প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া ২১ মার্চ:- রাইমাভ্যালীতে তিপ্রা মথা ও কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। শুক্রবার ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাইমাভ্যালী মন্ডল কমিটির উদ্যোগে এক যোগদান সভার আয়োজন করা হয়। সভায় তিপ্রা মথা গন্ডাছড়া মহকুমা কমিটির প্রাক্তন সভাপতি মাইধ্যম রাম রিয়াং এবং রাইমাভ্যালী ব্লক কংগ্রেস কমিটির সহসভাপতি খগেন্দ্র ত্রিপুরার নেতৃত্বে তিপ্রা মথা, কংগ্রেস এবং সিপিএম দল ত্যাগ করে ১৬ পরিবারের ৫০ জন ভোটার বিজেপিতে যোগদান করেন। নবাগতদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন রাইমাভ্যালী মন্ডল সভাপতি ধন্য মানিক ত্রিপুরা।
এই যোগদান সভায় বিজেপির বিভিন্ন শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিজেপি প্রদেশ কমিটির সম্পাদক তথা ৮ নং গঙ্গানগর-গন্ডাছড়া কেন্দ্রের এমডিসি ভূমিকানন্দ রিয়াং, ধলাই জেলা সভাপতি পতিরাম ত্রিপুরা, সহ-সভাপতি বিকাশ চাকমা, কৃষাণ মোর্চার রাজ্য কমিটির সদস্য গোপাল সরকারসহ মন্ডল ও বিভিন্ন মোর্চার নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপির ধলাই জেলা সভাপতি পতিরাম ত্রিপুরা বলেন, “শুক্রবার রাইমাভ্যালী মন্ডলে নারায়ণপুর বাজারে আরও বড় একটি যোগদান সভা আয়োজন করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তিপ্রা মথা ছাত্র সংগঠনের ডাকা রাজ্যব্যাপী ধর্মঘটের কারণে সেই সভাটি বাতিল করতে হয়েছে। তবে আগামী দিনে রাইমাভ্যালী মন্ডলে আরও বড় পরিসরে যোগদান কর্মসূচি চলবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার নেতৃত্বে সারা দেশ ও রাজ্যে উন্নয়নের যে জোয়ার বইছে, তাতে সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দলের নেতারাও আকৃষ্ট হচ্ছেন এবং বিজেপিতে যোগদান করছেন। উন্নয়ন ও সুশাসনের স্বার্থেই মানুষ বিজেপির ওপর আস্থা রাখছে।”
সদ্য বিজেপিতে যোগদানকারী মাইধ্যম রাম রিয়াং তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, “২০১৮ সাল থেকে তিনি তিপ্রা মথা গন্ডাছড়া মহকুমা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। বলা যায়, তার হাত ধরেই গন্ডাছড়ায় তিপ্রা মথার প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাইমাভ্যালী কেন্দ্রে দলের প্রার্থীকে জয়ী করার ক্ষেত্রে তার অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি।”
তবে, এত বছর ধরে দলের জন্য কাজ করার পরও বর্তমানে তিনি কোনো গুরুত্ব পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন। “আমাকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হচ্ছে না। তিপ্রা মথার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নেই, দল পরিচালনায় বিশৃঙ্খলা চলছে,”—বলেন তিনি। এসব কারণেই তিনি তিপ্রা মথা ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
অন্যদিকে, রাইমাভ্যালী ব্লক কংগ্রেসের সহসভাপতি খগেন্দ্র ত্রিপুরা, যিনি এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তিনি বলেন, “২০১৪ সালে আমি বিজেপির রাইমাভ্যালী মন্ডলের মন্ডল সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলাম। তবে ২০১৬ সালে কিছু ব্যক্তিগত কারণে দলীয় কার্যক্রম থেকে বিরত থাকি। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে কংগ্রেসে যোগদান করি এবং রাইমাভ্যালী ব্লক কংগ্রেসের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করি।”
কিন্তু কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নেই দাবি করে তিনি বলেন, “কংগ্রেস কখনোই আবার ক্ষমতায় আসতে পারবে না। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশ শান্তি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। উগ্রপন্থী কার্যকলাপ এখন প্রায় নেই বললেই চলে। তাই মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করছে।”
খগেন্দ্র ত্রিপুরা আরও বলেন, “আগামী দিনে তিপ্রা মথা, আইপিএফটি, সিপিএম ও কংগ্রেস দল ছেড়ে হাজার হাজার ভোটার বিজেপিতে যোগ দেবেন। কারণ মানুষ উন্নয়ন ও শান্তি চায়।”
এই যোগদান সভাকে ঘিরে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের বিপুল উচ্ছ্বাস দেখা যায়। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব মনে করছেন, রাইমাভ্যালীতে এভাবে একের পর এক বিরোধী দলের নেতা-কর্মী বিজেপিতে যোগ দিলে দলের সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে এবং আগামী নির্বাচনে বিজেপির অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।
রাইমাভ্যালীতে তিপ্রা মথা ও কংগ্রেসের বড়সড় ভাঙন বিজেপির রাজনৈতিক শক্তি আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের বিজেপিতে যোগদান এ অঞ্চলে দলের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে। বিজেপির নেতৃত্বরা আশাবাদী যে ভবিষ্যতে আরও বিশাল সংখ্যক কর্মী ও সাধারণ মানুষ বিজেপিতে যোগ দেবেন, যা দলকে আরও শক্তিশালী করবে।
রাইমাভ্যালীতে তিপ্রা মথা ও কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন, বিজেপিতে যোগ দিলেন ৫০ জন ভোটার
135
previous post