প্রতিনিধি, বিশালগড় , ২৮ জানুয়ারি।। সিপাহীজলা জেলার টাকারজলা জহর নবোদয় বিদ্যালয়ে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে গুরুতর অসুস্থ ৮০ জন শিক্ষার্থী। অসুস্থ ছাত্র ছাত্রীরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সিপাহীজলা জেলাশাসক এবং জম্পুজলা মহকুমা শাসক। অসুস্থ ছাত্র-ছাত্রীরা টাকারজলা সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন । প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ফলেই অঘটন ঘটে । ঘটনার খবর পেয়ে সিপাহীজলা জেলার জেলাশাসক সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল বিদ্যালয় এর ভোজনালয় পরিদর্শন করেন। গিয়ে দেখেন খাদ্যদ্রব্য গুলি বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে। সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিকভাবে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মেয়াদ উত্তীর্ণ মসলা ব্যবহার করা হচ্ছে । জেলাশাসক সকল খাদ্য দ্রব্য মশলা ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ভোজনালয়ের ইনচার্জকে শোকজ করারও নির্দেশ দেন। শেষে তিনি টাকারজলা সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে অসুস্থ ছাত্র-ছাত্রীদের চিকিৎসার ব্যাপারে খোঁজখবর নেন।
কথা বলেন হাসপাতালের চিকিৎসকের সঙ্গে । তিনি গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মহকুমা শাসককে নির্দেশ দেন। ঘটনা জানাজানি হতেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অভিভাবকরা। তারা ছুটে যান হাসপাতলে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন ছাত্র ছাত্রীরা পেট ব্যাথা, বমি ইত্যাদি সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে সবাই দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠবে বলে জানান চিকিৎসকরা।
দেশ
প্রতিনিধি মোহনপুর:- হেজামারা ব্লক এলাকায় ওয়াটার সেড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন কৃষি মন্ত্রী রতন লাল নাত। পাশাপাশি এলাকার কৃষক, স্বসহায়ক দল গুলোকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এই দিন। ভূগর্ভস্থ জল এবং মাটি সংরক্ষণ করার জন্যই এই ধরনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
জল সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ওয়াটার সেভ ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট নামক এই প্রকল্পের মাধ্যমে জল সংরক্ষণ, ভূমি সংরক্ষণ এবং এলাকার মানুষকে স্বনির্ভর করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই ধরনের প্রকল্প হেজামারা ব্লকের পূর্ব নোয়াগাঁও এডিসি ভিলেজ, বড়কাঠাল এডিসি ভিলেজ এবং পশ্চিম চাঁদপুর এডিসি ভিলেজ এলাকায় বাস্তবায়ন করা হবে। মঙ্গলবার এই প্রকল্পের উদ্বোধন করে মন্ত্রী রতন লাল নাথ বলেন গোটা ভারতবর্ষে ভূগর্ভস্থ জল কৃষি কাজের জন্য ব্যাপক হারে উত্তোলন করা হচ্ছে। ত্রিপুরা এখনো মোটামুটি ভালো জায়গায় রয়েছে। তবে আগামী দিনে যাতে ভূগর্ভস্থ জলের সংকট না হয় তার জন্যই এখন থেকেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এদিনের এই কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকার ৫০ টি স্বসহায়ক গোষ্ঠীকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার কৃষকদের কৃষি যন্ত্রাংশ এবং নারকেলের চারা প্রদান করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রমন্ত্রী বৃষ কেতু দেববর্মা টিটিএএডিসির ইএম রোনিয়াল দেববর্মা, ইএম রবীন্দ্র দেববর্মা, হেজামারা বিইসি চেয়ারম্যান সুনীল দেববর্মা, লেফুঙ্গা বিইসি চেয়ারম্যান রণবীর দেববর্মা সহ অন্যান্যরা।
প্রতিনিধি, উদয়পুর :- ৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে ওপেন জিম। বুধবার উদয়পুর পিএম শ্রী মাতঙ্গিনী হাজরা বিদ্যালয় আয়োজিত স্বাস্থ্য শিবির ও ওপেন জিম উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় । এই অনুষ্ঠানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ওপেন জিমের ফিতা কেটে করে উদ্বোধন করেন বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, উদয়পুর পৌর পরিষদের পৌর পিতা শীতল চন্দ্র মজুমদার, গোমতি জিলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়, স্কুলের প্রধান শিক্ষক সহ আরো অনেকে। এই অনুষ্ঠানে বিধায়ক অভিষেক দেবরায় বলেন , আমাদের সরকার রাজ্যের ক্রীড়া ক্ষেত্রের উন্নয়নে খুবই আন্তরিক। রাজ্য সরকার ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের বৃত্তি প্রদানের জন্য মুখ্যমন্ত্রী ক্রীড়া উন্নয়ন প্রকল্প আর্থিক বরাদ্দ করেছে। ক্রীড়া ক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই উদয়পুর রমেশ স্কুল ময়দানে সিন্থেটিক টার্ফ ফুটবল মাঠ তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের সরকার রাজ্যে খেলাধুলার বিকাশের জন্য কাজ করছে। কারণ খেলাধুলার বিকল্প কিছু নেই। খেলাধুলার মাধ্যমে আমরা শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেদেরকে বিকশিত করতে পারি। কঠোর পরিশ্রম এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে সমস্ত বাধা বিপত্তি কাটিয়ে আমরা আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করতে পারি।
পাশাপাশি আরো বলেন, মাতাবাড়ি বিধানসভার উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ গুলি তুলে ধরেন। এদিন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিতি ছিল বেশ লক্ষণীয়।
প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া ২২ জানুয়ারি: পুলিস সপ্তাহ উপলক্ষে গোটা রাজ্যেই পালিত হচ্ছে নানান কর্মসূচি। ধলাই জেলা পুলিসও এর বাইরে নয়। বুধবার পুলিস সপ্তাহ কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে জহরনগরস্থিত পুলিশ লাইনে অনুষ্ঠিত হয় এক রক্তদান শিবির। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মিহির লাল দাস সহ আরক্ষা প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা। পুলিস সুপার মিহির লাল দাস সাংবাদিকদের জানান ধলাই জেলার প্রত্যেক থানা থেকেই পুলিস জওয়ানরা স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন। তিনি বলেন রক্তদানের কোন বিকল্প নেই। বিজ্ঞানীরা আজ অব্দি রক্তের কোন বিকল্প আবিষ্কার করতে পারে নি। কারণ রক্ত কৃত্রিম ভাবে তৈরি করা যায় না। একমাত্র রক্ত দিয়েই রক্তের প্রয়োজনীয়তা দুর করা সম্ভব। তিনি বলেন এদিন ধলাই জেলার পুলিস এবং টি এস আর মিলে মোট ৭১ জন জাওয়ান রক্তদানে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া এদিন ট্রাফিক রুল সম্পর্কে জন সচেতনতা বাড়াতে আমবাসায় ট্রাফিক ইউনিটের সহযোগিতায় ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে ট্রাফিক এর দায়িত্ব পালন করানো হয়। মহকুমা পুলিস আধিকারিক নিরুপম দাস বলেন – এটি নিঃসন্দেহে একটি অভিনব উদ্যোগ। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে হেলমেট পড়ে বাইক চালানো সহ বিভিন্ন ট্রাফিক বিধি মেনে চলার বার্তা দেওয়া হয়।
প্রতিনিধি ধর্মনগর ১৯শে জানুয়ারি : সকালএগারো ঘটিকায় পানিসাগর টাউনহলে অনুষ্ঠিত হয় পানিসাগর মহকুমা প্রসাশনের উদ্যোগে পানিসাগর মহকুমা ভিওিক ৪৭ তম ককবরক দিবস ও উপজাতি লোকনৃত্য প্রতিযোগীতা।প্রদিপ প্রজ্জলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন পানিসাগর নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারম্যান অনুরাধা দাস।সভাপতিত্ব করেন রাজ্যের প্রখ্যাত ককবরক কবি ও সাহিত্যিক সুধন্য এিপুরা।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পানিসাগর নগর পঞ্চায়েতের ভাইস চেয়ারম্যান ধনঞ্জয় দেব নাথ,পানিসাগর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান লক্ষিকান্ত দাস,পানিসাগর মহকুমা প্রশাসনের ডেপুটি কালেক্টর তথা মহকুমা উপজাতি ওয়েলফেয়ার অফিসার সুকুমার রিয়াং,পানিসাগর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সৌম্য দেব্বর্মা,দামছড় উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেমেন্দ্র দেব্বর্মা,বিশিষ্ঠ সমাজ সেবি এনাই হালাম সহ প্রমুখরা।অনুষ্ঠানে স্বাগত আলোচনা রাখেন ডেপুটি কালেক্টর সুকুমার রিয়াং।অনুষ্ঠানের শুরুতেই রাজ্য উপজাতি বিশিষ্ট ব্যাক্তিত্ব বিশ্বা মুন্ডার পতি কৃতিতে পুস্পার্ঘ নিবেদন কর্মসূচি।অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন পানিসাগর এলাকার সবকটি বিদ্যালয় থেকে আগত ছাএ ছাএি বৃন্দরা।অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে একটি সুসজ্জিত রেলী সহযোগে পানিসাগর বাজার পরিক্রমা করে টাউনহল প্রাঙ্গনে এসে সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়।অনুষ্ঠান মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন ধরনের উপজাতি লোক নৃত্যের নিপুন প্রদর্শনী।উক্ত উপজাতি লোক নৃত্য প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ কারি দলগুলো হলো বেথলিয়েম ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল,দামছড়া এস,টি গাল্স স্কুল,দামছড়া এস,টি বয়েস হোস্টেল,কেপিটিয়ানো গাল্স স্কুল,কে,জি,বি,ভি গাল্স হেস্টেল এবং নাজির ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল।একদিবসীয় উপজাতি লোক নৃত্য প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে কে,জি,বি,ভি গাল্স হোস্টেল,দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে বেথলিয়েম ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে দামছড়া এস,টি গাল্স হোস্টেল।মঞ্চে উপবিষ্ট অথিতিদের হাত ধরে বিজয়ীদের হাতে পুরুস্কার তোলে দেওয়া হয়।জানা গেছে প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারী বিজয়ী দলটি আগামীকাল ধর্মনগর সরকারি ডিগ্রি কলেজে অনুষ্ঠিত জেলা ভিওিক প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের সুযোগ পাবে।
প্রতিনিধি, উদয়পুর :- মাতাবাড়ি বিধানসভার অন্তর্গত লাভ স্টোরি তৈহোর সং এলাকার নিবাসী নারদ সাধন জমাতিয়ার একমাত্র উপার্জনের পথ ছিল পোল্ট্রির ফ্রার্ম । কিন্তু গত দুইদিন আগে হঠাৎ করে অগ্নিসংযোগ ঘটে । এর ফলে ফ্রার্মটি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। গ্রামবাসীরা শত চেষ্টার পরেও রক্ষা করতে পারেনি ফ্রার্মটিকে। অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে বিধায়ক অভিষেক দেবরায় মঙ্গলবার দুপুরে নারদ সাধন জমাতিয়ার বাসভবনে ছুটে যান । কথা বলেন পরিবারের সদস্যদের সাথে। পরবর্তী সময়ে বিধায়ক আর্থিক সহযোগিতা এবং সমবেদনা জ্ঞাপন করেন পাশাপাশি সরকারিভাবে বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদান করার জন্য প্রশাসনের সাথে কথা বলবেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে । শীতের এই শুকনো মরশুমে যেভাবে অগ্নিসংযোগ সংঘটিত হয়েছে তাতে করে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে নারদ সাধন জমাতিয়ার । এমনটাই বললেন পরিদর্শন শেষে বিধায়ক অভিষেক দেবরায়। এদিন বিধায়কে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি।
- প্রতিনিধি, তেলিয়ামুড়া। অন্যান্য বছরের ন্যায় এবছরও মকড় সংক্রান্তির দিনে দুই দুন ব্যাপী পৌষ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্ভোদন হয় সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ চাকমাঘাটস্থিত ব্যারেজ প্রাংগনে। মেলার উদ্ভোদন করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব, উপস্থিত ছিলেন খোয়াই জেলার জেলা সভাধিপতি অপর্না সিংহরায়, সহ সভাধিপতি সত্যেন্দ্র দাস, তেলিয়ামুড়া পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান দীপা দেব , মুংগিয়াকামি এবং তেলিয়ামুড়া ব্লকের বি এ সি চেয়ারম্যান সুনিল দেববর্মা , খোয়াই জেলার জেলা শাসক চান্দনি চন্দ্রন, তেলিয়ামুড়া মহকুমা শাসক পরিমল মজুমদার সহ অন্যান্যরা। মেলার উদ্বোধন করে সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, সনাতন পরম্পরা সামাজিক ব্যবস্থাকে ধরে রাখবে। সনাতন ধর্মের অন্যতম উৎসব হলো মকর সংক্রান্তি উৎসব। মকর সংক্রান্তি উৎসব সারা ভারতবর্ষে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে পালন করা হয়। ভারত বর্ষ বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের রূপ দেখা যায়। আসামে বিহু, দক্ষিণ ভারতে পোঙ্গল, হরিয়ানা দিল্লি রাজস্থানে লরি হিসেবে এই দিনটিকে পালন করা হয়। এখানে প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,১৯৯৮ সাল থেকে তৎকালীন এম.ডি.সি হরিমোহন দেববর্মার হাত ধরে চাকমা ঘাটের খোয়াই নদীর ব্যারেজ প্রাঙ্গণে মকড় সংক্রান্তির দিনে প্রথম পৌষ মেলা শ্রুরু হয়েছিল। জাতি উপজাতির মৈত্রী’কে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয় এই মেলা। সেই সময়ে সারা রাজ্যেই সন্ত্রাসবাদীদের আতঙ্কে আতঙ্কিত ছিল সারা রাজ্য। তখন সারা রাজ্যের মধ্যে পৌষমেলা মূলত ডুম্বুরে ঘটা করে অনুষ্ঠিত হতো। সেই সময়ে পরিস্থিতি এবং সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখেই ডুম্বুরে অতিরিক্ত সমাগম রোধ করতেই চাকমা ঘাট বেরেজ প্রাঙ্গনে পৌষমেলার শুরু হয়েছিল। । সেই থেকেই প্রতি বছর বেশ সাড়া জাগিয়ে চলে দুই দিন ব্যপী এই পৌষ মেলা। সারারাত ব্যাপী জনঢল থাকে এই মেলায় প্রতিবছরই। তত্ত্ব সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে সারা রাত্র ব্যাপি চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের পক্ষ থেকে মেলায় স্টল খোলা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পূর্ণর্থীরা মধ্য রাত্র থেকে পূর্বপুরুষদের স্মরণে পূজা অর্চনা করে থাকে। অস্থি বিসর্জনের কাজ অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে এখানে করা হয়ে থাকে। সন্ধ্যা রাত থেকেই প্রচুর পূর্ণর্থী এখানে সমাগম ঘটেছে।
- প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া ১২ জানুয়ারি:- নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ১২ জানুয়ারি জাতীয় যুব দিবস উদযাপন করল গন্ডাছড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের এন এস এস ইউনিট। রবিবার বিদ্যালয় চত্বর ও তার আশপাশে ‘স্বচ্ছতা হি সেবা’ কর্মসূচি পালন করে এন এস এস স্বেচ্ছাসেবীরা। এদিন বিদ্যালয় ছুটির দিন হলেও তাদের উৎসাহের কমতি ছিলনা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক শুভজিৎ রায়।একই দিনে দিল্লির ভারত মন্ডপমে অনুষ্ঠিত জাতীয় যুব উৎসবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন স্বেচ্ছাসেবীরা।শনিবার একই অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে দিল্লি থেকে সরাসরি সম্প্রচার বিদ্যালয়ের স্মার্ট ল্যাবে প্রত্যক্ষ করেন এন এস এস স্বেচ্ছাসেবীরা।কেন্দ্রীয় যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রী মনসুখ মান্ডবীয় এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য শুনেন সবাই। উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভাইস প্রিন্সিপাল খজেন্দ্র ত্রিপুরা,শিক্ষক সংসদের সম্পাদক লবাজয় রিয়াং ও শিক্ষক শুভজিং রায়।আগামীদিনেও স্বেচ্ছাসেবীদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ এবং সমাজে গঠনমূলক পরিবর্তন আনতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা হবে বলে জানান বিদ্যালয়ের এন এস এস প্রোগ্রাম অফিসার ভাস্কর ঘোষ। উল্লেখ্য গত বছর অসাধারণ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ রাজ্যের শ্রেষ্ঠ এন এস এস ইউনিট হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছিল গন্ডাছড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়।
নিজের চেতনা বৃদ্ধি করার জন্য স্বামীজীর পুস্তক পড়া খুবই প্রয়োজন : বললেন অর্থমন্ত্রী
প্রতিনিধি, উদয়পুর :- সারা দেশের সঙ্গে রাজ্যেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয় স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী। রবিবার উদয়পুর রাজর্ষি কলাক্ষেত্রে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে উদয়পুর পৌর পরিষদের সহযোগিতায় জাতীয় যুব দিবস এবং স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শুভ সূচনা করেন অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, আগরতলা বিবেকনগর রামকৃষ্ণ মঠের স্বামী দিব্যানন্দজী মহারাজ, উদয়পুর পৌর পরিষদের চেয়ারম্যান শীতল চন্দ্র মজুমদার, গোমতী জিলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায় সহ আরো অনেকে।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় বলেন , স্বামী বিবেকানন্দ পাশ্চাত্য সংস্কৃতি ও ধ্যানধারণা পরিহার করে স্বদেশীয় ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হবার জন্য দেশবাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। স্বামীজী বলেছেন, দেশের জনগণের উন্নয়ন না হলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন হবে না। তাই সর্বাতে চাই দেশের সেবা। যুব সম্প্রদায়কে দেশের সেবায় অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে কাজ করতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে স্বামী বিবেকানন্দের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে দেশ তথা সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আজ যারা যুবক অর্থাৎ ছাত্র-ছাত্রী তাদেরকে বিশেষভাবে স্বামী বিবেকানন্দের মতাদর্শে দীক্ষিত হয়ে কাজ করার উপদেশ দেন।
এছাড়াও আগরতলা বিবেক নগর রামকৃষ্ণ মঠের স্বামী দিব্যানন্দজী মহারাজ বলেন স্বামী বিবেকানন্দের জীবনী নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা রাখেন এবং তা থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষামূলক জিনিসগুলি তুলে ধরেন। কেন তদানীন্তন ব্রাহ্মণ সমাজে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের মত গুরুদেব এমন একজনকে প্রধান শীষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন যে ব্রাহ্মণ্য নয়। স্বামী বিবেকানন্দ কিভাবে সারা পৃথিবীতে হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করে ভারতবর্ষের মুখ জ্বলজ্বল করে ফুটিয়ে তুলেছিলেন তা স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো বক্তৃতা কয়েকটি ছোট ছোট অংশ ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরেন। এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের উপস্থিত ছিল বেশ লক্ষণীয় ।
নেশা সাম্রাজ্যকে ভাঙতে হলে সরকারের পাশে দাঁড়াতে হবে জনগণকে । বললেন হাইকোর্টের বিচারপতি
- প্রতিনিধি, উদয়পুর :- শনিবার উদয়পুর রাজর্ষি কলাক্ষেত্রে প্রথম বারের মতো খাদ্য, নাগরিক সরবরাহ ও ভোক্তা বিষয়ক এবং পরিবহন দপ্তরের উদ্যোগে ভোক্তা সুরক্ষা, সড়ক নিরাপত্তা এবং মাদকের অপব্যবহারের হুমকির বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির উপর “জাগ্ৰতি- ২০২৫: আন্তঃকলেজ কুইজ প্রতিযোগিতা” নির্বাচন রাউন্ডের উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে শুভ সূচনা করেন অর্থ, আইটি মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, খাদ্যমন্ত্রী ও পরিবহন দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী,উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, ত্রিপুরা হাইকোর্ট বিচারক বিচারপতি অরিন্দম লোধ, বিধায়ক অভিষেক দেবরায় , বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার বিধায়ক রঞ্জিত দাস, এফসিএস এবং সিএ এবং শিক্ষা সচিব রাভেল হেমেন্দ্র কুমার, গোমতী জেলার জেলাশাসক তড়িৎ কান্তি চাকমা, উদয়পুর পৌর পরিষদের পৌরপিতা শীতলচন্দ্র মজুমদার, গোমতী জিলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায় সহ আরো অন্যান্য দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ। অনুষ্ঠানের লক্ষ্য হল গোমতি, সিপাহিজলা এবং দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ভোক্তা সুরক্ষা, রাস্তার নিরাপত্তা এবং মাদকের অপব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। ত্রিপুরা হাইকোর্ট বিচারপতি অরিন্দম লোধ ভাষণ বলেন , ত্রিপুরায় গাঁজার ব্যবহার অনেকটাই কম হয়। কিন্তু ড্রাগস ,ইয়াবা ট্যাবলেট সহ অন্যান্য বিভিন্ন নেশা প্রতিনিয়ত ত্রিপুরাতে প্রবেশ করছে। যা খুবই বিপদজনক । এদিনের অনুষ্ঠানে মন্ত্রীগণ ভাষণ রাখতে গিয়ে বলেন , নেশা শুধুমাত্র ব্যক্তিকে নয়, পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। এর ফলে মানব সম্পদ ধ্বংসের পথে ধাবিত হচ্ছে । তাই প্রতিটি পরিবারের মা-বোন, ক্লাব সংগঠনদের নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান সমস্ত অতিথিরা । এদিনের অনুষ্ঠানে ১৮ জন ছাত্রছাত্রীকে দেওয়া হয় হ্যামলেট । একই সাথে কুইজ প্রতিযোগিতায় ছয়টি কলেজ থেকে অংশ নেওয়া প্রতিযোগী ও প্রতিযোগিনীদের দেওয়া হয় আকর্ষণীয় উপহার । গোটা অনুষ্ঠানে তিন জেলার কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি ছিল সারা জাগানো।