
প্রতিনিধি, বিশালগড়,। অবশেষে টাকারজলায় নবনির্মিত জওহর নবোদয় স্কুলের জট কাটলো। ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ টি পরিবার পাবে আর্থিক সহায়তা। সোমবার সরকারের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা দেন মন্ত্রী শুক্লা চরণ নোয়াতিয়া। এতে খুশি জমিদাতারা। খুশির জোয়ার বইছে অভিভাবক মহলে। জানা যায়, ২০১৭ সালে সিপাহীজলা জেলায় একমাত্র জওহর নবোদয় বিদ্যালয়টি পথ চলা শুরু করে । গাবর্দিস্থিত আসাম রাইফেলস এর একটি পরিত্যক্ত ক্যাম্পে অস্থায়ী ভাবে বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থানুকুল্যে স্থায়ী স্কুল বাড়ি নির্মাণ শুরু হয় টাকারজলায়। প্রায় ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সুদৃশ্য বিদ্যালয় এবং হোস্টেল গড়ে উঠে। স্কুলের পাকা বাড়ি নির্মাণ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ টি পরিবারের আন্দোলনের ফলে পঠনপাঠন শুরু করা সম্ভব হয়নি। ১৩ টি পরিবার ক্ষতিপূরণের দাবিতে অনড় থাকেন। সরকারি জমিতে তৈরি হয়েছে স্কুল। কিন্তু এই ১৩ টি পরিবার এতোদিন জমির দখলদার ছিল। রাবার সহ বিভিন্ন চাষাবাদ করতেন তারা। তাই ক্ষতিপূরণের দাবি জানান তারা। সরকার এক্ষেত্রেও আন্তরিকতা নিয়ে তাদের সঙ্গে বারবার কথা বলেছে। সরকার আর্থিক সহায়তা প্রদানে ইচ্ছুক। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতায় বিলম্ব হচ্ছে। কিন্তু এতে তর সইছেনা ক্ষতিগ্রস্থদের। গতকাল বিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় তারা। ক্ষতিপূরণ না পেলে বিদ্যালয় চালু করতে দেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিতে থাকে। সমস্যা নিরসনের জন্য সোমবার নবোদয় বিদ্যালয়ের নবনির্মিত পাকা বাড়িতে রাজ্যের মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়ার উপস্থিতিতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন সিপাহীজলা জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক জম্পুইজলা মহাকুমা ম্যাজিস্ট্রেট এবং জহর নবোদয় বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল এবং বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবারের লোকজন সহ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবক অভিভাবিকাগন। সভায় উপস্থিত থেকে মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া জানান অতিসত্বর জমিদাতা পরিবারদের হাতে তাদের ক্ষতিপূরণ রাজ্য সরকারের তরফে তুলে দেওয়া হবে। এবং অতিসত্বর সর্ব সুবিধা যুক্ত পাকা বাড়িটি উদ্বোধন করে পঠন পাঠন শুরু করা হবে। ছাত্র ছাত্রীদের ভবিষ্যত নিয়ে আপোষ করা চলবেনা। তিনি বলেন সরকার সকলের কল্যাণ চায়। ক্ষতিপূরণ প্রদানে বিলম্ব হওয়ায় স্কুলে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার কোন মানে নেই। সরকার আপনাদের কথা শুনতে প্রস্তুত। আপনাদের বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর গোচরে রয়েছে। সবাই প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা পাবেন। মন্ত্রীর ঘোষণায় খুশি জমিদাতারা। মন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন ১৩ টি জনজাতি পরিবারের সদস্যরা।