প্রতিনিধি মোহনপুর :- গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবার আরও উন্নতি করার লক্ষ্যে গান্ধীগ্রাম প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সারপ্রাইজ ভিজিট করলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা। বৃহস্পতিবার এই স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শনকালে যে সমস্ত সমস্যার মুখ্যমন্ত্রী নজরে এসেছে সেগুলো অতিসত্বর সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সারপ্রাইজ ভিজিটকে ঘিরে খুশি এলাকার জনতা। গান্ধীগ্রাম প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত অভিযোগ আসছিল সাধারণ মানুষের কাছ থেকে। একেবারে শহর লাগোয়া এই প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র হলেও পরিষেবা দিয়ে মানুষের মন জয় করার ক্ষেত্রে অনেকটাই ব্যর্থ এই প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র। সম্প্রতি গান্ধীগ্রামের সুভাষ কলোনী এলাকায় একটি দলীয় কর্মসূচিতে এসে জনগণের কাছ থেকে এই প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র সম্পর্কে সরাসরি অভিযোগ পেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিযোগ পাওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নিজে পরিদর্শন করলেন গান্ধীগ্রাম প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র। আধিকারিকদের কাছ থেকে কাগজে কলমের তথ্য না নিয়ে নিজে খতিয়ে দেখলেন পরিষেবা। হাসপাতাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং একাধিক বিষয়ে দুর্বলতা নজরে এসেছে মুখ্যমন্ত্রী। এদিন হাসপাতাল থেকে দপ্তরের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন সমস্যা গুলো সমাধান করার জন্য। মুখ্যমন্ত্রী পরিদর্শনের পর এলাকার জনগণ আশাবাদী এই হাসপাতালের সমস্যাগুলোর সমাধানের মাধ্যমে জনগণকে স্বাস্থ্যপরিসেবা প্রদানের বিষয়টি আরো উন্নত হবে।
দেশ
নববর্ষের শুরুতেই তাণ্ডব—ঝড়ে লন্ডভন্ড গন্ডাছড়ার বহু এলাকা, বিদ্যুৎহীন রইস্যাবাড়ি
- প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া 18 এপ্রিল:- বাংলা নববর্ষের শুরুতেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে গন্ডাছড়া মহকুমার বিভিন্ন এলাকা। বৃহস্পতিবার বিকেলে এক আকস্মিক প্রবল ঝড়-তুফান বয়ে যায় এই অঞ্চলের উপর দিয়ে। এতে রইস্যাবাড়ি সহ আশেপাশের গ্রামগুলিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। হঠাৎ শুরু হওয়া এই ঝড়ে বহু মানুষের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে, বড় বড় গাছ উপড়ে পড়েছে, এবং বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মহকুমার রইস্যাবাড়ি এলাকা। জানা গেছে, সেখানে অন্তত চার থেকে পাঁচটি বাড়ি পুরোপুরি ধসে পড়েছে, বহু ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে এবং বাঁশের বেড়া ভেঙে পড়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে মানুষজন প্রাণ বাঁচাতে কোনো মতে ঘরের কোণে আশ্রয় নেয়। সন্ধ্যার আগেই ঘরবাড়ির চেহারা পাল্টে যায়।
একাধিক গাছ উপড়ে পড়েছে বৈদ্যুতিক লাইনের উপর, যার ফলে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পুরো রইস্যাবাড়ি। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাত দশটা সংবাদ লেখা পর্যন্ত পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে আছে। এর ফলে পানীয় জল থেকে শুরু করে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহারে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রচেষ্টা চালালেও এখনো পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়নি।
এছাড়াও ঝড়ের প্রভাবে এলাকার বিভিন্ন সড়কে মাটি ধসে পড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এতে যাতায়াতে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
নববর্ষের দিনেই এমন দুর্যোগে স্থানীয় মানুষজন আতঙ্কিত ও হতাশ। অনেকেই বাড়ি ঘর ছেড়ে অন্যত্র রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছেন। বিদ্যুৎ এবং পানীয় জল সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিনিধি ধর্মনগর,, ১৫ই এপ্রিল দুপুরে এক বিরল প্রজাতির প্রাণী উদ্ধার করে তুলে দেওয়া হয় পানিসাগর ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসের কর্মকর্তাদের হাতে।ঘটনাটি ঘটে পানিসাগর নগর পঞ্চায়েতের স্ট্যাট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া শাখা সংলগ্ন অপূর্ব নাথ এর বাড়িতে।যানা গেছে অপূর্ব নাথ পেষায় এক নার্সারি ব্যাবসায়ী।তিনি জানান নার্সারিতে কর্মরত অবস্থায় সোমবার দুপুরে হঠাৎ করে দেখতে পায় বাড়ির নিকটে থাকা ছড়ার পাড়ে একটি বিরল প্রজাতির প্রাণী।স্বভাবতই কৌতুহল বশত এগিয়ে গিয়ে এটিকে ধরে নিয়ে আসে নিজ বাড়িতে এবং খবর পাটায় পানিসাগর ফরেস্ট রেঞ্জ অফিস সহ পানিসাগর মহকুমার এনিম্যাল এইড এলায়েন্স সংস্থায়।এই মর্মে আজ পয়লা বৈশাখ সকাল আনুমানিক দশটা নাগাদ অপূর্ব নাথ এর বাড়িতে ছুটে আসে পানিসাগর ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসের কর্মকর্তাগন সহ এনিম্যাল এইড এলায়েন্স সংস্থার কর্মকর্তাগন।এনিম্যাল এইড এলায়েন্স সংস্থায় এক কর্মকর্তা রাজেশ গুপ্ত জানায় বিরলতম প্রাণীটি একটি স্লো লরিজ তথা লজ্জাবতী বানর।এই অতি দূর্লভ ও বিরল প্রজাতির প্রাণী।সাধারণত এই ধরনের বানর সচরাচর চোখে পড়ে মা।এরা ধীরে ধীরে প্রকৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।এদের সংরক্ষণ করতে রাজ্য বন দপ্তর ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।বানরটি উদ্ধারকারী অপূর্ব নাথ জানায় বানরটির হয়তোবা বৈদ্যুতিক শর্ট খেয়ে আহত হয়ে রয়েছে।তাই তিনি গতকাল পানিসাগর পশুচিকিৎসালয়ে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে আনে।তিনি জানান সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা পেলে বানর টি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উটবে।বিরল প্রজাতির বানর উদ্ধারের ঘটনা জানা জানি হতেই এটিকে দেখতে কৌতুহলী জনগন কাতারে কাতারে ভীর জমায় অপূর্ব নাথ এর বাড়িতে।পরিশেষে বিরল প্রজাতির লজ্জাবতী বানর টি তুলে দেওয়া হয় পানিসাগর ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসের কর্মকর্তাদের হাতে।পানিসাগর ফরেস্ট রেঞ্জ কতৃক জানা গেছে আহত বানরটিকে প্রথমে চিকিৎসা করে সুস্থ করে তুলা হবে এবং পরবর্তীতে পানিসাগর স্থিত রৌয়া অভয়ারণ্যে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।তবে এই ধরনের বিরল প্রজাতির লজ্জাবতী বানর লোকালয়ে কি করে,কোথা থেকে এলো তা নি দোয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।এই ধরনের বিরল প্রজাতির বানর উদ্ধারে গোটা পানিসাগর জোরে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
- প্রতিনিধি শান্তিরবাজার : নিজের সুখের সংসারে স্ত্রী এবং সন্তান রেখে গত কিছুদিন পূর্বে প্রাক্তন শিক্ষক তথা মুড়াসিং হোদাতৌই ফাং বদলের প্রাক্তন সম্পাদক তথা বর্তমান সদস্য সুনীল মুড়াসিং নিজের নিকটবর্তী আত্মীয় তিন সন্তানের জননীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠতে শুরু করে পতিছড়ি মুড়াসিং পাড়ায়। অবশেষে এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করে আজ শান্তির বাজার মহকুমা পতিছড়ি মুড়াসিং পাড়া মুড়াসিং হদা তৈইফাং কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন মুড়াসিং হদা তৌইফাং। এই সাংবাদিক সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে তীব্র নিন্দর পাশাপাশি সমাজ থেকে বহিষ্কার করেন মুড়াসিং সমাজের প্রাক্তন সম্পাদক তথা বর্তমান সদস্য সুনীল মুড়াসিংকে বলে জানান। আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান মুড়াসিং হদা তৌইফাং সুনীল মুড়াসিং,মুড়াসিং আঙ্করের রায় পরিষদ ভাগ্যচরণ মুরাসিং, মুড়াসিং হতা তৌইফাং এর জেনারেল সেক্রেটারি ব্রজমোহন মুড়াসিং, মুড়াসিং হদা তৌইফাং বদলের সদস্য অশ্বিনী মুড়াসিং সহ অন্যান্যরা। সুনীল মুড়াসিংএর বর্তমানে দুটি ছেলে সন্তান এবং স্ত্রী রয়েছে।
এহেন সজ্জন ব্যক্তির এমন কাজে হতবাক এলাকাবাসী।ঘটনা জানাজানি হতেই পশ্চিম পতিছড়িতে ছি ছি রব উঠেছে।
প্রতিনিধি। তেলিয়ামুড়া।। প্রায় প্রতিনিয়ত রাজ্যের বিভিন্ন রেল স্টেশন গুলো ব্যবহার করে গাঁজাসহ অবৈধ নেশা সামগ্রী পাচারের ঘটনাগুলো সামনে আসছে। একই রকম ভাবে আজ গোপন খবরের ভিত্তিতে তেলিয়ামুড়া রেলস্টেশন চত্বরে অভিযান সংঘটিত করে অভিনব কায়দায় গাজা পাঁচার কান্ডের সাথে জড়িত এক জনজাতি যুবককে গ্রেফতার করা হয় এবং প্রায় ৫০ কেজি শুকনা গাজা বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ পুলিশ যখন তেলিয়ামুড়া রেলস্টেশনে দেওঘর এক্সপ্রেস আসার আগেই এমবুস করে বসে থাকে ঠিক তখনই কেতার দেববর্মা (যার বাড়ি তেলিয়ামুড়া থানার অন্তর্গত দাশুচন্দ্র পাড়া) সহ আরো বেশ কয়েকজন যুবক রেলস্টেশন সংলগ্ন ধানক্ষেত দিয়ে দুইটা ব্যাগ নিয়ে আসছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একটা ব্যাগ ফেলে, আরেকটা ব্যাগ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল তবে পুলিশ ক্ষীপ্রতার সাথেই ক্যাথারকে আটক করতে সক্ষম হয়। যদিও একটা সময় কেথার পুলিশকে আক্রমণ করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এরপর যথারীতি পুলিশ জঙ্গলে ফেলে রাখা ব্যাগ এবং ক্যাথার এর সাথে থাকা আরেকটা ব্যাগ তল্লাশি করে ২৫ টা প্যাকেটে থাকা মোট ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এদিকে ধৃত যুবক দাবী করেছে কাঠালিয়া এলাকার জনৈক রাহুল দেববর্মা গাজা গুলো পাচারের জন্য তার কাছে গাড়ি করে দিয়ে গেছে এবং সংশ্লিষ্ট রেলে বিহারের জনৈক পাচারকারী রয়েছে যার কিনা টর্চ লাইট দিয়ে সিগন্যালের মাধ্যমে এই গাজা গুলো নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
স্বাভাবিকভাবেই এইভাবে ফিল্মি কায়দায় গাঁজা পাচারের ঘটনা সামনে আসার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং এইভাবে গাজা পাচার গুলোর পেছনে যে বড়সড়ো নেটওয়ার্ক কাজ করছে তা কিন্তু হলফ করে বলা যায়।
- চুরাইবাড়ি প্রতিনিধি ,২৪ মার্চ।।দেশ স্বাধীনের সাতাত্তর বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত বিদ্যুতের ছোঁয়া পায়নি উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগর মহকুমার কদমতলা ব্লকাধীন সরসপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তিন নম্বর ওয়ার্ডের তিনটি পরিবার। তার মাঝে একটি পরিবার বাড়ি ফেলে অন্যত্র চলে গেছে।বর্তমান বিজেপি জোট সরকারের নেতা মন্ত্রীরা বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে মুখ ভর্তি ভাষণ রাখেন।কিন্তু বাস্তবে গ্রামাঞ্চলে এখনো সাধারণ মানুষ বিদ্যুতের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত তার নমুনা সরসপুর গ্রামের তিন নম্বর ওয়ার্ড।স্থানীয় ওয়ার্ডের শ্যামল কুমার পাল(মৃত পুলিন বিহারী পাল) জানান,তিনি পঁয়তাল্লিশ বছর যাবত ওই গ্রামে বসবাস করে আসছেন কিন্তু আজ পর্যন্ত তার ভাগ্যে জুটেনি বিদ্যুতের ছোঁয়া।বিদ্যুৎ পেতে স্থানীয় মেম্বার,প্রধান,পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান, ভিডিও সকলের দরজায় দরজায় কড়া নাড়ালেও দিমু,দিচ্ছি,ভোট যাক,ভোট গণনা যাক এভাবে বলে পার হয়ে গিয়েছে দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছর।তিনি জানান,প্রায় কুড়ি বছর তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক ও বিজেপির দলের একজন পৃষ্টা ভূমিকের দায়িত্বে থাকলেও তার ভাগ্যে জুটেনি বিদ্যুৎ পরিষেবা।একটি সরকারি ঘর পেলেও বিদ্যুতের কারণে কাঠমিস্ত্রিরা কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করছে,তাতে থমকে রয়েছে ঘরের কাজ। তিনি জানান,রাত হলে একমাত্র ভরসা ল্যাম্প।এক কথায় মাসের পনেরো দিন আমাবস্যা ও পনেরো দিন জ্যোৎস্না থাকলেও তাদের ভাগ্যে গোটা মাসই অমাবস্যার সমান। তাই বিদ্যুৎ পেতে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে করজুড়ে আবেদন জানিয়েছেন। এদিকে তার স্ত্রী বিনা রানী পাল জানান, একেতো পরিবারে আর্থিক অভাব অনটন তার উপর যুগ যুগ ধরে নেই বিদ্যুৎ পরিষেবা। তাছাড়া তারা বিজেপি দলের সক্রিয় কর্মী থাকার পরেও তাদের ভাগ্যে ঝুটেনি বিদ্যুৎ পরিষেবা।দশ থেকে পনেরো বছর পূর্বে বিদ্যুতের খুঁটি পুতে গেলেও সেই খুঁটিতে বিদ্যুতের সংযোগ আজ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তাছাড়া তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়েকে বিদ্যুতের কারণে ভালোভাবে পড়াশোনা করাতে পারেননি।মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলেও দুই ছেলে কর্মসূত্রে ব্যাঙ্গালোর থাকে।কিন্তু বিদ্যুতের অভাবে মোবাইল ব্যবহার করতে না পারায় ছেলেদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন না।তাছাড়া ছেলেরা বাড়িতে আশা তো দূরের কথা টাকা-পয়সাও পাঠায় না। অপরদিকে সুজাতা দাস শর্মা নামের ওপর এক মহিলা জানান তাদের বিদ্যুৎ যন্ত্রণার কাহিনী।তিনি জানান,বিয়ে হয়ে শ্বশুর বাড়ি আসার পর থেকে বিদ্যুতের আলো চোখে পড়েনি।তার ঘরে এক ছাত্র মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রথম শ্রেণী থেকে বর্তমানে মহাবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে।তিনিও গ্রাম পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে ব্লকের চেয়ারম্যান ও ভিডিও’র দরজায় ঘুরে প্রতিশ্রুতি ছাড়া তার ভাগ্যে জুটেনি বিদ্যুতের ছোঁয়া। তিনি আরো জানান,তপন পাল নামের অপর এক প্রতিবেশী বিদ্যুতের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে বাড়ি ফেলে অন্যত্র চলে গেছেন।তাই তিনিও বিদ্যুতের জন্য কাতর আর্জি জানিয়েছেন।এখন দেখার বিষয় বিদ্যুৎহীন ওই তিনটি পরিবারকে বিদ্যুৎ পরিষেবা পৌঁছে দিতে কতটুকু তৎপরতা দেখায় গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্লক।
তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধি : ২০১৮ সালে আমার সাধারণ মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি ছিল যে মানুষের সার্বিক প্রয়োজনে নির্বাচিত সরকার কাজ করবে। প্রতিশ্রুতিকে সামনে রেখে নিরন্তর ভাবে কাজ করে চলেছে সরকার। এর ফলেই বর্তমানে করইলং, বড়লুঙ্গা শিবির ,ঘনিয়া মারা, বিবেকানন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের চার ,পাঁচ এবং ছ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার সাধারণ মানুষের যোগাযোগের উন্নয়নের জন্য জাতীয় সড়ক সন্নিহিত ছড়ার উপরে 49 লক্ষ টাকা খরচ করে ব্রিজ তৈরি হচ্ছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই ব্রিজ তৈরি হয়ে গেলে এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার মান যেমন উন্নয়ন হবে ,ঠিক একই রকম ভাবে গোটা এলাকার আর্থ সামাজিক ব্যবস্থার মান বিকশিত হবে। কথাগুলোর বক্তা তেলিয়ামুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়িকা কল্যাণী সাহা রায়। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন তেলিয়ামুড়াতে জাতীয় সড়ক সন্নিহিত ছড়ার উপরে নবনির্মিত ব্রিজ পরিদর্শন করতে আজ বিধায়িকার নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল সংশ্লিষ্ট জায়গা সফর করেন।সঙ্গে অন্যান্য দের মধ্যে ছিলেন তেলিয়ামুড়া মণ্ডলের সভাপতি অচিন্ত ভট্টাচার্যী, কো অপারেটিভ সোসাইটির চেয়ারম্যান নিতিন কুমার সাহা, সমাজ সেবক নন্দন রায়।এই সফরকালে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলতে গিয়ে উপরে উল্লেখিত কথাগুলো বলার পাশাপাশি বিধায়ীকা আরো বলেন, এই সময়ের মধ্যে সরকার সাধারণ মানুষের উন্নয়নের জন্ নিরন্তর ভাবে কাজ করে চলেছে সরকার। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন দীর্ঘদিন ধরেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় সেতুর দাবি ছিল এলাকাবাসীদের। তবে দীর্ঘদিন ধরে দাবি উপেক্ষিত থাকলেও এই সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে থাকায় খুশির ঝলক এলাকাবাসীদের চেহারায়। আজকে সেতুর কাজের অগ্রগতি দেখতে বিধায়িকা সপার্ষদ গেলে স্থানীয় বহু মানুষ এসে জড়ো হন এবং এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের এই দাবীটিকে বাস্তবায়িত করার জন্য বিধায় কাকে ধন্যবাদ জানান।
প্রতিনিধি কৈলাসহর:-কমিউনিটি সার্ভিস এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসাবে আসাম রাইফেলস ১৪ ই মার্চ উনাকোটি জেলার রাধানগরে হোলি উপলক্ষে একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে।এই উদ্যোগটি সামাজিক অবদান রেখে উদ্ভাবনী ও প্রভাবশালী উপায়ে উৎসব উদযাপন করার লক্ষ্য নিয়েছিল।
এই শিবিরটি আসাম রাইফেলস কর্মীদের কাছ থেকে উৎসাহী অংশগ্রহণের সাক্ষী ছিল।যারা স্বেচ্ছায় রক্ত দান করেছিলেন মানবিক কারণে তাদের এই উৎসর্গকে আরও শক্তিশালী করে।অনুষ্ঠানের সময় সংগৃহীত রক্তকে জীবন রক্ষাকারী সংক্রমণের প্রয়োজনে রোগীদের সমর্থন করার জন্য ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়।এই মহৎ উদ্যোগটি কেবল আসাম রাইফেলস এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বন্ধনকে শক্তিশালী করে না স্বেচ্ছাসেবীদের রক্তদানের গুরুত্বকেও জোর দেওয়া হয়েছে।এই জাতীয় অর্থবহ কাজের মাধ্যমে হোলিকে উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে,আসাম রাইফেলস সমাজের মঙ্গল সম্পর্কে নিঃস্বার্থ সেবা এবং প্রতিশ্রুতির একটি উদাহরণ স্থাপন করে চলেছে।যা সকলের কাছেই প্রশংসিত হয়েছে।
কল্যানপুরের রতিয়া দুর্গানগরের মানুষদের স্বপ্নের সেতুর কাজ অগ্রগতির তদার কি করলেন বিধায়ক পিনাকী।
প্রতিনিধি তেলিয়ামুড়া। ১৪ই মার্চ। কল্যাণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের রতিয়া, দুর্গানগর ও তার আশপাশ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল খোয়াই নদীতে পাকা সেতুর। রোতিয়া দুর্গানগর ও তার আশপাশ এলাকার মানুষ রা শীতকালে বাশের সাঁকো দিয়ে তেলিয়ামুড়া – কল্যাণপুর – খোয়াই সড়কে পৌঁছাতো। বর্ষাকালে জলের তোরে ভেসে যেত সেই সাঁকো। তারপর একমাত্র ভরসা ছিল নৌকা। এই বিস্তীর্ণ এলাকার আয়ের অন্যতম উৎস হলো কৃষিকাজ। স্বভাবতই কৃষকদের তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে সমস্যা হতো। বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের দাবি ছিল কয় নদীর উপর একটি পাকা সেতু নির্মাণ করার। ২০১৮ সালে কল্যাণপুর প্রমোদনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হয়ে এলাকার মানুষদের কথা দিয়েছিলেন, জয়ী হলে পাকা সেতু নির্মাণ করে দেবেন। গণদেবতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভুলে যাননি বর্তমান বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী। প্রতিশ্রুতি মতো ইতিমধ্যেই নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে গেছে সেতুর। কাজও অনেক দূর এগিয়ে গেছে। নির্মীয়মান সেতুর নাম দেওয়া হয়েছে সুদীন্দ্র দাশগুপ্ত স্মৃতি সেতু। আজ রতিয়া খেয়া ঘাটে সুধীন্দ্র দাসগুপ্ত স্মৃতি সেতুর নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করলেন বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী। সঙ্গে আর.ডি দপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার সহ অন্যান্য আধিকারিকদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি এবং কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। খোয়াই নদীর উপর গড়ে উঠা সেতুর দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি। বিধায়ক পরিদর্শনের সময় নির্মাণাধীন ১১০ মিটার দীর্ঘ সেতুর বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন এবং বর্ষাকালের আগেই সেতুর প্রধান কাঠামোর কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। তিনি জানান, এই সেতু চালু হলে রতিয়া সহ দূর্গাপুর সহ আশপাশের বহু মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। সেতু নির্মাণের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আর.ডি দপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার জানান, “বর্ষার আগেই সেতুর উপরের মূল নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে। আমরা চাই, বৃষ্টির মরসুম শুরু হওয়ার আগেই গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ শেষ হোক, যাতে বাকি কাজ সহজে সম্পন্ন করা যায়।” সেতুটি বহু বছর ধরে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। এ প্রসঙ্গে বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী জানান, “নৃপেন চক্রবর্তীর সময় থেকে শুরু করে মনিন্দ্র চন্দ্র দাসের বিধায়ক থাকাকালীন সময় পর্যন্ত এই সেতুর দাবি করা হয়েছিল, কিন্তু তখনকার বাম সরকার কর্ণপাত করেনি। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই প্রকল্পটি অনুমোদিত হয় এবং নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমার বিশ্বাস, দ্রুত কাজ সম্পন্ন হবে এবং সেতুটি রাজ্যের জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এলাকাবাসীর জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।” পরিদর্শন শেষে বিধায়ক ও আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সেতুর কাজ পরবর্তী ধাপে আরও দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো সমস্যা তৈরি হয়, তবে তা দ্রুত সমাধানের জন্য বিধায়ক নিজে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।