প্রতিনিধি , উদয়পুর :- গত বুধবার সন্ধ্যা রাতে দক্ষিণ মাতারবাড়ি এলাকার বাসিন্দা কাজল পালের মোটর বাইক চুরি হয়ে যায় নিজ বাড়ির উঠোন থেকে। ঘটনার বিবরণে জানা যায় , বুধবার দুপুরে নিজের কর্মস্থল থেকে কাজল পাল নিজ বাড়িতে দুপুরের খাওয়া দাওয়া করার জন্য বাইক নিয়ে বাড়িতে আসে। পরবর্তী সময় নিজ অফিসের কর্মচারীদের সাথে অটো করে বাড়িতে বাইক রেখে পুনরায় কর্মস্থলে যোগ দেয়। পরবর্তী সময় সন্ধ্যা ঘনিয়ে বাড়িতে আসার সাথে সাথেই সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ দেখতে পাই বাড়ির উঠোন থেকে টিআর ০৩ এল ৮৪৭৮ নাম্বারের মোটর বাইকটি চুরি হয়ে যায়। সাথে সাথে মোটরবাইকটিকে খুঁজে বের করার জন্য কাজল ও তার গোটা পরিবার বের হয় এলাকায়। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে বাইকটি সম্পূর্ণভাবে উধাও করে নিয়ে যায় চোরের দল। কাজল সাংবাদিকদের জানান , রাত আটটা নাগাদ রাধাকিশোরপুর থানায় বাইকের নাম্বার এবং রেজিস্ট্রেশন দিয়ে একটি চুরির মামলা দায়ের করা হয়। গত তিনদিন পার হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত বাইকটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি পুলিশ । পুলিশ মামলা হাতে পেয়ে চুরির ঘটনা তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। চুরির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণ মাতার বাড়ি জুড়ে।
admin
প্রতিনিধি, উদয়পুর :-বিগত ২৫ বছরের রাম শাসনে রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে কখনো বিধানসভা নির্বাচন আবার কখনো লোকসভা নির্বাচনের বৈতরণী পাড় হয়েছিল বামেরা । কিন্তু উন্নয়ন যেন রাস্তায় হারিয়েছিল সেই সময় তা বর্তমানে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে রাস্তার বেহাল অবস্থা চিত্র। বর্তমান সরকারের বিধায়ক অভিষেক দেবরায় মাতাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে জয় লাভ করার পর এই বিধানসভার বিভিন্ন রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে জনগণের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এবার নিজ বিধানসভার গর্জি শুকনাছড়া এলাকার জনগণের দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল এই এলাকার জনগণের চলাফেরার কাঁচা রাস্তাটি সংস্কার করে পাকা রাস্তায় রূপান্তরিত করার জন্য । জনগণের দাবি মেনে দপ্তরের আধিকারিক এবং এলাকার জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট রাস্তাটি সরজমিনে পরিদর্শন করেন মাতারবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের শাসকদলের বিধায়ক অভিষেক দেবরায়। ঘুরে দেখেন এলাকার কাঁচা রাস্তাটি । দপ্তরের আধিকারিকদের সাথে কথা বলে বিধায়ক আশ্বস্ত করেন আগামী দিনে এই রাস্তা খুব সহসায় এক উন্নয়নের নতুন চিত্র হয়ে উঠবে বলে তিনি গ্রামবাসীদের কে আশ্বস্ত করেছেন। যেভাবে রাজ্য সরকার চাইছে গোটা রাজ্যকে সুন্দরভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক দল প্রায়ই সেই মাতারবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে মানুষকে ভুল বুঝে চলছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন বিধায়ক অভিষেক দেবরায় ।
রাইমাভ্যালীতে তিপ্রা মথা ও কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন, বিজেপিতে যোগ দিলেন ৫০ জন ভোটার
প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া ২১ মার্চ:- রাইমাভ্যালীতে তিপ্রা মথা ও কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। শুক্রবার ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাইমাভ্যালী মন্ডল কমিটির উদ্যোগে এক যোগদান সভার আয়োজন করা হয়। সভায় তিপ্রা মথা গন্ডাছড়া মহকুমা কমিটির প্রাক্তন সভাপতি মাইধ্যম রাম রিয়াং এবং রাইমাভ্যালী ব্লক কংগ্রেস কমিটির সহসভাপতি খগেন্দ্র ত্রিপুরার নেতৃত্বে তিপ্রা মথা, কংগ্রেস এবং সিপিএম দল ত্যাগ করে ১৬ পরিবারের ৫০ জন ভোটার বিজেপিতে যোগদান করেন। নবাগতদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন রাইমাভ্যালী মন্ডল সভাপতি ধন্য মানিক ত্রিপুরা।
এই যোগদান সভায় বিজেপির বিভিন্ন শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিজেপি প্রদেশ কমিটির সম্পাদক তথা ৮ নং গঙ্গানগর-গন্ডাছড়া কেন্দ্রের এমডিসি ভূমিকানন্দ রিয়াং, ধলাই জেলা সভাপতি পতিরাম ত্রিপুরা, সহ-সভাপতি বিকাশ চাকমা, কৃষাণ মোর্চার রাজ্য কমিটির সদস্য গোপাল সরকারসহ মন্ডল ও বিভিন্ন মোর্চার নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপির ধলাই জেলা সভাপতি পতিরাম ত্রিপুরা বলেন, “শুক্রবার রাইমাভ্যালী মন্ডলে নারায়ণপুর বাজারে আরও বড় একটি যোগদান সভা আয়োজন করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তিপ্রা মথা ছাত্র সংগঠনের ডাকা রাজ্যব্যাপী ধর্মঘটের কারণে সেই সভাটি বাতিল করতে হয়েছে। তবে আগামী দিনে রাইমাভ্যালী মন্ডলে আরও বড় পরিসরে যোগদান কর্মসূচি চলবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার নেতৃত্বে সারা দেশ ও রাজ্যে উন্নয়নের যে জোয়ার বইছে, তাতে সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দলের নেতারাও আকৃষ্ট হচ্ছেন এবং বিজেপিতে যোগদান করছেন। উন্নয়ন ও সুশাসনের স্বার্থেই মানুষ বিজেপির ওপর আস্থা রাখছে।”
সদ্য বিজেপিতে যোগদানকারী মাইধ্যম রাম রিয়াং তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, “২০১৮ সাল থেকে তিনি তিপ্রা মথা গন্ডাছড়া মহকুমা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। বলা যায়, তার হাত ধরেই গন্ডাছড়ায় তিপ্রা মথার প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাইমাভ্যালী কেন্দ্রে দলের প্রার্থীকে জয়ী করার ক্ষেত্রে তার অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি।”
তবে, এত বছর ধরে দলের জন্য কাজ করার পরও বর্তমানে তিনি কোনো গুরুত্ব পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন। “আমাকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হচ্ছে না। তিপ্রা মথার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নেই, দল পরিচালনায় বিশৃঙ্খলা চলছে,”—বলেন তিনি। এসব কারণেই তিনি তিপ্রা মথা ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
অন্যদিকে, রাইমাভ্যালী ব্লক কংগ্রেসের সহসভাপতি খগেন্দ্র ত্রিপুরা, যিনি এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তিনি বলেন, “২০১৪ সালে আমি বিজেপির রাইমাভ্যালী মন্ডলের মন্ডল সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলাম। তবে ২০১৬ সালে কিছু ব্যক্তিগত কারণে দলীয় কার্যক্রম থেকে বিরত থাকি। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে কংগ্রেসে যোগদান করি এবং রাইমাভ্যালী ব্লক কংগ্রেসের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করি।”
কিন্তু কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নেই দাবি করে তিনি বলেন, “কংগ্রেস কখনোই আবার ক্ষমতায় আসতে পারবে না। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশ শান্তি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। উগ্রপন্থী কার্যকলাপ এখন প্রায় নেই বললেই চলে। তাই মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করছে।”
খগেন্দ্র ত্রিপুরা আরও বলেন, “আগামী দিনে তিপ্রা মথা, আইপিএফটি, সিপিএম ও কংগ্রেস দল ছেড়ে হাজার হাজার ভোটার বিজেপিতে যোগ দেবেন। কারণ মানুষ উন্নয়ন ও শান্তি চায়।”
এই যোগদান সভাকে ঘিরে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের বিপুল উচ্ছ্বাস দেখা যায়। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব মনে করছেন, রাইমাভ্যালীতে এভাবে একের পর এক বিরোধী দলের নেতা-কর্মী বিজেপিতে যোগ দিলে দলের সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে এবং আগামী নির্বাচনে বিজেপির অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।
রাইমাভ্যালীতে তিপ্রা মথা ও কংগ্রেসের বড়সড় ভাঙন বিজেপির রাজনৈতিক শক্তি আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের বিজেপিতে যোগদান এ অঞ্চলে দলের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে। বিজেপির নেতৃত্বরা আশাবাদী যে ভবিষ্যতে আরও বিশাল সংখ্যক কর্মী ও সাধারণ মানুষ বিজেপিতে যোগ দেবেন, যা দলকে আরও শক্তিশালী করবে।
- প্রতিনিধি, বিশালগড় , ২০ মার্চ।। আসাম রাজ্যের গোয়ালপাড়ায় আয়োজিত মহিলা ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অংশ নিতে রাজ্য ত্যাগ করেছেন সিপাহীজলা প্লে সেন্টারের মেয়েরা। আগামী ২৩ শে মার্চ থেকে শুরু হবে টুর্নামেন্ট। ২৬ শে মার্চ ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। মেয়েদের এই টুর্নামেন্টে দিল্লি, শিলিগুড়ি, কলকাতা সহ ছয়টি দল অংশ নিয়েছে। ত্রিপুরা রাজ্য থেকে সিপাহীজলা প্লে সেন্টার এই টুর্নামেন্ট অংশ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার ট্রেনে আসামের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে সিপাহীজলা প্লে সেন্টারের ক্রিকেটাররা। দলের কোচ সৈকত লস্কর, ম্যানেজার সুকান্ত ঘোষ এবং সুপ্রভা সরকার ক্রিকেট টিমকে নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রওনা দিয়েছেন। এদিন বিকালে রাজ্যের বাইরে অংশ নিতে যাওয়া ক্রিকেটারদের শুভেচ্ছা জানান বিশালগড়ের বিধায়ক সুশান্ত দেব। তিনি বলেন নেশা মুক্ত সমাজ গড়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে খেলাধুলা। এক্ষেত্রে সিপাহীজলা প্লে সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
গন্ডাছড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে “জেন্ডার সেন্সিটাইজেশন ও বয়সন্ধিকালীন সচেতনতা” বিষয়ক সেমিনার
প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া :- গন্ডাছড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে মঙ্গলবার “জেন্ডার সেন্সিটাইজেশন ও বয়সন্ধিকালীন সচেতনতা” বিষয়ক একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এদিন বিদ্যালয়ের এন এস এস ইউনিটের উদ্যোগে বিদ্যালয়ের স্মার্ট ক্লাসরুমে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহাকুমা হাসপাতালের এডোলোসেন্স কাউন্সিলর সবিতা ত্রিপুরা।
সেমিনারে প্রধান বক্তা সবিতা ত্রিপুরা শিক্ষার্থীদের বয়সন্ধিকালের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বয়সন্ধি পর্যায়ে সঠিক জীবনযাপন ও সুস্থ মানসিক বিকাশের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি, তিনি নেশার কুঅভ্যাস ও তার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করেন। বর্তমান সমাজে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ধূমপান, মাদকাসক্তি ও অন্যান্য ক্ষতিকর অভ্যাস বৃদ্ধি পাওয়ায়, এ বিষয়ে আগেভাগেই সচেতন হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়াও, অল্প বয়সে বিয়ের কুফল সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়। তিনি ছাত্রীদের জানান, অল্প বয়সে বিয়ে করলে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে, পাশাপাশি শিক্ষার সুযোগ কমে যায় এবং আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ সংকুচিত হয়ে যায়। তাই এ ধরনের সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করেন।
বিদ্যালয়ের এন এস এস ইউনিট সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত বিভিন্ন সেমিনার, কর্মসূচি ও কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যসূচির বাইরেও সমাজের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। এন এস এস ইউনিটের কার্যক্রম শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিকাশেই নয়, বরং তাদের সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতেও সহায়ক হচ্ছে।
এন এস এস প্রোগ্রাম অফিসার ভাস্কর ঘোষ সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “আমাদের ইউনিট নারী ক্ষমতায়ণের লক্ষ্যে ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরি করতে পারলেই আমরা ভবিষ্যতে একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবো।”
এই ধরনের সেমিনার শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কেবল তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করে না, বরং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে। বিদ্যালয়ের এন এস এস ইউনিটের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।
তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধি : ২০১৮ সালে আমার সাধারণ মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি ছিল যে মানুষের সার্বিক প্রয়োজনে নির্বাচিত সরকার কাজ করবে। প্রতিশ্রুতিকে সামনে রেখে নিরন্তর ভাবে কাজ করে চলেছে সরকার। এর ফলেই বর্তমানে করইলং, বড়লুঙ্গা শিবির ,ঘনিয়া মারা, বিবেকানন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের চার ,পাঁচ এবং ছ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার সাধারণ মানুষের যোগাযোগের উন্নয়নের জন্য জাতীয় সড়ক সন্নিহিত ছড়ার উপরে 49 লক্ষ টাকা খরচ করে ব্রিজ তৈরি হচ্ছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই ব্রিজ তৈরি হয়ে গেলে এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার মান যেমন উন্নয়ন হবে ,ঠিক একই রকম ভাবে গোটা এলাকার আর্থ সামাজিক ব্যবস্থার মান বিকশিত হবে। কথাগুলোর বক্তা তেলিয়ামুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়িকা কল্যাণী সাহা রায়। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন তেলিয়ামুড়াতে জাতীয় সড়ক সন্নিহিত ছড়ার উপরে নবনির্মিত ব্রিজ পরিদর্শন করতে আজ বিধায়িকার নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল সংশ্লিষ্ট জায়গা সফর করেন।সঙ্গে অন্যান্য দের মধ্যে ছিলেন তেলিয়ামুড়া মণ্ডলের সভাপতি অচিন্ত ভট্টাচার্যী, কো অপারেটিভ সোসাইটির চেয়ারম্যান নিতিন কুমার সাহা, সমাজ সেবক নন্দন রায়।এই সফরকালে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলতে গিয়ে উপরে উল্লেখিত কথাগুলো বলার পাশাপাশি বিধায়ীকা আরো বলেন, এই সময়ের মধ্যে সরকার সাধারণ মানুষের উন্নয়নের জন্ নিরন্তর ভাবে কাজ করে চলেছে সরকার। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন দীর্ঘদিন ধরেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় সেতুর দাবি ছিল এলাকাবাসীদের। তবে দীর্ঘদিন ধরে দাবি উপেক্ষিত থাকলেও এই সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে থাকায় খুশির ঝলক এলাকাবাসীদের চেহারায়। আজকে সেতুর কাজের অগ্রগতি দেখতে বিধায়িকা সপার্ষদ গেলে স্থানীয় বহু মানুষ এসে জড়ো হন এবং এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের এই দাবীটিকে বাস্তবায়িত করার জন্য বিধায় কাকে ধন্যবাদ জানান।
প্রতিনিধি, উদয়পুর :-এবার শুকনো গাঁজা পাচার করতে গিয়ে রেল পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেন এইচডিএফসি ব্যাংকের জীবন বিমায় কাজ করা এক ব্যক্তি । ধৃত ব্যক্তির নাম অমিত দেবরায় । তার বাড়ি আগরতলা বাধারঘাট এলাকায় । ঘটনার বিবরণে জানা যায় , রবিবার সকালে উদয়পুর রেল স্টেশনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলো অমিত। তখন রেল পুলিশের সন্দেহ দানাবাদে । সাথে সাথেই অমিতকে ঘিরে ধরে রেল পুলিশকর্মীরা। তার কাছে তল্লাশি চালিয়ে একটি কালো রঙের ব্যাগ থেকে শুকনো গাঁজার প্যাকেট উদ্ধার করে রেল পুলিশ । পরে খবর দেওয়া হয় রাধা কিশোরপুর থানায় । ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে তাকে জোর জিজ্ঞাসাবাদ করে। জানা যায় এই গাঁজা গুলি নিয়ে বহি:রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে যাওয়ার কথা ছিল অমিত দেব রায়ের । পুলিশ জানিয়েছে , অমিতের কাছ থেকে মোট ৬ কেজি শুকনো গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে । এই ঘটনা সাথে আর কোন ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কিনা এবং কত বছর ধরে গাঁজা পাচারের ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে অমিত ? এই বিষয়ে তাকে থানায় আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রবিবার সকালে উদয়পুর রেল স্টেশনে গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মাতাবাড়ি এলাকা জুড়ে ।
প্রতিনিধি, তেলিয়ামুড়া। ১৫ই মার্চ।গত ১১ই মার্চ ২০২৫ তারিখে তেলিয়ামুড়া থানাধিন গর্জনতলি হদ্রাই পাড়া, তেলিয়ামুড়াতে একটি নিরীহ কুকুরকে চরম নিষ্ঠুরতার একটি কাজ সংঘটিত করে। বিশ্বপখা জামাতিয়া ওরফে বাদরহরি কুকুরটি মারা যাওয়া পর্যন্ত (অত্যাচার করে) কয়েকবার পিটিয়ে একটি কুকুরকে নির্মমভাবে হত্যা করতে দেখা গেছে। এই কাজটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিওর মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করা হয়েছিল যা 11 ই মার্চ 2025-এ আপলোড করা হয়েছিল। তারই পরিচিত ব্যক্তি বুচুক জামটিয়া একই স্থানের তেলিয়ামুড়ার বাসিন্দা।
এর পরই বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে দেখাযায়। তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ অভিযুক্ত কে আটক করার জন্য চেষ্টা শুরুকরে। পাশাপাশি তিপ্রামথা দলের সুপ্রিমো প্রদ্যুত কিশোর ও সামাজিক মাধ্যমে সোচ্চার হন। পাশাপাশি পশ্চিম থানায় একটি মামলাও করেছিলেন। এদিকে তেলিয়ামুড়া থানার ও সি রাজীব দেবনাথও লুকিয়ে থাকা অভিযুক্তকে আটক করার জন্য একটি টিম নিয়োজিত করেন।
অবশেষে শনিবার দুপুর আনুমানিক ১২ টা নাগাদ নৃসংশভাবে একটি নিরিহ প্রানী কে হত্যার অভিযুক্ত বিশ্বপখা জমাতিয়া ওরফে বসদরহরিকে আটক করতে সক্ষম হয় ও সি রাজীব দেবনাথ এর টিম। এব্যপারে তেলিয়ামুড়া থানার ও সি রাজীব দেবনাথ জানান শনিবার অভিযুক্তকে এরেস্ট করাহয়। অভিযুক্ত বিশ্বপখা জমাতিয়া ওরফে বাদরহরিকে কে আগামীকাল খোয়াই আদালতে সোপর্দ করা হবে।
প্রতিনিধি কৈলাসহর:-কমিউনিটি সার্ভিস এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসাবে আসাম রাইফেলস ১৪ ই মার্চ উনাকোটি জেলার রাধানগরে হোলি উপলক্ষে একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে।এই উদ্যোগটি সামাজিক অবদান রেখে উদ্ভাবনী ও প্রভাবশালী উপায়ে উৎসব উদযাপন করার লক্ষ্য নিয়েছিল।
এই শিবিরটি আসাম রাইফেলস কর্মীদের কাছ থেকে উৎসাহী অংশগ্রহণের সাক্ষী ছিল।যারা স্বেচ্ছায় রক্ত দান করেছিলেন মানবিক কারণে তাদের এই উৎসর্গকে আরও শক্তিশালী করে।অনুষ্ঠানের সময় সংগৃহীত রক্তকে জীবন রক্ষাকারী সংক্রমণের প্রয়োজনে রোগীদের সমর্থন করার জন্য ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়।এই মহৎ উদ্যোগটি কেবল আসাম রাইফেলস এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বন্ধনকে শক্তিশালী করে না স্বেচ্ছাসেবীদের রক্তদানের গুরুত্বকেও জোর দেওয়া হয়েছে।এই জাতীয় অর্থবহ কাজের মাধ্যমে হোলিকে উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে,আসাম রাইফেলস সমাজের মঙ্গল সম্পর্কে নিঃস্বার্থ সেবা এবং প্রতিশ্রুতির একটি উদাহরণ স্থাপন করে চলেছে।যা সকলের কাছেই প্রশংসিত হয়েছে।
প্রতিনিধি, তেলিয়ামুড়া। ১৪ই মার্চ। রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো,রাজ্য কে নেশা মুক্ত করা। রাজ্য সরকারের এই উদ্দেশ্যকে বাস্তব রূপ দিতে রাজ্য পুলিশ প্রতিনিয়ত নেশার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সফল হচ্ছে রাজ্য পুলিশ। নেশার বিরুদ্ধে এই অভিযানে আজ আবারো বড় ধরনের সফলতা পেল পুলিশ।আজ তেলিয়ামুড়ায় বিপুল পরিমাণে অবৈধ ড্রাগস বা নেশা সামগ্রী সহ সুমন দেবনাথ নামে এক যুবককে আটক করতে সক্ষম হয়েছে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ, সেই সাথে সাথে ধৃত সুমনের সাথে থাকা নম্বরবিহীন স্কুটি পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে।
গোটা বিষয় নিয়ে তেলিয়ামুড়া থানার ওসি রাজিব দেবনাথ জানান বিশ্বস্ত সূত্র মারফত খবরের ভিত্তিতে তেলিয়ামুড়া থানার অন্তর্গত মহারানীপুর এলাকায় বিশেষ নজরদারি অভিযানের মধ্য দিয়ে এই সফলতা আসে। পুলিশ জানিয়েছে সুমন যখন তার নম্বর বিহীন স্কুটি নিয়ে আসছিল তখন তার স্কুটিকে আটক করে তল্লাশি চালালে স্কুটির ভেতরে রাখা দুই শতাধিক ভায়েলের মধ্যে অবৈধ নেশা সামগ্রী পাওয়া যায়। ওসি শ্রী দেবনাথ আরো জানান ধৃত সুমনকে খোয়াই আদালতে প্রেরণ করার পর পুলিশ রিমান্ডে এনে পরবর্তী তদন্ত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
এদিকে যেভাবে গোটা তেলিয়ামুড়া শহর সহ সন্নিহিত এলাকায় এই সময়ের মধ্যে অবৈধ নেশার রমরমা বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে তার পরিপ্রেক্ষিতে এই আটক নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।