Home » কৈলাসহরে অনুষ্ঠিত বর্ষবরন উৎসব

কৈলাসহরে অনুষ্ঠিত বর্ষবরন উৎসব

by admin

প্রতিনিধি কৈলসহর:-পৃথিবীর সর্বত্রই নুতন বছর বরণ একটি ট্র‍্যাডিশন বা প্রচলিত সংস্কৃতিধারা।পুরাতন বছরের জীর্ন ক্লান্ত রাত্রির অবসানে পূব দিগন্ত ভেদ করে উদিত হয় নুতন দিনের জ্যোতির্ময় সূর্য।প্রকৃতির নিসর্গ মঞ্চে ধ্বনিত হয় নব জীবনের সংগীত।আকাশ যেন সেজে উঠে অপরুপ সাজে।পত্রে পত্রে তার পুলক শিহরণ। গাছে গাছে তার আনন্দ- উচ্ছাস।পাখির কন্ঠে নব প্রভাতের বন্দনাগীতি।আনন্দ শংখধ্বনিতে হয় নুতনের অভিষেক।রাত্রির তপস্যা শেষে এই শুভ দিনের উদার অভ্যুদয়ে মানুষের হ্রদয়ে উৎসারিত কলোচ্ছ্বাসে ভরে যায় পৃথিবী।নুতন দিনের কাছে আমাদের অনেক প্রত্যাশা,প্রার্থনা দুঃখ জয়ের।
এখন যেমন নববর্ষ নতুন বছরের সূচনার নিমিত্তে পালিত একটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে,এক সময় এমনটি ছিল না।তখন নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ আর্তব উৎসব তথা ঋতুকালীন উৎসব হিসেবে পালিত হত।তখন এর মূল তাৎপর্য ছিল কৃষিকাজ, কারণ প্রাযুক্তিক প্রয়োগের যুগ শুরু না হওয়া পর্যন্ত কৃষকদের ঋতুর উপরই নির্ভর করতে হত।ইতিহাস বলে জমিদারি প্রথা বন্ধ হওয়ার আগে পর্যন্ত মুঘলেরাও নববর্ষ পালন করত ঘটা করে।কল্যান ও নুতন জীবনের প্রতীক হলো নববর্ষ।পুরাতন বছরের ভুলত্রুটি ও ব্যার্থতার গ্লানি ভুলে নুতন করে সুখ,শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনায় উদযাপিত হয় নববর্ষ।এই আনন্দ উদযাপনে পিছিয়ে নেই সংস্কৃতির শহর কৈলাসহর।ছোট বড় প্রায় ৪০০ শিল্পী একই মঞ্চে নাচ গান কবিতায় যাপন করলো বর্ষবরণ ১৪৩০।৩০ শে এপ্রিল উনকোটি কলাক্ষেত্রে উক্ত বর্নময় অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন উনকোটি জিলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি শ্যামল দাস, উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান নিতিশ দে, মহকুমা শাসক প্রদীপ সরকার,কালচার‍্যাল স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রেসিডেন্ট মানসী ভট্টাচার্য,তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সহ অধিকর্তা বিশ্বজিৎ দেব,বিশিষ্ট সমাজসেবী অরুন সাহা, সিদ্ধার্থ দত্ত এবং প্রাক্তন বিধায়ক মবশ্বর আলী। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন পুর পরিষদের চেয়ারম্যান চপলা রানী দেবরায়।শিল্পী শ্বেতব দত্তের নেতৃত্বে সূচনা সংগীত পরিবেশন করেন সংস্কার ভারতীর শিল্পীরা। অতিথিরা নিজেদের বক্তব্যে নববর্ষ বরণের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করার পর পরই শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান।২০ টি সাংস্কৃতিক সংস্থা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে।গোটা মিলনায়তনে যেন শিল্পী থেকে আয়োজকদের মধ্যে খুশীর জোয়ার লক্ষ্য করা গেছে।দৃষ্টিনন্দন মঞ্চসজ্জা নজর কেড়েছে সকলের।মঞ্চসজ্জায় ছিলেন শিল্পী কপিল কান্তি দাস এবং শুভাশিষ চৌধুরী।উদযাপন কমিটির সদস্যরা সকলেই উৎসবকে সফল রুপ দিতে কোনোকিছুরই অভাব রাখে নি।গোটা অনুষ্ঠান যেন যাদুকন্ঠে পরিচালনা করছিলেন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী সুকান্ত চক্রবর্তী।সব মিলিয়ে বর্ষবরণ উৎসব নাড়িয়ে দিয়ে গেলো সংস্কৃতির শহরকে।এখানে উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ ছয় বছর যাবৎ এই শহরের সংস্কৃতি চর্চার গুনমান অনেক বৃদ্ধি হয়েছে।

You may also like

Leave a Comment