে একাংশ ভালো কর্মচারী সূত্রে জানা যায় , অধিকাংশ ধানের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ রয়েছে চিট আকারের । যা ধানের গুণগতমান একেবারে ভালো নয়। অন্যদিকে খাদ্য দপ্তরের এক সোমা নামে সরকারি কর্মী প্রতিনিয়ত ধানের গোটা বিষয় নিয়ে দেখাশুনার দায়িত্বে থাকলেও বর্তমানে একেবারে দায়সারা ভাবে কাজ করে চলেছে । অন্যদিকে আরো একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় , সুবোধ দাস নামে এক সরকারি কর্মী গত ডিসেম্বর মাসেই অবসর নিয়েছে চাকরি থেকে। কিন্তু বর্তমানে তাকে আবারো খাদ্য দপ্তরে চাকরির মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছে উদয়পুরে। কিভাবে আবারো চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হলো এই নিয়ে দপ্তরের মধ্যেই চলছে কানাঘুষা । কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে রাজ্য সরকার যখন চাইছে স্বচ্ছতা ভাবে সমস্ত কাজকর্ম করার জন্য। আর সেই দিকে অস্বচ্ছতার এক ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে মাতারবাড়ির ধান বিক্রয় কেন্দ্রে। ছুটির দিন রবিবারে ধান বিক্রির কেন্দ্র এক অস্বচ্ছতার ছাপ লক্ষ্য করা যায়। শ্রমিকদের জন্য নেই পানীয় জলের কোন ব্যবস্থা। অন্যদিকে মাতাবাড়ি কৃষি মহকুমা কোন আধিকারিক কে দেখা যায়নি ধান বিক্রয় কেন্দ্রের সামনে। দপ্তরের বিশ্বস্ত সূত্রের খবর গত ৬ দিনে ১০৬০ মেট্রিক টন ধান এখনো পর্যন্ত কেনা হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে গুণগত মান কতটুকু সঠিক রয়েছে তার বিচার করার কোন ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না মাতার বাড়ি ধান বিক্রয় কেন্দ্র। আগামী দিন কতটুকু স্বচ্ছতা বজায় রাখবে কৃষি দপ্তর থেকে শুরু করে খাদ্য ও জনসংভরণ দপ্তর । এই নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন ?