প্রতিনিধি, বিশালগড় , ২ ফেব্রুয়ারী।। মধুপুর থানাধীন জাম চৌমুহনি এলাকায় পুলিশের জালে ২ জন বাংলাদেশী রোহিঙ্গা। রবিবার তাদের আটক করে পুলিশ। এইদিনই ধৃত রোহিঙ্গাদের বিশালগড় মহকুমা আদালতের সোপর্দ করে মধুপুর থানার পুলিশ। জানা যায়, দিল্লি থেকে ট্রেনে করে আগরতলায় রেলস্টেশনে এসে অটো গাড়ি করে রবিবার দুপুরে মধুপুর জাম চৌমুহনি সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পাড়ি দেওয়ার পথে মধুপুর থানা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে রোহিঙ্গারা। গ্রেপ্তার অভিযুক্ত দুই বাংলাদেশি রোহিঙ্গার নাম মোহাম্মদ রফিক ( ২৯), পিতার নাম জয়াদুল হক। বাড়ি বাংলাদেশ কক্সবাজার পালংহালি রিফিউজি ক্যাম্প। অপরজন ওমর ফারুক (২৩) পিতার নাম সুলেমান বাড়ি কক্সবাজার বাংলাদেশ বলুখালী রিফিউজি ক্যাম্প। অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসার অভিযোগে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট এক্টে মামলা নেয় মধুপুর থানার পুলিশ।
অপরাধ
প্রতিনিধি , উদয়পুর :- রংমিস্ত্রির আক্রমণে আহত হলেন শাশুড়ি সুনতি দাস বয়স ৫১ বছর বয়সী বৃদ্ধা । ঘটনা শনিবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ উদয়পুর ১ নং ফুল কুমারী বাঘের খোয়ার ।
ঘটনার বিবরণে জানাতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমকে গৃহবধূ রুম্পা দাস জানান , তার স্বামী টুটন দাসের বিরুদ্ধে একই এলাকার রঞ্জন নামে এক ব্যক্তি খারাপ ভাষায় কটুক্তি করে। এই নিয়ে গৃহবধূ ও রুম্পা দাস ও তার শাশুড়ি সুনতি দাস জানতে চায় ঘটনা বিষয়ে । কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই রঞ্জন, সুব্রত ও সঞ্জয় মারধর করে বৃদ্ধা সুনতি দাস কে । রক্তাক্ত হয়ে বৃদ্ধা সুনতি দাস রাধা কিশোরপুর থানায় তিনজনের নামে মামলা দায়ের করে বলে জানান গৃহবধূ রুম্পা দাস । গোটা ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এক নং ফুলকুমারী বাঘের খোয়ার ।
প্রতিনিধি ধর্মনগর ,,গরু চুরি করে বিক্রি করতে এসে জনতার হাতে আটক
এক চোর ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে কদমতলা থানাধীন বাগবাসা বিধানসভার উত্তর
হরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পঞ্চায়েত অফিস সংলগ্ন ১নং ওয়ার্ড় এলাকায়। পরবর্তীতে উত্তেজিত জনতার হাতে গণধোলাই খেয়ে কদমতলা সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ওই যুবক। ঘটনা বিবরনে জানা যায় আজ বেলা তিনটা নাগাদ উত্তর হরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পঞ্চায়েত অফিস সংলগ্ন ১নং ওয়ার্ড়ে একটি মুদি দোকান রয়েছে দোকান মালিক কুলারাম নমঃ উনার কাছে এক যুবক একটি গরু নিয়ে এসে বিক্রি করতে চায়। তখন তিনি জিজ্ঞেস করেন ওই যুবককে গরুটি কত দামে বিক্রি করবে তুমি তখন সে জানায় ৭ হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি করবে গরুটি। উনি বলেন উনার কাছে এত টাকা নেই তখন ওই যুবক বলে তাকে এখন এক হাজার টাকা দিলে চলবে পরে বাকি টাকা দিলে চলবে। তখন ওই যুবকের কথায় দোকান মালিক সন্দেহ হয়। যুবকের কথাবার্তায় বুঝতে পারেন দোকান মালিক যুবকটি ওই গরুটি চুরি করে নিয়ে এসেছে। তখন পথ চলতি সাধারণ জনগণ সহ এলাকাবাসীরা জড়ো হয়। তখন ওই যুবক সকলের সামনে স্বীকার করে গরুটি চুরি করে নিয়ে এসেছে। উত্তজিত জনতা গরু সহ ওই যুবককে আটক করে গণধোলাই দিতে শুরু করে। পরবর্তীতে কদমতলা থানার পুলিশ এলাকাবাসীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে কদমতলা সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র নিয়ে আসে। বর্তমানে ওই গরু সহ যুবক কদমতলা থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। ধৃত যুবকের নাম সুলতান মিয়া (২৫) পিতা হজল হক বাড়ি ধলাই জেলার ময়নামা বাঙালি পাড়া এলাকায়। ধৃত যুবক সুলতান মিয়া জানায় সে বর্তমানে কৈলাশহর ফরেস্ট অফিস রোড এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করে।
প্রতিনিধি ধর্মনগর : রেলপথে নেশা জাতীয় পাচার বাণিজ্য জারি রেখেছে নেশা কারবারীরা! কখনো শুকনো গাঁজা তো কখনো মরণব্যাধি ড্রাগস,নেশা জাতীয় কফ সিরাপ কিছুই বাদ রাখছেনা নেশাকাবারীরা। সবমিলিয়ে নেশা পাচার বাণিজ্যের একমাত্র হাতিয়ার করেছে রেলপথকে! তবে রেল পুলিশের হাতে বারংবার ধরা খেয়েও তাদের পাচার বাণিজ্য প্রতিনিয়ত জারি রেখেছে। এবার ধর্মনগর আরপিএফের তল্লাশিতে উদ্ধার হল নেশা জাতীয় কফ সিরাপ। গতকাল ফিরোজপুর থেকে আগরতলা যাওয়ার পথে ত্রিপুরা সুন্দরী এক্সপ্রেসটি যখন রাত ৯.৩০ মিনিট নাগাদ ধর্মনগর স্টেশনে এসে প্রস্থান করে। সেই সময় ট্রেনের কোচ নাম্বার জিএস ২৪৭২০৬ থেকে আরপিএফ তল্লাশি চালিয়ে ছয়টি ব্যাগ থেকে মোট ৫৫৭ বোতল নেশা জাতীয় কফ সিরাপ উদ্ধার করে। সাব-ইন্সপেক্টর বিষ্ণুপদ দাস জানান,ডিএসপি স্যারের নির্দেশেই স্পেশাল ট্রেন স্কট চলছে । সেই মোতাবেক গতকাল বদরপুর থেকে হেড কনস্টেবল লিটন নমঃ এবং কনস্টেবল সঞ্জীব দাস বদরপুর থেকে ত্রিপুরা সুন্দরী এক্সপ্রেস ট্রেনে তল্লাশি চালিয়ে আসছিলো । ট্রেনটি যখন ধর্মনগরে আসে তখন জিএস ২৪৭২০৬ কোচে তল্লাশি চালালে ছয়টি ব্যাগ থেকে বাজেয়াপ্ত হয় মোট ৫৫৭ বোতল নেশা জাতীয় কফ সিরাপ। তিনি জানান সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে নেশা জাতীয় কফ সিরাপগুলো আবগারি দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
- প্রতিনিধি, উদয়পুর :- প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালেও কাঁকড়াবন থানার পুলিশ কিশোরগঞ্জ সড়কে নাকা চেকিং করতে বসে সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ । সে সময় মেলাঘর থেকে উদয়পুরগামী টিআর ০৩ ডি ২২১৪ নাম্বারের ব্যাটারিচালিত একটি অটো রিক্সাকে দাঁড় করানো হয় । তল্লাশি চলাকালীন সময় গাড়ি চালকের কথাবার্তায় কিছু সন্দেহ দানা বাঁধে পুলিশের । পরে গোটা গাড়িটিকে তল্লাশি করার পরে উদ্ধার হয় ২০৩ টি ড্রাগসের কৌটা । যার বাজার মূল্য ৩০ হাজার ৪৫০ টাকা । পরে পুলিশ ২৪ বছর বয়সি গাড়ি চালক আশীষ দাস ও উদয়পুর টাউন সোনামুড়া চৌহমুনী এলাকার বাসিন্দা তথা নেশা বিক্রেতা তাহের মিঞা কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ । ঘটনার খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ সড়কে ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছে উদয়পুর মহকুমা পুলিশ অধিকারী নির্মাণ দাস ও কাঁকড়াবন থানার ওসি রাজিব ভৌমিক সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী । সংবাদ মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তরে নেশা বিক্রেতা তাহের জানান , আজ সকালে মেলাঘর মোটর স্ট্যান্ডে এক চা দোকানে এসে দীপক নামে এক ব্যক্তি তাহের মিঞাকে এই নেশা সামগ্রী গুলি দিয়ে যায়। পরে সমস্ত ড্রাগস গুলিকে ব্যাটারি চালিত অটো করে উদয়পুরে নিয়ে আসা হচ্ছিল। যা বুধবার সন্ধ্যায় রমেশ চৌহমুনিতে বিক্রির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল বলে জানান নেশা বিক্রেতা। কিন্তু যেভাবে মেলাঘরে নেশার রমরমা ব্যবসা জাঁকিয়ে বসেছে তাতে করে ধ্বংস হচ্ছে যুবসমাজ। মহকুমা পুলিশ অধিকারীর নির্মাণ দাস জানান, এর আগেও নেশা বিক্রির ঘটনায় তাহের মিঞার নামে উদয়পুরে বেশ কয়েকটি তার মামলা রয়েছে। নতুনভাবে আরও একটি মামলা যুক্ত হলো তার সাথে । আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে আরো বিভিন্ন তথ্য বের করা যায় কিনা সে দিকে জোর চেষ্টা ও নজর দিয়েছে পুলিশ। বুধবার সকালে এই ধরনের ঘটনা রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে কাঁকড়াবন জুড়ে ।
প্রতিনিধি কৈলাসহর:-পাঁচ বছর পূর্বের এক হত্যা মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছেন সেশন জজ।জানা গেছে ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসের ২২ তারিখ মাগবত আলী রাজমিস্ত্রির ঠিকেদারি কাজ করছিলেন।তখন অভিযুক্ত জমির আলী কাজ নিয়ে মাগবত আলীর সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হন।এই বিষয়ে জমির আলী যুবরাজ নগর পঞ্চায়েত অফিসে লিগ্যাল এইড ক্লিনিকে অভিযোগ জানান মাগবত আলীর বিরুদ্ধে। জানা গেছে মাগবত আলীর বাড়ি গৌরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসের ২৭ তারিখ মাগবত আলীর বাড়িতে নোটিশ যায় যে ২৮ তারিখ যুবরাজ নগর পঞ্চায়েত অফিসে লিগ্যাল এইড ক্লিনিকে উপস্থিত থাকার জন্য। মাগবত আলী, তার ভাই আসব আলী ও বোন জয়রুন নেছা সেখানে যান। এই দিন লিগ্যাল এইড অফিসে অন্যান্য অভিযোগের বিচার চলায় শেষের দিকে তাদের বিষয়টি উঠানো হয়। উঠানোর পর ক্লিনিক ইনচার্জ আইনজীবী কামাল এম মছদ্দরের মধ্যস্থতায় মাগবত আলীকে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য বলা হয় ইরানি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা জমির আলীকে। তখন মাগবত আলী বলে তাদের কাছে তিন হাজার টাকা রয়েছে। বাকি দুই হাজার টাকা পরে দেওয়া হবে। এই কথা বলায় সেখানে তাদের মধ্যে বিতর্ক বাধে। তখন আইনজীবী কামাল এম মছদ্দর তাদেরকে বাইরে গিয়ে তার সমাধান করার নির্দেশ দেন। যখন লিগ্যাল এইডের ক্লিনিক থেকে মাগবত আলী বেরিয়ে আসছিলেন তখন পিছন দিকে জমির আলীর দুই ভাই শাহিন আলী ও হোসেন আলী মাগবত আলীকে পিছন দিক থেকে ধরে ফেলে। সেই সময় ক্লিনিকের বাইরে গেলে জমির আলী বড় ছুরি দিয়ে মাগবত আলীর গলা কেটে ফেলে। সাথে সাথে মাগবত আলী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন মাগবত আলীকে ক্লিনিক ইনচার্জ সহ কয়েকজন মিলে তাকে গাড়ি দিয়ে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাগবত আলীকে মৃত বলে ঘোষণা করে। এই দিনই মৃত মাগবত আলীর ভাই আসব আলী ইরানি থানায় তিন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার কেস নাম্বার হচ্ছে ২৭/ ২০১৯। এই মামলার তদন্তকারী অফিসার চৈতন্য রিয়াং ২০১৯ সালের আগস্ট মাসের ৩১ তারিখ চার্জশিট জমা করেন। সেখানে জমির আলী, হোসেন আলী ও শাহিন আলির বিরুদ্ধে ৩০২ / ৩৪ আই পি সি সেকশন দেওয়া হয়। গতকাল কুড়ি জানুয়ারি তাদেরকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আজ তাদের সাজা ঘোষণা করা হয়। সেশন জজ সুদীপ্তা চৌধুরী জমির আলী, হোসেন আলী ও শাহিন আলিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের তিন মাসের জেলের নির্দেশ দেন। সরকার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর সুনির্মল দেব।
প্রতিনিধি মোহনপুর:-সিধাই থানার অন্তর্গত মোহিনীপুর এলাকার জঙ্গল থেকে অবৈধ নেশা সামগ্রী এবং গুলি সমেত গ্রেপ্তার এক অভিযুক্ত। তার নাম রামকৃষ্ণ পাল।স্থানীয়রা তাকে আটক করে উত্তম মধ্যম দিয়ে তুলে দিয়েছে পুলিশের হাতে। অভিযুক্তকে রিমান্ড চেয়ে সোমবার আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
সিধাই থানার অন্তর্গত মোহিনীপুর এলাকায় রবিবার গভীর রাতে রামকৃষ্ণ পাল নামে এক ব্যক্তিকে অবৈধ কফ সিরাপ, ব্রাউন সুগার এবং তাজা কার্তুজ সহ আটক করে স্থানীয়রা। তার বাড়ি মোহনপুরের জগতপুর এলাকায়। তাকে উত্তম মধ্যম দিয়ে খবর দেওয়া হয়েছে পুলিশে। ঘটনাস্থলে করে ছুটে যায় সিধাই থানার পুলিশ। পাশাপাশি মোহনপুরের এসডিপিও সব্যসাচী দেবনাথ এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ছুটে যায় ওই স্থানে। সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে অভিযুক্তকে। সোমবার অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে তার বিরুদ্ধে এনডিপিএস ধারা এবং অবৈধ অস্ত্র আইনে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিনিধি, উদয়পুর :- রাজ্য থেকে গাঁজা পাচার করার এক সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করছে পাচারকারীরা। রেলে করে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে গাঁজা প্রচার করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে দূরপাল্লার এক্সপ্রেস রেল গুলিকে । রবিবার সকালে পশ্চিমবঙ্গ গামী কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে যাত্রী হিসেবে উঠতে গিয়ে রেল দপ্তরের পুলিশের কাছে ধরা পড়লো এক অটোচালক । ধৃত অটো চালকের নাম রাজীব কুমার দে । তার বয়স ৪২ বছর। তার বাড়ি মাতার বাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের চন্দ্রপুর এলাকায় । ঘটনার বিবরণে জানা গিয়েছে , এদিন সকালে অটো চালক রাজীব খিলপাড়া এলাকার এক ব্যক্তির কাছ থেকে কালো রংয়ের স্কুল বেগে প্রায় এগারো কেজি গাঁজা প্যাকেট করে মুড়িয়ে নেয়। পরে নিজের যাত্রীবাহী অটো গাড়ি নিজের ভাইয়ের কাছে দিয়ে পশ্চিম দিকে রেল রাস্তা ধরে স্টেশনের ভেতরে প্রবেশ করে। তখন রেলের জিআরপি পুলিশের চোখে পড়ে কালো রঙের স্কুল ব্যাগ । সন্দেহ দানা বাঁধতেই তাকে ঘিরে ফেলে জিআরপি পুলিশ । পরে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় রেল স্টেশনের ভেতরে। খবর দেওয়া হয় রাধাকিশোরপুর থানায় । পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত উদয়পুর রেল স্টেশনে পৌঁছায় এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। পরে পুলিশ ওজন মাপার যন্ত্র দিয়ে শুকনো গাঁজা গুলি মেপে দেখে ১১ কেজি ওজন হয়েছে গাঁজাগুলির । জানা যায় , অটোচালক রাজীবের বাবা প্রাক্তন পুলিশ কর্মী ছিল । পরে ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে যায় মহকুমা পুলিশ অধিকারীক নির্মাণ দাস। পুলিশ তার কাছ থেকে জানার চেষ্টা করে এই গাঁজাগুলি খিলপাড়া এলাকার কোথা থেকে প্যাকেট বন্দি করা হয়েছে এবং কলকাতায় কার কাছে বিক্রি করা হবে। বর্তমানে তাকে গ্রেফতার করে রাধাকিশোরপুর থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। সোমবার দুপুরে তাকে উদয়পুর জেলা আদালতের সোপর্দ করা হবে । উদয়পুর রেল স্টেশনে নেশার রমরমা বাণিজ্য প্রতিদিন চলছে বলে জানা যায় স্টেশনের বিভিন্ন সূত্র মারফত। গোটা ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় মাতাবাড়ি এলাকায় ।
প্রতিনিধি, উদয়পুর :- উদয়পুরের বিভিন্ন জায়গায় গত কয়েক মাস ধরে জোয়ার রমরমা ব্যবসা চলে আসছে। এই অবৈধ ব্যবসার কারণে সর্বসান্ত হচ্ছে বহু পরিবার। রবিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ উদয়পুর মাতারবাড়ি কীর্তন সংলগ্ন পঞ্চায়েতের ময়দান থেকে মাতাবাড়ি বুড়াদিঘী এলাকার বাসিন্দা টুটন দাস অপরদিকে খিলপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় স্বপন সরকার নামে এক ব্যক্তিকে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে জুয়া খেলার বিভিন্ন সামগ্রী। প্রতিনিয়ত জোয়ার আসর উদয়পুরের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিনিয়ত বসানো হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে। তার পেছনে বহু রাঘবওয়াল জড়িত রয়েছে বলে জানা যায়। পুলিশ সে বড় রাঘব বোয়ালদের ধরার জন্য এবার জাল পেতেছে বলে জানা যায় পুলিশের সূত্রে । রবিবার রাতে উদয়পুর মহকুমা পুলিশ অধিকারীক নির্মাণ দাস ও রাধা কিশোরপুর থানার অফিসার সমর দাস এই জুয়া বিরোধী অভিযান চালায়। তাদের কাছ থেকে নগদ চার হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের এই সাফল্যে খুশি শিক্ষিত মহল ।
কল্যাণপুরের দুর্ঘটনা গ্রস্থ গাড়ি আটক গজপাড়ায়, উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ
প্রতিনিধি মোহনপুর :- কল্যাণপুর থেকে গাভী বোঝাই করে নিয়ে আসার সময় একট বাইকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে আসে একটি গাড়ি। সিধাই থানার অন্তর্গত গজ পাড়ায় আটক করা হয়েছে গাড়িটি। অতিরিক্ত জনতা গাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি মারধর করে চালককে। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কল্যাণপুর ও সিধাই থানার পুলিশ। তারপরই নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিতি।
সোনামুড়া এলাকার টিআর ০১জেড ১৯৫০ নাম্বারের একটি গাড়ি কল্যাণপুর এলাকা থেকে গাভী নিয়ে বড়কাঁঠাল অভিমুখে রওনা দেয় বুধবার। এদিন সকাল আনুমানিক দশটা নাগাদ দালাং বাড়ি এলাকায় বাইকে ধাক্কা দেয় গাড়িটি। এই বাইকে ছিলেন সমিত দেববর্মা এবং উনার মেয়ে কার্তিকা দেববর্মা। মেয়েটি স্কুল শেষে বাড়ি ফিরছিল বাবার সাথে। তাদেরকে আহত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। এদিকে স্থানীয় জনতা পিছু করে গাড়িটির। খবর দেওয়া হয় গজপাড়া এলাকায় স্থানীয় জনতাকে। এখানে আটক করা হয় এই গাড়িটি। গাড়ি চালক প্রাণ বাঁচাতে গাড়িটি ঢুকিয়ে দিয়ে গজপাড়া টিএসআর ক্যাম্পের ভেতর। সেখানে উত্তেজিত জনতা জোড় হয়ে গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। মারধর করা হয়েছে গাড়ি চালককে। খবর পেয়ে ঘটনা স্হলে পৌঁছায় সিধাই ওসি মঙ্গেশ পাটারি এবং পুলিশ বাহিনী। অন্যদিকে কল্যাণপুর থানার ওসি এবং অন্যান্য পুলিশ আধিকারিক ছুটে আসন ঘটনাস্থলে। প্রাথমিকভাবে উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। স্থানীয়দের তরফে গাড়ি মালিকের নিকট দাবি করা হয়েছে দুই লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য। দীর্ঘ সময় আলোচনার পর এক লক্ষ টাকায় দুপক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা হয়। তারপরই টাকা হাতে পেয়ে ঘাতক গাড়ি এবং অভিযুক্ত চালককে ঘটনাস্থল থেকে যেতে দেয় স্থানীয়রা। তবে এদিন আরক্ষা বাহিনী সঠিক সময়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আরও বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা ঘটায় সম্ভাবনা ছিল।