প্রতিনিধি। তেলিয়ামুড়া।। প্রায় প্রতিনিয়ত রাজ্যের বিভিন্ন রেল স্টেশন গুলো ব্যবহার করে গাঁজাসহ অবৈধ নেশা সামগ্রী পাচারের ঘটনাগুলো সামনে আসছে। একই রকম ভাবে আজ গোপন খবরের ভিত্তিতে তেলিয়ামুড়া রেলস্টেশন চত্বরে অভিযান সংঘটিত করে অভিনব কায়দায় গাজা পাঁচার কান্ডের সাথে জড়িত এক জনজাতি যুবককে গ্রেফতার করা হয় এবং প্রায় ৫০ কেজি শুকনা গাজা বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ পুলিশ যখন তেলিয়ামুড়া রেলস্টেশনে দেওঘর এক্সপ্রেস আসার আগেই এমবুস করে বসে থাকে ঠিক তখনই কেতার দেববর্মা (যার বাড়ি তেলিয়ামুড়া থানার অন্তর্গত দাশুচন্দ্র পাড়া) সহ আরো বেশ কয়েকজন যুবক রেলস্টেশন সংলগ্ন ধানক্ষেত দিয়ে দুইটা ব্যাগ নিয়ে আসছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একটা ব্যাগ ফেলে, আরেকটা ব্যাগ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল তবে পুলিশ ক্ষীপ্রতার সাথেই ক্যাথারকে আটক করতে সক্ষম হয়। যদিও একটা সময় কেথার পুলিশকে আক্রমণ করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এরপর যথারীতি পুলিশ জঙ্গলে ফেলে রাখা ব্যাগ এবং ক্যাথার এর সাথে থাকা আরেকটা ব্যাগ তল্লাশি করে ২৫ টা প্যাকেটে থাকা মোট ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এদিকে ধৃত যুবক দাবী করেছে কাঠালিয়া এলাকার জনৈক রাহুল দেববর্মা গাজা গুলো পাচারের জন্য তার কাছে গাড়ি করে দিয়ে গেছে এবং সংশ্লিষ্ট রেলে বিহারের জনৈক পাচারকারী রয়েছে যার কিনা টর্চ লাইট দিয়ে সিগন্যালের মাধ্যমে এই গাজা গুলো নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
স্বাভাবিকভাবেই এইভাবে ফিল্মি কায়দায় গাঁজা পাচারের ঘটনা সামনে আসার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং এইভাবে গাজা পাচার গুলোর পেছনে যে বড়সড়ো নেটওয়ার্ক কাজ করছে তা কিন্তু হলফ করে বলা যায়।
দেশ
- চুরাইবাড়ি প্রতিনিধি ,২৪ মার্চ।।দেশ স্বাধীনের সাতাত্তর বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত বিদ্যুতের ছোঁয়া পায়নি উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগর মহকুমার কদমতলা ব্লকাধীন সরসপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তিন নম্বর ওয়ার্ডের তিনটি পরিবার। তার মাঝে একটি পরিবার বাড়ি ফেলে অন্যত্র চলে গেছে।বর্তমান বিজেপি জোট সরকারের নেতা মন্ত্রীরা বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে মুখ ভর্তি ভাষণ রাখেন।কিন্তু বাস্তবে গ্রামাঞ্চলে এখনো সাধারণ মানুষ বিদ্যুতের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত তার নমুনা সরসপুর গ্রামের তিন নম্বর ওয়ার্ড।স্থানীয় ওয়ার্ডের শ্যামল কুমার পাল(মৃত পুলিন বিহারী পাল) জানান,তিনি পঁয়তাল্লিশ বছর যাবত ওই গ্রামে বসবাস করে আসছেন কিন্তু আজ পর্যন্ত তার ভাগ্যে জুটেনি বিদ্যুতের ছোঁয়া।বিদ্যুৎ পেতে স্থানীয় মেম্বার,প্রধান,পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান, ভিডিও সকলের দরজায় দরজায় কড়া নাড়ালেও দিমু,দিচ্ছি,ভোট যাক,ভোট গণনা যাক এভাবে বলে পার হয়ে গিয়েছে দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছর।তিনি জানান,প্রায় কুড়ি বছর তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক ও বিজেপির দলের একজন পৃষ্টা ভূমিকের দায়িত্বে থাকলেও তার ভাগ্যে জুটেনি বিদ্যুৎ পরিষেবা।একটি সরকারি ঘর পেলেও বিদ্যুতের কারণে কাঠমিস্ত্রিরা কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করছে,তাতে থমকে রয়েছে ঘরের কাজ। তিনি জানান,রাত হলে একমাত্র ভরসা ল্যাম্প।এক কথায় মাসের পনেরো দিন আমাবস্যা ও পনেরো দিন জ্যোৎস্না থাকলেও তাদের ভাগ্যে গোটা মাসই অমাবস্যার সমান। তাই বিদ্যুৎ পেতে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে করজুড়ে আবেদন জানিয়েছেন। এদিকে তার স্ত্রী বিনা রানী পাল জানান, একেতো পরিবারে আর্থিক অভাব অনটন তার উপর যুগ যুগ ধরে নেই বিদ্যুৎ পরিষেবা। তাছাড়া তারা বিজেপি দলের সক্রিয় কর্মী থাকার পরেও তাদের ভাগ্যে ঝুটেনি বিদ্যুৎ পরিষেবা।দশ থেকে পনেরো বছর পূর্বে বিদ্যুতের খুঁটি পুতে গেলেও সেই খুঁটিতে বিদ্যুতের সংযোগ আজ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তাছাড়া তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়েকে বিদ্যুতের কারণে ভালোভাবে পড়াশোনা করাতে পারেননি।মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলেও দুই ছেলে কর্মসূত্রে ব্যাঙ্গালোর থাকে।কিন্তু বিদ্যুতের অভাবে মোবাইল ব্যবহার করতে না পারায় ছেলেদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন না।তাছাড়া ছেলেরা বাড়িতে আশা তো দূরের কথা টাকা-পয়সাও পাঠায় না। অপরদিকে সুজাতা দাস শর্মা নামের ওপর এক মহিলা জানান তাদের বিদ্যুৎ যন্ত্রণার কাহিনী।তিনি জানান,বিয়ে হয়ে শ্বশুর বাড়ি আসার পর থেকে বিদ্যুতের আলো চোখে পড়েনি।তার ঘরে এক ছাত্র মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রথম শ্রেণী থেকে বর্তমানে মহাবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে।তিনিও গ্রাম পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে ব্লকের চেয়ারম্যান ও ভিডিও’র দরজায় ঘুরে প্রতিশ্রুতি ছাড়া তার ভাগ্যে জুটেনি বিদ্যুতের ছোঁয়া। তিনি আরো জানান,তপন পাল নামের অপর এক প্রতিবেশী বিদ্যুতের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে বাড়ি ফেলে অন্যত্র চলে গেছেন।তাই তিনিও বিদ্যুতের জন্য কাতর আর্জি জানিয়েছেন।এখন দেখার বিষয় বিদ্যুৎহীন ওই তিনটি পরিবারকে বিদ্যুৎ পরিষেবা পৌঁছে দিতে কতটুকু তৎপরতা দেখায় গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্লক।
তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধি : ২০১৮ সালে আমার সাধারণ মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি ছিল যে মানুষের সার্বিক প্রয়োজনে নির্বাচিত সরকার কাজ করবে। প্রতিশ্রুতিকে সামনে রেখে নিরন্তর ভাবে কাজ করে চলেছে সরকার। এর ফলেই বর্তমানে করইলং, বড়লুঙ্গা শিবির ,ঘনিয়া মারা, বিবেকানন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের চার ,পাঁচ এবং ছ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার সাধারণ মানুষের যোগাযোগের উন্নয়নের জন্য জাতীয় সড়ক সন্নিহিত ছড়ার উপরে 49 লক্ষ টাকা খরচ করে ব্রিজ তৈরি হচ্ছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই ব্রিজ তৈরি হয়ে গেলে এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার মান যেমন উন্নয়ন হবে ,ঠিক একই রকম ভাবে গোটা এলাকার আর্থ সামাজিক ব্যবস্থার মান বিকশিত হবে। কথাগুলোর বক্তা তেলিয়ামুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়িকা কল্যাণী সাহা রায়। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন তেলিয়ামুড়াতে জাতীয় সড়ক সন্নিহিত ছড়ার উপরে নবনির্মিত ব্রিজ পরিদর্শন করতে আজ বিধায়িকার নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল সংশ্লিষ্ট জায়গা সফর করেন।সঙ্গে অন্যান্য দের মধ্যে ছিলেন তেলিয়ামুড়া মণ্ডলের সভাপতি অচিন্ত ভট্টাচার্যী, কো অপারেটিভ সোসাইটির চেয়ারম্যান নিতিন কুমার সাহা, সমাজ সেবক নন্দন রায়।এই সফরকালে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলতে গিয়ে উপরে উল্লেখিত কথাগুলো বলার পাশাপাশি বিধায়ীকা আরো বলেন, এই সময়ের মধ্যে সরকার সাধারণ মানুষের উন্নয়নের জন্ নিরন্তর ভাবে কাজ করে চলেছে সরকার। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন দীর্ঘদিন ধরেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় সেতুর দাবি ছিল এলাকাবাসীদের। তবে দীর্ঘদিন ধরে দাবি উপেক্ষিত থাকলেও এই সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে থাকায় খুশির ঝলক এলাকাবাসীদের চেহারায়। আজকে সেতুর কাজের অগ্রগতি দেখতে বিধায়িকা সপার্ষদ গেলে স্থানীয় বহু মানুষ এসে জড়ো হন এবং এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের এই দাবীটিকে বাস্তবায়িত করার জন্য বিধায় কাকে ধন্যবাদ জানান।
প্রতিনিধি কৈলাসহর:-কমিউনিটি সার্ভিস এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসাবে আসাম রাইফেলস ১৪ ই মার্চ উনাকোটি জেলার রাধানগরে হোলি উপলক্ষে একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে।এই উদ্যোগটি সামাজিক অবদান রেখে উদ্ভাবনী ও প্রভাবশালী উপায়ে উৎসব উদযাপন করার লক্ষ্য নিয়েছিল।
এই শিবিরটি আসাম রাইফেলস কর্মীদের কাছ থেকে উৎসাহী অংশগ্রহণের সাক্ষী ছিল।যারা স্বেচ্ছায় রক্ত দান করেছিলেন মানবিক কারণে তাদের এই উৎসর্গকে আরও শক্তিশালী করে।অনুষ্ঠানের সময় সংগৃহীত রক্তকে জীবন রক্ষাকারী সংক্রমণের প্রয়োজনে রোগীদের সমর্থন করার জন্য ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়।এই মহৎ উদ্যোগটি কেবল আসাম রাইফেলস এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বন্ধনকে শক্তিশালী করে না স্বেচ্ছাসেবীদের রক্তদানের গুরুত্বকেও জোর দেওয়া হয়েছে।এই জাতীয় অর্থবহ কাজের মাধ্যমে হোলিকে উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে,আসাম রাইফেলস সমাজের মঙ্গল সম্পর্কে নিঃস্বার্থ সেবা এবং প্রতিশ্রুতির একটি উদাহরণ স্থাপন করে চলেছে।যা সকলের কাছেই প্রশংসিত হয়েছে।
কল্যানপুরের রতিয়া দুর্গানগরের মানুষদের স্বপ্নের সেতুর কাজ অগ্রগতির তদার কি করলেন বিধায়ক পিনাকী।
প্রতিনিধি তেলিয়ামুড়া। ১৪ই মার্চ। কল্যাণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের রতিয়া, দুর্গানগর ও তার আশপাশ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল খোয়াই নদীতে পাকা সেতুর। রোতিয়া দুর্গানগর ও তার আশপাশ এলাকার মানুষ রা শীতকালে বাশের সাঁকো দিয়ে তেলিয়ামুড়া – কল্যাণপুর – খোয়াই সড়কে পৌঁছাতো। বর্ষাকালে জলের তোরে ভেসে যেত সেই সাঁকো। তারপর একমাত্র ভরসা ছিল নৌকা। এই বিস্তীর্ণ এলাকার আয়ের অন্যতম উৎস হলো কৃষিকাজ। স্বভাবতই কৃষকদের তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে সমস্যা হতো। বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের দাবি ছিল কয় নদীর উপর একটি পাকা সেতু নির্মাণ করার। ২০১৮ সালে কল্যাণপুর প্রমোদনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হয়ে এলাকার মানুষদের কথা দিয়েছিলেন, জয়ী হলে পাকা সেতু নির্মাণ করে দেবেন। গণদেবতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভুলে যাননি বর্তমান বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী। প্রতিশ্রুতি মতো ইতিমধ্যেই নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে গেছে সেতুর। কাজও অনেক দূর এগিয়ে গেছে। নির্মীয়মান সেতুর নাম দেওয়া হয়েছে সুদীন্দ্র দাশগুপ্ত স্মৃতি সেতু। আজ রতিয়া খেয়া ঘাটে সুধীন্দ্র দাসগুপ্ত স্মৃতি সেতুর নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করলেন বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী। সঙ্গে আর.ডি দপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার সহ অন্যান্য আধিকারিকদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি এবং কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। খোয়াই নদীর উপর গড়ে উঠা সেতুর দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি। বিধায়ক পরিদর্শনের সময় নির্মাণাধীন ১১০ মিটার দীর্ঘ সেতুর বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন এবং বর্ষাকালের আগেই সেতুর প্রধান কাঠামোর কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। তিনি জানান, এই সেতু চালু হলে রতিয়া সহ দূর্গাপুর সহ আশপাশের বহু মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। সেতু নির্মাণের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আর.ডি দপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার জানান, “বর্ষার আগেই সেতুর উপরের মূল নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে। আমরা চাই, বৃষ্টির মরসুম শুরু হওয়ার আগেই গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ শেষ হোক, যাতে বাকি কাজ সহজে সম্পন্ন করা যায়।” সেতুটি বহু বছর ধরে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। এ প্রসঙ্গে বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী জানান, “নৃপেন চক্রবর্তীর সময় থেকে শুরু করে মনিন্দ্র চন্দ্র দাসের বিধায়ক থাকাকালীন সময় পর্যন্ত এই সেতুর দাবি করা হয়েছিল, কিন্তু তখনকার বাম সরকার কর্ণপাত করেনি। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই প্রকল্পটি অনুমোদিত হয় এবং নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমার বিশ্বাস, দ্রুত কাজ সম্পন্ন হবে এবং সেতুটি রাজ্যের জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এলাকাবাসীর জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।” পরিদর্শন শেষে বিধায়ক ও আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সেতুর কাজ পরবর্তী ধাপে আরও দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো সমস্যা তৈরি হয়, তবে তা দ্রুত সমাধানের জন্য বিধায়ক নিজে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রতিনিধি, উদয়পুর :- দিন দুপুরে উদয়পুরে আক্রান্তের শিকার হল চারজন স্কুল পড়ুয়া ছাত্র । ঘটনা উদয়পুর জামজুরী- খিলপাড়া সড়কে । ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে স্কুল পড়ুয়া ছাত্র শুভ্রদীপ দাস জানান , বৃহস্পতিবার বিকেল চারটা নাগাদ মির্জাতে নিজেদের পুরনো বাড়ি থেকে শুভদীপ উদয়পুরে ফেরার পথে তার উপর হঠাৎ করে দুই যুবক ইট পাটকেল মারতে শুরু করে । কেন তার উপর এই ধরনের ইট পাটকেল মারা হল সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে গিয়ে এবার আক্রমণের শিকার হয়েছে শুভ্রদীপ । তার সাথে থাকা আরও তিন বন্ধু তন্ময় দাস , দ্বীপ দে ও নাহার সরকার কিছু জিজ্ঞাসা করে করতেই তাদের ওপর হামলা চালায় দুই যুবক। কোনক্রমে স্কুল পড়ুয়া ছাত্ররা রাধা কিশোরপুর থানায় নিজেদের প্রাণ নিয়ে ছুটে আসে। পরে এই ঘটনায় পুলিশকে বিস্তারিত জানানো হলে রাধা কিশোরপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উদ্দেশ্যে রওনা দেয় গোটা ঘটনার তদন্ত করার জন্য। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে এই ধরনের আক্রমণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় উদয়পুরে।
প্রতিনিধি, উদয়পুর :-
প্রতিনিয়ত ভারতের সীমান্ত পার হয়ে ভারতীয় বিএসএফের চোখে ফাঁকি দিয়ে রাজ্যে প্রবেশ করছে বাংলাদেশী নাগরিকরা । একদিকে যখন অস্থির পরিবেশ বিরাজ করছে বাংলাদেশে আর তখন রাজ্যে ঘাঁটি গেড়ে বসতে শুরু করেছে বাংলাদেশী নাগরিক। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশে যে বর্তমান অস্থির পরিবেশ চলছে তার মাঝে যেন কোন বাংলাদেশী নাগরিক সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে প্রবেশ না করতে পারে সেদিকে নজর রাখার জন্য। কিন্তু তারপরেও প্রবেশ করছে বিভিন্ন বাংলাদেশী নাগরিকরা। রবিবার রাতে রাধা কিশোরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি সমর দাসের কাছে গোপন খবর আছে উদয়পুর শালগড়া এলাকায় দুজন বাংলাদেশি যুবক ঘুরাফেরা করছে। এই ঘটনা জানতে পেরে ওসি সমর দাস শালগড়া এলাকায় ছুটে গিয়ে রাতেই তাদেরকে গ্রেপ্তার করে । পুলিশ জানায় , বাংলাদেশী নাগরিক বিশ্ব দাস ও দেবাশীষ কুমার দাসকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসার পর সোমবার দুপুরে উদয়পুর জেলা আদালতে তাদেরকে সোপর্দ করা হয়েছে । পুলিশ জানিয়েছে, রাধা কিশোরপুর থানায় মামলা নম্বর ৩৬ এবং এই দুইজন বাংলাদেশী নাগরিকের কাছ থেকে কোন ধরনের বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পুলিশ গোটা বিষয়ে তদন্ত করছে এই দুইজন বাংলাদেশী কাদের বাড়িতে এসেছিল এবং কাদের সাথে যোগাযোগ রয়েছে শালগড়া এলাকায়। বাংলাদেশ নাগরিক গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শালগড়া জুড়ে ।
প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া ২৮ ফেব্রুয়ারি:- ধলাই জেলার গন্ডাছড়া বাজারে শুক্রবার এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দ্বিতল বিশিষ্ট আধুনিক কৃষি বাজারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সরকারের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী রতন লাল নাথ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক নন্দিতা দেববর্মা রিয়াং, এমডিসি ভূমিকানন্দ রিয়াং, সমাজসেবী পতিরাম ত্রিপুরা, ধন্য মানিক ত্রিপুরা, ডুম্বুর নগর ব্লক চেয়ারম্যান প্রেম সাধন ত্রিপুরা, ভাইস চেয়ারম্যান বিকাশ চাকমা, কৃষি দপ্তরের ডিরেক্টর ড. ফনিভূষণ জমাতিয়া, গন্ডাছড়া মহকুমা শাসক চন্দ্র জয় রিয়াং, মহকুমা কৃষি তত্ত্বাবধায়ক চন্দ্র কুমার রিয়াং, গন্ডাছড়া এগ্রি স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান নকল জয় ত্রিপুরা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্ত্রী রতন লাল নাথ বলেন, রাজ্য সরকার কৃষকদের সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরে বিভিন্ন পদে প্রচুর সংখ্যক লোক নিয়োগ করা হবে। তিনি বলেন, “কোনো জমি যেন পতিত না থাকে। যদি ধান চাষ সম্ভব না হয়, তবে অন্য ফসল, ফল বা সবজি চাষ করা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার গ্রাম, গরিব ও কৃষকের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি মনে করেন, “কৃষকের উন্নতি হলেই দেশের প্রকৃত অগ্রগতি সম্ভব।”
মন্ত্রী বলেন, গন্ডাছড়া এখন আর প্রত্যন্ত এলাকা নয়। ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলে এটি এখন যেকোনো মহকুমা শহরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই নতুন কৃষি মার্কেট স্থানীয় কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানের এক আবেগঘন মুহূর্তে মন্ত্রী এক কৃষকের পা ছুঁয়ে প্রণাম জানান এবং বলেন, “কৃষকরা আমাদের অন্নদাতা, তাই তাদের যথাযথ সম্মান জানানো উচিত।”
কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের পক্ষ থেকে এদিন স্থানীয় দুইজন সুবিধাভোগীর মধ্যে দুটি পাওয়ার টিলার তুলে দেওয়া হয়। মন্ত্রী নবনির্মিত বাজারটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আহ্বান জানান, যাতে এটি দীর্ঘদিন কৃষকদের উপকারে আসে।
নতুন এই বাজারের ফলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বিক্রি করতে পারবেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হবে। এটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রতিনিধি, উদয়পুর :-
রক্ত ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। সকলের কাছে এই রক্ত হচ্ছে একটি অমূল্য সম্পদ। রক্তদানের চেয়ে বড় উপহার আর কিছু হয় না। একজন রক্তদাতার রক্তদানের মাধ্যমে একজন নয়, আরও তিন-চারজন মানুষ উপকৃত হতে পারেন। আজ উদয়পুর ত্রিপুরা সুন্দরী মহকুমা হাসপাতালে কনফারেন্স হলে অল ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের গোমতী জেলা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত জেলা ভিত্তিক কনফারেন্স কাম রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করে একথা বলেন উদয়পুর জিলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়। রক্তদান শিবিরে অতিথিরা রক্তদাতাদের সাথে মিলিত হয়ে তাদের উৎসাহ দান করেন।
রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করে সভাধিপতি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে রাজ্যের ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে রক্তের স্বল্পতা দেখা দিয়েছিল। রক্তের এই চাহিদা এবং যোগানের মধ্যে অসমতা দূর করতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন হাসপাতাল গুলিতে জনসাধারণকে রক্তদানে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানানো হয়। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে রক্তের স্বল্পতা দূর করতে রাজ্যের মানুষ যেভাবে এগিয়ে এসেছেন তা রক্তদানকে এক জনজাগরণে পরিণত করেছে। মানুষ মানুষের জন্য তা প্রমান করেছে। অল ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন গোমতী জেলা কমিটি পক্ষ থেকে আজকের দিনে এধরণের রক্তদান কর্মসূচি গ্রহণ করায় সভাধিপতি দেবল দেবরায় তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এই ধরনের উদ্যোগ আগামীদিনেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার বলেন, রক্তের কোনও ধর্ম, লিঙ্গ বা রাজনৈতিক রং হয় না। রক্তদান মনে করিয়ে দেয় আমরা সবাই এক। রক্ত যাতে কোনও ভাবে নষ্ট না হয় সেই দিকে লক্ষ্য রেখে রক্তের চাহিদা এবং যোগানের মধ্যে সমতা বজায় রাখতে হবে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, বিশিষ্ট সমাজসেবী সবিতা নাগ, উদয়পুর পৌর পরিষদের চেয়ারম্যান শীতল চন্দ্র মজুমদার, অল ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট ডক্টরস এসোসিয়েশন গোমতী ডিভিশনের সভাপতি ডক্টর বিশ্বজিৎ পাল, অর্গানিজিং সেক্রেটার ডক্টর সৌমিক চক্রবর্তী, গোমতী জেলার চিফ মেডিকেল অফিসার কমল রিয়াং, অল ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ডাঃ কনক চৌধুরী, অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. প্রদীপ কুমার দেববর্মা সহ অন্যান্যরা। অল ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট ডাক্তার এসোসিয়েশন গোমতী জেলা কমিটির মোট ৫১জন কর্মচারী আজ রক্তদান করেন। ব্যাপক উৎসাহের মধ্য দিয়ে অল ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট ডাক্তার এসোসিয়েশন গোমতী ডিভিশনের উদ্যোগে আজ এ রক্তদান শিবির কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই দিন জেলা শাখার পঞ্চম বার্ষিকী সম্মেলনে নতুন কমিটি গঠন করা হয় । সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সর্ব সম্মতি ক্রমে আগামী দুই বছরের জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হয় । নতুন কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ডাক্তার বিশ্বজিৎ পাল , সহসভাধিপতি ডক্টর জয়দ্বীপ দেববর্মা ও ডাক্তার সুকান্ত সাহা । কোষাধক্ষ্য নির্বাচিত হয়েছেন ডাক্তার সৌমিক চক্রবর্তী ও অডিটর ডঃ অজয় দাস । আগামী ৮ ই মার্চ এটি জিডিএ রাজ্য শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে এই উপলক্ষে গোটা রাজ্যেই সাংগঠনিক কর্মসূচি শুরু হয়েছে ।
প্রতিনিধি কৈলাসহর:-ত্রিপুরা রাজ্যের কর্মচারী সংঘ ঊনকোটি জেলা কমিটির উদ্যোগে আজ কৈলাসহর ঊনকোটি কলাক্ষেত্রে অনুষ্ঠিত হয় ৩য় ত্রিবার্ষিক জেলা সম্মেলন। ভারত মায়ের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ প্রদান এবং প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও শ্রমিক গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সম্মেলন পর্ব।উদ্বোধনী মঞ্চে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা সরকারের যুব বিষয়ক ক্রীড়া দপ্তর ও শ্রম দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায়।বিশেষ অতিথি ছিলেন ত্রিপুরা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের মন্ত্রী সান্তনা চাকমা।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান মবস্বর আলী,জেলা পরিষদের সদস্য তথা ভারতীয় জনতা পার্টির জেলা সভাপতি বিমল কর,পুর পরিষদের চেয়ারম্যান চপলা দেবরায়,ত্রিপুরা রাজ্য কর্মচারী সংঘের প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ বিশ্বাস,কোষাধ্যক্ষ রঞ্জন পাল,প্রদেশ সহ-সভাপতি দিলীপ ভৌমিক এবং ভারতীয় মজদুর সংঘের ঊনকোটি জেলা সভাপতি অসীম চাকমা।অনুষ্ঠান মঞ্চে সভাপতিত্ব করেন কর্মচারী নেতা প্রহ্লাদ দেবনাথ।স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক তথা নেতাজি বিদ্যাপীঠের শিক্ষক পার্থ সারথি দত্ত।বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, ২০১৮ সাল থেকে ২৫ সাল অব্দি বিকশিত ভারত নির্মাণের অঙ্গীকারে ত্রিপুরার গ্রামীণ স্তরে যোজনা এবং প্রতি ঘরে সুশাসনের বার্তা পৌঁছে দিতে সরকারি কর্মচারীরাই বড় দায়িত্ব পালন করেছেন।এই সময় অব্দি ৭০ হাজারের মধ্যে ৪০ হাজার দিব্যাঙ্গ ভাইবোনদের ইউআইডি কার্ড প্রদান করা হয়েছে।বাম আমলে কোন সরকারি ফাইল মহকুমা থেকে মন্ত্রী হয়ে ঘুরে আসতে প্রায় ছয় মাস লাগতো।আজ এক ঘণ্টার মধ্যে ডিরেক্টরেট থেকে ফাইল আসে এবং মানুষের সমস্যার সমাধান করা হয়।২০১৪ সালের পূর্বে অর্থাৎ ৬৮ বছরে সারা ভারতবর্ষে ৫৮ হাজার কিলোমিটার জাতীয় সড়ক তৈরি করা হয়।।আর ২০১৪ সালের পর থেকে সারা ভারতবর্ষে দেড় লক্ষ কিঃমিঃ জাতীয় সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।একটা সময় আর কে এই মাঠে জনসভার মাঠ ভর্তি করার জন্য বাগান শ্রমিকদের আনা হতো।অথচ তাদের মাথার উপরে ছাদ রয়েছে কিনা অন্ন,বস্ত্র,বাসস্থান রয়েছে কিনা সেদিকে বাম সরকার কখনোই চিন্তা করেনি।কারণ তাদের শোষণের মানসিকতা ছিল। আজ ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার এই সময়ের মধ্যে তিন হাজার জমির পাট্টা দিয়েছে।যার ফলে বাগিচা শ্রমিকরা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর পেয়েছে এবং শৌচালয় পেয়েছে।ওরাও আত্মনির্ভর ভারতের সমান অংশীদার হয়েছে।তিনি বলেন ২০১৪ সালের পূর্বে ভারতবর্ষে পাঁচটি রাজ্যে মেট্রোরেল ছিল।আজ এই দশ বছরে ২২টি রাজ্যে মেট্রোরেলের কাজ চলছে। এই মেট্রো রেল একটা সময় জাপানের প্রকৌশলীরা তৈরি করত,আর আজ ভারতের ছেলেমেয়েরা মেট্রো রেল তৈরি করছে এবং বিদেশে এক্সপোর্ট করছে।করোনা কারীন পরিস্থিতিতে ভারতেই ভ্যাকসিন তৈরি করা হয় এবং এই দেশীয় ভেকসিন ভারতবাসীকে দেওয়ার সাথে সাথে বিশ্বের ১০০টি দেশে বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। একটা সময় বিদেশি কোম্পানির মোবাইল ভারতে এক্সপোর্ট হতো।আজ ভারতের ছেলেমেয়েরা ভারতে তৈরি এন্ড্রয়েড মোবাইল বিদেশে এক্সপোর্ট করেছে যেখানে ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি রেভিনিউ এসেছে।সারা ভারতবর্ষে ৩৫০টিরও বেশি মেডিকেল কলেজ নির্মাণ হয়েছে এবং কিছু স্টেটে নির্মাণের কাজ চলছে।উত্তর পূর্বাঞ্চলে ২০১৪ সালের পূর্বে সাতটি বিমানবন্দর ছিল বর্তমানে ১৭ টি বিমানবন্দর রয়েছে।এই সরকার আসার পর ছয়টি জাতীয় সড়ক নতুন ভাবে তৈরি করা হয়েছে।স্বাস্থ্য পরিষেবার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আয়ুষ্মান কার্ড প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করা হচ্ছে এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। কৈলাসহর আর জি এম হাসপাতালে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট নেশা মুক্তি কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে এবং বিশ্রামগঞ্জ মহকুমায়ও এই নেশা মুক্তি কেন্দ্র হাসপাতাল তৈরির কাজ শুরু হবে।ডেন্টাল কলেজ নির্মাণের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় চার লক্ষেরও বেশি ত্রিপুরাবাসী ঘর পেয়েছে। বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী সান্তনা চাকমা বলেন রাষ্ট্র এবং সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই ভারতীয় জনতা পার্টির সরকারের মূল লক্ষ্য। সরকারের বিভিন্ন যোজনা এবং প্রকল্প গুলোকে রূপায়িত করেন কর্মচারী বন্ধুরাই।সরকারের সবকা সাত সবকা বিকাশের নীতিতে প্রায় চার লক্ষ লাখপতি দিদি হয়েছেন ত্রিপুরায়।ভারতবর্ষের অন্যান্য রাজ্যের সাথে মানুষের গড় আয় যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি ক্রমোন্নতির পথে এগিয়ে চলেছে ত্রিপুরাও।বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা সভাপতি বিমল কর জানান, কর্মচারী হিতে কাজ করে চলেছে ত্রিপুরা রাজ্য কর্মচারী সংঘ।একটা সময় শোনা যেত ভেঙে দাও,গুড়িয়ে দাও, কলকারখানা বন্ধ করে দাও। আর আজ শ্রমিক হিতে রাষ্ট্র হিতে কাজ করছে এই সংগঠন।নিয়ম নীতি মেনে যেমন চাকরি দেওয়া হচ্ছে, তেমনি সুষ্ঠু বদলি নীতির মাধ্যমে কর্মচারীরাও উপকৃত হচ্ছেন।সম্মেলনের প্রথম পর্ব শেষ হবার পর নতুন কমিটি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়। নবনিযুক্ত জেলা সভাপতি হয়েছেন নিপুল দেবনাথ এবং সম্পাদক হয়েছেন পার্থ সারথি দত্ত।মহকুমা কমিটির সভাপতি হয়েছেন গৌতম চন্দ,সম্পাদক আশীষ দাস এবং ফাইনান্স সেক্রেটারি হয়েছেন প্রসেনজিৎ সিনহা।