Home » স্বাধীনতার সাতাত্তর বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় তিনটি পরিবার।

স্বাধীনতার সাতাত্তর বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় তিনটি পরিবার।

by admin
  • চুরাইবাড়ি প্রতিনিধি ,২৪ মার্চ।।দেশ স্বাধীনের সাতাত্তর বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত বিদ্যুতের ছোঁয়া পায়নি উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগর মহকুমার কদমতলা ব্লকাধীন সরসপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তিন নম্বর ওয়ার্ডের তিনটি পরিবার। তার মাঝে একটি পরিবার বাড়ি ফেলে অন্যত্র চলে গেছে।বর্তমান বিজেপি জোট সরকারের নেতা মন্ত্রীরা বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে মুখ ভর্তি ভাষণ রাখেন।কিন্তু বাস্তবে গ্রামাঞ্চলে এখনো সাধারণ মানুষ বিদ্যুতের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত তার নমুনা সরসপুর গ্রামের তিন নম্বর ওয়ার্ড।স্থানীয় ওয়ার্ডের শ্যামল কুমার পাল(মৃত পুলিন বিহারী পাল) জানান,তিনি পঁয়তাল্লিশ বছর যাবত ওই গ্রামে বসবাস করে আসছেন কিন্তু আজ পর্যন্ত তার ভাগ্যে জুটেনি বিদ্যুতের ছোঁয়া।বিদ্যুৎ পেতে স্থানীয় মেম্বার,প্রধান,পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান, ভিডিও সকলের দরজায় দরজায় কড়া নাড়ালেও দিমু,দিচ্ছি,ভোট যাক,ভোট গণনা যাক এভাবে‌ বলে পার হয়ে গিয়েছে দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছর।তিনি জানান,প্রায় কুড়ি বছর তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক ও বিজেপির দলের একজন পৃষ্টা ভূমিকের দায়িত্বে থাকলেও তার ভাগ্যে জুটেনি বিদ্যুৎ পরিষেবা।একটি সরকারি ঘর পেলেও বিদ্যুতের কারণে কাঠমিস্ত্রিরা কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করছে,তাতে থমকে রয়েছে ঘরের কাজ। তিনি জানান,রাত হলে একমাত্র ভরসা ল্যাম্প।এক কথায় মাসের পনেরো দিন আমাবস্যা ও পনেরো দিন জ্যোৎস্না থাকলেও তাদের ভাগ্যে গোটা মাসই অমাবস্যার সমান। তাই বিদ্যুৎ পেতে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে করজুড়ে আবেদন জানিয়েছেন। এদিকে তার স্ত্রী বিনা রানী পাল জানান, একেতো পরিবারে আর্থিক অভাব অনটন তার উপর যুগ যুগ ধরে নেই বিদ্যুৎ পরিষেবা। তাছাড়া তারা বিজেপি দলের সক্রিয় কর্মী থাকার পরেও তাদের ভাগ্যে ঝুটেনি বিদ্যুৎ পরিষেবা।দশ থেকে পনেরো বছর পূর্বে বিদ্যুতের খুঁটি পুতে গেলেও সেই খুঁটিতে বিদ্যুতের সংযোগ আজ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তাছাড়া তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়েকে বিদ্যুতের কারণে ভালোভাবে পড়াশোনা করাতে পারেননি।মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলেও দুই ছেলে কর্মসূত্রে ব্যাঙ্গালোর থাকে।কিন্তু বিদ্যুতের অভাবে মোবাইল ব্যবহার করতে না পারায় ছেলেদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন না।তাছাড়া ছেলেরা বাড়িতে আশা তো দূরের কথা টাকা-পয়সাও পাঠায় না। অপরদিকে সুজাতা দাস শর্মা নামের ওপর এক মহিলা জানান তাদের বিদ্যুৎ যন্ত্রণার কাহিনী।তিনি জানান,বিয়ে হয়ে শ্বশুর বাড়ি আসার পর থেকে বিদ্যুতের আলো চোখে পড়েনি।তার ঘরে এক ছাত্র মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রথম শ্রেণী থেকে বর্তমানে মহাবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে।তিনিও গ্রাম পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে ব্লকের চেয়ারম্যান ও ভিডিও’র দরজায় ঘুরে প্রতিশ্রুতি ছাড়া তার ভাগ্যে জুটেনি বিদ্যুতের ছোঁয়া। তিনি আরো জানান,তপন পাল নামের অপর এক প্রতিবেশী বিদ্যুতের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে বাড়ি ফেলে অন্যত্র চলে গেছেন।তাই তিনিও বিদ্যুতের জন্য কাতর আর্জি জানিয়েছেন।এখন দেখার বিষয় বিদ্যুৎহীন ওই তিনটি পরিবারকে বিদ্যুৎ পরিষেবা পৌঁছে দিতে কতটুকু তৎপরতা দেখায় গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্লক।

You may also like

Leave a Comment