Home ভারত সতেরো মিয়ার হাওড়কে ঢেলে সাজাতে সরকারের বহুমুখী ভাবনা

সতেরো মিয়ার হাওড়কে ঢেলে সাজাতে সরকারের বহুমুখী ভাবনা

by admin
0 comment 59 views
  • প্রতিনিধি কৈলাসহর:-কৈলাসহর তথা ঊনকোটি জেলার একটি বিস্তীর্ণ জলাভূমি অঞ্চল হচ্ছে সতেরো মিয়ার হাওড়।এই জলাভূমির একটি অংশে মৎস্য চাষ হলেও ৯৫ শতাংশ জায়গা অপরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।বাম সরকারের সময়ে এই জায়গাতে সার কারখানা স্থাপনের একটি সম্ভাবনা দেখা দিলেও পরবর্তী সময়ে স্থানীয় কৃষকদের অমত থাকায় সার কারখানা গড়ে ওঠেনি।বর্তমান বিজেপি সরকারের সেকেন্ড টার্মে এই ১৭ মিয়ার হাওরকে রাজ্যের উন্নয়নের মানচিত্রে সংযুক্ত করতে ভাবনা-চিন্তা শুরু করেন ফটিকরায় বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তর এবং মৎস্য দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস।ফটিকরায় এবং চন্ডিপুর বিধানসভার মাঝামাঝি জায়গায় রয়েছে এই জলাভূমি।আগামী দিনে এই স্থানে ইন্টিগ্রেটেড অ্যাকুয়া পার্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।এই অপরিত্যক্ত অনাবাদি জলাভূমিকে কাজে লাগিয়ে সেখানটায় বড় ধরনের কোন প্রকল্প নির্মাণ এবং জমি দানকারী কৃষকদের মুনাফার একটা অংশ তাদেরকে দেওয়ার দাবি জানালে সরকার পক্ষ গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে।জমি দাতাদের নিয়ে দু তিন দফায় বৈঠকের পর পুনরায় আজ দুপুর ২টা নাগাদ বীরচন্দ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে ত্রিপুরা সরকারের দুজন কেবিনেট মন্ত্রীর উপস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চন্ডিপুর বিধানসভার বিধায়ক তথা সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী টিঙ্কু রায় এবং মৎস্য দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস,সহকারি সভাধিপতি শ্যামল দাস,জেলা শাসক ও সমাহর্তা ডিকে চাকমা,মৎস্য দপ্তরের ডিরেক্টর সন্তোষ দাস, অতিরিক্ত জেলাশাসক দশরথ দেববর্মা,অতিরিক্ত মহকুমা শাসক নবকুমার জমাতিয়া, চন্ডিপুর পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস চেয়ারপারসন সন্দীপ কুর্মী,বীরচন্দ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিপুল রুদ্র পাল সহ বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি এবং আধিকারিকবৃন্দ।এই বৈঠক থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী সুধাংশু দাস বলেন এই প্রজেক্টটি সরকারের ড্রিম প্রজেক্ট।তিনি মৎস্য দপ্তরের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই সতেরো মিয়ার হাওরে এই প্রকল্পটিকে রূপায়িত করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের মৎস্য মন্ত্রী পুরুষোত্তম রূপালার সাথে কয়েক দফায় বৈঠক করেছেন এবং এই প্রকল্পের জন্য ডিপিআর জমা করেছেন।কৃষকদের থেকে সম্মতিপত্র পাওয়ার পরেই কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৪৩ কোটি টাকা অর্থ মঞ্জুর করেছেন প্রথম পর্যায়ের জন্য।কৃষকদের থেকে সরকার জমি লিজ নিয়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার প্রস্তুতি হাতে নিয়েছে। তার বিনিময়ে কৃষকরাও প্রতি কানি অনুযায়ী বছরে ৩০০০ টাকা করে পাবে বলে এই বৈঠক থেকে জানা যায়।মন্ত্রী জানান এখানটায় মৎস্য চাষের পাশাপাশি,মাছের রেনু চাষ,পর্যটন কেন্দ্র,রেস্টুরেন্ট, বোটিং,ফিশারী কলেজের স্টুডেন্টদের জন্য গবেষণাগার,কোল্ড স্টোরেজ থেকে শুরু করে অনেক রকমের পরিকল্পনা এখানে নেওয়া হয়েছে।শৈবতীর্থ ঊনকোটি এবং তিরুপতি মন্দির দেখার পর পর্যটকদের সময় কাটানোর আর কোন জায়গা থাকে না।তার লক্ষেই তৃতীয় টুরিস্ট স্পট হিসেবে আগামীতে আত্মপ্রকাশ হতে চলেছে ১৭ মিয়ার হাওরে। মন্ত্রী টিংকু রায় জানান পর্যটকরা এখানটায় রাত্রি যাপন করতে পারবে।দুটো দর্শনীয় স্থান দেখার পর মনোরঞ্জনের ঠিকানা খুঁজে পাবে এই ইন্টিগ্রেটেড একুয়া পার্কে এসে।তবেই এই অঞ্চলের অগ্রগতি এবং প্রগতি দুটোই উন্নয়নের সূচককে ত্বরান্বিত করবে। তিনি আরো বলেন এই সরকার আসার পরেই কৃষকদের মধ্যে আশার কিরণ জেগে ওঠেছে যে,তাদের এই অনাবাদি জমি সরকার কাজে লাগিয়ে তাদেরকে চিরস্থায়ী একটি আয়ের উৎস তৈরি করে দেবে।পাশাপাশি এই জায়গায় রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে সিকিউরিটি,গাড়ি পার্কিং,ড্রাইভার,নাইট গার্ড ইত্যাদি বিভিন্ন কাজের জন্য যে লোক নেওয়া হবে তা জমি দাতাদের মধ্য থেকেই নেওয়া হবে বলে বৈঠকে আলোচিত হয়।পরিসংখ্যান দিতে গিয়ে জেলাশাসক ও সমাহর্তা ডি কে চাকমা জানান রাজ্যে এক লক্ষ মেট্রিক টন মাছের চাহিদা রয়েছে।কিন্তু সারা রাজ্যে ৮৫ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়।বাকি ২৫ হাজার বাইরে থেকে আসে। সুতরাং ১৭ মিয়ার হাওরের এই বিস্তীর্ণ জলাভূমিকে মৎস্য চাষের জন্য পরিপূর্ণ জায়গা তৈরি করা হলে এই অঞ্চল এই শহর এবং এই জেলার উন্নয়ন দ্রুত গতিতে হবে। বর্তমানে প্রায় আড়াইশো কানি জমি এখানটায় রয়েছে বেসরকারি এবং সরকারি মিলিয়ে।তবে বেসরকারি জায়গার পরিমাণটাই অনেক বেশি।আজকের এই বৈঠক থেকে ফুলতলী,বীরচন্দ্রনগর, বিলাসপুর এবং ধন-বিলাস গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে জন প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি টিম গঠিত হয়।যাদের মাধ্যমেই কৃষকদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে তাদের থেকে সম্মতিপত্র সংগ্রহ করা এবং বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবে এই কমিটি।বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ত্রিপুরা সরকারের দুজন কেবিনেট মন্ত্রী আশা ব্যক্ত করে বলেন এটা শুধু স্বপ্ন নয় চলতি বছরেই কাজ শুরু হবে এবং মানুষের দীর্ঘ স্বপ্নের বাস্তবায়ন হবে এই সরকারের হাত ধরেই।আর এই কর্মযজ্ঞ সফল হলে চেহারা বদলে যাবে কৈলাসহর তথা ঊনকোটি জেলার।

Related Post

Leave a Comment