Home ভারত বিদ্যালয়ের ভেতর একের পর এক ছাত্র-ছাত্রী মাথা ঘুরিয়ে পড়ছেন

বিদ্যালয়ের ভেতর একের পর এক ছাত্র-ছাত্রী মাথা ঘুরিয়ে পড়ছেন

by admin
0 comment 70 views

তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধিঃ-
প্রচন্ড দাবদাহের মধ্যেই ইকো ক্লাবের মিছিল সহ শাস্তি স্বরূপ রৌদ্রে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় ব্যাপক সংখ্যায় স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের, কিছুক্ষণের মধ্যেই কেউ মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছে, কারো শ্বাসকষ্ট হচ্ছে ইত্যাদি বিভিন্ন উপসর্গের জেরে বিদ্যালয় চত্বরে ত্রাহী ত্রাহী অবস্থা, শেষ সংবাদ পর্যন্ত ৬ থেকে ৮ জন ছাত্রছাত্রীকে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ক্লাসের বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রী অসুস্থ হয়ে রয়েছে, এমনটাও খবর ।
ঘটনা তেলিয়ামুড়ার মাইগঙ্গা সুকান্ত দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে। সংবাদে প্রকাশ, বৃহস্পতিবার প্রচন্ড দাবদাহের মধ্যে বিদ্যালয়ের ইকো ক্লাবের দায়িত্বে থাকা শ্যামলী দাস এবং মানিক চক্রবর্তী নামের দুই শিক্ষক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা সর্বাণী ভট্টাচার্যের অনুমতি ক্রমে ছাত্রছাত্রীদের’কে নিয়ে পরিবেশ সচেতনতা মূলক মিছিল সংঘটিত করে। এই মিছিলটি দুপুর সাড়ে বারোটার থেকে শুরু হয়ে বিদ্যালয় চত্বর সহ সন্নিহিত এলাকা প্রদক্ষিণ করার পর যখন বিদ্যালয়ে আসে এর কিছুক্ষণ পর থেকেই ছাত্রছাত্রীরা কাতারে কাতারে অসুস্থ হতে থাকে। যদিও এর আগেও একাধিক ছাত্র-ছাত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, তবে এর পেছনে কারণ হিসেবে যা উঠে এসেছে তা অত্যন্ত রোমহর্ষক। জানা গেছে, বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময় অর্থাৎ প্রার্থনার পর কিছু ছাত্রছাত্রী বিদ্যালয়ে আসার শাস্তি স্বরূপ অধ্যক্ষা সর্বানি ভট্টাচার্যের নির্দেশ অনুযায়ী দ্বাদশ এবং দশম শ্রেণীর শ্রেণী শিক্ষক বা শিক্ষিকা ছাত্র-ছাত্রীদের প্রখর রৌদ্রের মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখেন এবং ৭০ থেকে ৮০ বার করে কান ধরে উঠবস করান।
এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই যা হবার হয়েছে, কিছুক্ষণের মধ্যেই একাধিক ছাত্রী বিশেষ করে মাটির মধ্যে লুটিয়ে পড়তে থাকে। এক্ষেত্রে গুণধর শিক্ষিকাদের নাম রুমা বণিক এবং সায়নী সাহা ভৌমিক বলে জানা গেছে। গোটা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাভাবিকভাবেই ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিদ্যালয়ের মধ্যে দৌড়ঝাপ শুরু হয় এরপর একের এর পর এক অ্যাম্বুলেন্স মাইগঙ্গা সুকান্ত দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় এর দিকে ছুটতে শুরু করে এবং স্বাভাবিকভাবেই গোটা এলাকার মধ্যেও একটা ত্রাসের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই বিষয়ে ইকো ক্লাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং শিক্ষিকা মানিক চক্রবর্তী এবং শ্যামলী দাসের সাফাই হচ্ছে,, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি ছিল তাই রৌদ্রের মধ্যেই এই মিছিল করতে হয়েছে, যদিও বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা সর্বাণী ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, আজকের নাকি আবহাওয়াটা ততটা গরম নয় এইজন্য এই উদ্যোগে গ্রহণ করা হয়েছে! এদিকে গোটা বিশয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বিদ্যালয়ের বিদ্যজ্যোতি প্রকল্পের জনৈক শিক্ষিকা অম্বিকা বণিক দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের দেখে রীতিমতো তেড়ে-ফুড়ে আসতে শুরু করলে বিদ্যালয়ে চত্বরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। গোটা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আরও জানা গেছে, মাইগঙ্গা সুকান্ত দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে অধ্যক্ষা হিসেবে যোগদান করার পর থেকেই সর্বানী ভট্টাচার্য নিজের মর্জি মতো যা খুশি করে চলেছেন, ছাত্র স্বার্থ থেকে শুরু করে শিক্ষা স্বার্থ বরাবরই এখানে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে না। সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ছাত্র-ছাত্রীরা অনেকে বাড়িতে গিয়েও অসুস্থ হয়ে পড়েছে এমনটাই খবর রয়েছে। এদিকে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলার সময় বিদ্যালয়ের পরিচালন কমিটির একাধিক সদস্য দাবি করেছেন, নিঃসন্দেহে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বৃহস্পতিবারের এই ভূমিকা নিন্দনীয় এবং উনারা কমিটির মিটিং-এর মধ্য দিয়ে আজকের ঘটনার তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের দিকে এগোবেন।

Related Post

Leave a Comment